ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বিশ্ব গণমাধ্যমে ড. ইউনূসের কারাদণ্ডের খবর


প্রকাশ: 01/01/2024


Thumbnail

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কারাদণ্ডের খবরটি বিশ্ব গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হয়েছে। বিশ্বের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমগুলো ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাজার সংবাদটি প্রকাশ করেছে। সোমবার শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ড পান তিনি। রায় ঘোষণার পরপরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাজার ইস্যু।

সোমবার বিকেল তিনটার দিকে ঢাকার শ্রম আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় আদালত ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার জনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে শিরোনাম করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের শ্রম আইন মামলায় নোবেল বিজয়ী ইউনূস দোষী সাব্যস্ত । শান্তিতে নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশি মুহাম্মদ ইউনূস ছয় মাসের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। সোমবার শ্রম আইনের একটি মামলার রায়ে তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়। যদিও তার সমর্থকরা এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন।

রায়ের আগে প্রধান প্রসিকিউটর খুরশিদ আলম খান এএফপিকে বলেন, আমরা প্রমাণ করেছি যে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্যরা শ্রম আইনের বাধ্যতামূলক প্রয়োজনীয়তা লঙ্ঘন করেছেন।

তার আইনজীবী খাজা তানভীর এএফপিকে বলেছেন, মামলাটি ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মামলার একমাত্র উদ্দেশ্য হল তাকে বিশ্বের সামনে হয়রানি এবং অপমান করা’।

এএফপির প্রতিবেদনে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার কৃতিত্ব দেয়া হয় ৮৩ বছর বয়সী ইউনূসকে। এএফপির প্রতিবেদনই বিশ্বের বেশিরভাগ গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে। একই ধরণের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে অন্যন্য সংবাদমাধ্যমগুলোতেও। 

একই দৃষ্টিকোণ থেকে রিপোর্ট করেছে আল-জাজিরাও। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এক মাসের মধ্যে আপিলের শর্তে জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। 

ভারতের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ টেলিকমের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোম্পানির শ্রমিক কল্যাণ তহবিল গঠন না করার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে লভ্যাংশের ৫ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন অনুযায়ী গঠিত তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে চার জনই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতির আরও শতাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত মাসে এক মামলার শুনানিতে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশে যে ৫০টির বেশি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, তার কোনোটি থেকে নিজে লাভবান হননি। এসব প্রতিষ্ঠান তার ব্যক্তিগত লাভের জন্য করা হয়নি বলেও দাবি করেন ড. ইউনূস।

এদিকে প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর থেকেই এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন বিশ্ব নেতারা। গত আগস্টে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬০ নাগরিক ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ চিঠি প্রকাশ করেন। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে শতাধিক নোবেল বিজয়ী ছিলেন। সেসময় তারা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। 

একই সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়া বন্ধের আহ্বান জানায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত সেপ্টেম্বরে ইউনূসের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর পর তাকে ‘‘হয়রানি’’ করা হচ্ছে অভিযোগ করে অবিলম্বে তা বন্ধ করার আহ্বান জানায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি। 

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি, ফ্রান্স২৪ ছাড়াও মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স, কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, হংকং-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দু, হিন্দুস্তান টাইমস, সংযুক্ত আরব আমিরাতের গালফ নিউজ, মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয়েশিয়ান ইনসাইট, পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।



প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭