ইনসাইড পলিটিক্স

সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:০১ পিএম, ২৭ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

সাম্প্রয়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সম্প্রীতি সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর বারটায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম পেশাজীবী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এ কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধনে রাজধানীর বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি এহেন সাম্প্রদায়িক হামলাকে রুখে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা স্বাচিপের সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. আরিফুল জোয়ার্দার টিটোর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দেশ বরেণ্য চিকিৎসকরা।

জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে শান্তি বিরাজ করছে। খাদ্যের অভাব নাই, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল। অথচ বিএনপির আমলে দুর্নীতি চ্যাম্পিয়ান হয়। বিএনপি জামায়েত যখন রাজনৈতিকভাবে কোন উন্নতি লাভ না করছে তখনই তারা সুকৌশলে কুমিল্লা ও রংপুরে হামলা করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে ষড়যন্ত্রের  মাধ্যমে। ক্যান্টনমেন্টে যে দল গঠন করা হয়েছে সে দল কখনো স্বাভাবিক রাজনীতি করেনি। তারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না। তারা জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে না। তারা ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।  আমার মনে করি এ ষড়যন্ত্রের রাজনীতি দাত ভেঙ্গে দিতে হবে।

সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। বঙ্গবন্ধুর দেশ এখানে কেউ সাম্প্রদায়িক হামলা করে পার পাবেন না। জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যাচ্ছেন তখন ষড়যন্ত্র কারীরা এ হামলা করেছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। বিচার করা হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন বলেন, আমাদের দেশে নাগরিক সমাজে সবচেয়ে উচু স্তরের লোক হলেন চিকিৎসক সমাজ। সেই চিকিৎসক সমাজ আজকে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করছে। এ মানববন্ধন হচ্ছে সম্প্রীতির বন্ধন।  এ বন্ধন হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক প্রত্যয়। যাদের হিয়ায় আজকে পাকিস্তান, যাদের চেতনায় পাকিস্তান, যাদের চেতনায় পাকিস্তান, যাদের চেতনায় জামায়েত। এই বিএনপি জামায়েত হচ্ছে বাংলাদেশের অপশক্তি। যারা তথাকথিত গণঅভ্যুত্থানের নামে  সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটিয়ে, পূজা মণ্ডপে, হিন্দুদের বাড়িতে আক্রমণ করে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে চায়।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জ্বীবিত বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তির বাংলাদেশ। তাদের আমরা একাত্তরে পরাজিত করেছি। আগামীতেও আমরা তাদের  প্রতিহত করব।  আওয়ামী লীগের এ সাংগঠনিক সম্পাদক হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, প্রয়োজনে একাত্তরের মত শহীদ হবো, তবুও বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক হতে দেবো না।

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সম্প্রীতি সমাবেশ ও মানবন্ধন কর্মসূচিতে সংগঠনের সহ সভাপতি অধ্যাপক ডা আব্দুর রউফ শর্দারের সভাপতিত্বে স্বাচিপ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ বলেন, আট শতকের পরে এই বাংলায় বৌদ্ধ পাল রাজারা ৪০০ বছর শাসন করে। এর আগে থেকেই এ ভূখণ্ডে হিন্দু বুদ্ধ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতির  ঐতিহ্য ছিল। বৌদ্ধ রাজারা হিন্দুদের পূজার জন্য মন্দির নির্মাণসহ ধর্মীয় কাজে উদার হস্তে দান করতেন।
তিনি বলেন, মধ্যযুগে প্রায় ৬শ বছর বিদেশী মুসলমানরা এ দেশে শাসন করে। সুলতান ও মোঘল শাসনামলেও এই অঞ্চলে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট ছিল। এ অঞ্চলে ইংরেজদের শাসনামলে সর্ব প্রথম সাম্প্রদায়িক বীজ রোপন করে কিংবা সাম্প্রদায়িক ক্ষতের সৃষ্টি করে। এরা সুকৌশলে হিন্দু মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িকতা। ১৯৪৭ দেশ ভাগের পর বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান  ধর্ম নিরপেক্ষতা ও অসম্প্রদায়িকতা চেতনা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেন। পরর্বতীতে দেশ স্বাধীন করেন।

অধ্যাপক ডা এমএ আজিজ আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বল্প সময় সাড়ে তিন বছর ধর্ম নিরপক্ষেতার চর্চা করার সুযোগ পেয়েছিল। আমরা চাই বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রীর  হাতে সেই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ফিরে যেতে।

সাম্প্রতি সময়ে সংখ্যালঘুদের হামলার বিষয়ে তিনি বলেন,  সবাই জানে হিন্দুরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। তাই বিএনপি জামায়েত তাদের উপর পরিকল্পিত হামলা করেছে। বিএনপি জামায়েত আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক কমাতে চায়, তাঁদের উপর হামলা নির্যাতন করে সরকারের ইমেজ নষ্ট করতে চায়।তাদের উচ্ছেদ করে পাশের দেশে পাঠাতে চায়।তাই তাঁদের উপর এ ধরণের  হামলা নির্যাতন করে বিতারণের ব্যবস্থা করতে চায়। বিএনপি জামায়েত এমন হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের ইমেজ নষ্ট করতে চায়। সংখ্যালুঘু নির্যাতন যেন জামায়েত বিএনপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন,  বিএনপি পুজোর আগে  বারবার বলেছে তারা গণঅভ্যুত্থান করবে। তাদের গণঅভ্যুত্থানের অন্তরালে ছিলো এই সংখ্যালুঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা। এখন বিএনপি নির্বাচন নিয়ে কথা বলে না, গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কথা বলে না। এতে প্রমাণিত হয় বিএনপি জামায়েতকে সঙ্গে নিয়ে এ হামলা ঘটিয়েছে।

কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা  মো শারফুদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো স্পাইন সার্জারী বিভাগের অধ্যাপক ডা মোহাম্মদ হোসেন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কোষাধ্যক্ষ  অধ্যাপক ডা আবু ইউসুফ ফকির,   স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ হৃদরোগ ইনস্টিটিউট শাখার সদস্য সচিব ডা. পিজুষ বিশ্বাস, অধ্যাপক ডা মো জাহাঙ্গীর আলাম প্রমুখ।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সেই জাহাঙ্গীরের মোটরসাইকেলে মুরাদ: ফেসবুকে ভাইরাল ছবি

প্রকাশ: ১১:৫৪ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

অডিও কিল্পের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন আর পেছনে বসে আছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ।

বহিষ্কৃত মেয়র ও এমপি ডা. মুরাদের পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেয়ার খবর প্রকাশ পেলে তাদের দুজনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে ‘ভাই ভাই’ ক্যাপশন দিয়ে ছবিটি শেয়ার করছেন।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ মন্তব্য করায় সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদের সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘অসৌজন্যমূলক’ মন্তব্য ও এক চিত্রনায়িকাকে তুলে এনে ধর্ষণের হুমকির একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৯:৩৫ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে আগামীকালের মধ্যে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাঁর বাসভবনে ডা. মুরাদ হাসানের বিষয়ে   সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং আমি আজ রাত ৮ টায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে বার্তাটি পৌঁছে দেই।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দুই নেত্রীর দু’টি পথ

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

নব্বইয়ের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতন হয়েছিল। স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নবযাত্রার সূচনা হয়েছিল। স্বৈরাচার বিরোধী আশির দশকের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই নেত্রী শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন। এরশাদের ক্ষমতা দখলের পরপরই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অবৈধ সামরিক শাসনের প্রতিবাদ করেন এবং তিনি প্রথম গণতন্ত্রের দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংগঠিত করেন। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠে ১৫ দল। বেগম খালেদা জিয়া এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন অনেক পরে। যখন বিএনপি অনিবার্য ভাঙ্গনের মুখে, অস্তিত্বের সঙ্কটে সেই সময় বেগম খালেদা জিয়া বিএনপি রক্ষার জন্য প্রথমে ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আস্তে আস্তে ১৫ দলের অনুসরণে ৭ দলীয় জোট গঠন করেন, যে জোটের অধিকাংশ দলই ছিল নামগোত্রহীন। এই জোটের মাধ্যমেই বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতির মাঠে পদার্পণ করেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দল মূলত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলকে অনুসরণ করতো এবং যুগপৎ কর্মসূচির ঘোষণা করত। এভাবে আস্তে আস্তে বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার সমান্তরাল ধারায় আলোচিত হতে থাকেন। সেই সময় কিছু গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজের একাংশ  শেখ হাসিনার পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়াকেও প্রধান নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করলে বাংলাদেশে দুই নেত্রীর শব্দটি চালু হয়। 

স্বৈরাচারবিরোধী এই আন্দোলন নানা রকম ঘাত-প্রতিঘাত এবং উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। এই আন্দোলনের বিভিন্ন বাঁকে নানা রকম জটিলতা তৈরি হয়েছিল। যেমন- ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যোগদান করে। বিএনপি ঐ নির্বাচনে যোগদানের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া ঐ নির্বাচনে যোগদান করেনি। এই সময় তাকে আপোষহীন নেত্রীর খেতাব দেওয়া হয়। অনেকেই মনে করেন যে, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাটাই বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে অনেকখানি এগিয়ে নিয়েছিল। এরপর বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার অন্তত দুইটি বৈঠক হয়েছিল। দুইটি বৈঠকেই তারা আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দুই নেত্রী বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনিবার্য বাস্তবতা হয়ে ওঠে। নব্বইয়ে এরশাদের পতনের পরে একানব্বইয়ের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নাটকীয়ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং সরকার গঠন করে। এরপর দুই নেত্রীর সম্মিলিত উদ্যোগেই বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হয়। সে সময় যদিও বেগম খালেদা জিয়া ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের মত উদারতা দেখাননি। কিন্তু তখন অনেকেই মনে করেছিল যে, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াই হয়তো জয়ী হবেন। কিন্তু ৩১ বছর পর আজ ফিরে দেখলে দেখা যায় যে, দুই নেত্রীর দুটি পথ এখন দুই দিকে চলে গেছে। 

শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন কিন্তু ১৩ বছর তিনি এখন দেশ পরিচালনা করছেন, চার বারের প্রধানমন্ত্রী তিনি। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া আজ দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন, সরকারের করুণা ভিক্ষা করছেন বিদেশে যাওয়ার জন্য। যে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৬ সালের নির্বাচন বর্জন করে আপোষহীন হয়েছিলেন, তিনি এখন মুচলেকা দিয়ে সরকারের করুণায় জামিনে রয়েছেন। রাজনীতি এরকমই। রাজনীতিতে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, আদর্শ না থাকলে হঠাৎ করে হয়তো বাহবা কুড়ানো যায় বা চমক দেখানো যায় কিন্তু লম্বা রেসের ঘোড়া হওয়া যায় না। শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন আদর্শ, লেগে থাকা এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কোনো বিকল্প নেই। দুই নেত্রীর দু'টি পথ আজ দুই দিকে চলে গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতিহাসে শেখ হাসিনা অমরত্ব পাবেন, বেগম খালেদা জিয়ার নাম লেখা থাকবে একজন দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যিনি করুণা ভিক্ষা করে তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা   বেগম খালেদা জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বেগম জিয়াকে নিয়ে কোন কৌশলে সরকার?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনীতির মাঠ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিএনপি ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি দিচ্ছে। অন্যদিকে সরকার তার অবস্থান থেকে এখন পর্যন্ত সরে আসেনি। গতকাল আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ব্যাপারে একটি নতুন কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার আবেদনপত্রটির ব্যাপারে তারা আইনগত দিকগুলো পর্যালোচনা করে দেখছেন। তার বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় কিনা সেটির আইনগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছেন বলেও আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দিনই পাসপোর্ট অধিদপ্তর বেগম খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু দণ্ডিত ব্যক্তি এজন্য তার পাসপোর্ট নবায়ন সম্ভব নয় বলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে। এর ফলে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকার নমনীয় হচ্ছে বলে আইন মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে যে ধরনের ধারণা পাওয়া গেছিল সেই ধারণাটি পাল্টে গেল।

দুই সপ্তাহ হয়ে গেল বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিএনপি নেতারা এবং বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠনের ড্যাবের নেতারা দাবি করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট খারাপ এবং যেকোন মুহূর্তে যেকোন কিছু ঘটে যেতে পারে বলেও তার শঙ্কা প্রকাশ করছেন। কারণেই তারা বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার দাবি তুলছেন। এই দাবিতে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এমন হুমকিও দিচ্ছেন যে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া হলে তারা এক দফা আন্দোলন শুরু করবেন। তবে সমস্ত দাবি দাওয়ার দরকার খুব একটা কর্ণপাত করছে বলে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। সাম্প্রতিক সময়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী . আব্দুল মোমেন সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি বিদেশ থেকে চিকিৎসকরা আসতে চান তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের মনোভাব সুস্পষ্ট হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকার একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক এবং মানবিক দুটো বিষয়ই পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় তাহলে তার রাজনৈতিক পরিণতি কি হবে এটা নিয়ে সরকারের মধ্যে একটা ভাবনা আছে। সরকার মনে করছে যে, বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে গেলেই সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম বিবৃতি দেবেন এবং একটি সরকার বিরোধী আন্দোলনের ঘোষণাও দিতে পারেন। পাশাপাশি তার পুত্র তারেক জিয়া লন্ডনে বসে ইতিমধ্যে নানা ষড়যন্ত্র করছেন। খালেদা জিয়া বিদেশে গেলেই তারেক জিয়ার ষড়যন্ত্রের মাত্রা এবং পরিধি আরো সর্বাত্মক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সম্ভবত এটিই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি না দেয়ার একটি বড় কারণ। তবে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন অন্য কথা। তারা বলছেন যে, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোন কিছু করা সম্ভব নয়।

সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি দুটি মামলায় দণ্ডিত এবং তার বিরুদ্ধে আরো অনেকগুলো মামলা রয়েছে। এই  মামলাগুলোর অধিকাংশই দুর্নীতি দমন কমিশনের। কাজেই দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সরকার যদি তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয় এবং তিনি যদি ফিরে না আসেন তাহলে ন্যায়বিচার লঙ্ঘিতে হবে। এটি সরকার করতে চাইছে না। তবে বেগম খালেদা জিয়ার শেষ পর্যন্ত যদি কিছু হয় তাহলে তার রাজনৈতিক পরিণতি কি হবে সেটিও সরকারের একটি বড় বিবেচ্য বিষয় বলে জানা গেছে। কারণ এই সরকার বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ দিবেন কি দিবেন না এটা নির্ভর করছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশের উপর। সরকার তার রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে যদি মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেওয়া হলে রাজনৈতিকভাবে সরকার লাভবান হবে সেক্ষেত্রেই হয়তো বিষয়টি বিবেচনা করলেও করতে পারেন। অন্যথায় বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বক্তব্য প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না: প্রতিমন্ত্রী মুরাদ

প্রকাশ: ০৭:৩৫ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনীকে নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিকে প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ বলেছেন, তিনি এসব বক্তব্য দিয়ে কোনো ভুল করেননি। এগুলো তিনি প্রত্যাহারও করবেন না কিংবা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে সরকার ও দলের ওপর থেকে কোনো চাপও নেই।

তিনি এমন বক্তব্য দেওয়ার আগে তাকে ‘নোংরা ভাষায়’ আক্রমণ করে কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুরাদ হাসান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়সের চেয়ে সে এক বছরের বড়। আমার কন্যার মতো বয়সী হয়ে যে নোংরা ভাষায় আমাকে নিয়ে ট্রল করেছে, সেটি তো কুচিন্তনীয়। এটি আমার কাছে খুব দুঃখজনক মনে হয়েছে। তার সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমের অনেক ছবি আমার কাছে চলে এসেছে।’

আর টকশোতে হাজির হয়ে বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াকে আক্রমণ করে মন্তব্য করা প্রসঙ্গে ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ''আপনি যদি ওই টকশোটা দেখেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন আমি কেন বলেছি"।

"আমি একজন চিকিৎসক। সেই হিসাবে তার সম্পর্কে আমার যে অবজারভেশন, সেটা আমি বলেছি। সেটা ভুল হলে আমি দুঃখিত।"

বিভিন্ন টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ডা. মুরাদ হাসানের দেওয়া কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় চলছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

প্রতিমন্ত্রী   ডা. মুরাদ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন