ইনসাইড পলিটিক্স

বাম দলগুলো সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে নীরব থাকে কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ১৭ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

দেশের বামপন্থীরা একটা সময় প্রচার করতো যে, সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জাদুকাঠিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তাবৎ সমস্যা মিটিয়ে ফেলেছে সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া), এবং এই ধারাবাহিকতায় দেশে যদি সমাজতন্ত্র কায়েম হয়, তবে আর সাম্প্রদায়িক সমস্যা কিছুই থাকবে না । কিন্তু পরে, পৃথিবীর গোলকায়নের ফলে প্রমাণিত হয় যে, তার মধ্যে বিশেষ সত্যতা ছিল না। এটা ছিল বামপন্থী কর্তৃক ডাহা মিথ্যা কথা প্রচার। সব দেশের মতো রাশিয়াতেও সংখ্যালঘুরা নানা ধরণের শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং সামাজিক ভয়ভীতির মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে এবং হচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সেই চল্লিশের দশক থেকে এ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পের ছড়াছড়ি চলছেই! ধীরে ধীরে ক্ষয় হওয়া বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো সাম্প্রদায়িক কোনো ইস্যুতে এখন আর কথা বলছেন না। বললেও যেটুকু না বলে আর পারা যায় না সেটিুকু বলছেন। নীরব থাকছেন। বিষয়টি বিস্তর আলোচনার দাবি রাখে বলে মনে করছেন অনেকেই।

বাংলাদেশে হিন্দু সমাজের তথা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কথা আলোচনা করার সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় স্বাভাবিকভাবেই নির্যাতিত হয়ে থাকেন, এ কথাটি মনে রেখেই অগ্রসর হওয়া দরকার। সম্প্রতি কুমিল্লায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজার একটি অস্থায়ী মণ্ডপে কোরআন শরীফ রাখাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লাসহ সারাদেশে অনেকগুলো মণ্ডপে হামলা চালায় ও নির্যাতন করে একটি কায়েমি গোষ্ঠী। এ ঘটনায় ক্ষমতাশীল দল আওয়ামী লীগ তীব্র প্রতিবাদ ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে। বিএনপির অন্তরে যাই থাক, মুখে প্রতিবাদ করেছে, যদিও দোষ ক্ষমতাসীনদের ঘাড়ে তথ্য, প্রমাণ ছাড়াই দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু যাদের সবচেয়ে বেশি সামনের সারিতে থাকার কথা ছিল, যারা কথায় কথায় সমাজ বদলাতে চায়, সেইসব প্রগতিশীল দলগুলো কোনো এক দৈব কারণে চুপটি মেরে বসে আছেন। এবং এটি শুধু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নয়, অনেকদিন ধরেই সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে তারা কথা বলছেন না। পিন পতন নীরবতা চলছে তাদের। এর আগে, ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করেই। সেখানেও কোনো সক্রিয়তা ছিল না বাম শিবিরের। এরও আগে, ২০১২ সালের শেষ দিকে ফেসবুকে কথিত কুরআন অবমাননার ছবি ছড়িয়ে তাণ্ডব চালানো হয় কক্সবাজারের রামু উপজেলার বৌদ্ধ বস্তিতে। সে সময় ১২টি বৌদ্ধমন্দির এবং বৌদ্ধদের ৩০টি বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও সহমর্মিতা জানাতে ভুলে গেছে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখা লাল শিবিরের দলগুলো। তবে যদি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বা প্রেস রিলিজকে সক্রিয়তা ধরা হয়, তবে হাতে গোনা কয়েকটি বাম দলের আছে। কিন্তু এর তীব্র প্রতিবাদ করা, এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া, মাঠে নেমে ঐসকল মৌলবাদীদের প্রতিহত করা, প্রতিরোধ করা, এসব কিছুতে একটি বাম দলও নেই। বাম গণতান্ত্রিক জোট, জাসদ, বাসদ, ন্যাপ, ওয়ার্কাস পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, সবাই নিজ নিজ তল্পিতল্পা নিয়ে ব্যস্ত। দেশে যে একটা কিছু হয়েছে, তা ইনু-মেননদের সক্রিয়তা দেখে বুঝার জো নেই। সমাজে সংখ্যালঘু, অমুসলমান জনগোষ্ঠীর নানা আবেদন-নিবেদন অনেকদিন ধরেই অগ্রাহ্য করে আসছে এই বামদলগুলো।

`বাম` কি `ইসলাম` রাজনীতির পথে 

কিছু দিন আগে পশ্চিম বঙ্গের কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছিলেন। পুলিশসহ আহত হয়েছেন আরো অনেকে। পরে জানা গেল `এটা ছিল রাজনীতির ব্যাপার।` বাম দল `তৃণমূল কংগ্রেস` বিজেপির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রামনবমীর মিছিল করেছে। প্রগতির কথা দূরে রেখে ভোটের রাজনীতিতে ধর্মকেই বড় করে দেখেছে দলটি। এর সঙ্গে অনেকটাই মিল আছে আমাদের দেশের বাম দলগুলোর। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমে ছিল কয়েকটি বাম দল। ফলে বাম দলগুলো ভোটের রাজনীতিকে আদর্শ থেকে বড় করে দেখে ধর্মের রাজনীতির দিকেও ঝুঁকতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, একটা বাম দল যখন বলে বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রে ইসলামের একটি `স্পেস` জরুরি, এবং সেই `স্পেস` দেয়ার দাবি তুলেন, তখন বুঝতে হবে যে দলটি তার আদর্শ ভূলুণ্ঠিত করছে। দলটি তখন সত্য-অসত্যের মিশ্রণে একটি ধোঁয়াটে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সত্য হলো এই যে, শুধু রাজনীতি ও রাষ্ট্রে কেবল নয়, পরিবার এবং সমাজেও ইসলাম দোর্দণ্ড প্রতাপে উপস্থিত আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

তারা বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও রাজনীতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই ইসলামের প্রভাবে প্রভাবাধীন। আমাদের রাষ্ট্রের ধর্ম ইসলাম। এটি সংবিধানে লিপিবদ্ধ আছে। বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টিসহ সমমনা দলগুলো সব সময়ই এর পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। আর এখন এদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে বাম দলগুলো। তারা একসময় বিপ্লব করে সমাজটাকে বদলানোর কথা বলতেন, এখনো বলেন। তারা মুখে একটি বারের জন্যও বলেন না যে, আমাদের সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ গোটা রাষ্ট্রে ইসলাম ধর্মেরই জয়জয়কার। ফলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ধর্মের `স্পেস` ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে। সমস্যাটি বাড়তে বাড়তে এখন তিলে তিলে তিলোত্তমায় পরিণত হয়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সাম্প্রদায়িকতা থেকে কিভাবে মুক্তি পেতে পারি প্রশ্নে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে বলেছেন যে, সাম্প্রদায়িকতাকে দূর করতে হলে বঙ্গবন্ধু যেই চেতনায় বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে যেটি বলা হয়েছিল, ধর্মের নামে কোনো রাজনীতি চলবে না। এখানে ধর্মের নামে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ৭২ এর সংবিধানে ফিরে না যাওয়া ছাড়া এটা করা যাবে না। নির্মূল কমিটি ৩০ বছর ধরে এটা নিয়েই আন্দোলন করে আসছি বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ সম্প্রীতির ইতিহাস হাজার বছরের। বাম দলগুলোর ভোট কম আমরা জানি। তাই বলে মৌলবাদীদের ভোট পাওয়ার জন্য সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে কথা বলবে না, আদর্শের বিচ্যুতি ঘটাবে, এটি মেনে নেয়া যায় না। আজ কার্ল মার্ক্স বেঁচে থাকলে বামদলগুলোর সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে এ ধরণের নির্লজ্জ নিষ্ক্রিয়তা দেখলে তিনি নিশ্চিত বলতেন যে, এই দলগুলো যদি বাম দল হয়, তবে আমি আর যাই হই, বামপন্থী না!



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সেই জাহাঙ্গীরের মোটরসাইকেলে মুরাদ: ফেসবুকে ভাইরাল ছবি

প্রকাশ: ১১:৫৪ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

অডিও কিল্পের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন আর পেছনে বসে আছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ।

বহিষ্কৃত মেয়র ও এমপি ডা. মুরাদের পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেয়ার খবর প্রকাশ পেলে তাদের দুজনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে ‘ভাই ভাই’ ক্যাপশন দিয়ে ছবিটি শেয়ার করছেন।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ মন্তব্য করায় সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদের সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘অসৌজন্যমূলক’ মন্তব্য ও এক চিত্রনায়িকাকে তুলে এনে ধর্ষণের হুমকির একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৯:৩৫ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে আগামীকালের মধ্যে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাঁর বাসভবনে ডা. মুরাদ হাসানের বিষয়ে   সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং আমি আজ রাত ৮ টায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে বার্তাটি পৌঁছে দেই।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দুই নেত্রীর দু’টি পথ

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

নব্বইয়ের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতন হয়েছিল। স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নবযাত্রার সূচনা হয়েছিল। স্বৈরাচার বিরোধী আশির দশকের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই নেত্রী শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন। এরশাদের ক্ষমতা দখলের পরপরই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অবৈধ সামরিক শাসনের প্রতিবাদ করেন এবং তিনি প্রথম গণতন্ত্রের দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংগঠিত করেন। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠে ১৫ দল। বেগম খালেদা জিয়া এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন অনেক পরে। যখন বিএনপি অনিবার্য ভাঙ্গনের মুখে, অস্তিত্বের সঙ্কটে সেই সময় বেগম খালেদা জিয়া বিএনপি রক্ষার জন্য প্রথমে ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আস্তে আস্তে ১৫ দলের অনুসরণে ৭ দলীয় জোট গঠন করেন, যে জোটের অধিকাংশ দলই ছিল নামগোত্রহীন। এই জোটের মাধ্যমেই বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতির মাঠে পদার্পণ করেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দল মূলত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলকে অনুসরণ করতো এবং যুগপৎ কর্মসূচির ঘোষণা করত। এভাবে আস্তে আস্তে বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার সমান্তরাল ধারায় আলোচিত হতে থাকেন। সেই সময় কিছু গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজের একাংশ  শেখ হাসিনার পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়াকেও প্রধান নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করলে বাংলাদেশে দুই নেত্রীর শব্দটি চালু হয়। 

স্বৈরাচারবিরোধী এই আন্দোলন নানা রকম ঘাত-প্রতিঘাত এবং উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। এই আন্দোলনের বিভিন্ন বাঁকে নানা রকম জটিলতা তৈরি হয়েছিল। যেমন- ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যোগদান করে। বিএনপি ঐ নির্বাচনে যোগদানের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া ঐ নির্বাচনে যোগদান করেনি। এই সময় তাকে আপোষহীন নেত্রীর খেতাব দেওয়া হয়। অনেকেই মনে করেন যে, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাটাই বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে অনেকখানি এগিয়ে নিয়েছিল। এরপর বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার অন্তত দুইটি বৈঠক হয়েছিল। দুইটি বৈঠকেই তারা আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দুই নেত্রী বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনিবার্য বাস্তবতা হয়ে ওঠে। নব্বইয়ে এরশাদের পতনের পরে একানব্বইয়ের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নাটকীয়ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং সরকার গঠন করে। এরপর দুই নেত্রীর সম্মিলিত উদ্যোগেই বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হয়। সে সময় যদিও বেগম খালেদা জিয়া ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের মত উদারতা দেখাননি। কিন্তু তখন অনেকেই মনে করেছিল যে, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াই হয়তো জয়ী হবেন। কিন্তু ৩১ বছর পর আজ ফিরে দেখলে দেখা যায় যে, দুই নেত্রীর দুটি পথ এখন দুই দিকে চলে গেছে। 

শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন কিন্তু ১৩ বছর তিনি এখন দেশ পরিচালনা করছেন, চার বারের প্রধানমন্ত্রী তিনি। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া আজ দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন, সরকারের করুণা ভিক্ষা করছেন বিদেশে যাওয়ার জন্য। যে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৬ সালের নির্বাচন বর্জন করে আপোষহীন হয়েছিলেন, তিনি এখন মুচলেকা দিয়ে সরকারের করুণায় জামিনে রয়েছেন। রাজনীতি এরকমই। রাজনীতিতে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, আদর্শ না থাকলে হঠাৎ করে হয়তো বাহবা কুড়ানো যায় বা চমক দেখানো যায় কিন্তু লম্বা রেসের ঘোড়া হওয়া যায় না। শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন আদর্শ, লেগে থাকা এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কোনো বিকল্প নেই। দুই নেত্রীর দু'টি পথ আজ দুই দিকে চলে গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতিহাসে শেখ হাসিনা অমরত্ব পাবেন, বেগম খালেদা জিয়ার নাম লেখা থাকবে একজন দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যিনি করুণা ভিক্ষা করে তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা   বেগম খালেদা জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বেগম জিয়াকে নিয়ে কোন কৌশলে সরকার?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনীতির মাঠ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিএনপি ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি দিচ্ছে। অন্যদিকে সরকার তার অবস্থান থেকে এখন পর্যন্ত সরে আসেনি। গতকাল আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ব্যাপারে একটি নতুন কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার আবেদনপত্রটির ব্যাপারে তারা আইনগত দিকগুলো পর্যালোচনা করে দেখছেন। তার বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় কিনা সেটির আইনগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছেন বলেও আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দিনই পাসপোর্ট অধিদপ্তর বেগম খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু দণ্ডিত ব্যক্তি এজন্য তার পাসপোর্ট নবায়ন সম্ভব নয় বলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে। এর ফলে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকার নমনীয় হচ্ছে বলে আইন মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে যে ধরনের ধারণা পাওয়া গেছিল সেই ধারণাটি পাল্টে গেল।

দুই সপ্তাহ হয়ে গেল বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিএনপি নেতারা এবং বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠনের ড্যাবের নেতারা দাবি করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট খারাপ এবং যেকোন মুহূর্তে যেকোন কিছু ঘটে যেতে পারে বলেও তার শঙ্কা প্রকাশ করছেন। কারণেই তারা বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার দাবি তুলছেন। এই দাবিতে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এমন হুমকিও দিচ্ছেন যে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া হলে তারা এক দফা আন্দোলন শুরু করবেন। তবে সমস্ত দাবি দাওয়ার দরকার খুব একটা কর্ণপাত করছে বলে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। সাম্প্রতিক সময়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী . আব্দুল মোমেন সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি বিদেশ থেকে চিকিৎসকরা আসতে চান তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের মনোভাব সুস্পষ্ট হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকার একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক এবং মানবিক দুটো বিষয়ই পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় তাহলে তার রাজনৈতিক পরিণতি কি হবে এটা নিয়ে সরকারের মধ্যে একটা ভাবনা আছে। সরকার মনে করছে যে, বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে গেলেই সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম বিবৃতি দেবেন এবং একটি সরকার বিরোধী আন্দোলনের ঘোষণাও দিতে পারেন। পাশাপাশি তার পুত্র তারেক জিয়া লন্ডনে বসে ইতিমধ্যে নানা ষড়যন্ত্র করছেন। খালেদা জিয়া বিদেশে গেলেই তারেক জিয়ার ষড়যন্ত্রের মাত্রা এবং পরিধি আরো সর্বাত্মক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সম্ভবত এটিই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি না দেয়ার একটি বড় কারণ। তবে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন অন্য কথা। তারা বলছেন যে, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোন কিছু করা সম্ভব নয়।

সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি দুটি মামলায় দণ্ডিত এবং তার বিরুদ্ধে আরো অনেকগুলো মামলা রয়েছে। এই  মামলাগুলোর অধিকাংশই দুর্নীতি দমন কমিশনের। কাজেই দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সরকার যদি তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয় এবং তিনি যদি ফিরে না আসেন তাহলে ন্যায়বিচার লঙ্ঘিতে হবে। এটি সরকার করতে চাইছে না। তবে বেগম খালেদা জিয়ার শেষ পর্যন্ত যদি কিছু হয় তাহলে তার রাজনৈতিক পরিণতি কি হবে সেটিও সরকারের একটি বড় বিবেচ্য বিষয় বলে জানা গেছে। কারণ এই সরকার বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ দিবেন কি দিবেন না এটা নির্ভর করছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশের উপর। সরকার তার রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে যদি মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেওয়া হলে রাজনৈতিকভাবে সরকার লাভবান হবে সেক্ষেত্রেই হয়তো বিষয়টি বিবেচনা করলেও করতে পারেন। অন্যথায় বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বক্তব্য প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না: প্রতিমন্ত্রী মুরাদ

প্রকাশ: ০৭:৩৫ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনীকে নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিকে প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ বলেছেন, তিনি এসব বক্তব্য দিয়ে কোনো ভুল করেননি। এগুলো তিনি প্রত্যাহারও করবেন না কিংবা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে সরকার ও দলের ওপর থেকে কোনো চাপও নেই।

তিনি এমন বক্তব্য দেওয়ার আগে তাকে ‘নোংরা ভাষায়’ আক্রমণ করে কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুরাদ হাসান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়সের চেয়ে সে এক বছরের বড়। আমার কন্যার মতো বয়সী হয়ে যে নোংরা ভাষায় আমাকে নিয়ে ট্রল করেছে, সেটি তো কুচিন্তনীয়। এটি আমার কাছে খুব দুঃখজনক মনে হয়েছে। তার সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমের অনেক ছবি আমার কাছে চলে এসেছে।’

আর টকশোতে হাজির হয়ে বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াকে আক্রমণ করে মন্তব্য করা প্রসঙ্গে ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ''আপনি যদি ওই টকশোটা দেখেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন আমি কেন বলেছি"।

"আমি একজন চিকিৎসক। সেই হিসাবে তার সম্পর্কে আমার যে অবজারভেশন, সেটা আমি বলেছি। সেটা ভুল হলে আমি দুঃখিত।"

বিভিন্ন টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ডা. মুরাদ হাসানের দেওয়া কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় চলছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

প্রতিমন্ত্রী   ডা. মুরাদ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন