প্রেস ইনসাইড

সাড়া জাগিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিজ্ঞাপন

প্রকাশ: ০৮:২০ পিএম, ২২ জুলাই, ২০২২


Thumbnail সাড়া জাগিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিজ্ঞাপন

দেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে সর্বাধিক প্রচারিত জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন এর একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনটির স্ক্রিপ্ট থেকে শুরু করে সিনেমাটোগ্রাফির ভূয়সী প্রশংসা করছেন দর্শকরা।

সাড়া জাগানো এই বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেছে বিজ্ঞাপন সংস্থা ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড। ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার হেড অব ক্রিয়েটিভ মাহবুব মোর্শেদ রিফাতের পরিচালনায় এবং আমির হামজার সিনেমাটোগ্রাফিতে বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করা হয়। বিজ্ঞাপনটির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের দায়িত্বে ছিলেন সমন্বয় পাঞ্জেরী।

বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করা হয়েছে একেবারে সাধারণ হকার এবং পাঠক নিয়ে। ফলে বিজ্ঞাপনটি ব্যতিক্রমী এবং হৃদয়গ্রাহী হয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে।


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

পটুয়াখালীতে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

প্রকাশ: ০৮:৪২ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail পটুয়াখালীতে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

পটুয়াখালীর সিনিয়র সাংবাদিক এবং নিউজ টোয়েন্টিফোর, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও বিডিনিউজের জেলা প্রতিনিধি সঞ্জয় দাস লিটুর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে পটুয়াখালী ব্রিজের উত্তরপাড় শিয়ালীবাজারে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া মেঘনা পরিবহনের বাসে  এ হামলার ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকায় একটি কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার বিকালে লিটু মেঘনা পরিবহনের একটি বাসে পটুয়াখালী রওনা হন। এ সময় একজন সন্ত্রাসী তাকে অনুসরণ করে এবং পটুয়াখালীর কাছাকাছি পৌঁছালে তার ওপর হামলা করে পালিয়ে যায়। পরে বরগুনার একজন সাংবাদিক তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সাংবাদিক লিটুর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পটুয়াখালী জেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা অবিলম্বে হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানায় , আমরা আহত সাংবাদিকের খোঁজ-খবর নিয়েছি। হাসপাতালে ফোর্সসহ আমি তার কথা শুনেছি। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছি।

পটুয়াখালী   সাংবাদিক   সন্ত্রাসী হামলা  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

অনেক ব্যবধানে বাংলাদেশ প্রতিদিন সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক

প্রকাশ: ০৮:১১ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail অনেক ব্যবধানে বাংলাদেশ প্রতিদিন সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক

বর্তমানে সারাদেশে সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রচার সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ২১১টি। ২য় অবস্থানে থাকা প্রথম আলোর প্রচার সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৮৪১টি। হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ কপি বেশি প্রচারিত হয়।

গত বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত তথ্য এটি জানানো হয়।

চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুগান্তর যেটির প্রচার সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ২৫০টি। চতুর্থ স্থানে রয়েছে আমাদের সময়, ইত্তেফাক এবং জনকণ্ঠ যেগুলোর প্রচার সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ২০০টি। পঞ্চম স্থানে রয়েছে কালের কণ্ঠ এবং সংবাদ যেগুলোর প্রচার সংখ্যা ২ লাখ ০১ হাজার ১০০টি।



মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

সাংবাদিককে হুমকি ও জিডির ঘটনায় ডিইউজে-ডিআরউর উদ্বেগ-নিন্দা

প্রকাশ: ০৪:০২ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail

সংবাদ প্রকাশের জেরে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ও রাইজিংবিডির সিনিয়র রিপোর্টার মো. রাহাত মিয়া (রাহাত সাইফুল) এর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)। 

শনিবার ডিইউজের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন এক বিবৃতিতে অবিলম্বে এ ধরণের উদ্দেশ্যে প্রণোদিত সাধারণ ডায়েরি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবাদ প্রকাশ করা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। সে দায়িত্ব পালনে যে কোনো ঘটনা একজন সাংবাদিক তুলে ধরতে পারেন। হুমকি-ধামকি দিয়ে সাংবাদিককে তার পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা যাবে না।

নেতৃবৃন্দ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়ে সাংবাদিক রাহাত সাইফুলের বিরুদ্ধে যে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারে দাবি জানান।

এদিকে একই দিনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) সদস্য ও রাইজিংবিডির সিনিয়র রিপোর্টার মো: রাহাত মিয়া (রাহাত সাইফুল) এর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ডিআরইউ। 

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ শনিবার এক বিবৃতিতে ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব অবিলম্বে এই সাধারণ ডায়েরি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। 

ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এ ধরণের জিডি কোনভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত এ সাধারণ ডায়েরি প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তারা। 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি 'ভাইয়ারে' নামের সিনেমা মুক্তি পায়। মুক্তির পর অভিনয় শিল্পী রাসেল মিয়া গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে সিনেমাটিকে ‘পাপমুক্ত সিনেমা’ দাবি করেন। এর মধ্যেই রাসেল মিয়ার শুটিংয়ের দুটি স্থিরচিত্র প্রকাশ্যে আসে। এগুলো নাটকের দৃশ্য এবং তিনি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করেছেন বলে দাবি করেন। এ নিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর “পাপমুক্ত সিনেমা’ বলা শিল্পীর শুটিংয়ের দৃশ্য প্রকাশ্যে” শিরোনামে রাইজিং বিডিতে একটি খরব প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধরে রাজধানীর শাহাবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন রাসেল মিয়া। 

এছাড়াও একজন বাউল শিল্পীর নামে মামলা এবং সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির দাবি করে তার বক্তব্য নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করে। সেই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, নারীর প্রতি সহিংসতা উসকে দেয় এমন দৃশ্যে অভিনয় করার।


ডিইউজে   ডিআরউ   সাংবাদিক  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

অমিত হাবিবের নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭:৫৫ পিএম, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail অমিত হাবিবের নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে: তথ্যমন্ত্রী

প্রয়াত সাংবাদিক অমিত হাবিবের আদর্শ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকতা দেশের গণমাধ্যমের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। 

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সদ্যপ্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অমিত হাবিব স্মরণে 'অসীমে অমিত' সভায় তিনি একথা বলেন। আগত অতিথিরা সভায় এক মিনিট নিরবতা পালনের সময় 'অসীমে অমিত' স্মারক প্রকাশনাটি হাতে তুলে ধরেন।  

তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রতিটি মানুষের জীবনের একটা গল্প থাকে। রাস্তার ধারে বিড়বিড় করে চলা পাগল বলে আখ্যায়িত মানুষেরও বেদনার গল্প থাকে। যেদিকে সমাজ-রাষ্ট্র তাকানোর ফুরসৎ পায় না, সেই সব গল্প তুলে এনে যে সাংবাদিকরা আমাদের দৃষ্টি খুলে দেয়, অমিত হাবিব শুধু তাদেরই একজন নন, তিনি ছিলেন তেমন সাংবাদিক তৈরির কারিগরও।'

ড. হাছান বলেন, মানুষের জীবন বুদবুদের মতো হলেও কিছু কিছু মানুষ তাদের কর্ম দিয়ে জগত-সমাজকে সমৃদ্ধ করে যান, অমিত হাবিব তাদেরই একজন। অমিত হাবিব আমাদের সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করেছেন, সংবাদজগতের প্রেরণা ছিলেন, প্রেরণা হয়েই থাকবেন। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ তার বক্তৃতায় বলেন, তরুণ সাংবাদিকরা অমিত হাবিবের কর্মনিষ্ঠার পদাঙ্ক অনুসরণ করলে সাংবাদিক জগত আরো সমৃদ্ধ হবে। 

বিশিষ্ট নাট্যজন মামুনুর রশীদ, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক স. ম. গোলাম কিবরিয়া, সাংবাদিকনেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সুকান্ত গুপ্ত অলক, দেশ রূপান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা মামুন, প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল, অমিত হাবিবের ছোটভাই ফয়জুল হক রাঙা প্রমুখ সভায় অমিতের স্মৃতিচারণ করেন। 

১৯৬৩ সালে জন্মগ্রহণকারী ঝিনাইদহের সন্তান অমিত হাবিব ২৫ বছরের নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকতার জীবন শেষে গত ২৮ জুলাই ৫৯ বছর বয়সে ধরাধাম থেকে অসীমের পথে পাড়ি দেন। ১৯৮৭ সালে খবর গ্রুপ অব পাবলিকেশন্সে একই সঙ্গে রিপোর্টার ও সাব-এডিটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন অমিত হাবিব। দেশ রূপান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি কালের কন্ঠ, সমকাল, যায়যায়দিন, আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ, সাপ্তাহিক পূর্বাভাস পত্রিকায় তার কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।

অমিত হাবিবের কবিতা 'একজন মানুষ আনো' দিয়ে শুরু হওয়া স্মারক প্রকাশনা 'অসীমে অমিত'র পাতায় স্থান পেয়েছে আনিসুল হক, মুন্নী সাহা, আন্দালিব রাশদী, মোস্তফা মামুন, রাজেকুজ্জামান রতন প্রমুখ লেখক ও সাংবাদিকের নিবন্ধ ও স্মৃতিকথা।

তথ্যমন্ত্রী   ড. হাছান মাহমুদ  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

সিডনিতে শোকে, শ্রদ্ধায় এবং গৌরবে আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে স্মরণ

প্রকাশ: ১০:৩১ এএম, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail সিডনিতে শোকে, শ্রদ্ধায় এবং গৌরবে আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে স্মরণ

সিডনি থেকে প্রকাশিত মুক্তমঞ্চ পত্রিকার আয়োজনে গত ২৭ আগস্ট, ২০২২, সন্ধ্যায় শোকে ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হলো প্রয়াত কিংবদন্তী সাংবাদিক​, মুক্তমঞ্চ পত্রিকার উপদেষ্টা​ আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে। উক্ত স্মরণ সভাটিতে যেন এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা বসেছিল সিডনি প্রবাসী সুধীজনদের। আলোচকদের মধ্যে অনেকেই আব্দুল গাফফার চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। ২০০০ এবং ২০০৫ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন। 

এই মহাত্মনের স্মরণে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেউ হয়েছেন অশ্রুসজল, কেউ হয়েছেন বাকরুদ্ধ। মুক্তমঞ্চ পত্রিকার সম্পাদক আল নোমান শামীমের সভাপতিত্বে এবং উপন্যাসিক ড. শাখাওয়াৎ নয়নের সঞ্চালনায় আব্দুল গাফফার চৌধুরীর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন বিষয়ে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষাবিদ, কবি এবং রাজনীতিবিদ ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক নেহাল নেয়ামুল বারী, রাজনীতিবিদ গামা কাদির, কলামিস্ট এবং গল্পকার অজয় দাশগুপ্ত, বঙ্গবন্ধু কাউন্সিলের সভাপতি শেখ শামিমুল হক, প্রশান্তিকা ডট কম এর সম্পাদক আতিকুর রহমান শুভ, শিক্ষাবিদ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক ড. কাইয়ুম পারভেজ, কবিতা পারভেজ, শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিবিদ ড. খায়রুল চৌধুরী, রাজনীতিবিদ প্রবীর মৈত্র, রাজনীতিবিদ শফিকুল আলম, শিল্পী এবং শিক্ষাবিদ ড. পলাশ বসাক, রাজনীতিবিদ সেলিমা বেগম, মোটিভেশনাল স্পিকার পল মধু, সাংস্কৃতিক সংগঠক ড. স্বপন পালসহ অনেক গুণীজন।

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশের রাজনীতি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, সেই দুর্দিনে এই আব্দুল গাফফার চৌধুরী জাতিকে পথ দেখিয়েছেন। ড. কামাল হোসেন প্রসঙ্গে একটা সময় তিনি শেখ হাসিনার সমালোচনা করেছিলেন, তখন অন্যান্য বুদ্ধিজীবিরা তাঁকে আওয়ামীলীগের রাজনীতির বাতিঘর শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা না হারাতে অনুরোধ করেন। তিনি সেই অনুরোধ রেখেছিলেন এবং আমৃত্যু তিনি জাতীয় বিবেকের ভুমিকায় অবিচল থেকেছেন’।

একুশে একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সামাজিক সংগঠক নেহাল নেয়ামুল বারী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে গাফফার চৌধুরীর অবদান, ভাষা আন্দোলনে অবদান উল্লেখ করে বলেন, এক জাতি একজনই গাফফার চৌধুরীর জন্ম দেয়। শহীদ দিবসের সঙ্গীতসহ গাফফার চৌধুরীর বিভিন্ন সাহিত্য প্রতিভার দিক আলোচনা করেন তিনি।

অত্যন্ত আবেগঘন বক্তব্যে হৃদয়ে দাগ কেটেছেন অজয় দাশগুপ্ত দাদা এবং ড. কাইউম পারভেজ। অজয় দাশগুপ্ত বলেন– “যতদিন এই পৃথিবীতে মাত্র একজন বাঙালি বেঁচে থাকবে ততদিন পর্যন্ত তাঁর লেখা ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি’ বেঁচে থাকবে”।

কাইউম পারভেজ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘একবার আমাকে একজন প্রশ্ন করেছিল– উনি (আব্দুল গাফফার চৌধুরী) তো শুধু একটি গানই লিখে গেছেন, আর কি অবদান আছে? আমি উত্তরে তাকে বলেছিলাম– জি, ওই একটি গানই একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে। কে না জানে একাত্তরের এই স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল ওই ৫২ এর একুশে ফেব্রুয়ারিতেই। আর এই গানটাই ছিল তার প্রধান অস্ত্র, যেটা বাঙালি জাতি মনে রেখেছে’।

কবিতা পারভেজ আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন, আসলেই আমরা গাফফার চাচার জীবনকে নিয়ে যখন কথা বলছি, তখন তা উদযাপনই হবে, কেননা, এক জীবনে এতো অর্জন খুব বেশী মানুষের হয় না। কবিতা পারভেজ তাঁর পিতা এম আর আখতারের সাথে গাফফার চৌধুরীর গভীর সম্পর্কের গল্প শোনান।

বঙ্গবন্ধু কাউন্সিলের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত কাছের মানুষটি ছিলেন গাফফার চৌধুরী। আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠে কঠোর সমালোচক হলেও তিনি শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশের প্রশ্নে ছিলেন কোমল হৃদয়ের একজন।

জনাব গামা আব্দুল কাদির দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলেন, আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে হারানোটা আমাদের জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তাঁর লেখার জন্য সবসময় অপেক্ষা করতাম। তিনি চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন।

ড. খায়রুল চৌধুরী বলেন, ‘উলংগং ইউনিভার্সিটিতে আমার থিসিস লেখার সময় আমরা বাঙালি নাকি বাংলাদেশী এই বিতর্কের সেরকম কোনো টেক্সট পাচ্ছিলাম না; একমাত্র ভরসা ছিল আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখা একটি বই এবং পত্র–পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধ। যা আমাকে খুবই সাহায্য করেছে’। এছাড়াও তিনি বলেন, আমাদের সময়ের এই মহান মানুষটি আমাদের জাতিসত্ত্বার ইতিহাসকে টেক্সটচুয়ালাইজড করেছেন। তাঁর অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না’।

সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠক শফিকুল আলম গাফফার চৌধুরীর জীবনের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বলেন, গাফফার চৌধুরী শুধুই লেখক বা গীতিকার বা কবিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন স্বাধীনতার চার মূল নীতির প্রশ্নে আমৃত্যু লড়াই করে যাওয়া সংগ্রামী পুরুষ। বাংলাদেশের আজ তাঁর মতো শক্ত কথা সহজে বলার কলমের কাছেই আশ্রয় খোঁজে।

সাবেক কাউন্সিলর রাজনীতিবিদ প্রবীর মৈত্র গাফফার চৌধুরীর পারিবারিক ঐতিহ্যের উপর আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, ‘হাজী ওয়াজেদ চৌধুরী, জওহরলাল নেহেরুর বাবা মতিলাল নেহেরুর সেক্রেটারি ছিলেন। অল ইন্ডিয়ান কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির মেম্বার ছিলেন’।

আতিকুর রহমান শুভ বলেন, ‘তিনি ছিলেন আমাদের পাঠ্যপুস্তকের মতো। তাকে পড়ে পড়ে আমরা বেড়ে উঠেছি। যে বয়সটা ছিলো গল্প– উপন্যাস পড়বার ঠিক সেই বয়স থেকে আমরা তাঁর কলাম পড়তাম। কখনও দুর্বোধ্য মনে হতো না। গল্পের মতো করে তিনি আমাদের ইতিহাসকে বিশেষ করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে চিনিয়েছেন। এক্টিভিস্টের মতো কাজ করে গেছেন। আমার বন্ধুর ছোট ভাই এক ব্লগারকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনে বিদেশে প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। পরীমণির মতো একজন চিত্রনায়িকার বাঁচার অধিকারকেও তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন। আসছে ফেব্রুয়ারির বইমেলায় তাঁর অসমাপ্ত জীবনীও বই আকারে আসছে। এই খবরটা আমি জানতাম। সেটাও সিডনির সুধীজনদের জানালাম’।

সাংস্কৃতিক সংগঠক ডঃ স্বপন পাল বলেন, গাফফার চৌধুরীরা অসাম্প্রদায়িক সমৃদ্ধিশালী যে বাংলাদেশের পথ দেখিয়েছেন, তা থেকে আমাদের সরে আসার কোনো পথ নেই।

আওয়ামী পরিবারের রাজনীতিক সেলিনা বেগম বলেন, গাফফার চৌধুরীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল ছিলেন, ছিলেন বলেই বাংলাদেশকে বুকে ধারন করেছেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ তৈরিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম আলোকবর্তিতা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদ হক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে কালজয়ী লেখককে বাংলাদেশ মনে রাখবে।

ড. পলাশ বসাক বলেন, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী অনেক বুদ্ধিজীবি আমরা দেখেছি; তাঁরা অনেকেই একটা সময়ের ডিরেইল্ড হয়ে গেছেন। কিন্তু আব্দুল গাফফার চৌধুরী আমৃত্যু দেশ ও জাতির পক্ষে অবিচল থেকেছেন। অসাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে তিনি ছিলেন আপোষহীন।

কলামিস্ট পল মধু বলেন, গাফফার চৌধুরীর স্মরণ সভায় উনার স্মৃতির প্রতি অর্ঘ্য নিবেদন আমাদের জন্য সম্মানের। এতো বড় মাপের মানুষকে আমরা সম্মান করছি, অনুভব করার চেস্টা করছি, এটি আমাদের জন্যও বড় সম্মান।

অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ড.পলাশ বসাকের কন্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে, দেশের গান গেয়ে শোনান মারিয়া মুন, তারপর আব্দুল গাফফার চৌধুরীর জীবন ও কর্মের উপর একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা পাঠ করেন শাখাওয়াৎ নয়ন। অতঃপর পলাশ বসাকের নেতৃত্বে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এই অমরকাব্যগাঁথা সমবেতভাবে গেয়ে আলোচনা শুরু করা হয়।

​এসময় আরাও উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস ও মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি মোঃ রহমতুল্লাহ, সহ-সভাপতি কাজি সুলতানা সিমি,  শিল্পী আতিক হেলাল ও আফরীন মিতা,  সিডনি বেঙ্গগলিজ ডট কমের আবু তারিক, অপু সারোয়ার, আবৃত্তিশিল্পী নুসরাত জাহান স্মৃতি, আবৃত্তিশিল্পী আরিফুর রহমান, আবৃত্তিশিল্পী ফরহাদ আসমার, সাংস্কৃতিক কর্মী নামিদ ফারহান, জে জে অপূর্ব, আসরাফ আরিস, জাহাঙ্গীর হোসেন, সামাজিক সংগঠক সাজ্জাদ হোসেন, কবি ফজলুল মিরাজসহ সিডনির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিমন্ডলের পরিচিতজন।

কথাসাহিত্যিক শাখাওয়াৎ নয়নের তথ্যসমৃদ্ধ সঞ্চালনা আলোচনা সভাটিকে অলংকৃত করেছে। মুক্তমঞ্চ পত্রিকার সম্পাদক আল নোমান শামীম সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে নৈশভোজের আহবান জানান এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সিডনি   আব্দুল গাফফার চৌধুরী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন