প্রেস ইনসাইড

ডিইউজের নতুন সভাপতি সোহেল, সম্পাদক আকতার

প্রকাশ: ০৮:০৮ পিএম, ২৯ মার্চ, ২০২২


Thumbnail ডিইউজের নতুন সভাপতি সোহেল, সম্পাদক আকতার

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নে (ডিইউজে) দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে আগামী দুই বছরের জন্য সভাপতি পদে সোহেল হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে আকতার হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে সোহেল হায়দার চৌধুরী ৭২৪ ভোট ও সাধারণ সম্পাদক পদে আক্তার হোসেন ৭৩৬ ভোট পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) রাত ৮টার পর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান মনজুরুল আহসান বুলবুল এ ঘোষণা দেন।

এদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে সকাল ৯টা থেকে বিরতিহীনভাবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। এবার ২০টি বুথ ও দুটি ব্যালটে ভোটগ্রহণ হয়। সন্ধ্যা ৬টার পর শুরু হয় ভোটগণনা।

নির্বাচনে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ৬৭৩ ভোট পেয়ে এম এ কুদ্দুস, ৫৩৫ ভোট পেয়ে সহ-সভাপতি পদে মানিক লাল ঘোষ, ৬৫৫ ভোট পেয়ে যুগ্ম সম্পাদক পদে খায়রুল আলম, ৭২৯ ভোট পেয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে আশরাফুল ইসলাম, ৮৬৪ ভোট পেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জিহাদুর রহমান জিহাদ, ১ হাজার ৫৯ ভোট পেয়ে আইনবিষয়ক সম্পাদক পদে এস এম সাইফ আলী, ৭৬৮ ভোট পেয়ে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাজু হামিদ, ৭২০ ভোট পেয়ে দপ্তর সম্পাদক পদে আমানউল্লাহ আমান, ৮৮১ ভোট পেয়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শাকিলা পারভিন এবং ৭০৫ ভোট পেয়ে নারীবিষয়ক সম্পাদক পদে সুরাইয়া অনু নির্বাচিত হয়েছেন।

এবার ডিইউজের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৭১ জন। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৬৮ জন।

ডিইউজে নির্বাচনে তিনটি ঘোষিত পরিষদ এবার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। এরমধ্যে কুদ্দুস আফ্রাদ-গাজী জহিরুল ইসলাম পরিষদ, সাজ্জাদ আলম খান তপু-আকতার হোসেন পরিষদ, সোহেল হায়দার চৌধুরী-মেহেদী হাসান পরিষদে মোট ৬১ জন প্রার্থী ভোটে লড়ছেন। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। নির্বাচনে সভাপতি পদে তিনজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী ছিলেন চারজন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ডিইউজের সবশেষ নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতি পদে ৬৫০ ভোট পেয়ে কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৪৭৫ ভোট পেয়ে সাজ্জাদ আলম খান তপু নির্বাচিত হন। দুজনেই একই প্যানেল থেকে নির্বাচন করেছিলেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন   ডিইউজে  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

প্রথম আলোর আরেকটি ইউটার্ন

প্রকাশ: ০৭:০৮ পিএম, ০২ Jul, ২০২২


Thumbnail

পদ্মা সেতু প্রকল্পের শুরু থেকেই দেশের প্রধান একটি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো প্রকল্পটি নিয়ে বিভিন্ন ধরণের নেতিবাচক প্রতিবেদন করছিলো। পদ্মা সেতুতে কথিত দুর্নীতির কথা বলে বিশ্ব ব্যাংক যে অভিযোগ এনেছিলো তাতে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মদদ দিয়েছিলো প্রথম আলো যেন এই প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার সাথে সাথে প্রথম আলো এমনভাবে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করতে থাকে যেন পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে! এমনকি ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর ‘পদ্মা সেতু হচ্ছে না!’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। 

পদ্মা সেতু যেন বাস্তবতা না পায় সেজন্য প্রথম আলোর চেষ্টার কমতি ছিলো না। সেই প্রথম আলোই এখন পদ্মা সেতুর বন্দনায় পঞ্চমুখ। পদ্মা সেতুর ফলের দেশের অর্থনীতিসহ যে সকল ক্ষেত্রে একটি বিপ্লব হয়েছে তা এখন অকপটেই স্বীকার করছে প্রথম আলো। প্রথম আলো এখন পুরো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিন (২৫ জুন) প্রতিবেদন করেছে ‘আজি দখিন–দুয়ার খোলা’।

অবশ্য প্রথম আলোর এমন চরিত্র নতুন নয়। ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার চেষ্টায় আদাজল খেয়ে নেমেছিলো, যা মাইনাস টু ফর্মুলা হিসেবে পরিচিত। এই ফর্মুলার সর্বনাশা ঝড়ে দেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছিল এক অশুভ ছায়া। মাইনাস টু ফর্মুলার প্রবক্তা প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ২০০৭ সালের ১১ জুন ‘দুই নেত্রীকে সরে দাঁড়াতে হবে’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মাইনাস টু ফর্মুলার মাধ্যমে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা করে প্রথম আলো। এছাড়াও  আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে দুর্নীতিসহ নানা ধরণের মিথ্যাচার, কুৎসা ছড়ায় পত্রিকাটি। কিন্তু জনগণ শেখ হাসিনার পাশে ছিলো বলে তাতে সফল হয়নি এক-এগারোর কুশীলবরা।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় আসার পরে আওয়ামী লীগ সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য প্রথম আলো নানাভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করে। কিন্তু তাদের এই ষড়যন্ত্র যখন জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়। সেই সাথে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা যখন দেখতে পায় তখন আবারও ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যায় প্রথম আলো, শুরু করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বন্দনা।

প্রথম আলো  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

রাজশাহীতে দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সমাপ্ত

প্রকাশ: ১০:০২ পিএম, ২৮ Jun, ২০২২


Thumbnail রাজশাহীতে দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সমাপ্ত

রাজশাহী বিভাগে কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) বিকালে নগরীর একটি হোটেলে এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী শাহেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ বোরহান কবীর, গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, হেকস/ইপার'র প্রোজেক্ট ম্যানেজার ইশরাত জাহান বিজু।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড এবং হেকস/ইপার'র যৌথভাবে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। প্রশিক্ষণে রাজশাহী বিভাগে কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার ২৫ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

কর্মশালায় দলিত ও সমতলের আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণে মিডিয়ার ভূমিকা, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বর্তমান প্রেক্ষাপট, সংবাদ প্রতিবেদনের ধারণা, সংবাদ প্রচার কাঠামো এবং মিডিয়ায় উন্নয়ন সাংবাদিকতার প্রভাব বিষয়ে সেশন পরিচালনা করা হয়।

সাংবাদিক   কর্মশালা  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

রাজশাহীতে দুইদিন ব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালা শুরু

প্রকাশ: ১১:৪৯ এএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail

ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড এবং হেকস/ইপার এর যৌথ আয়োজনে রাজশাহীতে দুইদিন ব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালা শুরু হয়েছে। সোমবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ হোটেলে এই কর্মশালা শুরু হয়।

কর্মশালার প্রথম দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিয়াউল হক।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার কাজী শাহেদ। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন হেকস/ইপার এর প্রোজেক্ট ম্যানেজার ইশরাত জাহান বিজু।



কর্মশালাটি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে শুরু হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিয়াউল হক তার বক্তব্য প্রদান করেন এবং কর্মশালার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এরপর হেকস/ইপার এর পক্ষ থেকে একটি প্রেজেনটেশন প্রদান করা হয়। প্রেজেনটেশনটি উপস্থাপনা করেন পিআইডিআইএম এর প্রকল্প কর্মকর্তা সিফাত ইমরানুর রউফ ভূঁইয়া।

কর্মশালায় 'মিডিয়ার ভূমিকা: দলিত ও আদিবাসী সমস্যা' এই বিষয়টি নিয়ে গ্লোবাল টিভির প্রধান সম্পাদক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বক্তব্য রাখেন।



এছাড়াও 'বাংলাদেশে দলিত ও আদিবাসী: মূলধারার মিডিয়ায় যেসব বিষয় ফোকাস করা দরকার' এই বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রাখেন ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ বোরহান কবীর।

কর্মশালায় প্রশ্নত্তর পর্ব ছাড়াও রয়েছে মুক্ত আলোচনা পর্ব। কর্মশালায় স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশ নেন। 

সাংবাদিক কর্মশালা   ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড   হেকস/ইপার  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

ভোল পাল্টে তারাও এখন পদ্মা সেতুর প্রেমিক

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৪ Jun, ২০২২


Thumbnail ভোল পাল্টে তারাও এখন পদ্মা সেতুর প্রেমিক

স্বপ্নের পদ্মা সেতু আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। তার সাহসী দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের কারণে পদ্মা সেতু আজ বাস্তবতা। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা, অহংকারের প্রতীক। পদ্মা সেতু, বাংলাদেশকে যারা অপমান করেছিল, যারা বাংলাদেশকে দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রিত করেছিল তাদের বিরুদ্ধে একটি উজ্জ্বল প্রতিবাদ। কিন্তু পদ্মা সেতু নিয়ে যখন বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলো এবং বিশ্বব্যাংকের এই অভিযোগকে বিভিন্ন মহল যে সমর্থন করেছিলো, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলো দেশের সংস্কারপন্থী দুই পত্রিকা- প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার।

২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ঋণচুক্তি বাতিল করে। বিশ্বব্যাংক যে বাংলাদেশের ঋণচুক্তি বাতিল করতে যাচ্ছে, এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রথম প্রকাশ করে প্রথম আলো। ডেইলি স্টারে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির কথিত যে গল্প সেই গল্প নিয়ে অন্তত তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। অথচ সেই সময় তারা কখনোই বলেনি যে, এই অভিযোগ অসত্য। শুধু তাই নয়, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের একের পর এক যে পদক্ষেপ, প্রত্যেকটা পদক্ষেপে বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর পক্ষে ছিলো ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো। এ নিয়ে ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলোতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে আসার পর বিশ্বব্যাংক আবার ফিরে এসেছিলো। ড. গওহর রিজভীর উদ্যোগের কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে শর্তসাপেক্ষে ফিরে আসে এবং সেই সময় দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। বিশ্বব্যাংক থেকে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসে। তাঁরা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করতে চায়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বিশ্বব্যাংকের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসার পর মাত্র দু'জন সম্পাদকের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এদের মধ্যে একজন ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, অন্যজন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। এই দুইজনের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁরা দুর্নীতি দমন কমিশনে যায়। ওই সময় প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার পত্রিকাগুলো দেখলে দেখা যাবে, তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের প্রতিবেদনগুলোতে বোঝাতে চেষ্টা করেছে যে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বা অন্যরা জড়িত। প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার পুরোপুরিভাবে সে সময় বিশ্বব্যাংকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো।

ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলোর ওই সময়ের প্রতিবেদন গুলোর দিকে তাকালেই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়ে যায় যে, পদ্মা সেতু নিয়ে তথাকথিত বিশ্বব্যাংকের বানোয়াট অভিযোগকে মৌন সমর্থন দিয়েছিলো এই দুইটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক। অথচ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! এখন এই দুটি পত্রিকা পদ্মা সেতু নিয়ে একের পর এক ইতিবাচক প্রতিবেদন লিখছে। পদ্মা সেতুর আদ্যোপান্ত, পদ্মা সেতু স্বপ্ন দেখাচ্ছে নতুন অর্থনৈতিক করিডোরের ইত্যাদি নানা প্রতিবেদন প্রতিদিন প্রকাশ করছে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার গোষ্ঠী। প্রধানমন্ত্রী যারা যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিলো তাদের নাম সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন। কিন্তু এই বিরোধিতাকে উস্কে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলো যে দুটি পত্রিকা, সে ব্যাপারে তিনি অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু প্রথম আলো-ডেইলি স্টার ওয়ান ইলেভেনের ভূমিকার পর যেভাবে ইউটার্ন নিয়েছিল, ডিগবাজি খেয়েছিলো, পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ঠিক একই কাণ্ড ঘটালো। তাহলে বারবার ভোল পাল্টানোই কি এই সংস্কারপন্থী পত্রিকা দুটির একমাত্র কাজ?

পদ্মা সেতু  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

‘মফস্বল সাংবাদিকরা ইলিশে সন্তুষ্ট, আমাদের নজর প্লট-ফ্ল্যাটে’

প্রকাশ: ০৯:৫৭ এএম, ২৩ Jun, ২০২২


Thumbnail

সাংবাদিকতা পেশার নানা সংকটের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কিছু বিষয় উঠে এসেছে গণমাধ্যমকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে এক আলাচনায়। এতে সাংবাদিকদের বিভক্তির বিষয়টি যেমন আসছে, তেমনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা ও ঘাটতি নিয়েও কথা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় এসব নিয়ে কথা বলেছেন সাংবাদিক নেতারা। ‘সুশাসনে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির জন্য নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ নামের প্রকল্পের ফলাফল নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ছয়টি বিভাগের ৭৫৬ জন ব্যক্তিকে নিয়ে কাজ করা হয়। এসব ব্যক্তির মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকেরাও ছিলেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘বলা হয় মফস্বলের সাংবাদিকেরা দুর্নীতিবাজ। আমিও মফস্বল থেকে আসা মানুষ। ওরা ডিসি–এসপির সাথে ঘোরে। বড়জোর মাসে হাজার দুয়েক টাকা পয়সা, দু–চারটা ইলিশ মাছ কেনে। সে ইলিশ মাছেই তারা সন্তুষ্ট। তাদের আর দুর্নীতির কিছু নাই। অন্যদিকে আমরা যারা ঢাকায় আছি, আমাদের তো ইলিশ মাছ না, প্লটের দিকে নজর, ফ্ল্যাটের দিকে নজর, বিদেশ সফরের দিকে নজর, প্রকল্পের দিকে নজর। কাজেই ওরা ছোট দুর্নীতি করে। আমরা বড় দুর্নীতি করি। দু্টিই ভালো সাংবাদিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এমন কাজের বিষয়ে মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আমাদের বাইরেও আমাদের কেউ ওয়াচ করছে এটা ভালো দিক। এতে বাইরের লোকেরা আমাদের ভুলত্রুটি ধরতে পারবে। কারণ, রাজনৈতিকভাবে আমরা বিভক্ত। হয়তো আমার ভুল আমি ধরতে পারব না। আরেকজনের ভুল নিয়ে চিল্লাচিল্লি করব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সুশাসনের মধ্যে থাকব না, অথচ রাষ্ট্রীয় সুশাসনের জন্য লড়াই করব। এটা তো হতে পারে না।’

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, টেলিভিশনের বুমটা (মাইক্রোফোন) রাজনীতিবিদের কাছে আকর্ষণীয় বিষয়। আর সাধারণ মানুষের কাছে ভীতির বিষয়। সাধারণ মানুষের ধারণা, টেলিভিশনে কি–না–কি দেখিয়ে দেবে, পরে মানসম্মান যাবে।

টাকার বিনিময়ে মফস্বল সাংবাদিকদের হাতে বুম তুলে দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগও পেয়েছেন বলে দাবি করেন ওমর ফারুক। যেমন চট্টগ্রামের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানকার এক সাংবাদিক ঢাকার একটি অফিস থেকে ১০ লাখ টাকায় একটি টেলিভিশনের বুম নিয়েছেন। ছয় মাস না যেতেই তাঁকে বাদ দিয়ে আরেকজনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে বুমটা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়া ব্যক্তি তাঁর কাছে এসেছেন। পরে তাঁরা ওই টেলিভিশনের মালিকের কাছে যান। তখন ওই মালিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এমন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন। পরে ‘সিকিউরিটি মানির’ বিষয়টি লেখা স্ট্যাম্প বের করে দেখালে মালিক বললেন, ‘ও.. দিয়েছিল। তারা তো চাঁদাবাজি করে, এটার জন্য আমি ১০ লাখ টাকা নিয়েছি।’

ওমর ফারুক বলেন, ওই মালিক তখন টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য এক মাস সময় নিলেও এখন আর ফোন ধরছেন না। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। সারা দেশে এমন বিশৃঙ্খলা চলছে। তিনি বলেন, দু–একটা টেলিভিশন আগে বেতন দিত। তারাও এখন বেতন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

সাংবাদিক নেতা ওমর ফারুক বলেন, ‘হাতে বুম দিয়ে বলা হচ্ছে এটা নিয়ে যাও, এটা নিয়ে তুমি করে খাও। আমারে এটা দিয়ো, তুমি এটা নিয়ো।’

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো বিভাজন। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যদি রাখতে চাই, তাহলে আমাদের দল মতনির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি নয়। রাজনৈতিক আদর্শ থাকতে পারে কিন্তু একজন পেশাজীবী সাংবাদিক হিসেবে, ইউনিয়নের নেতা হিসেবে কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করব না। এটা বিশ্বাস করে সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, তাহলে আজকের দুর্বলতা থেকে মুক্ত হতে পারব।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যমকে সমাজের একটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করাটা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। গণমাধ্যমে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা এখন প্রান্তিক শ্রেণিতে পরিণত হয়েছেন। মফস্বল সাংবাদিকেরা সেই প্রান্তিক শ্রেণির একটি উপশ্রেণি। তাঁদের অবস্থা বিচার করে বাংলাদেশের সুশাসনের অবস্থা বিচার করা ভুল হবে। তিনি বলেন, সুশাসনকে কার্যকর করতে হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তখন তারা সুবিধামতো কিছু আইন করে। তখন তারা সুবিধা নেয়। যখন চলে যায়, তখন তাদের ওপর ওই আইন প্রয়োগ করলে এর প্রতিবাদ করে। নিবর্তনমূলক আইন তৈরি করে তারা এর সুবিধা নেয়। সরকার চিরস্থায়ী ব্যবস্থা নয়। আইন কিন্তু থেকে যায়। যখন আইনটা করে তখন তারা খেয়াল করে না তারা কী আইন করছে। যখন ক্ষমতা থাকবে না, তখন এই আইনের শিকার হবে কি না, তা তারা ভাবে না।’

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। আর সঞ্চালনায় ছিলেন বিইআইয়ের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।

মফস্বল সাংবাদিক   সাংবাদিক  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন