প্রেস ইনসাইড

‘মফস্বল সাংবাদিকরা ইলিশে সন্তুষ্ট, আমাদের নজর প্লট-ফ্ল্যাটে’

প্রকাশ: ০৯:৫৭ এএম, ২৩ Jun, ২০২২


Thumbnail

সাংবাদিকতা পেশার নানা সংকটের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কিছু বিষয় উঠে এসেছে গণমাধ্যমকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে এক আলাচনায়। এতে সাংবাদিকদের বিভক্তির বিষয়টি যেমন আসছে, তেমনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা ও ঘাটতি নিয়েও কথা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় এসব নিয়ে কথা বলেছেন সাংবাদিক নেতারা। ‘সুশাসনে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির জন্য নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ নামের প্রকল্পের ফলাফল নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। এর আয়োজন করে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ছয়টি বিভাগের ৭৫৬ জন ব্যক্তিকে নিয়ে কাজ করা হয়। এসব ব্যক্তির মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকেরাও ছিলেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘বলা হয় মফস্বলের সাংবাদিকেরা দুর্নীতিবাজ। আমিও মফস্বল থেকে আসা মানুষ। ওরা ডিসি–এসপির সাথে ঘোরে। বড়জোর মাসে হাজার দুয়েক টাকা পয়সা, দু–চারটা ইলিশ মাছ কেনে। সে ইলিশ মাছেই তারা সন্তুষ্ট। তাদের আর দুর্নীতির কিছু নাই। অন্যদিকে আমরা যারা ঢাকায় আছি, আমাদের তো ইলিশ মাছ না, প্লটের দিকে নজর, ফ্ল্যাটের দিকে নজর, বিদেশ সফরের দিকে নজর, প্রকল্পের দিকে নজর। কাজেই ওরা ছোট দুর্নীতি করে। আমরা বড় দুর্নীতি করি। দু্টিই ভালো সাংবাদিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এমন কাজের বিষয়ে মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আমাদের বাইরেও আমাদের কেউ ওয়াচ করছে এটা ভালো দিক। এতে বাইরের লোকেরা আমাদের ভুলত্রুটি ধরতে পারবে। কারণ, রাজনৈতিকভাবে আমরা বিভক্ত। হয়তো আমার ভুল আমি ধরতে পারব না। আরেকজনের ভুল নিয়ে চিল্লাচিল্লি করব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সুশাসনের মধ্যে থাকব না, অথচ রাষ্ট্রীয় সুশাসনের জন্য লড়াই করব। এটা তো হতে পারে না।’

বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, টেলিভিশনের বুমটা (মাইক্রোফোন) রাজনীতিবিদের কাছে আকর্ষণীয় বিষয়। আর সাধারণ মানুষের কাছে ভীতির বিষয়। সাধারণ মানুষের ধারণা, টেলিভিশনে কি–না–কি দেখিয়ে দেবে, পরে মানসম্মান যাবে।

টাকার বিনিময়ে মফস্বল সাংবাদিকদের হাতে বুম তুলে দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগও পেয়েছেন বলে দাবি করেন ওমর ফারুক। যেমন চট্টগ্রামের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানকার এক সাংবাদিক ঢাকার একটি অফিস থেকে ১০ লাখ টাকায় একটি টেলিভিশনের বুম নিয়েছেন। ছয় মাস না যেতেই তাঁকে বাদ দিয়ে আরেকজনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে বুমটা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়া ব্যক্তি তাঁর কাছে এসেছেন। পরে তাঁরা ওই টেলিভিশনের মালিকের কাছে যান। তখন ওই মালিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এমন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন। পরে ‘সিকিউরিটি মানির’ বিষয়টি লেখা স্ট্যাম্প বের করে দেখালে মালিক বললেন, ‘ও.. দিয়েছিল। তারা তো চাঁদাবাজি করে, এটার জন্য আমি ১০ লাখ টাকা নিয়েছি।’

ওমর ফারুক বলেন, ওই মালিক তখন টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য এক মাস সময় নিলেও এখন আর ফোন ধরছেন না। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। সারা দেশে এমন বিশৃঙ্খলা চলছে। তিনি বলেন, দু–একটা টেলিভিশন আগে বেতন দিত। তারাও এখন বেতন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

সাংবাদিক নেতা ওমর ফারুক বলেন, ‘হাতে বুম দিয়ে বলা হচ্ছে এটা নিয়ে যাও, এটা নিয়ে তুমি করে খাও। আমারে এটা দিয়ো, তুমি এটা নিয়ো।’

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো বিভাজন। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যদি রাখতে চাই, তাহলে আমাদের দল মতনির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি নয়। রাজনৈতিক আদর্শ থাকতে পারে কিন্তু একজন পেশাজীবী সাংবাদিক হিসেবে, ইউনিয়নের নেতা হিসেবে কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করব না। এটা বিশ্বাস করে সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, তাহলে আজকের দুর্বলতা থেকে মুক্ত হতে পারব।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যমকে সমাজের একটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করাটা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। গণমাধ্যমে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা এখন প্রান্তিক শ্রেণিতে পরিণত হয়েছেন। মফস্বল সাংবাদিকেরা সেই প্রান্তিক শ্রেণির একটি উপশ্রেণি। তাঁদের অবস্থা বিচার করে বাংলাদেশের সুশাসনের অবস্থা বিচার করা ভুল হবে। তিনি বলেন, সুশাসনকে কার্যকর করতে হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তখন তারা সুবিধামতো কিছু আইন করে। তখন তারা সুবিধা নেয়। যখন চলে যায়, তখন তাদের ওপর ওই আইন প্রয়োগ করলে এর প্রতিবাদ করে। নিবর্তনমূলক আইন তৈরি করে তারা এর সুবিধা নেয়। সরকার চিরস্থায়ী ব্যবস্থা নয়। আইন কিন্তু থেকে যায়। যখন আইনটা করে তখন তারা খেয়াল করে না তারা কী আইন করছে। যখন ক্ষমতা থাকবে না, তখন এই আইনের শিকার হবে কি না, তা তারা ভাবে না।’

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। আর সঞ্চালনায় ছিলেন বিইআইয়ের প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।

মফস্বল সাংবাদিক   সাংবাদিক  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

রাজশাহীতে দুইদিন ব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালা শুরু

প্রকাশ: ১১:৪৯ এএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail

ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড এবং হেকস/ইপার এর যৌথ আয়োজনে রাজশাহীতে দুইদিন ব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালা শুরু হয়েছে। সোমবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ হোটেলে এই কর্মশালা শুরু হয়।

কর্মশালার প্রথম দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিয়াউল হক।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার কাজী শাহেদ। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন হেকস/ইপার এর প্রোজেক্ট ম্যানেজার ইশরাত জাহান বিজু।



কর্মশালাটি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে শুরু হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিয়াউল হক তার বক্তব্য প্রদান করেন এবং কর্মশালার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এরপর হেকস/ইপার এর পক্ষ থেকে একটি প্রেজেনটেশন প্রদান করা হয়। প্রেজেনটেশনটি উপস্থাপনা করেন পিআইডিআইএম এর প্রকল্প কর্মকর্তা সিফাত ইমরানুর রউফ ভূঁইয়া।

কর্মশালায় 'মিডিয়ার ভূমিকা: দলিত ও আদিবাসী সমস্যা' এই বিষয়টি নিয়ে গ্লোবাল টিভির প্রধান সম্পাদক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বক্তব্য রাখেন।



এছাড়াও 'বাংলাদেশে দলিত ও আদিবাসী: মূলধারার মিডিয়ায় যেসব বিষয় ফোকাস করা দরকার' এই বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রাখেন ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ বোরহান কবীর।

কর্মশালায় প্রশ্নত্তর পর্ব ছাড়াও রয়েছে মুক্ত আলোচনা পর্ব। কর্মশালায় স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশ নেন। 

সাংবাদিক কর্মশালা   ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড   হেকস/ইপার  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

ভোল পাল্টে তারাও এখন পদ্মা সেতুর প্রেমিক

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৪ Jun, ২০২২


Thumbnail ভোল পাল্টে তারাও এখন পদ্মা সেতুর প্রেমিক

স্বপ্নের পদ্মা সেতু আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। তার সাহসী দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের কারণে পদ্মা সেতু আজ বাস্তবতা। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা, অহংকারের প্রতীক। পদ্মা সেতু, বাংলাদেশকে যারা অপমান করেছিল, যারা বাংলাদেশকে দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রিত করেছিল তাদের বিরুদ্ধে একটি উজ্জ্বল প্রতিবাদ। কিন্তু পদ্মা সেতু নিয়ে যখন বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলো এবং বিশ্বব্যাংকের এই অভিযোগকে বিভিন্ন মহল যে সমর্থন করেছিলো, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলো দেশের সংস্কারপন্থী দুই পত্রিকা- প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার।

২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ঋণচুক্তি বাতিল করে। বিশ্বব্যাংক যে বাংলাদেশের ঋণচুক্তি বাতিল করতে যাচ্ছে, এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রথম প্রকাশ করে প্রথম আলো। ডেইলি স্টারে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির কথিত যে গল্প সেই গল্প নিয়ে অন্তত তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। অথচ সেই সময় তারা কখনোই বলেনি যে, এই অভিযোগ অসত্য। শুধু তাই নয়, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের একের পর এক যে পদক্ষেপ, প্রত্যেকটা পদক্ষেপে বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর পক্ষে ছিলো ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো। এ নিয়ে ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলোতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে আসার পর বিশ্বব্যাংক আবার ফিরে এসেছিলো। ড. গওহর রিজভীর উদ্যোগের কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে শর্তসাপেক্ষে ফিরে আসে এবং সেই সময় দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। বিশ্বব্যাংক থেকে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসে। তাঁরা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করতে চায়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বিশ্বব্যাংকের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসার পর মাত্র দু'জন সম্পাদকের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এদের মধ্যে একজন ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, অন্যজন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। এই দুইজনের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁরা দুর্নীতি দমন কমিশনে যায়। ওই সময় প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার পত্রিকাগুলো দেখলে দেখা যাবে, তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের প্রতিবেদনগুলোতে বোঝাতে চেষ্টা করেছে যে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বা অন্যরা জড়িত। প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার পুরোপুরিভাবে সে সময় বিশ্বব্যাংকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো।

ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলোর ওই সময়ের প্রতিবেদন গুলোর দিকে তাকালেই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়ে যায় যে, পদ্মা সেতু নিয়ে তথাকথিত বিশ্বব্যাংকের বানোয়াট অভিযোগকে মৌন সমর্থন দিয়েছিলো এই দুইটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক। অথচ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! এখন এই দুটি পত্রিকা পদ্মা সেতু নিয়ে একের পর এক ইতিবাচক প্রতিবেদন লিখছে। পদ্মা সেতুর আদ্যোপান্ত, পদ্মা সেতু স্বপ্ন দেখাচ্ছে নতুন অর্থনৈতিক করিডোরের ইত্যাদি নানা প্রতিবেদন প্রতিদিন প্রকাশ করছে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার গোষ্ঠী। প্রধানমন্ত্রী যারা যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিলো তাদের নাম সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন। কিন্তু এই বিরোধিতাকে উস্কে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলো যে দুটি পত্রিকা, সে ব্যাপারে তিনি অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু প্রথম আলো-ডেইলি স্টার ওয়ান ইলেভেনের ভূমিকার পর যেভাবে ইউটার্ন নিয়েছিল, ডিগবাজি খেয়েছিলো, পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ঠিক একই কাণ্ড ঘটালো। তাহলে বারবার ভোল পাল্টানোই কি এই সংস্কারপন্থী পত্রিকা দুটির একমাত্র কাজ?

পদ্মা সেতু  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

গণমাধ্যমে মুখোমুখি: সংবাদপত্র বনাম টেলিভিশন


Thumbnail

সংবাদপত্র (প্রিন্ট মিডিয়া) শুধুমাত্র ছাপার মাধ্যমেই সংবাদ প্রচার করে থাকে। কিন্তু ডিজিটালাইজেশনের ফলে সংবাদপত্রগুলো এখন অনলাইন ভার্সনে সংবাদ প্রচার করছে। পাশাপাশি টক-শো, বুলেটিন, সাক্ষাৎকার, লাইভ অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরণের অডিও-ভিডিও কনটেন্ট ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার করছে। অন্যদিকে, টেলিভিশন (ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া) মূলত এই ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করে। এর ফলে টেলিভিশন চ্যানেল গুলোর সঙ্গে সংবাদপত্রের এক ধরণের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোর এই ধরণের অডিও-ভিডিও কনটেন্টের অনুমতি নেই বলে গত ৮ জুন তথ্যমন্ত্রীর সাথে এক বৈঠকে দাবি করেছে এসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)।

অ্যাটকো’র এমন দাবির প্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পত্রিকা যদি টকশো করে তাহলে তো সেটি পত্রিকার ডিক্লারেশনের বরখেলাপ হয়। পত্রিকার ডিক্লারেশনে তো টকশো করার অনুমতি ছিল না। সেটি যদি একাঙ্কিকা বা নাটকও হয়, সেটিও তো ডিক্লারেশনে ছিল না। তবে হ্যাঁ, নিউজ সম্পর্কিত ভিডিও ক্লিপ যদি যায়, সেটিতে আমি তেমন সমস্যার কিছু দেখি না।

অ্যাটকো’র দাবি এবং তথ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদ গত ১১ জুন এই বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ মনে করে, সংবাদপত্রের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল কনটেন্ট (আধেয়) প্রচারের বিষয়ে নতুন করে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই বলে। বর্তমানে প্রিন্ট ও ডিজিটাল সমন্বয়ের মাধ্যমেই সংবাদপত্রের অগ্রযাত্রা নিহিত রয়েছে।

সম্পাদক পরিষদের বিবৃতির পর ১২ জুন অ্যাটকো তথ্যমন্ত্রীর সাথে আবারও একটি বৈঠক করে। বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের দুই, চার ও ছয় উপধারার বিধান অনুসারে অনলাইন ভার্সন ও সংবাদ পোর্টাল এ ধরনের কিছু প্রচার করতে পারে না বলে।

টক-শো, বুলেটিন, সাক্ষাৎকার, লাইভ অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরণের অডিও-ভিডিও কনটেন্ট ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারের নীতিমালা নিয়ে সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন এখন স্পষ্টতই মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করেছে।

বিভিন্ন সংবাদপত্রে দেখা যায়, নিউজ বুলেটিন, টক-শো ইত্যাদি অনুষ্ঠানের জন্য ক্যামেরা, লাইট, রুম সেটাপসহ সকল ধরণের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি অবকাঠামো দাড় করানো হয়েছে, যা অনেক ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ারও নেই। আর এটি ডিক্লারেশনের যে নীতি আছে তার বরখেলাপ বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। আইন এবং নীতিমালা থাকলেও সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করছে না সংবাদপত্রগুলো। তারা নিউজ বুলেটিন, টক-শো, তারকা আড্ডাসহ ইত্যাদি প্রচার করে চলছে। আর এতে টেলিভিশন মিডিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্টরা।

গণমাধ্যম  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

সংবাদপত্রের অনলাইন ও সংবাদপোর্টাল টকশো-বুলেটিন প্রচার করতে পারে না: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬:২৮ পিএম, ১২ Jun, ২০২২


Thumbnail সংবাদপত্রের অনলাইন ও সংবাদপোর্টাল টকশো-বুলেটিন প্রচার করতে পারে না: তথ্যমন্ত্রী

আইন অনুযায়ী সংবাদপত্রের অনলাইন ভার্সন ও সংবাদপোর্টালগুলো টক-শো ও সংবাদ বুলেটিন প্রচার করতে পারে না জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সম্প্রতি এসোসিয়েশন অভ টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (এটকো) নেতৃবৃন্দ আমাদের নজরে এনেছেন যে, কিছু পত্রিকার অনলাইন ভার্সন ও সংবাদপোর্টাল অনলাইনে ‘টক শো’ এমন কি কেউ কেউ নিউজ বুলেটিনও প্রচার করছে যার কোনো অনুমতি নেই। আমরা আইনকানুন ঘেঁটে দেখেছি, আইন অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের দুই, চার ও ছয় উপধারার বিধান অনুসারে তারা এ ধরণের কিছু প্রচার করতে পারে না।’

রোববার (১২ জুন) সচিবালয়ে দুপুরে সাংবাদিকবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী নীতিমালার গেজেটটি তুলে ধরেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ক্লিপ দিলে আমি মনে করি সেটিতে নিয়মনীতির ব্যত্যয় হয় না, কিন্তু একেবারে টক শো কিংবা নিউজ বুলেটিন প্রচার করা নীতিমালা অনুমোদন করে না’ বলেন ড. হাছান। তিনি বলেন, আমরা কোনো তদন্ত ছাড়াই পত্রপত্রিকার অনলাইন ভার্সনগুলোর নিবন্ধন দিয়েছিলাম এই শর্তে যে, পত্রিকায় যে সংবাদ প্রকাশ পায় সেটিই অনলাইনে প্রকাশ পাবে, সেটিও ভিন্ন হওয়ার কথা নয়।

এটকো এ বিষয়ে তাদের উত্থাপিত মৌখিক আপত্তি লিখিত আকারে দিলে আমরা আইনের ধারা-উপধারা উল্লেখ করে আমরা সংশ্লিষ্টদের জানাবো, জানান সম্প্রচারমন্ত্রী।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে বিএনপি ও কিছু সংস্থার নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এটি আমাদের সরকারের একনাগাড়ে চতুর্দশ বাজেট পেশ, এর আগে আরো ১৩টি বাজেট পেশ হয়েছে। গত সাড়ে ১৩ বছর ধরে যখনই বাজেট পেশ করা হয়েছে, তখনই দেখা গেছে কিছু চেনা মুখ, চেনা সংগঠন সবসময় এই বাজেট নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছে।’

তিনি বলেন, আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে যে বাজেট পেয়েছিলাম সেটি ৮০ হাজার কোটি টাকার কম ছিলো। এখন সেই বাজেট আট থেকে নয়গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকায়। মানুষের মাথাপিছু আয় ৬শ’ ডলার থেকে প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ১৩ বছরে ২৮শ’ ২৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৪১ থেকে ২০ শতাংশের নিচে নেমে এবং অতি দারিদ্র্যের হার প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি বাস্তবতা। কিন্তু প্রতিবার বাজেটের পর চিহ্নিত কিছু ব্যক্তিবিশেষ, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও বিএনপি এবং তাদের মিত্ররা কখনই প্রশংসা করেনি। তাহলে এই সাড়ে ১৩ বছরে দেশটা এতো এগিয়ে গেল কিভাবে -প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।

এই বাজেট গরিববান্ধব বাজেট উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, কৃষিতে, বিদ্যুতে, গ্যাসে ভর্তুকি দেয়া, এসবই আপামর সাধারণ মানুষের জন্যে। শুধু তাই নয়, করোনা মহামারি এবং ইউরোপে যুদ্ধের কারণে সেখানকার দেশগুলোর যে মূল্যস্ফীতি, সেই তুলনায় বাংলাদেশে যে কম, সেটি সহজে গুগলেই দেখা যায়, এরপরও মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা বক্তব্য দেয়। গত ১৩ বছরে একটিবারও সিপিডি বাজেটের প্রশংসা করতে পারেনি আর বিএনপি তো আগের দিনই বিবৃতি লিখে রাখে, বাজেট ঠিকমতো না পড়েই বিবৃতি দেয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংক, আইএফএম, জাতিসংঘ আমাদের প্রশংসা করে। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সাধারণ মানুষের জন্যই বাজেট করে এবং সে কারণেই দেশটা এগিয়ে গেছে, দারিদ্র্য কমে গেছে।

এ সময় বেগম জিয়াকে বিদেশে নেয়ার জন্য বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘বিএনপি নেতারা যখন প্রতিদিন সকাল, বিকাল, সন্ধ্যাবেলা সমাবেশ করে বলতো, খালেদা জিয়াকে বিদেশ না নিলে তিনি বাঁচবেন কি না সন্দেহ। তখনও বেগম জিয়া দেশে চিকিৎসাতেই সুস্থ হয়েছেন, এবারও তাই। এই বিদেশ নেয়ার দাবি রাজনৈতিক। রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি থেকেই এই দাবি তারা উপস্থাপন করেন, আগেও তারা এ অপচেষ্টা করেছেন। বেগম জিয়াকে এভাবে তাদের বলির পাঁঠা বানানো উচিত নয়।’

মতবিনিময় শেষে উন্নয়ন গবেষক শামীম আহমেদ সংকলিত ‘শেখ হাসিনা ও ঘুরে দাঁড়ানোর বাংলাদেশ’ গ্রন্থের ৬ষ্ঠ সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। গ্রন্থকার এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কাঞ্চন কুমার দে ও মোতাহার হোসেন মোড়ক উন্মোচনে অংশ নেন।

তথ্যমন্ত্রী   ড. হাছান মাহমুদ  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

মাহফুজ আনামের কলাম: মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোর পর্যালোচনা

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০৪ Jun, ২০২২


Thumbnail মাহফুজ আনামের কলাম: মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোর পর্যালোচনা

মাহফুজ আনাম। ডেইলি স্টারের সম্পাদক এবং বাংলাদেশের সুশীল সমাজের অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি অত্যাধিক পরিচিত। রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে সুশীল সরকারের পক্ষে তিনি সবসময় সোচ্চার। সবসময় তিনি মার্কিনপন্থী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত শুক্রবার (০৩ জুন) ডেইলি স্টারে তার নিজের নামে লেখা সম্পাদকীয়তে তিনি বাংলাদেশের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থানের সমালোচনা করেছে। 'রিডিং ইনটু দ্যা রিসেন্ট স্পিসেস অব দ্যা ইউএস অ্যাম্বেসেডর' এই শিরোনামে মাহফুজ আনামের লেখাটি ডেইলি স্টারে প্রকাশিত হয়েছে। আর এই লেখাটি নিয়ে এখন সারাদেশে আলোচনা চলছে। পাঠকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে মাহফুজ আনামের 'রিডিং ইনটু দ্যা রিসেন্ট স্পিসেস অব দ্যা ইউএস অ্যাম্বেসেডর' শিরোনামের লেখাটির বাংলা অনুবাদ হুবহু তুলে ধরা হলো।

একটা সময় ছিল যখন মার্কিন সরকার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হেন কোনো পন্থা নেই যা অবলম্বন করেনি। বছরের পর বছর ধরে, সেই সরকারের বিরুদ্ধে জঘন্য প্রচারণা চালানো হয়েছিল, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংযোগগুলি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল, যে দেশগুলি ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে তাদেরকে কিছু কঠিন পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে অন্যদের সাথে ভেনেজুয়েলাকে বিচ্ছিন্ন করার একটি প্রচারণা শুরু হয়েছিল। এর পরপরই সবচেয়ে বিতর্কিত কূটনৈতিক পদক্ষেপটি নিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার বৈধ সরকার হিসাবে স্বল্প পরিচিত এবং অনভিজ্ঞ বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোর গঠিত একটি বিকল্প সরকারকে মাদুরোর বিপরীতে স্বীকৃতি দিয়েছিল আমেরিকা। ২০২২ সালের ১৭ মে ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাদুরো সরকারের সাথে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার জন্য পূর্বের নিষেধাজ্ঞাগুলি শিথিল করবে এবং শেভরনকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানির (Petróleos de Venezuela, South America) সাথে লেনদেনের অনুমতি দেবে। স্পষ্টতই ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের উপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবেলা করার জন্য আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্কিন সরকারের নিজস্ব স্বার্থে কী নীতি অনুসরণ করা উচিত সে সম্পর্কে মন্তব্য করা আমাদের কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। মার্কিনরা নিজেরাই নিজেদের নীতি নির্ধারক এবং তা বাস্তবায়ন করার জন্য যথাযথ সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ এবং কর্তৃত্ব তাদের রয়েছে। তাহলে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো যখন নিজেদের ব্যাপারে একই পন্থা অবলম্বন করে, তখন কেন মার্কিনীরা সেটা মেনে নিতে পারে না এবং অন্য দেশের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করে?

বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস মঙ্গলবার ‘ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের’ (ডিসিএবি) সাথে কথা বলতে গিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়গুলিকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এটা নিয়ে কোনো অজুহাত দেই না।" তিনি যা বোঝাতে চেয়েছেন তা হলো এই নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অজুহাত গ্রহণ করবে না। এইক্ষেত্রে মার্কিনীদের দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরব এবং ন্যাটো সদস্য তুরস্কের মানবাধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্পর্কে কী বলা যায়?

যখনই কেউ জাতীয় বা আন্তর্জাতিকভাবে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে ইতিবাচক কথা বলে, আমরা সাংবাদিকরা উল্লাস করি। তাই বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি মার্কিন সমর্থন আমাদের কানে আনন্দধারার মত প্রবাহিত হয়। যাইহোক, আমরা এও ভুলে যেতে পারি না যে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী থাকাকালীন আমেরিকান টিভি শো ‘সিক্সটি মিনিটে’ স্কট পেলির সাথে একটি সাক্ষাত্কারে মন্তব্য করেছিলেন, "আমার পরিচিত সবচেয়ে খারাপ লোকদের মধ্যে বেশিরভাগই সাংবাদিক।" রাষ্ট্রপতি হিসাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সংবাদ মাধ্যমকে "আমেরিকান জনগণের শত্রু" বলে অভিহিত করে টুইট করেছিলেন ট্রাম্প।

তিনি আমেরিকার ক্ষমতায় থাকাকালীন শুধুমাত্র ফক্স নিউজ বাদে মার্কিন প্রতিটি স্বাধীন মিডিয়াকে নিপীড়ন করেছিলেন। ট্রাম্পের শাসনামলে অন্য সমস্ত বিখ্যাত এবং প্রভাবশালী মার্কিন মিডিয়া আউটলেটগুলোর তুলনায় ফক্স নিউজ সবচেয়ে ঘৃণ্য, বর্ণবাদমূলক, বিভক্তিকর এবং ভুল তথ্য প্রচার করত। সুতরাং, আমরা মনে করি এটি জিজ্ঞাসা করা ন্যায্য হবে যে, যদি মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাস বর্তমান প্রসিডেন্ট বাইডেনের না হয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করতেন তাহলেও কি তিনি একই বক্তব্য দিতেন? আগামী নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন এখনই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সুতরাং, যদি ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসেন (আল্লাহ্ মাফ করুন) তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি স্বাধীন সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করবে? আমরা কি বিশ্বাস করব যে বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমকে সমর্থন করা বাইডেন প্রশাসনের নীতি হোয়াইট হাউসে ক্ষমতা রদবদলের সাথে সাথে পরিবর্তন হতে পারে? আমরা কি আমাদের অভ্যন্তরীণ নীতিগুলি আবার সেইসব দিনের মার্কিন প্রশাসনের সাথে মানানসই করার আশা করি?

যেকোন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে আমরা অবশ্যই সেটি চাইবো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই বিষয়ে একমত জেনে আমরা আনন্দিত। কিন্তু একটি নির্বাচন কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে এবং কিসের ভিত্তিতে তা বিচার করবে?

মার্কিন মিডিয়া অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্পূর্ণ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেও রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বিশ্বাস করে তাদেরকে জোচ্চুরি করে নির্বাচনে হারানো হয়েছে। এমনকি গত মার্কিন নির্বাচনের সত্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আদালতের বেশ কয়েকবার রায় ঘোষণার পরেও রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ এখনও বিশ্বাস করে যে, গত নির্বাচনে তাদের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পই নির্বাচিত হয়েছিলেন কিন্তু তাকে ভোট কারচুপি করে হারানো হয়েছে। সুতরাং, ধরা যাক, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরে যদি পরাজিত দল দাবি করে যে তাদের কাছ থেকে নির্বাচন চুরি হয়েছে সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূত হাস কিভাবে এই প্রচারণা ব্যাখ্যা করবেন?

আমি খুব মনোযোগ সহকারে গত ৩১ মার্চ, ২৪ এপ্রিল; ১০, ২৪ মে এবং ৩১ তারিখে দেওয়া রাষ্ট্রদূত হাসের সাম্প্রতিক বক্তৃতাগুলি পড়েছি এবং নতুন করে চিন্তা করার মতো অনেক কিছু পেয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-কৌশলগত চিন্তাভাবনাগুলো বাংলাদেশের জন্য কেমন হতে পারে তার একটা প্রমাণ পাওয়া যায় গত ৩১ মার্চ ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)এ অনুষ্ঠিত "মুভিং ফরওয়ার্ড ইন দ্য ইন্দো-প্যাসিফিক" শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পিটার হাসের বক্তৃতায়। রাষ্ট্রদূত হাস "স্বাধীন এবং উন্মুক্ত, সংযুক্ত, সমৃদ্ধ, সুরক্ষিত এবং স্থিতিস্থাপক" এই পাঁচটি উপাদানকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন নীতির মূল উপাদান হিসাবে উচ্চারণ করেছেন; এই মূল উপাদানগুলির সাথে আমাদের কোনো দ্বিমত এবং সমস্যা নেই। কিন্তু হাসের এই বিশদ বিবরণের মধ্যেই আসল গল্পটি নিহিত রয়েছে। যখন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বললেন, "ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জনগণও গণতন্ত্র চায় এবং তাদের মানবাধিকারকে সুরক্ষিত করতে ও সম্মান জানাতে চায়" এবং যখন তিনি আরও বলেন, "আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করব... এখানে হুমকি প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে। আমাদের নিরাপত্তা পদ্ধতিও অবশ্যই এই হুমকির বিপরীতেই বিকশিত হবে," তিনি আসলে কোন দেশের কথা বলছেন তা আমাদের বুঝতে মোটেই সমস্যা হবে না। যাই হোক না কেন, গরীবের ঘরের সেই হাতিটি যে চীন, তা বুঝতে খুব সহজ সরল মানুষেরও সমস্যা হবার কথা না।

১৯৭১ সালে চীনের সাথে সমঝোতার পর থেকে, মার্কিন-চীন সম্পর্ক বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে এবং বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের দারিদ্র্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে ও বৈশ্বিক সমৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখে। চীনের মুক্ত বাজার অর্থনীতি অনুসরণ এবং তাদের দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য বিদেশী বিনিয়োগের অনুমোদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল যে, হয়তো পরবর্তীকালে সময়ের সাথে সাথে চীন তার কেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক কাঠামোকে শিথিল করবে এবং তারাও পশ্চিমা পুঁজিবাদী বিশ্বের একটি অংশ হয়ে উঠবে। কিন্তু আদোতে তা বাস্তবায়িত হয় নি বরং চীনের অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী, প্রযুক্তিগতভাবে আরও দক্ষ ও সমৃদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বায়োটেকনোলজি ইত্যাদিতে অভূতপূর্ব অগ্রগতির ফলে ভীত হয়ে- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময় থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে চীনের সাথে প্রতিযোগিতা শুরু করে এবং এখন তারা বিশ্বব্যাপী চীনের আঞ্চলিক অবস্থান ও গ্রহনযোগ্যতা নষ্ট করতে তৎপরতা শুরু করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের চীন বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গিকে প্ররোচিত করে একত্রিত করার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি প্রদান করে। রাশিয়ার ইউক্রেনে আক্রমণ আমেরিকার চীন-রাশিয়া বিরোধী কার্যক্রমকে আরও তরান্বিত করেছে।

এই দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং বিপজ্জনকভাবে চলিত  বিশ্বে বাংলাদেশকে অবশ্যই দক্ষতার সাথে নিজেদের চালনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনা বিনিয়োগের অনুমতি দিয়ে অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। এই নীতি আমাদের ব্যাপকভাবে উপকৃত করেছে। ভারতের নিজস্ব সমস্যা সত্ত্বেও তারা বহিরাগত শক্তিকে চীনের সাথে তাদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে দেয়নি। চীন-ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০২১ সালে ৪৩.৩ শতাংশ বেড়ে ১২৫.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

যাইহোক, এটি প্রতীয়মান যে, আমেরিকার ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া এবং বাংলাদেশে আমাদের জন্য গভীর প্রভাব ফেলছে। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের সম্পর্কের উন্নতির সমস্ত সম্ভাবনাকে স্বাগত জানাই এবং আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সমস্ত সম্ভাবনার দুয়ার অন্বেষণ ও উন্মোচন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যাইহোক, এশিয়া এবং এশিয়ার বাইরের অন্যান্য দেশের সাথে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রটি কেমন এবং সেখানে কি কি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে সে সম্পর্কে বাংলাদেশের খুব সচেতন হওয়া উচিত। এই সূত্রে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, "এশীয় দেশগুলির অভিন্ন উন্নয়ন কাঠামো এবং প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং সেগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করা উচিত," - হ্যাঁ বিভক্তভাবে নয়, বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এশিয়ার জন্য সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে।

অনুবাদ করেছেন - অরুণাভ বিলে

মাহফুজ আনাম  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন