প্রেস ইনসাইড

সিডনিতে শোকে, শ্রদ্ধায় এবং গৌরবে আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে স্মরণ

প্রকাশ: ১০:৩১ এএম, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail সিডনিতে শোকে, শ্রদ্ধায় এবং গৌরবে আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে স্মরণ

সিডনি থেকে প্রকাশিত মুক্তমঞ্চ পত্রিকার আয়োজনে গত ২৭ আগস্ট, ২০২২, সন্ধ্যায় শোকে ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হলো প্রয়াত কিংবদন্তী সাংবাদিক​, মুক্তমঞ্চ পত্রিকার উপদেষ্টা​ আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে। উক্ত স্মরণ সভাটিতে যেন এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা বসেছিল সিডনি প্রবাসী সুধীজনদের। আলোচকদের মধ্যে অনেকেই আব্দুল গাফফার চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। ২০০০ এবং ২০০৫ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন। 

এই মহাত্মনের স্মরণে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেউ হয়েছেন অশ্রুসজল, কেউ হয়েছেন বাকরুদ্ধ। মুক্তমঞ্চ পত্রিকার সম্পাদক আল নোমান শামীমের সভাপতিত্বে এবং উপন্যাসিক ড. শাখাওয়াৎ নয়নের সঞ্চালনায় আব্দুল গাফফার চৌধুরীর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন বিষয়ে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষাবিদ, কবি এবং রাজনীতিবিদ ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক নেহাল নেয়ামুল বারী, রাজনীতিবিদ গামা কাদির, কলামিস্ট এবং গল্পকার অজয় দাশগুপ্ত, বঙ্গবন্ধু কাউন্সিলের সভাপতি শেখ শামিমুল হক, প্রশান্তিকা ডট কম এর সম্পাদক আতিকুর রহমান শুভ, শিক্ষাবিদ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক ড. কাইয়ুম পারভেজ, কবিতা পারভেজ, শিক্ষাবিদ এবং রাজনীতিবিদ ড. খায়রুল চৌধুরী, রাজনীতিবিদ প্রবীর মৈত্র, রাজনীতিবিদ শফিকুল আলম, শিল্পী এবং শিক্ষাবিদ ড. পলাশ বসাক, রাজনীতিবিদ সেলিমা বেগম, মোটিভেশনাল স্পিকার পল মধু, সাংস্কৃতিক সংগঠক ড. স্বপন পালসহ অনেক গুণীজন।

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশের রাজনীতি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, সেই দুর্দিনে এই আব্দুল গাফফার চৌধুরী জাতিকে পথ দেখিয়েছেন। ড. কামাল হোসেন প্রসঙ্গে একটা সময় তিনি শেখ হাসিনার সমালোচনা করেছিলেন, তখন অন্যান্য বুদ্ধিজীবিরা তাঁকে আওয়ামীলীগের রাজনীতির বাতিঘর শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা না হারাতে অনুরোধ করেন। তিনি সেই অনুরোধ রেখেছিলেন এবং আমৃত্যু তিনি জাতীয় বিবেকের ভুমিকায় অবিচল থেকেছেন’।

একুশে একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সামাজিক সংগঠক নেহাল নেয়ামুল বারী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে গাফফার চৌধুরীর অবদান, ভাষা আন্দোলনে অবদান উল্লেখ করে বলেন, এক জাতি একজনই গাফফার চৌধুরীর জন্ম দেয়। শহীদ দিবসের সঙ্গীতসহ গাফফার চৌধুরীর বিভিন্ন সাহিত্য প্রতিভার দিক আলোচনা করেন তিনি।

অত্যন্ত আবেগঘন বক্তব্যে হৃদয়ে দাগ কেটেছেন অজয় দাশগুপ্ত দাদা এবং ড. কাইউম পারভেজ। অজয় দাশগুপ্ত বলেন– “যতদিন এই পৃথিবীতে মাত্র একজন বাঙালি বেঁচে থাকবে ততদিন পর্যন্ত তাঁর লেখা ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি’ বেঁচে থাকবে”।

কাইউম পারভেজ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘একবার আমাকে একজন প্রশ্ন করেছিল– উনি (আব্দুল গাফফার চৌধুরী) তো শুধু একটি গানই লিখে গেছেন, আর কি অবদান আছে? আমি উত্তরে তাকে বলেছিলাম– জি, ওই একটি গানই একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে। কে না জানে একাত্তরের এই স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল ওই ৫২ এর একুশে ফেব্রুয়ারিতেই। আর এই গানটাই ছিল তার প্রধান অস্ত্র, যেটা বাঙালি জাতি মনে রেখেছে’।

কবিতা পারভেজ আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন, আসলেই আমরা গাফফার চাচার জীবনকে নিয়ে যখন কথা বলছি, তখন তা উদযাপনই হবে, কেননা, এক জীবনে এতো অর্জন খুব বেশী মানুষের হয় না। কবিতা পারভেজ তাঁর পিতা এম আর আখতারের সাথে গাফফার চৌধুরীর গভীর সম্পর্কের গল্প শোনান।

বঙ্গবন্ধু কাউন্সিলের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত কাছের মানুষটি ছিলেন গাফফার চৌধুরী। আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠে কঠোর সমালোচক হলেও তিনি শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশের প্রশ্নে ছিলেন কোমল হৃদয়ের একজন।

জনাব গামা আব্দুল কাদির দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলেন, আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে হারানোটা আমাদের জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তাঁর লেখার জন্য সবসময় অপেক্ষা করতাম। তিনি চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন।

ড. খায়রুল চৌধুরী বলেন, ‘উলংগং ইউনিভার্সিটিতে আমার থিসিস লেখার সময় আমরা বাঙালি নাকি বাংলাদেশী এই বিতর্কের সেরকম কোনো টেক্সট পাচ্ছিলাম না; একমাত্র ভরসা ছিল আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখা একটি বই এবং পত্র–পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধ। যা আমাকে খুবই সাহায্য করেছে’। এছাড়াও তিনি বলেন, আমাদের সময়ের এই মহান মানুষটি আমাদের জাতিসত্ত্বার ইতিহাসকে টেক্সটচুয়ালাইজড করেছেন। তাঁর অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না’।

সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠক শফিকুল আলম গাফফার চৌধুরীর জীবনের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বলেন, গাফফার চৌধুরী শুধুই লেখক বা গীতিকার বা কবিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন স্বাধীনতার চার মূল নীতির প্রশ্নে আমৃত্যু লড়াই করে যাওয়া সংগ্রামী পুরুষ। বাংলাদেশের আজ তাঁর মতো শক্ত কথা সহজে বলার কলমের কাছেই আশ্রয় খোঁজে।

সাবেক কাউন্সিলর রাজনীতিবিদ প্রবীর মৈত্র গাফফার চৌধুরীর পারিবারিক ঐতিহ্যের উপর আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, ‘হাজী ওয়াজেদ চৌধুরী, জওহরলাল নেহেরুর বাবা মতিলাল নেহেরুর সেক্রেটারি ছিলেন। অল ইন্ডিয়ান কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির মেম্বার ছিলেন’।

আতিকুর রহমান শুভ বলেন, ‘তিনি ছিলেন আমাদের পাঠ্যপুস্তকের মতো। তাকে পড়ে পড়ে আমরা বেড়ে উঠেছি। যে বয়সটা ছিলো গল্প– উপন্যাস পড়বার ঠিক সেই বয়স থেকে আমরা তাঁর কলাম পড়তাম। কখনও দুর্বোধ্য মনে হতো না। গল্পের মতো করে তিনি আমাদের ইতিহাসকে বিশেষ করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে চিনিয়েছেন। এক্টিভিস্টের মতো কাজ করে গেছেন। আমার বন্ধুর ছোট ভাই এক ব্লগারকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনে বিদেশে প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। পরীমণির মতো একজন চিত্রনায়িকার বাঁচার অধিকারকেও তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন। আসছে ফেব্রুয়ারির বইমেলায় তাঁর অসমাপ্ত জীবনীও বই আকারে আসছে। এই খবরটা আমি জানতাম। সেটাও সিডনির সুধীজনদের জানালাম’।

সাংস্কৃতিক সংগঠক ডঃ স্বপন পাল বলেন, গাফফার চৌধুরীরা অসাম্প্রদায়িক সমৃদ্ধিশালী যে বাংলাদেশের পথ দেখিয়েছেন, তা থেকে আমাদের সরে আসার কোনো পথ নেই।

আওয়ামী পরিবারের রাজনীতিক সেলিনা বেগম বলেন, গাফফার চৌধুরীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল ছিলেন, ছিলেন বলেই বাংলাদেশকে বুকে ধারন করেছেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ তৈরিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম আলোকবর্তিতা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদ হক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে কালজয়ী লেখককে বাংলাদেশ মনে রাখবে।

ড. পলাশ বসাক বলেন, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী অনেক বুদ্ধিজীবি আমরা দেখেছি; তাঁরা অনেকেই একটা সময়ের ডিরেইল্ড হয়ে গেছেন। কিন্তু আব্দুল গাফফার চৌধুরী আমৃত্যু দেশ ও জাতির পক্ষে অবিচল থেকেছেন। অসাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে তিনি ছিলেন আপোষহীন।

কলামিস্ট পল মধু বলেন, গাফফার চৌধুরীর স্মরণ সভায় উনার স্মৃতির প্রতি অর্ঘ্য নিবেদন আমাদের জন্য সম্মানের। এতো বড় মাপের মানুষকে আমরা সম্মান করছি, অনুভব করার চেস্টা করছি, এটি আমাদের জন্যও বড় সম্মান।

অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ড.পলাশ বসাকের কন্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে, দেশের গান গেয়ে শোনান মারিয়া মুন, তারপর আব্দুল গাফফার চৌধুরীর জীবন ও কর্মের উপর একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা পাঠ করেন শাখাওয়াৎ নয়ন। অতঃপর পলাশ বসাকের নেতৃত্বে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এই অমরকাব্যগাঁথা সমবেতভাবে গেয়ে আলোচনা শুরু করা হয়।

​এসময় আরাও উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস ও মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি মোঃ রহমতুল্লাহ, সহ-সভাপতি কাজি সুলতানা সিমি,  শিল্পী আতিক হেলাল ও আফরীন মিতা,  সিডনি বেঙ্গগলিজ ডট কমের আবু তারিক, অপু সারোয়ার, আবৃত্তিশিল্পী নুসরাত জাহান স্মৃতি, আবৃত্তিশিল্পী আরিফুর রহমান, আবৃত্তিশিল্পী ফরহাদ আসমার, সাংস্কৃতিক কর্মী নামিদ ফারহান, জে জে অপূর্ব, আসরাফ আরিস, জাহাঙ্গীর হোসেন, সামাজিক সংগঠক সাজ্জাদ হোসেন, কবি ফজলুল মিরাজসহ সিডনির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিমন্ডলের পরিচিতজন।

কথাসাহিত্যিক শাখাওয়াৎ নয়নের তথ্যসমৃদ্ধ সঞ্চালনা আলোচনা সভাটিকে অলংকৃত করেছে। মুক্তমঞ্চ পত্রিকার সম্পাদক আল নোমান শামীম সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে নৈশভোজের আহবান জানান এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সিডনি   আব্দুল গাফফার চৌধুরী  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

ডিআরইউ নির্বাচন: সভাপতি নোমানী, সম্পাদক সোহেল

প্রকাশ: ০৭:২২ পিএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি পদে মোরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাইনুল হাসান সোহেল নির্বাচিত হয়েছেন।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনজুরুল আহসান বুলবুল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

ফলাফল অনুযায়ী ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন জিটিভির সিনিয়র রিপোর্টার সাইফুল ইসলাম।

এছাড়া অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন, সহ-সভাপতি দিপু সারোয়ার, যুগ্ম সম্পাদক মঈনুল হাসান, অর্থ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, দপ্তর সম্পাদক কাউসার আজম, নারী সম্পাদক মরিয়ম মনি, প্রচার সম্পাদক কামাল উদ্দিন সুমন, তথ্য প্রযুক্তি তোফাজ্জল হোসেন রুবেল, ক্রিড়া মাহবুবুল আলম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক  মিজান চৌধুরী, কল্যাণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ।

সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন- মনির মিল্লাত, ইসমাইল হোসেন, মহসিন চৌধুরী, মোজাম্মেল হক তুহিন, কিরন শেখ, আলী ইব্রাহিম। 

উল্লেখ্য, বুধবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। 

এবারের নির্বাচনে ২০টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ৪৩ জন। নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুলসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক দায়িত্ব পালন করেন।

ডিআরইউ নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

ডিআরইউ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

সাংবাদিকদের ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। 

এবারের নির্বাচনে ২০টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন মোট ৪৩ জন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুলসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক দায়িত্ব পালন করছেন।



মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

এবার ব্যাংকিং খাতে সংকট সৃষ্টির মিশনে ‘প্রথম আলো’

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশ গত কিছুদিন ধরে ব্যাংকে তারল্য সংকট নিয়ে গুজব এবং অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই ব্যাপারটি শুরু হয়েছিল দুই সপ্তাহ আগে থেকে। সেদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির কয়েকজন নেতা এবং কিছু ব্যক্তি ব্যাংকে গিয়ে টাকা পাননি বলে মর্মে অভিযোগ করেছেন। এ অভিযোগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তিনি তার ফেসবুক পেইজে একটি ব্যাংকে গিয়ে দুই লাখ টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন, যেখানে তার ব্যাংকের একাউন্টে টাকা ছিল মাত্র ৫ হাজার। কিন্তু বিএনপির অন্য দুই জন নেতার ব্যাপারে কোনো আলাপ-আলোচনাই হচ্ছেনা। বাংলাদেশে এখন গুজব ছড়ানো এবং সরকারকে চাপে ফেলার কৌশল হিসেবে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা অপপ্রচার ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এরপর ওই বিষয়টি নিয়ে সুশীল সমাজের লোকজন কথাবার্তা বলেন এবং তারপর সুশীল সমাজ নিয়ন্ত্রিত দুটি মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার এ নিয়ে লাগাতার প্রতিবেদন প্রকাশ করে জনগণকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করায় যে, একটি সংকট রয়েছে। পরবর্তীতে এটিকে একটি জাতীয় ইস্যু করা হয় এবং জোর করে একটি সংকট সৃষ্টির চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। যেমন- সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকে তারল্য সংকট নিয়ে। প্রথমে এটি নিয়ে গুজব ছড়ানো হলো। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হলো যে, ব্যাংকে কোনো তারল্য সংকট নেই। কিন্তু তারপরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুজবকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে এবং এই রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব নিয়েছে বাংলাদেশের সুশীল সমাজ নিয়ন্ত্রিত মাইনাস ফর্মুলার প্রবর্তক পত্রিকা প্রথম আলো।

প্রথম আলো গত ২২ নভেম্বর ‘খেলাপি ঋণ কমাতে হবে’ শিরোনামে লিড নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। সেই সংবাদে বলা হয়েছে, ছয় সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ, সেটিকে আইএমএফ শর্ত দিয়েছে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার। রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের আকার ছোট করতে বলা হয়েছেসহ বিভিন্ন আইএমএফের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই রিপোর্টের সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো যে, আইএমএফ যে শর্তগুলো দিয়েছে সেটি নিয়েই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদনে ঋণ খেলাপির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে যেন ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের অনাস্থা তৈরি হয়। পরেরদিন অর্থাৎ ২৩ নভেম্বর প্রথম আলো আরেকটি লিড নিউজ করেছে। সেটি হলো টাকাও এখন দামি হয়ে উঠছে, ব্যাংকে তারল্য পরিস্থিতি। এই শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে, মার্কিন ডলারের মতো টাকার দামও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ব্যাংকগুলো আগের চেয়ে বেশি সুদে অন্য ব্যাংক থেকে টাকা ধার করছে। আবার কোনো কোনো ব্যাংক আমানতের সুদও বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতি হয়েছে মূলত ডলার বৃদ্ধি এবং সংকটের জন্য। কারণ, ডলার বিক্রি করে ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক তুলে নিয়েছে। অর্থাৎ এই প্রতিবেদনটি যদি কেউ ভালো মতো পড়ে তাহলে বুঝতে পারবে যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তাকে পরিশীলিত ভাবে সত্য হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছে। পরোক্ষ ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, ব্যাংকে তারল্য সংকট নেই বলে বাংলাদেশ ব্যাংক যেটি বলছে সেটি আসলে সঠিক নয়। ব্যাংকের তারল্য সংকট আস্তে আস্তে দৃশ্যমান হচ্ছে।

আর ২৪ নভেম্বর তৃতীয় রিপোর্টে ইসলামী ব্যাংকে ‘ভয়ংকর নভেম্বর’ হিসেবে একটি আলোচিত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ইসলামী ব্যাংক থেকে নভেম্বরে তুলে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে তিন ব্যাংকের সন্দেহজনক লেনদেন নয় হাজার পাঁচশ কোটি টাকা। ইসলামী ব্যাংক আজ একটি বিবৃতিতে বলেছে যে, ইসলামী ব্যাংক লি: ৪০ বছর ধরে সুনামের সাথে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং কোনো ঋণই ভৌতিক ঋণ দেওয়া হয়নি এবং ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকের ব্যবসায়িক স্থাপনা, চলতি মূলধনের প্রয়োজনীয়তা, ব্যবসায়িক দক্ষতা-অভিজ্ঞতা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ ব্যাংকের বিনিয়োগ নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করেই বিনিয়োগ প্রদান করছে, এটি কোনো অস্বাভাবিক বা ভৌতিক ঋণ নয় বলে তারা জানিয়েছে। কিন্তু প্রথম আলো টানা তিনদিন তিনটি প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে কি প্রমাণ করতে চেয়েছে? তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে পরিকল্পিত গুজব ছড়ানো হচ্ছিলো যে ব্যাংকিং তারল্য সংকট সেটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে। মানুষ যেন ব্যাংকে টাকা না রাখে এবং ব্যাংকগুলো যেন গ্রাহকদের টাকা তোলার চাপে বিপর্যস্ত হয় সেই মিশনেই কি প্রথম আলো অংশীদার? অতীতের মতো আবার কি প্রথম আলো সেই বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়াকে উস্কে দেওয়ার জন্য একের পর এক ব্যাংকিং খাতের সর্বনাশ ডেকে আনার চেষ্টা করছে?


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

অনলাইন মূল ধারার গণমাধ্যম কিনা সময়ই বলে দেবে: ফারুক আহমেদ

প্রকাশ: ০৬:২১ পিএম, ২৪ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

অনলাইন গণমাধ্যম মূল ধারার গণমাধ্যম কিনা তা সময়ই বলে দিবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, কথায় আছে ‘বৃক্ষ তোমার নাম কি ফলে পরিচয়।’ ঠিক তেমনি অনলাইন গণমাধ্যম মূল ধারার গণমাধ্যম কিনা তা সময়ই কথা বলবে। 

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় গণমাধ্যম ইনিস্টিউটে আয়োজিত শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় ‘কোভিড-১৯-এর প্রেক্ষাপটে শিশু অধিকার বিষয়ক অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তনের গুরুত্ব কমিউনিকেশন প্রোগ্রামিং’-এর সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

জাতীয় গণমাধ্যম ইনিস্টিউট ও ইউনিসেফের যৌথ উদোগ্যে তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।



সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানিয়ে মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আপনাদের তথ্যই সবার কাছে পৌঁছায়। তাই আপনারা নির্ভরযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জনসাধারণের বিশ্বাসের জায়গায় পৌঁছে যাবেন।’ এ সময় তিনি ৫-১১ বছর বয়সী শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করোনার টিকা দেওয়া প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শাহিন ইসলাম বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীদের দেশ ও জাতির প্রতি অনেক দায় রয়েছে। তাই উপস্থিত অনলাইন গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান, আপনারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে পাশে থাকবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন– জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ প্রকৌশল) ও সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, কর্মশালা পরিচালক মো. আবুজার গাফফারী, কর্মশালা সমন্বয়ক মো. ফাইম সিদ্দিকী প্রমুখ।

অনলাইন গণমাধ্যম   মূল ধারা গণমাধ্যম   ফারুক আহমেদ   কর্মশালা   জাতীয় গণমাধ্যম ইনিস্টিউট  


মন্তব্য করুন


প্রেস ইনসাইড

কালের কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক হলেন ইমদাদুল হক মিলন

প্রকাশ: ০৭:৩৫ পিএম, ২৩ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক হলেন বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। বুধবার (২৩ নভেম্বর) ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের উপদেষ্টা (প্রেস ও মিডিয়া) আবু তৈয়ব স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে প্রায় ১০ বছর ধরে ইমদাদুল হক মিলন কালের কণ্ঠের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছরের ৩ অক্টোবর তিনি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের (ইডাব্লিউএমজিএল) পরিচালক নির্বাচিত হন। সে সময় থেকে তিনি ইডাব্লিউএমজিএলের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি কালের কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘দেশের অন্যতম শক্তিশালী গণমাধ্যম কালের কণ্ঠকে আরও এগিয়ে নিতে সকল কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ করবো।’

ইমদাদুল হক মিলন ২০১১ সালের ৪ জুলাই কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন। ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ সম্পাদক পদে আসীন হন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা ইমদাদুল হক মিলনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপ-সম্পাদক হায়দার আলী, ভিজুয়াল এডিটর মাহবুবুল হক, সহকারী সম্পাদক আলী হাবিব, বিজনেস এডিটর মাসুদ রুমী, অনলাইন ইনচার্জ গাউস রহমান পিয়াস, রেফারেন্স এডিটর জাহাঙ্গীর আলম সজীব, জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহতাব হোসেন।

কালের কণ্ঠ   প্রধান সম্পাদক   ইমদাদুল হক মিলন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন