ইনসাইড পলিটিক্স

এবার লন্ডন ষড়যন্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:০৩ পিএম, ২৭ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্য, প্যারিস এবং স্কটল্যান্ডে তার সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়ে তিনি সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন এবং বৈঠকে মিলিত হবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই যুক্তরাজ্য সফর ঘিরে লন্ডনে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া, যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী এবং জামাতের বিভিন্ন অপশক্তি লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে লন্ডনের আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতৃবৃন্দ বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছেন যে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর সফর কে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে এবং বিএনপি-জামাত নানারকম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলছেন যে বিএনপি-জামাতের এই সমস্ত ষড়যন্ত্র এবং অপতৎপরতা প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত এবং এরকম অপতৎপরতাকে কোনোভাবেই সফল হতে দেয়া হবে না।

দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রগুলো বলছে যে গত তিনদিন ধরে লন্ডনে তারেক জিয়ার নির্দেশে বিএনপি-জামাত এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বৈঠক করছেন। এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে অপতৎপরতার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এই তথ্যগুলো এখন লন্ডনের সচেতন নাগরিকদের মুখে মুখে, তারা এই বিষয়টিকে লজ্জাজনক এবং কুৎসিত বলে মন্তব্য করেছেন। লন্ডনপ্রবাসী একজন বাঙালি বলছেন যে অন্যান্য দেশের প্রধানমন্ত্রীরা যখন বিদেশে যান তখন সব দল মতের লোকরা তাকে ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মান জানান, কারণ প্রধানমন্ত্রী কোন ব্যক্তি নন, প্রধানমন্ত্রী একটি ইন্সটিটিউশন। তার সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি মর্যাদা অনেকখানি নির্ভর করে। কাজেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন লন্ডনে যাবেন বা পৃথিবীর যেকোনো দেশে তিনি যান না কেন তাকে শ্রদ্ধা জানানো, সম্মান জানানো এবং স্বাগত জানানো প্রত্যেকটি প্রবাসী বাঙ্গালির দায়িত্ব। কিন্তু আমরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি না করে এমন সব কর্মকাণ্ড করি যাতে বাংলাদেশের মর্যাদা বিনষ্ট হয়। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীই শুধু ছোট হন না যারা এসব অপকর্ম করে তারাও ছোট হন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে এবার প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফরের সময় প্রতিবাদ, কালোপতাকা প্রদর্শন সহ বিভিন্ন রকম কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সক্রিয় করা হয়েছে। সেখানে সেটির মাধ্যমে নানা রকম গুজব এবং প্রচারণা করা হবে। পাশাপাশি এই লন্ডন সফরের সময়ে অন্যান্য ধরনের কোনো অপতৎপরতা করারও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র টিউলিপ সিদ্দিকের গাড়িতে হামলা করা হয়েছে এবং এই হামলা তদন্তে এটা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী তারেকের নির্দেশে এই অপতৎপরতা করেছিল। এবার এই জন্যই প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফর নিয়ে সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে ইতিমধ্যে লন্ডনে আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য সংগঠনগুলো পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সর্তকতা অবলম্বন করছেন। এ ধরনেরই সফরের যাতে কোন ধরনের নেতিবাচক ঘটনা ঘটে না ঘটে সেটির জন্য তারা বদ্ধপরিকর বলে জানা গেছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সেই জাহাঙ্গীরের মোটরসাইকেলে মুরাদ: ফেসবুকে ভাইরাল ছবি

প্রকাশ: ১১:৫৪ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

অডিও কিল্পের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন আর পেছনে বসে আছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ।

বহিষ্কৃত মেয়র ও এমপি ডা. মুরাদের পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেয়ার খবর প্রকাশ পেলে তাদের দুজনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে ‘ভাই ভাই’ ক্যাপশন দিয়ে ছবিটি শেয়ার করছেন।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ মন্তব্য করায় সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদের সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘অসৌজন্যমূলক’ মন্তব্য ও এক চিত্রনায়িকাকে তুলে এনে ধর্ষণের হুমকির একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৯:৩৫ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে আগামীকালের মধ্যে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাঁর বাসভবনে ডা. মুরাদ হাসানের বিষয়ে   সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং আমি আজ রাত ৮ টায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে বার্তাটি পৌঁছে দেই।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দুই নেত্রীর দু’টি পথ

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

নব্বইয়ের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতন হয়েছিল। স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নবযাত্রার সূচনা হয়েছিল। স্বৈরাচার বিরোধী আশির দশকের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই নেত্রী শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন। এরশাদের ক্ষমতা দখলের পরপরই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অবৈধ সামরিক শাসনের প্রতিবাদ করেন এবং তিনি প্রথম গণতন্ত্রের দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংগঠিত করেন। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠে ১৫ দল। বেগম খালেদা জিয়া এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন অনেক পরে। যখন বিএনপি অনিবার্য ভাঙ্গনের মুখে, অস্তিত্বের সঙ্কটে সেই সময় বেগম খালেদা জিয়া বিএনপি রক্ষার জন্য প্রথমে ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আস্তে আস্তে ১৫ দলের অনুসরণে ৭ দলীয় জোট গঠন করেন, যে জোটের অধিকাংশ দলই ছিল নামগোত্রহীন। এই জোটের মাধ্যমেই বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতির মাঠে পদার্পণ করেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দল মূলত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলকে অনুসরণ করতো এবং যুগপৎ কর্মসূচির ঘোষণা করত। এভাবে আস্তে আস্তে বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার সমান্তরাল ধারায় আলোচিত হতে থাকেন। সেই সময় কিছু গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজের একাংশ  শেখ হাসিনার পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়াকেও প্রধান নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করলে বাংলাদেশে দুই নেত্রীর শব্দটি চালু হয়। 

স্বৈরাচারবিরোধী এই আন্দোলন নানা রকম ঘাত-প্রতিঘাত এবং উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। এই আন্দোলনের বিভিন্ন বাঁকে নানা রকম জটিলতা তৈরি হয়েছিল। যেমন- ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যোগদান করে। বিএনপি ঐ নির্বাচনে যোগদানের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া ঐ নির্বাচনে যোগদান করেনি। এই সময় তাকে আপোষহীন নেত্রীর খেতাব দেওয়া হয়। অনেকেই মনে করেন যে, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাটাই বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে অনেকখানি এগিয়ে নিয়েছিল। এরপর বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার অন্তত দুইটি বৈঠক হয়েছিল। দুইটি বৈঠকেই তারা আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দুই নেত্রী বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনিবার্য বাস্তবতা হয়ে ওঠে। নব্বইয়ে এরশাদের পতনের পরে একানব্বইয়ের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নাটকীয়ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং সরকার গঠন করে। এরপর দুই নেত্রীর সম্মিলিত উদ্যোগেই বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হয়। সে সময় যদিও বেগম খালেদা জিয়া ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের মত উদারতা দেখাননি। কিন্তু তখন অনেকেই মনে করেছিল যে, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াই হয়তো জয়ী হবেন। কিন্তু ৩১ বছর পর আজ ফিরে দেখলে দেখা যায় যে, দুই নেত্রীর দুটি পথ এখন দুই দিকে চলে গেছে। 

শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন কিন্তু ১৩ বছর তিনি এখন দেশ পরিচালনা করছেন, চার বারের প্রধানমন্ত্রী তিনি। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া আজ দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন, সরকারের করুণা ভিক্ষা করছেন বিদেশে যাওয়ার জন্য। যে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৬ সালের নির্বাচন বর্জন করে আপোষহীন হয়েছিলেন, তিনি এখন মুচলেকা দিয়ে সরকারের করুণায় জামিনে রয়েছেন। রাজনীতি এরকমই। রাজনীতিতে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, আদর্শ না থাকলে হঠাৎ করে হয়তো বাহবা কুড়ানো যায় বা চমক দেখানো যায় কিন্তু লম্বা রেসের ঘোড়া হওয়া যায় না। শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন আদর্শ, লেগে থাকা এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কোনো বিকল্প নেই। দুই নেত্রীর দু'টি পথ আজ দুই দিকে চলে গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতিহাসে শেখ হাসিনা অমরত্ব পাবেন, বেগম খালেদা জিয়ার নাম লেখা থাকবে একজন দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যিনি করুণা ভিক্ষা করে তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা   বেগম খালেদা জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বেগম জিয়াকে নিয়ে কোন কৌশলে সরকার?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনীতির মাঠ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিএনপি ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি দিচ্ছে। অন্যদিকে সরকার তার অবস্থান থেকে এখন পর্যন্ত সরে আসেনি। গতকাল আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ব্যাপারে একটি নতুন কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার আবেদনপত্রটির ব্যাপারে তারা আইনগত দিকগুলো পর্যালোচনা করে দেখছেন। তার বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় কিনা সেটির আইনগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছেন বলেও আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দিনই পাসপোর্ট অধিদপ্তর বেগম খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু দণ্ডিত ব্যক্তি এজন্য তার পাসপোর্ট নবায়ন সম্ভব নয় বলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে। এর ফলে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকার নমনীয় হচ্ছে বলে আইন মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে যে ধরনের ধারণা পাওয়া গেছিল সেই ধারণাটি পাল্টে গেল।

দুই সপ্তাহ হয়ে গেল বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিএনপি নেতারা এবং বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠনের ড্যাবের নেতারা দাবি করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট খারাপ এবং যেকোন মুহূর্তে যেকোন কিছু ঘটে যেতে পারে বলেও তার শঙ্কা প্রকাশ করছেন। কারণেই তারা বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার দাবি তুলছেন। এই দাবিতে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এমন হুমকিও দিচ্ছেন যে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া হলে তারা এক দফা আন্দোলন শুরু করবেন। তবে সমস্ত দাবি দাওয়ার দরকার খুব একটা কর্ণপাত করছে বলে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। সাম্প্রতিক সময়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী . আব্দুল মোমেন সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি বিদেশ থেকে চিকিৎসকরা আসতে চান তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের মনোভাব সুস্পষ্ট হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকার একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক এবং মানবিক দুটো বিষয়ই পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় তাহলে তার রাজনৈতিক পরিণতি কি হবে এটা নিয়ে সরকারের মধ্যে একটা ভাবনা আছে। সরকার মনে করছে যে, বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে গেলেই সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম বিবৃতি দেবেন এবং একটি সরকার বিরোধী আন্দোলনের ঘোষণাও দিতে পারেন। পাশাপাশি তার পুত্র তারেক জিয়া লন্ডনে বসে ইতিমধ্যে নানা ষড়যন্ত্র করছেন। খালেদা জিয়া বিদেশে গেলেই তারেক জিয়ার ষড়যন্ত্রের মাত্রা এবং পরিধি আরো সর্বাত্মক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সম্ভবত এটিই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি না দেয়ার একটি বড় কারণ। তবে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন অন্য কথা। তারা বলছেন যে, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোন কিছু করা সম্ভব নয়।

সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি দুটি মামলায় দণ্ডিত এবং তার বিরুদ্ধে আরো অনেকগুলো মামলা রয়েছে। এই  মামলাগুলোর অধিকাংশই দুর্নীতি দমন কমিশনের। কাজেই দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সরকার যদি তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয় এবং তিনি যদি ফিরে না আসেন তাহলে ন্যায়বিচার লঙ্ঘিতে হবে। এটি সরকার করতে চাইছে না। তবে বেগম খালেদা জিয়ার শেষ পর্যন্ত যদি কিছু হয় তাহলে তার রাজনৈতিক পরিণতি কি হবে সেটিও সরকারের একটি বড় বিবেচ্য বিষয় বলে জানা গেছে। কারণ এই সরকার বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ দিবেন কি দিবেন না এটা নির্ভর করছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশের উপর। সরকার তার রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে যদি মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেওয়া হলে রাজনৈতিকভাবে সরকার লাভবান হবে সেক্ষেত্রেই হয়তো বিষয়টি বিবেচনা করলেও করতে পারেন। অন্যথায় বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বক্তব্য প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না: প্রতিমন্ত্রী মুরাদ

প্রকাশ: ০৭:৩৫ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনীকে নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিকে প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ বলেছেন, তিনি এসব বক্তব্য দিয়ে কোনো ভুল করেননি। এগুলো তিনি প্রত্যাহারও করবেন না কিংবা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে সরকার ও দলের ওপর থেকে কোনো চাপও নেই।

তিনি এমন বক্তব্য দেওয়ার আগে তাকে ‘নোংরা ভাষায়’ আক্রমণ করে কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুরাদ হাসান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়সের চেয়ে সে এক বছরের বড়। আমার কন্যার মতো বয়সী হয়ে যে নোংরা ভাষায় আমাকে নিয়ে ট্রল করেছে, সেটি তো কুচিন্তনীয়। এটি আমার কাছে খুব দুঃখজনক মনে হয়েছে। তার সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমের অনেক ছবি আমার কাছে চলে এসেছে।’

আর টকশোতে হাজির হয়ে বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াকে আক্রমণ করে মন্তব্য করা প্রসঙ্গে ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ''আপনি যদি ওই টকশোটা দেখেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন আমি কেন বলেছি"।

"আমি একজন চিকিৎসক। সেই হিসাবে তার সম্পর্কে আমার যে অবজারভেশন, সেটা আমি বলেছি। সেটা ভুল হলে আমি দুঃখিত।"

বিভিন্ন টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ডা. মুরাদ হাসানের দেওয়া কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় চলছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

প্রতিমন্ত্রী   ডা. মুরাদ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন