ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপির বৈঠক: আন্দোলন না কোন্দল ঠেকানো 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ রবিবার, ০৫:০০ পিএম
বিএনপির বৈঠক: আন্দোলন না কোন্দল ঠেকানো 

সিরিজ বৈঠকের প্রথম দফায় গত মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিন বৈঠক করেছে বিএনপি। আবার আগামী মঙ্গবার থেকেও টানা তিন দিনের বৈঠকে বসবে দলটি। আগের বৈঠকটি নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে হলেও এবার বৈঠকটি বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে হবে। জেলা পর্যায়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পদকেরা এ বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। পাশাপাশি নির্বাহী কমিটির সদস্যরাও থাকবেন বলে জানা গেছে। 

এ দিকে গতকাল শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। দলটির নেতৃত্বস্থানীয় নেতারা প্রকাশ্যে বলেছেন যে, এক দফা আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি। এ আন্দোলন হবে সরাকার পতনের আন্দোলন। এ জন্যই এই সিরিজ বৈঠকগুলো করছেন বলে জানিয়েছেন তারা। 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে তারা একটি কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। এবং এ কর্মসূচির মাধ্যমেই সরকার পতনে রাজপথে নামবে। 

তবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বৈঠকটি যতটা না আন্দোলন কেন্দ্রিক, তার চেয়েও বেশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনেই ব্যতি ব্যস্ত ছিল। বর্তমানে বিএনপির মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা, নেতৃত্ব কেন্দ্রিক দ্বন্দ এবং রাজপথে আন্দোলন কেন করতে পারছে না এ নিয়ে  চলছে তীব্র কোন্দল। এবং এ কোন্দল ঠেকাতেই এ বৈঠক হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। বিএনপির নেতৃত্বস্থানীয় নেতারা যদিও বাইরে দেখানোর চেষ্টা করছে যে একটি সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে, তবে বাস্তবতার সঙ্গে এ দাবি ঠিক মিলছে না। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে এত বৈঠকের দরকার নেই। বিএনপি যেই এক দফা আন্দোলনের কথা বলছে তার জন্য সিরিজ বৈঠক করার কি দরকার আছে তাও বোধগম্য নয়। বিএনপি যদি মনে করে তারা সরকার পতন ঘটাবে তাহলে তাদের রাস্তায় আন্দোলন করতে হবে। এ নিয়ে এত বৈঠক করার দরকার নেই বলেও মতামত দেন বিশ্লেষকেরা। এ সিরিজ বৈঠক ও নেতাদের কথার আড়ালের কথা নিয়ে বিশ্লেষকেরা ৫টি কারণ চিহ্নিত করেছেন।   

প্রথমত, বিএনপি আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত নয়। যাদের প্রধান নেতা গ্রেফতার হওয়ার পরও ১০ জনের একটি মিছিল করতে পারে না, তারা বর্তমানে কিভাবে আন্দোলন করবে?

দ্বিতীয়ত, বর্তমানে বিএনপির যেই সাংগঠনিক অবস্থা তা দিয়ে একটি আন্দোলন গড়ে তোলার সক্ষমতা তাদের নেই। 

তৃতীয়ত, বিএনপি কোন ইস্যু নিয়ে আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে যথেষ্ট সন্দেহ এবং এক ধরণের দিধাদ্বন্দ রয়েছে।

চতুর্থত, যে কোনো আন্দোলন করতে জনসম্পৃক্ততা লাগে। জনগণ ইতোমধ্যে জানে দলটির প্রধান দুই নেতা দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত। এদের মধ্যে একজন আবার পলাতক। ফলে জনসম্পৃক্ত করার মতো পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। 

শেষ ও পঞ্চমত, বিএনপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, মতবিরোধ, নেতৃত্বের দ্বন্দ চরমে। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে যে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষেই একটা আন্দোলন গড়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন। 

আর সে কারণেই বিএনপি বোধহয় বৈঠক করছে যে কিভাবে দলের কোন্দল ও মতবিরোধ মেটানো যায়।

একদিকে বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সংখ্যা অনেক বেশি। ৮০ ভাগ কমিটিরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন দলের কাউন্সিল হয় না। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অর্ধেকেরও বেশি অসুস্থ। অনেকে আবার নিষ্ক্রিয়। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে একটি রাজনৈতিক দলকে আন্দোলন করতে গেলে দলের ভেতরে যে ধরণের ঐক্যের দরকার, সে ঐক্য বিএনপির মধ্যে অনুপস্থিত। আর এ কারণেই হয়ত বিএনপি বৈঠকগুলো করছে যেন দলের ভাঙ্গন ঠেকানো যায়।

বিষয়: বিএনপি , বৈঠক