ইনসাইড টক

‘আইনের এ.বি.সি কেউ বুঝে না, আমিও বুঝাতে বুঝাতে ক্লান্ত’


প্রকাশ: 28/01/2022


Thumbnail

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন আইনটি নিয়ে এখন অনেক সমালোচনা হচ্ছে। সব আইনের প্রথম এক নম্বর ধারা থাকে ‘শিরোনাম’। আমি শেষ মূহুর্তে আইনটির শিরোনাম নিয়ে বলেছিলাম, আইনটির শিরোনাম হোক আগামী পাঁচ বছরে নির্বাচনসমূহে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন। তাহলে হয়তো একটা জায়গায় সরকার সৎ থাকতো। এটা তো আসলে তাই হয়েছে। আগামী নির্বাচনসমূহে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন।

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন, আগামী জাতীয় সংসদ আইনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন ড. শাহদীন মালিক।

আইনের শিরোনাম ‘আগামী নির্বাচনসমূহে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন’ রাখা উচিত মনে করার কারণ এবং আপনার কেনো মনে হয় সার্চ কমিটি কোনো যোগ্য মানুষ খোঁজে বের করতে পারবে না, জানতে চাইলে ড. শাহদীন মালিক বলেন, আইনের এ বি সি ডি কেউ বুঝে না। আমিও ক্লান্ত হয়ে গেছি আইনের এ.বি.সি বুঝাতে বুঝাতে। আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্যও এরকম একটি আইন আছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে এরকম একটি আইন আছে, তথ্য কমিশন গঠনে এরকম একটি আইন আছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে পদাধিকার বলে কমবেশি হাইকোর্টের বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সদস্যরাই নিয়োগকৃত হয়।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুল মতিন সাহেব গত রোববার বলেছিলেন যে, উনি প্রথম দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়োগের সার্চ কমিটিতে সদস্য এবং পরবর্তী মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশন নিয়োগসংক্রান্ত সার্চ কমিটির সভাপতি ছিলেন। ওনাদের মিটিংয়ে মন্ত্রীপরিষদ থেকে এনভেলাপে কয়েকটি নাম এবং সিভি দিয়ে দেওয়া হয়। উনারা ওই নাম ও সিভিগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। মতিন সাহেব খুবই সিনিয়র লোক। খায়রুল হক সাহেব তাকে ডিঙ্গিয়ে প্রধান বিচারপতি হয়েছিল। উনি গত রোববার একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে এ কথাগুলো বলেছেন।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শাহদীন মালিক বলেন, আইনমন্ত্রী বোধহয় আমাদের তৈরি করা আইনের খসড়াটি পড়েননি। তাই তিনি আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি বলেছেন। ২০১১ সালে আমরা যে প্রস্তাবটি দিয়েছিলাম, সেটি ছিলো শামসুল হুদা কমিশনের জন্য। আমাদের দেশের মূল আইনের টেক্সট হলো ৪০ হাজার পৃষ্ঠা। এখন দশ বছর আগে শামসুল হুদা কমিশনকে কি আইন প্রস্তাব করেছিলাম, ওইটা তো আর মুখস্থ করে বসে নাই। আপনারা সাংবাদিকরাও তো চাইলে এটি মিলিয়ে দেখতে পারেন। তাহলেই তো দেখতে পাবেন ব্যত্যয়টা কোথায় আছে।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সকলে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন তো আইন পাস হয়ে গেছে। এখন তো পরামর্শের কোনো কিছু নাই। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করবে তারা এই আইনকে কিভাবে নিবে। আমরা নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আইনের আলাপ-আলোচনা করে সবকিছু দেখে শুনে আইনের খসড়া করে দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে এই এই আদলে আইনটি হলে ভালো হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় থাকবে। আমরাও জানবো কাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, কেন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই আইনে তো স্বচ্ছতার কোনো জায়গাই রাখা হয়নি। এখন তো আইন-ই পাস হয়ে গেছে। এখন আর কথা বলে লাভ নেই। গতকাল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিষয়ে বলেছিলাম, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন না বলে এটাকে বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ আইন বললে বোধহয় আরও সৎ হতো।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরণের অনিশ্চয়তা দেখেন কিনা প্রশ্নের উত্তরে ড. শাহদীন মালিক বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আমার কিছু সাজেশন আছে। এটি আমাদের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতেও ছিল। ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে আমাদের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সংবিধান অনুযায়ী এই সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। অর্থাৎ মার্চ ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীতে বলা হলো যে, বর্তমানে বিদ্যমান সংসদের মেয়াদ এই সংশোধনী পাস হওয়ার দিন থেকে আরও পাঁচ বছর বর্ধিত করা হলো। এটা তো হয়েছে এবং আমাদের এই ঐতিহাসিক উদাহরণ তো রয়েছে। এখন ঝুটঝামেলা না করে সংবিধান সংশোধন করে বলে দিলেই হবে যে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যে সংসদ নির্বাচন হইয়া ছিল, আজকে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনীর পর থেকে এই সংসদের মেয়াদ আরও ১০ বছর বৃদ্ধি করা হইলো। বিষয়টি এখন ওইদিকেই যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ আইনের একটি জায়গায় বলা আছে, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মেয়াদ পাঁচ বছর। এখন এটাকে পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর সংশোধন করে দিলেই ঝামেলা শেষ হয়ে গেল।


প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭