ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বেগম জিয়াকে আবার বিদেশে নেয়ার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১ বুধবার, ০৫:০০ পিএম
বেগম জিয়াকে আবার বিদেশে নেয়ার চেষ্টা

বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ অবস্থায় গতকাল আবার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকরা তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ মেয়াদী অসুখ হয়েছে। আর এটিকে ইস্যু করে বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার আবার নতুন করে তাকে বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আবার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং এভার কেয়ার হাসপাতালের সূত্র বলছে যে তারা বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করতে হবে এই মর্মে একটি চিকিৎসাপত্র দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। এই চিকিৎসাপত্র পত্র নিয়ে তারা সরকারের কাছে নুতন করে আবেদন করবেন বলেও বেগম খালেদা জিয়া পরিবারের সূত্রগুলো জানিয়েছে। 

উল্লেখ্য যে এর আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেয়ার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ফৌজধারী কার্যবিধির যে ধারায় বেগম জিয়াকে জামিন দেওয়া হয়েছে সেই একই ধারা প্রয়োগ করে তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলেই তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সরকারি সূত্রগুলো বলছে যে এখনো সেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে কাজেই নুতন করে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার আবেদন বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। তবে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে তিনি আসলেই অসুস্থ এবং এই অসুখের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর বিদেশে যাওয়ার বিকল্প নেই। যে কোনো মূল্যে তারা বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে চান। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য বলেছেন যে প্রয়োজনে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্রধানমন্ত্রী মহানুভবতায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিন পেয়েছেন, তারা আশা করেন যে তিনি একই রকম মহানুভবতা দেখিয়ে বেগম জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দেবেন। 

বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা তার বিদেশ যাওয়ার পথ সুগম করতে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রথমত বিএনপি নেতৃবৃন্দকে এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বা আন্দোলনের হুমকি ধামকি না দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন শামিম এস্কাদার। যাতে সরকারের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান না হয় সেটি লক্ষ রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তিনি বেগম জিয়ার পরিবারের সুরেই বলেছেন যে তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা বাংলাদেশের সম্ভব নয়। বিএনপি সামনে যে আন্দোলন কর্মসূচির কথা ভাবছিলো সেই জায়গা থেকে পিছিয়ে এসেছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  

অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য তিনি রাজনীতি থেকে বিদায় নিবেন বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অংশগ্রহণ করবেন না ইত্যাদি যেকোনো ধরনের মুচলেকা দিতেও প্রস্তুত বলে জানা গেছে বেগম খালেদা জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে। বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন যে সরকার মনে করছে যে বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে গেলে আবার রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করবেন এবং তারেক জিয়া বাংলাদেশবিরোধী চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র কে আবার নতুন করে চাঙ্গা করবেন। এরকম একটি বিবেচনা থেকেই হয়তো সরকার বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছেন না। কিন্তু সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছেন যে এরকম ভয়ভীতি কিংবা শঙ্কা থেকে সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়া কে বারিত করছে না। বরং বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার তাঁর সাধ্যর মধ্যে যেটুকু সুযোগ সুবিধা দেওয়া দরকার সেটুকুই দিয়েছে। এটি যেহেতু একটি আইনি বিষয় এবং বেগম খালেদা জিয়া দুটি মামলায় দণ্ডিত সেহেতু সরকারের নির্বাহী আদেশে তাঁর বিদেশে যাওয়াটা অসম্ভব। 

সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী বলেছেন যে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়াটা যদি এতই প্রয়োজনীয় হয় তবে তিনি আদালতে আবেদন করতে পারেন, একমাত্র আদালতে মাধ্যমেই তিনি বিদেশে যেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা এবার সফল হবে না ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে তাঁর জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।