ইনসাইড টক

‘আমাদের সীমান্ত অঞ্চল একটি ফ্রি ইকোনমি জোন হতে পারে’


প্রকাশ: 04/09/2023


Thumbnail

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, যেহেতু ভারতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছে। তাদের মূলস্ফীতি অনেকটা কমে ছিল এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। সুতরাং তাদের নিজস্ব বাজারে মূল্যস্ফীতি যেন স্থিতিশীল রাখা যায়, খাদ্য মূল্য ঠিক রাখা যায় সেজন্য তো তারা চাইবে যে, তাদের খাদ্যটা অন্তত মজুদ থাকুক। তারপর তারা রপ্তানির কথা ভাববে। সুতরাং ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চিন্তা করলে তারা যথাথ করেছে। শুনেছি মিয়ানমারও নাকি একই পলিসি গ্রহণ করবে এবং অন্যরাও গ্রহণ করবে। সেদিক থেকে আমাদের করণীয় কি? আমাদের করণীয় হল যতটা সম্ভব খাদ্যে অন্তত আত্মনির্ভরশীল হওয়া। বঙ্গবন্ধু যেমন খুব জোর দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যাও কৃষির ওপর জোর খুব দিয়েছেন। এ রকম একটি সংকটকালেও এবার কৃষির জন্য যে বিনিয়োগ সেটা বাড়ানো হয়েছে। গত বছর ২৬ হাজার কোটি টাকা ছিল। এ বছর এটা ৪০ হাজার এর বেশি করবার কথা চিন্তা করা হয়েছে। এর মানে আমি খাদ্যের জন্য যেন কারো মুখাপেক্ষী না থাকি। সেটি একটি দীর্ঘমেয়াদের। 

বিশ্বের সর্ববৃহৎ চাল রপ্তানিকারক দেশ হলো ভারত। বিশ্বের মোট চাহিদার ৪০ ভাগই আসে এ দেশ থেকে। তবে গত ২০ জুলাই নন-বাসমতি সাদা চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। ভারতের এই চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা করেন ড. আতিউর রহমান। পাঠকদের জন্য ড. আতিউর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মীর ফজলে রাব্বি।

ড. আতিউর রহমান বলেন, স্বল্প মেয়াদে ভারতে সাথে আমাদের যে ব্যবস্থাটি করা উচিত বলে আমি মনে কিছু কিছু পণ্য যেমন চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন এ রকম নিত্য প্রয়োজনীয় ‍কিছু পণ্যের একটা তালিকা করে সেটার কোটা সিস্টেম দাঁড় করানো উচিত। অর্থাৎ যাই হোক না কেন এই কয়েকটা পণ্য এবং এই পরিমাণ ভারত আমাদেরকে আগাম একটা কমিটমেন্ট করবে যে এই পরিমাণ পণ্য আমরা রপ্তানি করব। সেই আলোচনা কিন্তু চলছে। আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই কোটা সিস্টেমের ওপর কাজ চলছে। আমি মনে করি এই কাজটি হয়ে গেলে হঠাৎ হঠাৎ কোনটার দাম বাড়ানো, কোনটার শুল্ক আরোপ করা- এতে আমাদের কোন অ্যাফেট হবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, কোভিড কালেও নিত্য পণ্য কিন্তু ভারত থেকে আমাদের দেশে এসেছে এবং পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। সুতরাং ভারতের সাথে আমাদের রাজনৈতিক সম্পর্কটা যেমন এখন অনেক উচুঁতে, অর্থনৈতিক সম্পর্কটাও এখন অনেক গভীর হচ্ছে। গভীর হচ্ছে বলেই আমাদের অনেক নির্ভরশীল পণ্য আমদানি বেশি করছি, রপ্তানি কম করছি। এক্ষেত্রেও আমি মনে করি আমাদের রপ্তানি বাড়াতে হবে। আমাদের পণ্যগুলো ভারতে আরও যাতে বেশি করে বিক্রি করতে পারি সেজন্য যে আমাদের ইকোনমিক্স ডিপ্লোমেটিক দরকার, আমাদের ট্রেড ফেয়ার করার দরকার, আমাদের যারা বাণিজ্য করেন তাদের আরও বেশি এনগেইজ হওয়া দরকার আছে। যেমন- ভারতে প্রতি বছর আমাদের বস্ত্র রপ্তানি বাড়ছে। এটা আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে। তারা নিশ্চিয় অন্য দেশ থেকে কেনেন। আমরা একটা হিসেব করে দেখেছি ভারত যে পরিমাণ আমদানি করে তার যদি শতকরা এক ভাগ আমরা নিজেরা ধরতে পারি তাহলে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে আমাদের রপ্তানি। সুতরাং এই বিষয়ে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাংশে তাদের যে চাহিদা সেই চাহিদা সহজেই যাতে আমরা পূরণ করতে পারি তাহলে স্থল বন্দরগুলোকে ওই ভাবে সাজাতে হবে। যেমন- কুমিল্লার দাউদকান্দি। এই অঞ্চলে আমাদের মাছ চাষ হয় অনেক বেশি। কিন্তু এই মাছগুলোর কুমিল্লার কাছাকাছি কোন স্থল বন্দর দিয়ে আমরা ভারতে পাঠাতে পারি না। এটা হয় আখাউড়া দিয়ে বা আমাদের অন্য কোন বন্দর দিয়ে। তাতে তো এটা লাভবান হয় না। ছোট ছোট যে বাধা গুলো আছে সেগুলো আমাদের দূর করতে হবে। আমাদের পুরো সীমান্ত অঞ্চলটি একটি ফ্রি ইকোনমি জোন হতে পারে। এই বর্ডার এলাকায় যদি বড় বড় হাসপাতাল হত তাহলে এত কষ্ট করে আমাদের মুম্বাইতে যাওয়া লাগত না। আগরতলাতেই যদি একটা ভালো হাসপাতাল হয় তাহলে সহজেই আমাদের লোকজন সেখানে যেতে পারত। এর জন্য দরকার হলে আমাদের যৌথ বিনিয়োগ হতে পারে। আমরা টুয়েন্টি পারসেন্ট বিনিয়োগ করলাম, আমাদের ব্যবসায়ীরাই করল। এই সুযোগ গুলো করে দিতে হবে। আমাদের প্রাণ পুরো ভারতে এবং ওই অঞ্চলে বেশ ভালো ব্যবসা করছে। সেই সুযোগ আমরা আরও বেশি করে বাড়াই না কেন? আমাদের অন্যান্যরা যেন চাহিদা তৈরি করতে পারে। এই ভাবে আমাদের রপ্তানি বাড়াতে হবে। আমাদের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য এখন রুপি বাণিজ্য চলছে। কিছুদিনের মধ্যে টাকা বাণিজ্য হবে। এটা একটা ভালো মুভ। কিন্তু এটা এত ভালো মুভ নয় যে পুরোটাই আমরা এই মুদ্রায় করতে পারব। কারণ এখন পর্যন্ত ১৫ বিলিয়ন ডলার আমাদের আমদানি করি। আমরা মাত্র ২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করি। সুতরাং এটা বাড়াতে হবে। বাড়ালে একটা অংশ পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। বাকিটা কিন্তু আমাদের ডলারেই করতে হবে। ব্রিকস নিয়ে আমরা ভাবব কিন্তু উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতকা নিয়েও আমাদের ভাবা উচিত।


প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭