ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির কর্মসূচি মানেই জনগণের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি: ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১:৩৮ পিএম, ২৮ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

বিএনপিকে সতর্ক করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি কর্মসূচির নামে কোনোরূপ সন্ত্রাস ও জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। সভা-সমাবেশ সবার সাংবিধানিক অধিকার, কিন্তু সমাবেশের অনুমতি না দিলে বিএনপি বলত সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আর অনুমতি দিলে হামলা, সন্ত্রাস সৃষ্টি করে জনগণের সম্পদ বিনষ্ট করে। বিএনপির কর্মসূচি মানেই জনগণের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।’

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার কখনো খালি মাঠে গোল দিতে চায় না। সরকার চায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। আর খালি মাঠে গোল দিতে আওয়ামী লীগ অভ্যস্তও নয়। বিএনপিই জন্মলগ্ন থেকে এ চর্চা করে আসছে। ১৫ ফেব্রুয়ারির খালি মাঠে নির্বাচনে কথা বিএনপি ভুলে গেলেও জনগণ এখনও ভুলেনি।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতারা তাদের ব্যর্থতা আড়াল করতে ও কর্মী-সমর্থকদের রোষানল থেকে বাঁচার জন্য এসব বক্তব্য দিচ্ছেন। নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নয়, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে।’

পূজা মণ্ডপের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারের মামলা দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কে কোন দল করে সেটা দেখে নয়, ভিডিও ফুটেজ দেখেই চিহ্নিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার মাধ্যমে বিএনপি পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চেয়েছিল, কিন্তু সরকার তা শক্ত হাতে দমন করেছে। বিএনপি জাতিকে বিভ্রান্ত করছে এবং বিভেদ তৈরি করছে।’

আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করছেন, দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে। এটাই বিএনপির গাত্রদাহের কারণ। গত মঙ্গলবার নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা ও সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করেছে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সক্ষম নয়। তাদের কর্মসূচি মানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।’

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবারের কথিত সম্প্রীতি সমাবেশের আড়ালে বিএনপির ভিন্ন কোনো এজেন্ডা ছিল কি-না তা খতিয়ে দেখা দরকার। তবে কি অপরাধীদের বাঁচানোর জন্যই সম্প্রীতি সমাবেশের নামে বিএনপির এ সন্ত্রাস? আসলে হামলা, সংঘর্ষ, ষড়যন্ত্র আর সন্ত্রাসী বিএনপির রাজনীতি, সেটা পূজামণ্ডপে হোক আর নয়াপল্টনে হোক- বিএনপি এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরবর্তী ধাপে যেসব এলাকায় নির্বাচন হবে সেসব এলাকার আওয়ামী লীগের প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সেই জাহাঙ্গীরের মোটরসাইকেলে মুরাদ: ফেসবুকে ভাইরাল ছবি

প্রকাশ: ১১:৫৪ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

অডিও কিল্পের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন আর পেছনে বসে আছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ।

বহিষ্কৃত মেয়র ও এমপি ডা. মুরাদের পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেয়ার খবর প্রকাশ পেলে তাদের দুজনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে ‘ভাই ভাই’ ক্যাপশন দিয়ে ছবিটি শেয়ার করছেন।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ মন্তব্য করায় সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদের সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘অসৌজন্যমূলক’ মন্তব্য ও এক চিত্রনায়িকাকে তুলে এনে ধর্ষণের হুমকির একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৯:৩৫ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে আগামীকালের মধ্যে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাঁর বাসভবনে ডা. মুরাদ হাসানের বিষয়ে   সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং আমি আজ রাত ৮ টায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে বার্তাটি পৌঁছে দেই।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দুই নেত্রীর দু’টি পথ

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

নব্বইয়ের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতন হয়েছিল। স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নবযাত্রার সূচনা হয়েছিল। স্বৈরাচার বিরোধী আশির দশকের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই নেত্রী শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন। এরশাদের ক্ষমতা দখলের পরপরই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অবৈধ সামরিক শাসনের প্রতিবাদ করেন এবং তিনি প্রথম গণতন্ত্রের দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংগঠিত করেন। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠে ১৫ দল। বেগম খালেদা জিয়া এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন অনেক পরে। যখন বিএনপি অনিবার্য ভাঙ্গনের মুখে, অস্তিত্বের সঙ্কটে সেই সময় বেগম খালেদা জিয়া বিএনপি রক্ষার জন্য প্রথমে ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আস্তে আস্তে ১৫ দলের অনুসরণে ৭ দলীয় জোট গঠন করেন, যে জোটের অধিকাংশ দলই ছিল নামগোত্রহীন। এই জোটের মাধ্যমেই বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতির মাঠে পদার্পণ করেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দল মূলত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলকে অনুসরণ করতো এবং যুগপৎ কর্মসূচির ঘোষণা করত। এভাবে আস্তে আস্তে বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার সমান্তরাল ধারায় আলোচিত হতে থাকেন। সেই সময় কিছু গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজের একাংশ  শেখ হাসিনার পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়াকেও প্রধান নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করলে বাংলাদেশে দুই নেত্রীর শব্দটি চালু হয়। 

স্বৈরাচারবিরোধী এই আন্দোলন নানা রকম ঘাত-প্রতিঘাত এবং উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। এই আন্দোলনের বিভিন্ন বাঁকে নানা রকম জটিলতা তৈরি হয়েছিল। যেমন- ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যোগদান করে। বিএনপি ঐ নির্বাচনে যোগদানের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া ঐ নির্বাচনে যোগদান করেনি। এই সময় তাকে আপোষহীন নেত্রীর খেতাব দেওয়া হয়। অনেকেই মনে করেন যে, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাটাই বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে অনেকখানি এগিয়ে নিয়েছিল। এরপর বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার অন্তত দুইটি বৈঠক হয়েছিল। দুইটি বৈঠকেই তারা আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দুই নেত্রী বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনিবার্য বাস্তবতা হয়ে ওঠে। নব্বইয়ে এরশাদের পতনের পরে একানব্বইয়ের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নাটকীয়ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং সরকার গঠন করে। এরপর দুই নেত্রীর সম্মিলিত উদ্যোগেই বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হয়। সে সময় যদিও বেগম খালেদা জিয়া ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের মত উদারতা দেখাননি। কিন্তু তখন অনেকেই মনে করেছিল যে, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াই হয়তো জয়ী হবেন। কিন্তু ৩১ বছর পর আজ ফিরে দেখলে দেখা যায় যে, দুই নেত্রীর দুটি পথ এখন দুই দিকে চলে গেছে। 

শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন কিন্তু ১৩ বছর তিনি এখন দেশ পরিচালনা করছেন, চার বারের প্রধানমন্ত্রী তিনি। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া আজ দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন, সরকারের করুণা ভিক্ষা করছেন বিদেশে যাওয়ার জন্য। যে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৬ সালের নির্বাচন বর্জন করে আপোষহীন হয়েছিলেন, তিনি এখন মুচলেকা দিয়ে সরকারের করুণায় জামিনে রয়েছেন। রাজনীতি এরকমই। রাজনীতিতে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, আদর্শ না থাকলে হঠাৎ করে হয়তো বাহবা কুড়ানো যায় বা চমক দেখানো যায় কিন্তু লম্বা রেসের ঘোড়া হওয়া যায় না। শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন আদর্শ, লেগে থাকা এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কোনো বিকল্প নেই। দুই নেত্রীর দু'টি পথ আজ দুই দিকে চলে গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতিহাসে শেখ হাসিনা অমরত্ব পাবেন, বেগম খালেদা জিয়ার নাম লেখা থাকবে একজন দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যিনি করুণা ভিক্ষা করে তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা   বেগম খালেদা জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বেগম জিয়াকে নিয়ে কোন কৌশলে সরকার?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনীতির মাঠ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিএনপি ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি দিচ্ছে। অন্যদিকে সরকার তার অবস্থান থেকে এখন পর্যন্ত সরে আসেনি। গতকাল আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ব্যাপারে একটি নতুন কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার আবেদনপত্রটির ব্যাপারে তারা আইনগত দিকগুলো পর্যালোচনা করে দেখছেন। তার বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় কিনা সেটির আইনগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছেন বলেও আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দিনই পাসপোর্ট অধিদপ্তর বেগম খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু দণ্ডিত ব্যক্তি এজন্য তার পাসপোর্ট নবায়ন সম্ভব নয় বলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে। এর ফলে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকার নমনীয় হচ্ছে বলে আইন মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে যে ধরনের ধারণা পাওয়া গেছিল সেই ধারণাটি পাল্টে গেল।

দুই সপ্তাহ হয়ে গেল বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিএনপি নেতারা এবং বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠনের ড্যাবের নেতারা দাবি করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট খারাপ এবং যেকোন মুহূর্তে যেকোন কিছু ঘটে যেতে পারে বলেও তার শঙ্কা প্রকাশ করছেন। কারণেই তারা বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার দাবি তুলছেন। এই দাবিতে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এমন হুমকিও দিচ্ছেন যে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া হলে তারা এক দফা আন্দোলন শুরু করবেন। তবে সমস্ত দাবি দাওয়ার দরকার খুব একটা কর্ণপাত করছে বলে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। সাম্প্রতিক সময়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী . আব্দুল মোমেন সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি বিদেশ থেকে চিকিৎসকরা আসতে চান তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের মনোভাব সুস্পষ্ট হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকার একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক এবং মানবিক দুটো বিষয়ই পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় তাহলে তার রাজনৈতিক পরিণতি কি হবে এটা নিয়ে সরকারের মধ্যে একটা ভাবনা আছে। সরকার মনে করছে যে, বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে গেলেই সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম বিবৃতি দেবেন এবং একটি সরকার বিরোধী আন্দোলনের ঘোষণাও দিতে পারেন। পাশাপাশি তার পুত্র তারেক জিয়া লন্ডনে বসে ইতিমধ্যে নানা ষড়যন্ত্র করছেন। খালেদা জিয়া বিদেশে গেলেই তারেক জিয়ার ষড়যন্ত্রের মাত্রা এবং পরিধি আরো সর্বাত্মক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সম্ভবত এটিই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি না দেয়ার একটি বড় কারণ। তবে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন অন্য কথা। তারা বলছেন যে, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোন কিছু করা সম্ভব নয়।

সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি দুটি মামলায় দণ্ডিত এবং তার বিরুদ্ধে আরো অনেকগুলো মামলা রয়েছে। এই  মামলাগুলোর অধিকাংশই দুর্নীতি দমন কমিশনের। কাজেই দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সরকার যদি তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয় এবং তিনি যদি ফিরে না আসেন তাহলে ন্যায়বিচার লঙ্ঘিতে হবে। এটি সরকার করতে চাইছে না। তবে বেগম খালেদা জিয়ার শেষ পর্যন্ত যদি কিছু হয় তাহলে তার রাজনৈতিক পরিণতি কি হবে সেটিও সরকারের একটি বড় বিবেচ্য বিষয় বলে জানা গেছে। কারণ এই সরকার বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ দিবেন কি দিবেন না এটা নির্ভর করছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশের উপর। সরকার তার রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে যদি মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেওয়া হলে রাজনৈতিকভাবে সরকার লাভবান হবে সেক্ষেত্রেই হয়তো বিষয়টি বিবেচনা করলেও করতে পারেন। অন্যথায় বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বক্তব্য প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না: প্রতিমন্ত্রী মুরাদ

প্রকাশ: ০৭:৩৫ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনীকে নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিকে প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ বলেছেন, তিনি এসব বক্তব্য দিয়ে কোনো ভুল করেননি। এগুলো তিনি প্রত্যাহারও করবেন না কিংবা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে সরকার ও দলের ওপর থেকে কোনো চাপও নেই।

তিনি এমন বক্তব্য দেওয়ার আগে তাকে ‘নোংরা ভাষায়’ আক্রমণ করে কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুরাদ হাসান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়সের চেয়ে সে এক বছরের বড়। আমার কন্যার মতো বয়সী হয়ে যে নোংরা ভাষায় আমাকে নিয়ে ট্রল করেছে, সেটি তো কুচিন্তনীয়। এটি আমার কাছে খুব দুঃখজনক মনে হয়েছে। তার সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমের অনেক ছবি আমার কাছে চলে এসেছে।’

আর টকশোতে হাজির হয়ে বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াকে আক্রমণ করে মন্তব্য করা প্রসঙ্গে ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ''আপনি যদি ওই টকশোটা দেখেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন আমি কেন বলেছি"।

"আমি একজন চিকিৎসক। সেই হিসাবে তার সম্পর্কে আমার যে অবজারভেশন, সেটা আমি বলেছি। সেটা ভুল হলে আমি দুঃখিত।"

বিভিন্ন টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ডা. মুরাদ হাসানের দেওয়া কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় চলছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

প্রতিমন্ত্রী   ডা. মুরাদ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন