ইনসাইড হেলথ

তাপপ্রবাহে বাড়ছে অন্তঃসত্ত্বাদের ঝুঁকি


প্রকাশ: 31/05/2024


Thumbnail

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় প্রবল ঝুঁকিতে পড়ছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীরা। উচ্চ তাপপ্রবাহের ফলে অন্তঃসত্ত্বা নারীর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে তা গর্ভজাত শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষকরা বলছেন, অন্তঃসত্ত্বাদের ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা থাকে। এর চেয়ে বেশি তাপপ্রবাহ হলেই ঝুঁকি বাড়তে থাকে। বিশেষ করে পরিবেশের তাপমাত্রা অন্তঃসত্ত্বার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি বা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে পৌঁছলে রক্তপ্রবাহ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তে পারে। এতে গর্ভের শিশুর পুষ্টি অক্সিজেনে ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে গর্ভধারণের পর ১২ সপ্তাহের মধ্যে মায়ের শরীরের তাপমাত্রা ৩৯. ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে শিশুর জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ে। ছাড়া অতিরিক্ত তাপে পানিশূন্যতা কিংবা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা হলে অকাল প্রসবের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের গাইনি অবসের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান শেলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উচ্চ তাপমাত্রা অন্তঃসত্ত্বার শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হলে রক্তের ভারসাম্যহীন প্রবাহ গর্ভের শিশুর পুষ্টি অক্সিজেনে ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে। পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন), হরমোন পরিবর্তনের (প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন অক্সিটোসিন) ভারসাম্যহীনতা অকালে প্রসবের সম্ভাব্য সূত্রপাত ঘটায়। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে অন্তঃসত্ত্বারা ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারেন না। এতে উচ্চ রক্তচাপ বাড়লে খিঁচুনি দেখা দেয়। সেইসঙ্গে ইনফেকশন, পানিশূন্যতা ইত্যাদি সমস্যাও দেখা দেয়। ফলে গর্ভাবস্থায় সন্তানের মৃত্যু হয়। আবার কখনো কখনো পানি ভেঙে গর্ভে প্রিম্যাচিউর শিশুর জন্ম হয়।

২০২০ সালে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে থাকা নারীদের অকাল প্রসব এবং মৃত সন্তান প্রসব হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাপমাত্রায় প্রতি ডিগ্রি বৃদ্ধির জন্য অকাল প্রসবের আশঙ্কা বাড়ে শতাংশ, উচ্চ তাপপ্রবাহের সময় ঝুঁকি বাড়ে ১৬ শতাংশ।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় অন্তঃসত্ত্বাদের ওপর আইসিডিডিআর,বির এক গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চ তাপপ্রবাহের কারণে ওই এলাকায় গর্ভপাতের হার বেশি। ছাড়া খাবার পানিতে লবণাক্ততার কারণে অন্তঃসত্ত্বাদের উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং গর্ভপাতের সংখ্যাও বাড়ে।

দ্য রিস্ক অব মিসক্যারেজ ইজ অ্যাসোসিয়েটেড উইথ অ্যামবিনেট টেম্পারেচার: এভিডেন্স ফর্ম কোস্টাল বাংলাদেশশীর্ষক ওই গবেষণায় চকরিয়া উপজেলার ১৩ হাজার ৩৭৬ বিবাহিত নারীর ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ২০১২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ওই নারীরা সর্বমোট ২৩ হাজার ৪৮২ বার গর্ভধারণ করেন। এর মধ্যে হাজার ৪২২টি গর্ভপাতের ঘটনা ঘটেছে, যা মোট গর্ভধারণের ১১ শতাংশ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু কক্সবাজার নয়, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই বেড়েছে তাপমাত্রা। সেইসঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন অন্তঃসত্ত্বারা। ঢাকায় গত ২৮ এপ্রিল তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস। মে ছিল ৩২ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস। সময়টায় উচ্চ তাপপ্রবাহের কারণে ঢাকা শহরে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অনেকেরই গর্ভপাত হয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ ইউনিটের প্রকল্প ব্যবস্থাপক (কৈশোরকালীন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য) ডা. মনজুর হোসেন বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বার পূর্ণ বিশ্রাম দরকার। দিনের বেলা দুই ঘণ্টা এবং রাতে পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু তাপপ্রবাহ বৃদ্ধির কারণে এবং বিদ্যুৎ না থাকলে অন্তঃসত্ত্বারা বিশ্রাম নিতে পারেন না। এতে তারা মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকেন। হতাশাগ্রস্ত থাকেন। এর প্রভাবে কম ওজনের সন্তান জন্ম হতে পারে। ৩৭ থেকে ৪২ সপ্তাহের মধ্যে সন্তান জন্ম না হয়ে প্রিম্যাচিউর ডেলিভারিও হতে পারে। মায়ের মানসিক দুশ্চিন্তা গর্ভের সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে। তাপমাত্রা জ্বলীয় বাষ্প বাড়লে প্রজনন স্বাস্থ্যের ঝুঁকি, কম ওজনের শিশু, প্রিম্যাচিউর শিশু জন্মের ঝুঁকি বেড়ে যায়।’ 



প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭