ইনসাইড থট

১৭ মে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম দিবস


প্রকাশ: 17/05/2023


Thumbnail

১৭ মে কে আমরা সাধারণত বলে থাকি দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন দিবস। কিন্তু আমি বলবো এটার সঠিক নাম হবে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম দিবস। কেননা আমরা ১৯৭১ সালে সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। আমরা গণতন্ত্রকে পেয়েছিলাম। কিন্তু মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা এবং যারা সেদিন পাকিস্তানকে রক্ষা করতে চেয়েছে মূলত তারাই সেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে, সাথে সাথে হত্যা করে গণতন্ত্রকে, হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর দর্শনকে। সুতরাং একই সাথে তারা অনেকগুলি কাজ করেছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে। 

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আওয়ামী লীগ কোনরকম টিকে ছিল। তবুও যারা সেদিন অবদান রেখেছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা দলকে এক রাখতে সক্ষম হচ্ছিল না। এমতাবস্থায় তারা খুব অল্প বয়সে আওয়ামী লীগের মত বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে নেত্রী শেখ হাসিনাকে দলীয় প্রধান করা হয়। দলীয় প্রধান করার সাথে সাথে তিনি কিছুতেই বিদেশে না থেকে দেশে ফিরে আসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু তখনকার জিয়াউর রহমান সাহেবের রাজত্বকালে নেত্রীকে দেশে ফিরে আসতে অনেক বাধা সৃষ্টি করা হয়। বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি, এমনকি বিভিন্ন রকমের গুজব ছড়ানো হচ্ছিল যে শেখ হাসিনা দেশের মাটিতে পা দেওয়ার সাথে সাথে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে। কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসলেন। 

দার্শনিক কথাটা কেন ব্যবহার করলাম কারণ যখনই তাকে দলের প্রধান করা হল তখনই তিনি ভাবলেন যে কি দর্শন নিয়ে আমি দলীয় প্রধান হিসেবে দেশে যাব? যাওয়ার পর আমাকেও গুলি করে মারতে পারে। মা-বাবা সবই হারিয়েছি। মাত্র দুইটা বোন আমরা বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে আছি। আমি গেলে আমাকেও গুলি করে মারবে। তাহলে আমি তো রেহানাকে একা হয়ে যাবে। তাহলে লাভ কি হবে? তখন দার্শনিক শেখ হাসিনা ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর কাছে এবং বঙ্গমাতার কাছ থেকে যে রাজনীতি শিখেছিলেন, যে দর্শন শিখেছিলেন সেই দর্শন নিয়ে দেশে ফিরলেন। দেশে ফিরেই তিনি কারফিউ পেলেন। কিন্তু তিনি দমে যাননি। তখন শুধুমাত্র দলকে সুসংগঠিত করা এবং একতাবদ্ধ করা নয় সাথে সাথে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করারও উদ্যোগ নিলেন। যে গণতন্ত্র ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট আমাদের থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাকে তিনি পুনরায় পুনঃস্থাপন করার জন্যেই সংগ্রামে নামলেন। তাঁর সংগ্রামের ফলেই আস্তে আস্তে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসলো এবং এর ধারাবাহিকতায় ২১ বছর পর আবার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি রাজনৈতিক শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতা গেল। সুতরাং ১৭ মে আসলে গণতন্ত্রের পথে পুনর্জাগরণের দিন। 

যদি সেই সময় জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি দর্শন নিয়ে না আসতেন, শুধু দলীয় প্রধান হিসেবে দলকে গোছানোর কাজেই হাত দিতেন তাহলে কিন্তু দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসত না। এরপর হল কি যারা তাকে আনল তারা ভাবছিল উনি একটি কাঠের পুতুল যা বলবে সেটাই হবে। তারাই আবার তখন বিশেষ করে মরহুম আব্দুর রাজ্জাক শ্রদ্ধার সাথে বলছি তিনি দলের প্রধান প্রধান কর্মীদের নিয়ে বাকশাল করে চলে গেলেন। অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবেই দার্শনিক শেখ হাসিনাকে দ্বিতীয়বার এতিম করা হল। একবার পিতা-মাতা, ভাইদের হারিয়ে দুই বোন এতিম হয়েছিলেন। আবার দার্শনিক শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার এতিম হলেন যখন তাকে দলীয় প্রধান করে দলের আসল সকল কর্মীকে দূরে নিয়ে যাওয়া হল। কিন্তু দার্শনিক শেখ হাসিনা তাতে দমে যাননি। তিনি তাঁর দর্শন দিয়ে, তাঁর মেধা দিয়ে, তাঁর যোগ্যতা দিয়ে তিনি যেরকম দলকে গড়ে তুলেছেন পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পেয়ে তিনি দেশকে গড়ে তুলেছেন। আজ দেশ স্মার্ট বাংলাদেশ হওয়ার পথে এবং আমরা দার্শনিক শেখ হাসিনাকে ১৭ মে পেয়েছিলাম দেখেই আজকে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক হতে সক্ষম হয়েছি। আমি মনে করি এটিই হচ্ছে ১৭ মে একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমরা দোয়া করি দার্শনিক শেখ হাসিনা যেন দীর্ঘজীবী হোন সুস্থ থাকেন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত থাকেন। যাতে করে বাংলাদেশে আর কোনদিন পিছনে না যেতে হয়।


প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭