এডিটর’স মাইন্ড

ভারতের নির্বাচন থেকে বাংলাদেশ যা শিখতে পারে


প্রকাশ: 07/06/2024


Thumbnail

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সারা বিশ্বে এখন চর্চা হচ্ছে। রোববার টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিবেন নরেন্দ্র মোদী। তবে এবার বিজেপি একক ভাবে সরকার গঠন করতে পারেনি। এনডিএ জোটকে নিয়ে দিল্লির মসনদে বসতে হয়েছে নরেন্দ্র মোদীকে। লোকসভা নির্বাচনে জিতেও হেরেছেন মোদী এবং তার দল বিজেপি। অন্যদিকে এই নির্বাচনে কংগ্রেস এককভাবে পেয়েছে ৯৯ টি আসন। বিজেপির চেয়ে উপমহাদেশের প্রাচীনতম দলটি অনেক পিছিয়ে। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট নির্বাচনে ২৩৪ টি আসন পায়। আসন বিবেচনায় কংগ্রেস নির্বাচনে হেরে গেছে। কিন্তু হেরেও নির্বাচনে জয়ের আনন্দ উপভোগ করছে কংগ্রেস এবং তার মিত্ররা। ভারতে জোট সরকারগুলোর ইতিহাস খুব একটা সুখের নয়। জনগণের কাছে তাদের অঙ্গীকার পূরণের চেয়ে, জোটের শরীকদের মন রক্ষায় তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। কথায় কথায়, উঠতে-বসতে শরীকরা ধমক দেয়। সরকার থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দেয়। তাই রোববার গঠিত এনডিএ জোট সরকার কতদিন টিকবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই নির্বাচনকে সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের অনবদ্য কাব্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভারতের নির্বাচন আসলে জনগণের ক্ষমতায়নের বিজয়, গণতন্ত্রের জয়। এক্সিট পোল, জরীপ, পূর্বানুমানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে ভারতের জনগণ। এই নির্বাচন বিজেপি এবং কংগ্রেসের জন্য শিক্ষা। শুধু কংগ্রেস, বিজেপি না সারা বিশ্বের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এই নির্বাচন একটি শিক্ষণীয় মডেল। ভারত প্রমাণ করলো গণতন্ত্র কেন সেরা শাসন পদ্ধতি। 

বাংলাদেশে ধুঁকতে থাকা গণতন্ত্রের জন্য এই নির্বাচন দৃষ্টান্ত। এই নির্বাচন থেকে অনেক কিছুই পেতে পারে বাংলাদেশের রাজনীতি। এই নির্বাচন বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের জন্য শিক্ষণীয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কথাই ধরা যাক। এই নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেই পারে। ভারতের নির্বাচন অনেক বিষয়েই আওয়ামী লীগের জন্য সতর্কবার্তা এবং অনুপ্রেরণাও বটে। নির্বাচনের আগে বিজেপি কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিল। অতি আত্ম-বিশ্বাসী বিজেপি নেতারা চারশো আসনের আওয়াজ তুলেছিল। কংগ্রেসের মৃত্যু ঘণ্টা বেজে গেছে বলেও কৌতুক করেছিলেন ডাক সাইটে বিজেপি নেতারা। রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী হয়েছিলেন উপহাসের পাত্র। কিন্তু ভোটাররা বিজেপির দর্পচূর্ণ করে দিয়েছে। জনগণ বিজেপির দম্ভের জবাব দিয়েছে ভোটের ব্যালটে। অতি অহংকার যে কোন দলের জন্য ক্ষতিকর। এটা ভারতের নির্বাচনের অন্যতম শিক্ষা। টানা চারবার ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের মধ্যেও অহংকার এবং অতি আত্মবিশ্বাস এখন ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বিজেপির মতো আওয়ামী লীগের নেতারাও বিরোধী দল নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করেন। আওয়ামী লীগের কারো কারো একমাত্র কর্ম সকাল-সন্ধ্যা বিএনপিকে গালমন্দ করা। কিন্তু জনগণ যে এটা পছন্দ করে না, ভারত তার প্রমাণ। ভারতের নির্বাচন থেকে তাই আওয়ামী লীগকে সংযত হবার শিক্ষা নিতে হবে। কাউকে ছোট ভাবার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে অবজ্ঞা করার সংস্কৃতি থেকে আওয়ামী লীগকে সরে আসতেই হবে। 

গত দশ বছর ভারতে চলেছে ‘মোদী ম্যাজিক’। বিজেপি নয়, নরেন্দ্র মোদীর একচ্ছত্র শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভারতে। মোদী একাই তৃতীয়বার বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবে এমন একটা বদ্ধমূল বিশ্বাস ছিলো দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে। কিন্তু তারপরও তারা জোটকে অবহেলা করেনি। জোটের দলগুলোকে উপেক্ষা করেনি। এনডিএ জোটের ছোট ছোট দল গুলোকেও সম্মান দিয়েছে। আত্ম বিশ্বাসী হলেও নিতীশ আর নাইডুকে ইন্ডিয়া জোট থেকে বের করে এনে নিজেদের ছাতার নীচে জায়গা দিয়েছে। যে কারণে সরকার গঠনে কোন রকম ঝুট ঝামেলা হয়নি। আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় এসে, ১৪ দলীয় জোটকে প্রায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। মহাজোট বলতে এখন কিছু নাই। ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ মহাজোটের শরীকদের নিয়েই মন্ত্রীসভা গঠন করেছিল। ২০১৪ সালেও মহাজোট এবং ১৪ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের কাছে ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে জোটে অরুচি শুরু হয় আওয়ামী লীগের। এবছরের নির্বাচনে জোটকেই বিড়ম্বনা মনে করে আওয়ামী লীগ। ১৪ দলকে তো ভিক্ষা দেয়ার মতো কয়েকটি আসন দিয়েছিল। সেখানেও হানা দেয় আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ তার আদর্শিক জোটের গুরুত্ব হয়তো নতুন করে অনুভব করবে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের পর। জোটের প্রতি সম্মান শুধু বিজেপি দেখায় নি, কংগ্রেসও দেখিয়েছে। মূলত: ইন্ডিয়া জোটের কারণেই নতুন জীবন পেয়েছে কংগ্রেস। ভারতের নির্বাচন প্রমাণ করেছে, একক দলীয় রাজনীতির চেয়ে জোটবদ্ধ ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় বন্ধুহীন আওয়ামী লীগ আশা করি, ভারতের পর জোটের গুরুত্ব অনুভব করবে। ছোট ছোট দলগুলোকে কাছে টানবে।

ভারতের নির্বাচনের পর সব থেকে আলোচিত বিষয় ‘মোদী ম্যাজিকের অকার্যকারিতা’। সারা বিশ্বেই আলোচনা হচ্ছে মোদী ম্যাজিক কি শেষ হয়ে গেল? রাজনীতি কোন ম্যাজিক বা আবেগ চিরস্থায়ী না। জনগণের কাছে একটি রাজনৈতিক দলকে জনপ্রিয় হতে হয় কাজ দিয়ে। আওয়ামী লীগের মধ্যে এখন শেখ হাসিনা নির্ভরতা প্রবলভাবে। কংগ্রেস ‘রাহুল গান্ধী’ নির্ভরতা থেকে সরে এসেছে বহু আগেই। এবারের নির্বাচনে বিজেপির ত্রাতা হিসেবে মোদী টনিক কাজে লাগেনি। তাই আওয়ামী লীগকেও শেখ হাসিনা নির্ভরতা থেকে বেরুতে হবে। সংগঠনের ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে। দলে বিভক্তি দূর করে শক্তিশালী করতে হবে। শৃংখলা ফেরাতে হবে।

আমি মনে করি ভারতের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো অসাম্প্রদায়িক চেতনার জয়। কট্টর হিন্দুত্ববাদকে প্রত্যাখান করেছে ভারতের জনগণ। এই নির্বাচনে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের পক্ষে রায় দিয়েছে জনগণ। বাংলাদেশের জনগণও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে হৃদয় থেকে লালন করে। এদেশের মানুষও ধর্ম ভীরু, কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ। ধর্মেও নামে বাড়াবাড়ি ঘৃণা করে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান দল নিঃসন্দেহে বিএনপি। কিন্তু ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি যেন এখন পথ হারা। বিপন্ন মানুষ যেমন বাঁচার জন্য খড়কুটো আঁকড়ে ধরে, ঠিক তেমনি বিএনপি এখন অস্তিত্বের প্রয়োজনে জামায়াত সহ ধর্মান্ধ, মৌলবাদীদের দিকে আবার ঝুঁকছে। কিন্তু ভারতের নির্বাচন বিএনপিকে জানিয়ে দিলো, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জায়গা এই অঞ্চলে নেই। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করতে ধর্ম কার্ড খেলে তাহলে তা তাদের জন্যই হবে বুমেরাং।

এই নির্বাচন থেকে বিএনপি আশাবাদী হতেই পারে। বিশেষ করে কংগ্রেস যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে বিএনপি মনে করতেই পারে সব কিছু শেষ হয়ে যায়নি। আন্দোলন এবং সংগঠন গড়ে তোলার অব্যাহত চেষ্টার ফল কংগ্রেস পেলে বিএনপি কেন পাবে না? অবশ্যই পাবে। কিন্তু সেজন্য বিএনপিকে কংগ্রেসের রাজনীতির কিছু বাঁক বদলকে গভীর ভাবে উপলব্ধি করতে হবে। ২০১৯ সালের নির্বাচনের পর ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন রাহুল গান্ধী। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কংগ্রেস নির্বাচন করে নতুন সভাপতি। এটি কেবল কংগ্রেসের জন্যই ইতিবাচক হয়নি, রাহুল গান্ধীকেও দেয় নতুন জীবন। সাধারণ জনগণ বুঝতে পারেন রাহুল গান্ধী নেতৃত্বের জন্য লালায়িত নন। এতে রাহুল গান্ধী সম্পর্কে ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরী হয়। আমার বিবেচনায় এটা কংগ্রেসের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট। বিএনপির নেতৃত্ব ২০১৪, ২০১৮ এবং এবছরের নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছে। এই তিন নির্বাচনেই বেগম জিয়া এবং তারেক জিয়ার সিদ্ধান্ত ও কৌশল ছিলো ভুল। বিএনপির নেতারাও স্বীকার করেন ২০১৪ তে বিএনপি নির্বাচনে গেলে ভালো করতো। সে সময় প্রধানমন্ত্রী ‘সর্বদলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের’ যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন তা গ্রহণ করলে, বিএনপির রাজনীতির আজ এই হাল হতো না। ২০১৮ সালে তাদের মনোনয়ন বাণিজ্য, জামায়াতকে ২০ আসন দেয়া এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ‘জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট’ গঠন ছিলো আত্মঘাতী রাজনীতি। আর এবছর বিএনপির নির্বাচন বর্জন, তথাকথিত ‘অসহযোগ আন্দোলন বিলাশ’ ছিলো বাস্তবতা বিবর্জিত। একের পর এক ভুল করার পরও বিএনপির নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়নি। বেগম খালেদা জিয়া এখন অকার্যকর। দলের নেতৃত্ব তারেক জিয়ার হাতে। কিন্তু তিনি জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে। কোন ব্যর্থতার দায়িত্ব তিনি নেন না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ তিনি ছাড়েন না। তারেক জিয়া বিদেশে বসে কিভাবে দলের প্রধান নেতা সে প্রশ্ন দেশে-বিদেশে। রাহুল গান্ধীর কাছ থেকে তিনি কি শিক্ষা নেবেন? ব্যর্থতার দায়ভার মাথায় নিয়ে তিনি কি সরে দাঁড়াবেন। বিএনপিকে বাঁচাতে কি রাজনৈতিক নেতৃত্ব সুলভ সাহসী সিদ্ধান্ত নেবেন? নাকি নিজের বিত্ত বৈভবের লোভে তিনি পদ আঁকড়ে থাকবেন। আমরা জানি, লন্ডনে তারেক জিয়া আরাম আয়েশের বিলাসী জীবন কাটান। তার এই রাজকীয় জীবনের অর্থ আসে বিএনপির কল্যাণে। আর একারণেই তিনি পদ ছাড়তে রাজী না। কিন্তু কংগ্রেসের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিলে তিনি উপকৃত হবেন, বিএনপি বাঁচবে। এপ্রসঙ্গে আরেকটি কথা বলা প্রয়োজন। রাহুল গান্ধী গত ১০ বছর নিরলস পরিশ্রম করেছেন। ‘পাপ্পু ভাই’ থেকে তিল তিল করে নিজেকে একজন পরিণত রাজনীতিবীদ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তার ‘ভারত জোড়ো’ পদযাত্রা রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত ১০ বছরে তিনি চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। সামনে থেকে লড়াই করেছেন। রাহুল গান্ধী পালিয়ে থাকেন নি। গ্রেপ্তারের ভয়ে বিদেশে আশ্রয় নেন নি। রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক জন্ম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য শিক্ষা হতে পারে। তারেক জিয়া যদি বিশ্বাস করেন তিনি একজন দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিবাজ নন তাহলে তার সামনে দু’টি পথ। যে দুটি পথ রাহুল গান্ধী দেখিয়েছেন। প্রথম পথ হলো বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি দলের নেতৃত্বে থেকে সরে দাঁড়াবেন। দেশে আছেন এমন কাউকে নেতৃত্ব ছেড়ে দেবেন। দ্বিতীয়ত, নেতৃত্ব রাখতে চাইলে তিনি দেশে আসবেন। মামলা মোকাবেলা করবেন। জেলে যাবেন। সামনে থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন। একজন রাজনীতিবীদ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবেন। তারেক জিয়াকেই প্রমাণ করতে হবে তিনি রাজনীতিতে দুর্নীতির বরপুত্র নন।

ভারতের নির্বাচনে বিরোধী দল ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ এনেছেন। বিজেপি নির্বাচনে ক্ষমতা অপব্যবহার করছে, প্রশাসন, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে বিস্তর অভিযোগ ছিলো বিরোধী পক্ষের। বিরোধী নেতাদের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়েছে, মামলা হয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক আম-আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল নির্বাচনের আগে। এসব নানা অভিযোগের পরও বিরোধী দল নির্বাচনের মাঠ ছাড়েনি। নির্বাচন বর্জন করেনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। মাটি কামড়ে থেকেছে। বাংলাদেশের বিরোধী দল গুলোর জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণের শক্তির উপর আস্থা রাখতে হয়। অন্যায় অত্যাচারের জবাব দেয়ার একমাত্র উপায় হলো ভোট। ভোটে আস্থা না রাখা মানে গণতন্ত্রের উপর আস্থা হারানো। বিএনপি সহ বিরোধী দল গুলো বিগত তিনটি নির্বাচনের মধ্যে দু’টিতেই ভোট বর্জন করে। তারা জনগণের শক্তির উপর আস্থা রাখতে পারেনি। বিশেষ করে এবারের নির্বাচন বর্জন ছিলো বিএনপির গণতন্ত্রের প্রতি অনাস্থা। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ সব প্রভাবশালী দেশ গুলো চেয়েছিল নির্বাচন হোক অংশগ্রহণমূলক। নির্বাচনে যেন কারচুপি, পক্ষপাত এবং অনিয়ম না হয় সেজন্য তারা নানারকম চাপ দিয়েছিল সরকারকে। এবারের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার একটি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ছিলো প্রধানমন্ত্রীর। যেকোন মূল্যে একটি সুন্দর নির্বাচন করার ব্যাপারে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু বিএনপি এবং বিরোধী দল গুলো নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ভারতের নির্বাচনের ফলাফলের পর কি তারা একটুও অনুতপ্ত নন? 

ভারতের নির্বাচন আওয়ামী লীগ বিএনপি সহ সব রাজনৈতিক দলগুলোকে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা দিলো তা হলো গণতন্ত্র। গণতন্ত্র ক্ষমতাসীন এবং বিরোধীদল সম্মিলিত সম্পৃক্ততার ফল। আওয়ামী লীগ একা নির্বাচন করে গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারবে না। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলন করে গণতন্ত্র ফেরাতে পারবেনা। বিরোধী দল হীন গণতন্ত্র অকার্যকর এবং অর্থহীন। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দল দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতি ট্রেড ইউনিয়ন নয়। কথায় কথায় ‘খেলবো না’ বলা কোন রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণই শেষ কথা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ তা চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের দেখিয়ে দিলো। ভারতের নির্বাচন শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের তাবৎ গণতন্ত্রকামী মানুষকে দিয়েছে নতুন আস্থার আলো।

সৈয়দ বোরহান কবীর, নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত
ই-মেইল: poriprekkhit@yahoo.com


প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭