ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জোবায়দা, সিঁথি, জাইমা: কেউ আসেনা কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১ বুধবার, ০৯:০০ পিএম
জোবায়দা, সিঁথি, জাইমা: কেউ আসেনা কেন?

একজন প্রবীণ মানুষ বার্ধক্যে এসে প্রিয়জনের সঙ্গ চান, তার আত্মীয়-স্বজন সন্তান নাতি-নাতনিরা যেন তার পাশে থাকে তার সেবা করে এটিই একজন মানুষের শেষ বয়সের চাওয়া-পাওয়া। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার দুর্ভাগ্য তার অসুস্থতার সময় কেউ তার পাশে নেই। তারেক জিয়া একাধিক মামলায় দণ্ডিত তিনি লন্ডনের পলাতক, তিনি তার মায়ের চেয়ে নিজেকে বেশি ভালবাসেন। যদি মাকে তিনি বেশি ভালোবাসতেন তাহলে হয়তো তিনি কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে হলেও দেশে আসতেন, দেশে এসে তিনি আত্মসমর্পণ করে মায়ের সেবার জন্য খোঁজ খবর নিতে পারতেন। তারেকের বিষয়টি আইনগত, তাই অনেকেই বলেন যে তিনি নিজেকে আইনে সোপর্দ করতে চান না এ কারণেই হয়তো তিনি দেশে আসছেন না। 

তারেক জিয়ার স্ত্রী জোবাইদার ঘটনাটা কি এ নিয়ে বিএনপির মধ্যেই এখন নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জোবাইদা একজন চিকিৎসক, তিনি লন্ডনে আছেন তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই কোনো মামলা ও নেই। তিনি একসময় সরকারি চাকরিও করতেন। তিনি দেশে এসে শাশুড়ির সেবা শুশ্রূষা বা চিকিৎসার তদারকি করেন না কেন এই প্রশ্ন এখন এভার কেয়ারে বিএনপি নেতাকর্মীরাই আলোচনা করছেন। জোবায়দা ২০০৭ সালের পর থেকে এক বারও দেশে আসেন নি। এমনকি বেগম খালেদা জিয়া যখন দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারান্তরীণ ছিলেন তখনও জোবায়দা দেশে আসেন নি। কেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। জোবাইদা যদি দেশে আসতেন তাহলে সবচেয়ে উপকৃত হতেন বেগম খালেদা জিয়া। কারণ এর ফলে তার চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করার সুবিধা হতো বলে বিএনপি নেতারা মনে করেন। 

বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা সিঁথি বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর কয়েক দফায় এসেছিলেন কারাগারে এবং বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছিলেন। কিন্তু এরপর তিনি আর দেশে আসেন নি। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়া যখন করোনাই আক্রান্ত হলেন, হাসপাতালে ভর্তি হলেন সেই সময় দলের নেতাকর্মীরা প্রত্যাশা করেছিলেন যে বেগম জিয়ার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য তিনি হয়তো আসবেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি। আর এ নিয়ে এখন বিএনপি`র মধ্যে নানামুখী কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। বিএনপি’র অনেক নেতাই বলছেন সে সময় তিনি এসেছিলেন সম্পদের ভাগ বাটোয়ারা করার জন্য, এখন যেহেতু তিনি বিএনপিতে ভূমিকা রাখতে পারছেন না সেজন্যই হয়ত তিনি আসছেন না। বিএনপির একজন নেতা বলছিলেন যে এদের কাছে মা বা শাশুড়ির সেবা মুখ্য বিষয় না, শাশুড়ির সম্পদের ভাগ পাওয়াই হল প্রধান বিষয় এজন্যই হয়তো সিঁথি আসছেন না। 

বেগম খালেদা জিয়ার নাতি এবং তারেক ও জোবাইদার কন্যা জাইমা এখন ব্যারিস্টার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো রকম মামলা নেই কোন রকম অভিযোগ নেই। তিনি নিজে এখন একজন পরিণত বয়স্ক, কাজেই যেকোনো সময় দাদিকে দেখার জন্য তিনি আসতেই পারেন, কিন্তু জাইমারো নীরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। 

তাহলে এই এই সন্তান এবং নাতি-নাতনিদের কাজ কি। তারা কি নিজের প্রিয়জনের সেবার জন্যও পাশে দাঁড়াতে পারেন না। অথচ বেগম খালেদা জিয়া এদের জন্যই বিতর্কিত হয়েছেন, এদের জন্যই দুর্নীতিবাজ হয়েছেন, এদের জন্যই অনেক অন্যায় করেছেন। এখন তারা তার দুঃসময়ে কেউ তাঁর পাশে নেই।