ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আলোচনায় আওয়ামী লীগের ত্রয়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার, ০৫:০০ পিএম
আলোচনায় আওয়ামী লীগের ত্রয়ী

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতা কে হবেন, আরো সহজ ভাবে বললে আওয়ামী লীগের আগামী সাধারণ সম্পাদককে কে হবে এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নানামুখী আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগে একটি আগাম কাউন্সিলের সম্ভাবনার কথা যেমন আলোচিত হচ্ছে তেমনি নির্বাচনের আগে দলের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন কথাও শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ তার সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন করে শুরু করেছে করোনার প্রকোপ কমে যাবার সাথে সাথেই। সারা দেশের জেলা সম্মেলন গুলো কাজে হাত দেওয়া হয়েছে এবং চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা সম্মেলন শেষ হবে। এরপর পর আওয়ামী লীগ কাউন্সিল এর দিকে যাবে বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করছেন যে নির্বাচনকে মাথায় রেখে আগাম কাউন্সিল করতে পারে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ঘিরে মূল আলোচনাটি হয় দলের সাধারণ সম্পাদক কে হবেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, কাজেই তৃতীয় মেয়াদে তার না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নানামুখী আলোচনা চলছে তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজের হাতে কয়েকজন নেতাকে তৈরি করছেন এবং এদের মধ্যে ভাগ্যবান ৩ জন রয়েছেন যারা একসাথে দলের নেতৃত্ব এবং মন্ত্রিত্ব উপভোগ করছেন। 

এই তিনজন নেতাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানামুখী আলোচনা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সভাপতির আস্থাভাজন হিসেবে এরা পরিচিত রয়েছেন। এদের মধ্যে থেকেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হবেন কিনা এ নিয়েও আওয়ামী লীগের নানামুখী আলোচনা রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক ছাড়া আওয়ামী লীগের যে তিনজন ভাগ্যবান নেতা মন্ত্রী এবং নেতৃত্বে আছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন। 

১. ড. আব্দুর রাজ্জাক। ড. আব্দুর রাজ্জাক রাজনীতিতে এসেছেন পেশাজীবী হিসেবে। তিনি সরকারি চাকরি করতেন। ১৯৯৬ সালের যে নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিল সেসময় তিনি সরকারি চাকরিতে ছিলেন, ছিলেন প্রকৃতির নেতা। এরপর আওয়ামী লীগের তার উত্থান রূপকথার মতোই। তিনি যেন আওয়ামী লীগে এলেন দেখলেন জয় করলেন। ড. আব্দুর রাজ্জাক ২০০১ সালের নির্বাচনে আবুল হাসান চৌধুরীর আসনে প্রথম মনোনয়ন পান এরপর তিনি ২০০৮ সালে মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালে মন্ত্রিত্ব না পেলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে চলে আসেন। এখন তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। মনে করা হয় আওয়ামী লীগ সভাপতির বিশেষ আস্থাভাজন হওয়ার কারণেই চট জলদি তিনি আওয়ামী লীগের মতো একটি দলে দ্রুত নেতৃত্বের শীর্ষ পদ পেয়েছেন। 

২. ড. দীপু মনি। ড. দীপু মনির উত্থান ও আওয়ামী লীগে রূপকথার মতোই। আইভি রহমানের মৃত্যুর পর সবাইকে অবাক করে দিয়ে ড. দীপু মনি আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হন। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় কঠিন পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হন। শেখ হাসিনার পক্ষে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ড. দীপু মনি এবং এখানেই তার রাজনৈতিক জীবনের উত্থান শুরু হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবারের মতো এমপি হন এবং সেবারই আওয়ামী লীগ সরকারে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান এবং এখন তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আছেন এবং শিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালের মন্ত্রিত্ব না থাকলেও আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 

৩. ড. হাসান মাহমুদ। ড. হাসান মাহমুদও আওয়ামী লীগ সভাপতির আরেকজন আস্থাভাজন নেতা। তিনিও দ্রুত রাজনীতিতে সামনের সারিতে চলে এসেছেন। ছাত্র জীবনে রাজনীতি করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে আসার পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আবার সম্পৃক্ত হন এবং সে সময় তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একইসাথে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া পান। ওয়ান ইলেভেনের পর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেন এবং নির্বাচিত হওয়ার সাথে সাথে প্রতিমন্ত্রী এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বন-পরিবেশের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের মন্ত্রিত না পেলেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এবার নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন এবং একইসাথে তথ্য মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন। 

এই তিনজন নেতাই শেখ হাসিনার বিশেষ নজরে রয়েছেন এবং সে কারণেই তারা দলের পদ এবং মন্ত্রিত্ব দুটোই পেয়েছে। তাহলে কি আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক এদের মধ্যে কেউ হবে এই প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে।