ইনসাইড টক

‘পরিবারকেন্দ্রিক যে শিক্ষাগুলো ছিলো সেগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে’


প্রকাশ: 28/06/2022


Thumbnail

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, আমরা একটা অপসংস্কৃতির দিকে চলে যাচ্ছি। আগে সমাজের সব ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আলাদা একটা মর্যাদার জায়গা ছিল। নানা কারণেই আমাদের সমাজের এখন অবক্ষয় হয়েছে। এখন শিক্ষকরা মর্যাদা তো পায় না বরং তারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে সাভারে যে ঘটনাটি ঘটছে তা রীতিমতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যে ছাত্র এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তার নিজস্ব একটি কিশোর গ্যাং আছে। আমি মনে করি আমাদের ব্যর্থতার চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও একটা বড় ব্যর্থতা আছে। যেভাবে শিশু কিশোররা গ্যাং তৈরি করছে। তা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া এরা যে শুধু শিক্ষকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে না নয়, এরা হরহমাশেই বিভিন্ন মানুষের ওপর হামলা করছে। সেটা হয়তো কোনো ব্যবসায়ীর ওপর করছে কিংবা কোনো মহিলাকে হেনেস্তা করছে। যে গুলো হয়তো সেভাবে সামনে আসেনি।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র কর্তৃক শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো পিছনে নৈতিকতার ব্যাপারে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমাদের পারিবারিক বন্ধনগুলো দিন দিন লোপ পেয়ে যাচ্ছে। পরিবারকেন্দ্রিক আমাদের যে শিক্ষাগুলো ছিলো এগুলো আস্তে আস্তে শিথিল হয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা আর আগের মতো পরিবার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। আর যারা কিশোর গ্যাং এর সঙ্গের জড়িত তারা বেশির ভাগ এতিম। এখানে আমি দুই অর্থে এতিম বলছি। একটি হলো যে যাদের সত্যি সত্যি বাবা-মা নাই। আবার আরেকটি হচ্ছে, এদের বাবা-মা থেকেও নাই। কারণ বাবা-মা এদের কোনো খোঁজ খবর নেয় না। হয়তো বাবা ও মায়ের মধ্যে সমস্যা আছে। তারা আলাদা থাকছে। কিংবা বাবা-মা হয়তো এক সঙ্গেই থাকে কিন্তু সন্তানের খোঁজ খবর নেওয়া বা সন্তানকে যেটুকু সময় দেওয়ার কথা তারা সেটা দিতে পারছেন না। এই বিষয়গুলো আমাদের দেশে আরেক ধরনের এতিম তৈরি করেছে। এই সমস্ত কিছুর জন্য আজ আমাদের সমাজের নৈতিকতার এই দুরাবস্থা।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িকতার কারণেও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। ধর্মীয় অনুভূতির অভিযোগ এনে শিক্ষকদের হেনেস্তার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কেউ একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দেয় আর এটা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনে। যারা ধর্মীয় অনুভূতির নামে বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায় বা তাদের মন্দিরে, উপাসনালয়ে হামলা করে। এরা আসলে ধর্মান্ধ লোক। যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে চায় বা ফায়দা লুটতে চায় তারা ধরনের কাজের সাথে জড়িত থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের আলেম সমাজের বড় ভূমিকা আছে। কারণ কেউ একটা স্ট্যাটাস দিলেই তাতে আমার নবী খুব দুর্বল হয়ে পড়বে বিষয়গুলো তো আসলে এমন নয়। সেজন্য ধর্মীয় নেতাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে। কেউ অন্যায় করলে আইন অনুসারে অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত কিন্তু সামান্য কোনো একটা বিষয় নিয়ে রীতিমতো হামলার করা, নাশকতা করা এগুলো হতে পারে না।


প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭