প্রেস ইনসাইড

বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি’র সঙ্গে ক্র্যাব নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত; স্থায়ী কার্যালয় পাচ্ছে ক্র্যাব

প্রকাশ: ০৭:৪০ পিএম, ০৯ মে, ২০২২


Thumbnail ক্র্যাবকে স্থায়ী কার্যালয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বসুন্ধরা গ্রুপের

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জনাব সায়েম সোবহান আনভীর এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটি।

রোববার (৮ মে) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এমডি’র বাসভবনে ক্র্যাব সভাপতি জনাব মির্জা মেহেদী তমাল এর নেতৃত্বে ক্র্যাব নেতৃবৃন্দ এই সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এসময় ক্র্যাব উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

সাক্ষাতকালে ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকু কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সংগঠনের প্রত্যাশা লিখিত আকারে উপস্থাপন করেন। বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনযোগ সহকারে তা শোনেন। এরপর ক্র্যাবের প্রধান উপদেষ্টা শংকর কুমার দে, উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান কামাল, এস এম আবুল হোসেন, পারভেজ খান, মধুসূদন মন্ডল ও ফখরুল আলম কাঞ্চন বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে সাংবাদিকবান্ধব বসুন্ধরা গ্রুপের বিভিন্ন অবদানের কথা। সাংবাদিকদের প্রতি মানবিক এবং উদার থাকার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এসব সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ। 

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ক্র্যাব নেতৃবৃন্দ ও উপদেষ্টাবৃন্দের বক্তব্য ও প্রত্যাশা গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন। ক্র্যাবের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, ‘সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির জন্যে নিবেদিত থাকায় বসুন্ধরা গ্রুপও সাংবাদিকদের কল্যাণে অবদান রেখে আসছে। সৎ-নির্ভীক প্রকৃত সাংবাদিকতা বিকশিত করতে বসুন্ধরা গ্রুপ ইতিমধ্যেই কয়েকটি মিডিয়া হাউজ প্রতিষ্ঠা করেছে- যাতে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকরা যখন যে সমস্যা বা সংকটে সহায়তা চেয়েছে- বসুন্ধরা গ্রুপ আন্তরিকতার সাথে পাশে থেকেছে। ভবিষ্যতেও যে কোনো পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা আমাকে পাশে পাবেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা বিশ্বমানে উন্নীত হোক, সাংবাদিকরা তাদের প্রকৃত মর্যাদা লাভ করুক, ভালো থাকুক সকল সাংবাদিক- এই প্রত্যাশা রাখছি।’

তিনি ক্র্যাবের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। এছাড়া কোনো ক্র্যাব সদস্য মারা গেলে পরিবারকে তিন লক্ষ টাকা প্রদান, কোনো ক্র্যাব সদস্য গুরুতর অসুস্থ বা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আহত হলে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। উপস্থিত সকলেই তার প্রতিশ্রুতিকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান এবং তার প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

সৌজন্য সাক্ষাত অনুষ্ঠানে ক্র্যাব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা শংকর কুমার দে, উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান কামাল, এস এম আবুল হোসেন, পারভেজ খান, মধুসূদন মন্ডল, ফখরুল আলম কাঞ্চন, ক্র্যাবের সহ-সভাপতি মুহঃ জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম সম্পাদক ইমরান হোসেন সুমন, অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ইসমাঈল হুসাইন ইমু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রুদ্র রাসেল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এসএম মিন্টু হোসেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহীন আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ জাকারিয়া, ক্র্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দীপু সরোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


ক্র্যাবকে   স্থায়ী কার্যালয়   দিচ্ছে   বসুন্ধরা গ্রুপ  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

রূপপুর নিয়ে প্রশ্ন করায় ক্ষুব্ধ বিজ্ঞানমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান

প্রকাশ: ০৮:০৯ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ‌কেন্দ্র নি‌য়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। বুধবার সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের করণীয় বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠা‌নে এ ঘটনা ঘ‌টে।

কর্মশালায় সাংবা‌দিকের সাথে মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের প্রশ্নোত্তর পর্বে কথাবার্তার একপর্যায়ে এক সাংবাদিক বলেন, ‘রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামাল সরবরাহে কত দেরি হতে পারে?’

এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, এই ব্যাপারে এখন কোনো মন্তব্য করবেন না তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বুঝি না, তোমরা প্রফেশনাল না?’ ওই সময় ক‌য়েকজন সাংবাদিক মন্ত্রী‌কে জানান, সাংবা‌দিক‌দের জন্যও সেই ব্যবস্থা র‌য়ে‌ছে। তখন মন্ত্রী বলেন, ‘ঘোড়ার ডিম আছে তোমাদের ...।’

এ রকম আরও কথাবার্তার সময় একজন সাংবাদিক মন্ত্রী‌কে বলেন, তাঁদের সাবজেক্টের বাইরেও প্রশ্ন করতে হয়। মন্ত্রীকেও (ইয়াফেস ওসমান) পান না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে জনগণের জানার আগ্রহ আছে। জনসাধারণের আগ্রহের জায়গা থেকে অনেক কিছু জানতে হয়।

তখন মন্ত্রী খে‌পে গি‌য়ে বলেন, ‘আমি একটা কথা পরিষ্কার বলে যাই। ইউ লিসেন টু মি। আপনারা যদি না আসতে চান, চলে যান।’ এ সময় তিনি ধমকের সুরে কথা বলেন। এরপর সেখা‌নে উপ‌স্থিত থাকা সাংবা‌দিকেরাও প্রতি‌ক্রিয়া জা‌নি‌য়ে অনুষ্ঠানস্থল ছাড়‌তে থাকেন।



মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

একত্রিত হওয়া আঞ্চলিকতা নয়, শিকড়ে ফিরে আসা: হারুন হাবীব

প্রকাশ: ০৮:৪৫ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংবাদিক সমিতি-ঢাকার বার্ষিক সম্মেলন ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব বলেছেন, একত্রিত হওয়া আঞ্চলিকতা নয়, শিকড়ে ফিরে আসা। বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংবাদিক সমিতি-ঢাকার বার্ষিক সম্মেলন ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট এই সাংবাদিক ও কলামিস্ট এ মন্তব্য করেন। 

গতকাল শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর পূর্বাচলে সংগঠনের সভাপতি বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মোল্লা জালালের সভাপতিত্বে সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক উদয় হাকিম। সাধারণ সম্পাদকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, চ্যানেল আইয়ের বার্তা সম্পাদক সাকিলা পারভীন, দৈনিক সারাবেলা সম্পাদক আব্দুল মজিদ, সাজ্জাদ হোসেন, খায়রুল আলম, গোলাম মাওলা,আবদুস সেলিম, লতিফুল বারী হামীম, জীবন ইসলাম, তানজিল রিমন প্রমুখ।


জেলা সমিতির নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাজেন্দ্র চন্দ্র দেব মন্টু, খান মুহাম্মদ  সালেক, সৌরভ  জাহাঙ্গীর, নুরুল হাসান খান, হকিকত জাহান হকি, মুহাম্মদ শাহজাদা,এরফানুল হক নাহিদ প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাব নির্বাচনে বিজয়ী যুগ্মসম্পাদক মো. আশরাফ আলী, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জুলহাস আলম ও সীমান্ত খোকনকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আকস্মিকভাবে উপস্থিত ব্যবস্থাপনা কমিটির বিজয়ী সদস্য শাহনাজ সিদ্দিকী সোমাকেও ফুলেল শুভেচছা জানানো হয়। 

অভিনন্দিত নেতারা  তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ময়মনসিংহ মানেই ব্যতিক্রম, অনুকরণীয়। তারা সবাই এ রকম একটি আয়োজনের ভূয়সী প্রংসা করেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক উদয় হাকিম সম্মেলনে আগামী দিনের জন্য গৃহীত বেশ কিছু কর্মসূচির উল্লেখ করেন।

সবশেষে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজি, সাথে শীতের সবজি, মাংস ছাড়াও মাছের মাথা দিয়ে দিয়ে মাসকলাইয়ের ডাল এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জিয়াফতি আইটেম 'মিডুরি' দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিসহ সদস‍্যদের আপ্যায়ন করা হয়।


বৃহত্তর ময়মনসিংহ   সাংবাদিক সমিতি   ঢাকা   বার্ষিক সম্মেলন   প্রীতিভোজ   অনুষ্ঠান  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

মত প্রকাশের স্বাধীনতায় ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১১:০৫ এএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের প্রধান অনুসঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। মত প্রকাশের স্বাধীনতার সূচকে বরাবর প্রশ্ন তোলা হয় দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ বাংলাদেশ ও ভারত নিয়ে। বলা হয় বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা কিংবা মুক্ত গণমাধ্যম চর্চা অনেকটাই পিছিয়ে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে নিজেদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করে আসা ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ মত প্রকাশের স্বাধীনতার দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে।

এর সরাসরি প্রমাণ মেলে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ‘ইন্ডিয়া: দ্য মোদি কোয়েশ্চেন’ নামে দুই পর্বের তথ্যচিত্র নিয়ে তৈরী বিতর্কে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির নির্মাতারা মোদি ও দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তপ্ত সম্পর্কের বিষয়টি তথ্যচিত্রটিতে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

তথ্যচিত্রের প্রতিপাদ্য বিষয়, ২০০২ সালে গুজরাটে তিন দিনের নরসংহারের জন্য তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই দায়ী। বিবিসি বলেছে, পরিকল্পনামাফিক মুসলমান নিধনই মোদিকে পরবর্তীকালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে সাহায্য করেছে।

প্রথম পর্বের পর মঙ্গলবার তথ্যচিত্রটির দ্বিতীয় পর্বও সম্প্রচারিত হয়। তাতে ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতের মুসলমানদের সঙ্গে শাসক দল বিজেপির সম্পর্ক কেমন হয়েছে, কীভাবে উত্তরোত্তর বিষিয়ে উঠেছে, তা বিস্তারিতভাবে চিত্রিত।

তথ্যচিত্রটি প্রকাশের পর থেকেই এ নিয়ে গোটা ভারতে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। ওই তথ্যচিত্র নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। দুই পর্বের এই ধারাবাহিককে প্রোপাগান্ডা হিসেবে অভিহিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কিন্তু বিবিসির তথ্যচিত্র যাতে ভারতে প্রদর্শিত না হয়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউটিউব ও টুইটারকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভারতে প্রদর্শন না করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। টুইটারকে বলা হয় তথ্যচিত্রের লিংক মুছে দেওয়ার জন্য। বিভিন্ন রাজ্যে প্রশাসনিক পর্যায়েও ব্যবস্থা গ্রহণের অলিখিত আদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দুই পর্বের ওই তথ্যচিত্র দেখানো হচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যে। তা নিয়ে কোথাও কোথাও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজ্যে রাজ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠন তথ্যচিত্র দেখানোর কর্মসূচি নিলে সেখানে ধরপাকর চালিয়েছে পুলিশ। ক্যাম্পাসে ঢোকে নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে তারা।

এখানেই এই প্রশ্নটা বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে, কেন বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে যারা নিজেদের দাবি করে থাকে সেই শক্তিশালী ভারত কেন বিবিসির মাত্র আটান্ন মিনিটের (প্রথম পর্ব) একটা তথ্যচিত্রে এত কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাল?

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ভারত-বাংলাদেশ দুইটি প্রতিবেশী দেশই গত বছরের তুলনায় পিছিয়েছে বেশ কয়েক ধাপ। ভারতে সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের রাষ্ট্রবিরোধী তকমা দেবার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানি, রাষ্ট্রদ্রোহিতা, আদালত অবমাননা এবং জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক নানা ধারায় অভিযোগ দেওয়া 

এদিকে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমে সমস্যা ও সংকট থাকলেও সেখানেও সহনশীলতাঁর উদাহরণও রয়েছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি শোচনীয়, সমস্যা আছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, বাংলাদেশের প্রেস ফ্রিডম পরিস্থিতি বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি আফগানিস্তানের চেয়েও খারাপ।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের জন্য “সাংবাদিক সমাজের লড়াই অব্যাহত আছে এবং সরকারও এসব আন্দোলনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক বেনারকে বলেন, “আমাদের দেশে এখন সরকারের দিক থেকে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করা হয় না।”

তাঁর মতে, “সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় কর্পোরেট মালিকদের নিয়ন্ত্রণ আছে। এখানে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা বলতে মালিকদের স্বাধীনতা।”

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বেরিয়েছে। তাঁর কোনোটিতেই কোনরকম নিষেধাজ্ঞা বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি বাংলাদেশ। বরং মুক্ত গণমাধ্যমের চর্চার চেষ্টা করেছে। ঐসব বাংলাদেশের অবস্থা ভালো বলা হয়নি,” উল্লেখ করে দেশের মানবাধিকার, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতাসহ সকল সূচক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে ভারত যেভাবে কঠোর হস্তে নিধনে নেমেছে বাংলাদেশে তেমন চিত্র দেখা যায়নি।

ভারত সাংবাদিকদের জন্য ‘কঠিন জায়গা’

ভারত “সাংবাদিকদের জন্য কঠিন জায়গা” বলে উল্লেখ করা হয় আরএসএফ’র চলতি বছরের সমীক্ষা প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “ভারতে সাংবাদিকদের এখন পুলিশ, রাজনৈতিক কর্মী, অপরাধী গোষ্ঠী ও স্থানীয় দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তাদের আক্রমণসহ সব ধরনের শারীরিক হিংসার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”

২০১৪ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা নরেন্দ্র মোদীর শাসনামল এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদের মূর্ত প্রকাশের ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক হয়রানি ও আক্রমণের প্রচার চালিয়ে চলেছে মোদী ভক্তরা।

প্রতিবেদনের সঙ্গে ঐক্যমত্য প্রকাশ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশনের সিনিয়র অধ্যাপক অঞ্জন বেরা বেনারকে বলেন, ভারতে “গত কয়েকবছরে যেভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে তা দুর্ভাগ্যজনক।”

তাঁর মতে, সংবাদমাধ্যমের মালিকানার কেন্দ্রীভবন, কর্পোরেট সংস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি ভারতের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

“এর মধ্যে যে সব সংবাদপত্র ও ডিজিটাল মিডিয়া সরকারের সমালোচনা করছে তাদের উপর হস্তক্ষেপ বাড়ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল মিডিয়াকে দমন করার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা উদ্বেগজনক।”

ভারতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা “কখনো স্বাস্থ্যকর ছিলনা। ২০১৪ সালের পরে বর্তমান সরকারের আমলে মিডিয়ার বহুত্ববাদী চরিত্রকে বিলোপ করে দেওয়া হয়েছে। কর্পোরেটের মাধ্যমে, বিভাজনের মাধ্যমে ভারতীয় মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের সব অধিকার কেড়ে নেবার ব্যবস্থা হচ্ছে।

বর্তমানে ভারতে ১৩ জন সাংবাদিক জেলে রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয় আরএসএফের এক প্রতিবেদনে।



মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

নিখোঁজের ৭ ঘন্টা পর নাশকতা মামলা দেখিয়ে সাংবাদিককে গ্রেফতার

প্রকাশ: ০২:৩১ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

দীপ্ত টিভি ও দৈনিক প্রজন্ম একাত্তরের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি রঘুনাথ খাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার ৭ ঘণ্টা পর গ্রেফতার দেখিয়ে দেবহাটা থানায় নাশকতা মামলা রুজু করেছেন পুলিশ।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ওবায়দুল্লাহ। এসময় আরও দুইজনকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁর বাড়ি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুরের গ্রামে। তিনি সাতক্ষীরা শহরের লস্কারপাড়ার ভাড়া বাড়িতে থাকেন। গ্রেফতার অন্য দুজন হলেন— উপজেলার ঢেবুখালী গ্রামের রেজাউল করিম ও চালতেতলা এলাকার লুৎফর রহমান।এরআগে বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁর স্ত্রী সুপ্রিয়া রানী খাঁ মোবাইল ফোনে জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাতক্ষীরা বড়বাজার সড়কের ডে নাইট কলেজ মোড় থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানান রঘুনাথ খাঁ,র স্ত্রী সুপ্রিয়া রানী খাঁ।

সুপ্রিয়া রানী খাঁ আর জানান, সংবাদ সংগ্রহ সংক্রান্ত বিষয়ে সোমবার সকালে সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলযোগে দেবহাটায় খলিশাখালী এলাকায় যান। সেখান থেকে ফিরে আসার পর ডে নাইট কলেজ মোড় থেকে আটক করা হয়। তিনি জানান, খবর পেয়ে তিনি থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েছেন। তবে কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, গত শনিবার গভীর রাতে একদল লোক তাদের সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়াস্থ বাসায় এসে প্রথমে ডাকাডাকি করে। তারা ভয়ে কোন সাড়াশব্দ না দিলে পরে ইটখোলা মেরে চলে যায়।

রঘুনাথ খাঁকে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালক আব্দুল কুদ্দুস জানান, তিনি রঘুনাথ খাঁকে বহন করে দেবহাটার খলিষাখালী এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে রঘুনাথ খাঁ মোবাইলে কিছু ছবি তোলেন। ফিরে এসে তিনি বড়বাজারে বাজার করেন। বাজার নিয়ে ফিরে আসার পথে পিএন স্কুলের সামনে তাদের গতিরোধ করেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়দানকারী লোকজন। পরে তাকে বাইক থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

দেবহাটা থানায় যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শেখ ওবায়দুল্লা বলেন, দেবহাটার খলিশাখালীতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর বোমা ফাটিয়ে নাশকতা সৃষ্টির সময় রঘুনাথ খাঁসহ ৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, দেবহাটা উপজেলার খলিশাখালী এলাকার প্রায় ১৩২০ বিঘা ব্যক্তি মালিকানাধীন রেকর্ডীয় জমি ভূমিহীনদের নামে একদল দুর্বত্ত ২০২১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দখল করে নেয়। গত ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর ঐ জমি পুনরায় ফিরে দখলে নেয় জমির রেকর্ডীয় মালিকরা। রোববার দিবাগত রাতে ভূমিহীনদের নাম ব্যবহার করে ওই জমি পাল্টা দখলের চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ বিভিন্ন সময়ে এ সকল তথ্য নিয়ে লেখালেখি করে আসছিলেন।



মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

পল্লবীতে বাসার বারান্দায় মিলল সাংবাদিকের মরদেহ

প্রকাশ: ০৮:৩০ পিএম, ২১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

রাজধানী মিরপুর পল্লবীতে নিজ বাসার বারান্দায় সাংবাদিক বিপ্লব জামানের মরদেহের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। আজ শনিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পল্লবী সাংবাদিক প্লট রোড নম্বর ৭ এলাকার একটি ভবনের ফ্ল্যাটে ওই সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

বিপ্লব জামান ‘বিজনেস এক্সপ্রেস’ নামের একটি গণমাধ্যমে কাজ করতেন। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম।

তিনি জানান, পল্লবী সাংবাদিক প্লট রোড নম্বর ৭ এলাকার একটি ভবনের ফ্লাট থেকে বিপ্লব জামানের মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। সিআইডি ক্রাইম সিন ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে। যতটুকু দরজার ফাঁক দিয়ে দেখা গেছে মরদেহটি বারান্দায় পড়ে আছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় মরদেহটি পচতে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। 


সাংবাদিকের মরদেহ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন