এডিটর’স মাইন্ড

আওয়ামী লীগে সুসময়ের সুবিধাভোগী বনাম দুঃসময়ের যোদ্ধা


প্রকাশ: 14/06/2024


Thumbnail

গত ১১ জুন ছিল আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলায়। শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের প্রধান লক্ষ্য ছিল বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা। বাংলাদেশে একটি চিরস্থায়ী অনির্বাচিত সরকার তা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশকে গণতন্ত্রহীন করা। আর এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্যই সুশীল সমাজের ফ্যাক্টরীতে ‘মাইনাস ফর্মুলা’ আবিষ্কৃত হয়েছিল। ‘মাইনাস ফর্মুলার’ অন্যতম লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া দু’জনকেই রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়া। রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা। রাজনীতি থেকে অপসারিত করার জন্যই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানারকম কাল্পনিক এবং অবাস্তব মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ১৩ জুন ঢাকার গুলশান থানার ইস্টকোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। এই চাঁদাবাজির মামলাতেই ১৬ জুলাই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ প্রায় ১ বছর কারাভোগের পর, সব চক্রান্ত উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ১১ জুন ২০০৮ সালে মুক্তি পান। তার এই মুক্তির দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমেই জগদ্বল পাথরের মতো চেপে থাকা সুশীল একনায়কতন্ত্রের অবসানের পথ তৈরি হয়। এক এগারোর সুশীল নিয়ন্ত্রিত অনির্বাচিত সরকার মানুষের জীবনকে দূর্বিসহ করে তুলেছিল। একদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, অন্যদিকে ঢালাও গ্রেপ্তার, হয়রানির মাধ্যমে এক এগারোর সরকার এক আতংকের রাজত্ব কায়েম করেছিল। শেখ হাসিনার মুক্তির মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নবযাত্রার দিন বলা যায় এটিকে। এই দিনটি তাই আমার বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এবার আওয়ামী লীগ দিনটিকে তেমন গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেনি। সাদা-মাটা ভাবেই পালিত হয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটি। জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় এস.এম কামাল হোসেন সহ দু’একজন শেখ হাসিনার এই কারামুক্তি দিবসকে বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফেনী-১ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী নাসিমও বলেন, দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদেরকে সামনে আনতে হবে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ব্যস এটুকুই। এটি দেখে মনে হলো, এই দিনের গুরুত্ব উপলব্ধির বোধ শক্তি টুকুও আওয়ামী লীগ হারিয়ে ফেলেছে। অথবা, আদর্শ বিবর্জিত ব্যক্তিরাই এখন আওয়ামী লীগের দন্ডমুন্ডের কর্তা। তারা এই দিনের মাহত্ম বুঝতে অক্ষম। 

শেখ হাসিনা তার নিজস্ব মেধা, প্রজ্ঞা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শীতার কারণে এক এগারোর নীল নকশা ভেস্তে দেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তিনিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হন। এর মধ্যে নতুন এক শেখ হাসিনার জন্ম হয়। আজকের শেখ হাসিনার সূচনা এখানেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের ঐ সংকটকালীন সময়ে যারা শেখ হাসিনার পাশে ছিলেন, যারা ‘মাইনাস ফর্মূলা’র বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করেছিলেন, তারা আজ কোথায়? এই প্রশ্নটি আজ আমাদের সামনে বারবার ঘুরে ফিরে আসে। গণতন্ত্র ও বিরাজনীতি করণের সংগ্রামের যোদ্ধারা হারিয়ে গেছে? নাকি দুঃসময়ের যোদ্ধাদের দূরে ঠেলে দেয়া হয়েছে পরিকল্পিত ভাবে।

এক এগারোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল। প্রথমত, যারা শেখ হাসিনার পক্ষে ছিলেন। পক্ষে থাকার কারণে তাদেরকে নির্যাতন এবং কারাভোগ করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ বহু নেতাকে সেসময় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যৌথ জিজ্ঞাসাবাদের নামে চালানো হয়েছিল সীমাহীন নির্যাতন। কেউ কেউ পালিয়ে গিয়েও শেখ হাসিনার পক্ষে লড়াই সংগ্রাম করেছিলেন। যেমন জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মির্জা আজম। আত্ম গোপনে থেকেও তারা কর্মীদের মাঠে রেখেছেন। দ্বিতীয় অংশ হলো, যারা গ্রেপ্তার হননি। তারা তাদের নিজস্ব সাহস এবং বুদ্ধি দীপ্ততার কারণে রাজনীতির মাঠে সরব ছিলেন। এদের অনেকে ‘মাইনাস ফর্মূলা’র বিরুদ্ধে এবং শেখ হাসিনার পক্ষে রাজপথে এবং নানাভাবে লড়াই সংগ্রাম করেছেন। তাদেরকে আমরা বলতে পারি আওয়ামী লীগের মূল ধারার অংশ। আর তৃতীয় অংশ ছিল ছোট, কিন্তু অত্যন্ত প্রভাবশালী। এরা সংস্কারপন্থী ছিলেন, এরা শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিলেন, গণতন্ত্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিলেন। এরাই ‘মাইনাস ফর্মুলা’র সমর্থক। নব্য রাজাকার, একালের মোশতাক।

এক এগারোর রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের যে তিনটি ভাগ তা সব সংকটেই দেখা যায়। প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটেই আওয়ামী লীগ ত্রি-ধারায় বিভক্ত হয়ে যায়। আমরা যদি ১৯৭৫ সারের ১৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখবো সেসময় আওয়ামী লীগ তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল। প্রথম ভাগ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে কারাবরণ করেছিলেন, জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। অনেকেই হত্যা করা হয়েছিল। এ দলের মধ্যে রয়েছেন শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। হাজার হাজার নেতা-কর্মী, যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। আজকে যিনি রাষ্ট্রপতি তিনিও সে সময় বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিলেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগে এরকম নির্যাতিত ব্যক্তির সংখ্যা হাজার হাজার। দ্বিতীয়ত, যারা তাদের অবস্থানগত কারণে কিংবা গুরুত্বহীন বিবেচনায় গ্রেপ্তার হননি কিন্তু এই সময় তারা দলের হাল ধরেছিলেন, এরাই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সংগ্রামে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছিলেন। এদের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ পুনঃগঠিত হয়েছিল। এদের মধ্যে ছিলেন জোহরা তাজউদ্দিন, সাজেদা চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ। আর তৃতীয় ভাগ ছিল যারা বিশ্বাসঘাতক, যারা খুনিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর রক্তের উপর পা দিয়ে বঙ্গভবনে গিয়ে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিল। এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকদের তালিকাও কম বড় নয়। খুনি মোশতাকের সঙ্গে যারা হাত মিলিয়েছিল তাদের তালিকা অনেক দীর্ঘ। আবার কিছু কিছু ব্যক্তি ছিলেন যারা হত্যার প্রতিবাদ না করে খুনিদের সঙ্গে একধরনের সম্পর্ক রেখেছিলেন নিজে বাঁচার জন্য আপোষ করেছিলেন। গা বাঁচিয়ে চলেছিলেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর এরাই সরব হয়ে ওঠেন। আর একারণেই আওয়ামী লীগে নেতৃত্বের মূল্যায়ন করার জন্য সংকটকালীন সময়কে সামনে আনা অত্যন্ত জরুরী। সংকটে সাহসী মানুষরাই যেকোন দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও একথা সত্য যে, আওয়ামী লীগে যারা সংকটে বা দুঃসময়ে যোদ্ধা হিসেবে রাজপথে দাঁড়ায়, আদর্শের প্রশ্নে অটল থাকে, সুসময়ে তারা কিছুই পায় না, অনাহুত হয়। তাদের দূরে ঠেলে দেয়া হয়। সুসময়ে কিছু সুবিধাভোগী বসন্তের কোকিল হয়ে ক্ষমতাকেন্দ্রের চার-পাশে ভীড় করে। তারাই সব মধু চেটে-পুটে খায়। এদের সীমাহীন অপকর্মের কারণে জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরী হয়। শীতের অতিথি পাখিরাই দলকে সংকটে ফেলে। আবার দল যখন অন্ধকারে নিমজ্জ্বিত হয় তখন দুঃসময়ের যোদ্ধারা জেগে ওঠে। এটাই আওয়ামী লীগের নিয়তি, এটাই যেন আওয়ামী লীগের ইতিহাস। সুসময়ের সুবিধাভোগীরা দুঃসময়ে হয় বিশ্বাসঘাতক হয় না হয় পালিয়ে যায়। আর সুসময়ে অপাংক্তেয় মানুষরা দুঃসময়ে সাহসী বীরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। 

এক এগারোর কথাই বিশ্লেষণ দেখি। ১১ জুন শেখ হাসিনার মুক্তির পেছনে অবশ্যই তার অবদান ছিলো সবচেয়ে বেশী। নিজস্ব প্রজ্ঞা, মেধা এবং রাজনৈতিক কৌশলের জন্যই শেখ হাসিনার মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়েছিল এবং রাজনীতিতে গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল। কিন্তু তাঁর সহযোদ্ধা কে ছিলেন, তারা আজ কোথায়? এক এগারোর সময় শেখ হাসিনার পক্ষে যারা লড়াই করেছিলেন তাদের অনেকেই আজ আর নেই। প্রয়াত জিল্লুর রহমান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম চলে গেছেন বহু আগে। এই দু’জন আওয়ামী লীগকে শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ দিয়ে আগলে রাখার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। বেগম মতিয়া চৌধুরীর কথা আমরা সকলেই জানি। এক এগারোর সংকটে বেগম মতিয়া চৌধুরীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা তাকে রাজনীতিতে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বেগম মতিয়া চৌধুরী এখন সংসদের উপনেতা। কিন্তু রাজনীতিতে তিনি এখন গুরুত্বপূর্ণ নন। কোন ভাবেই সরকারের বা দলের নীতি নির্ধারক নন। এক এগারোর সময় যারা শেখ হাসিনাকে আইনী সহায়তা দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যরিস্টার শফিক আহমেদ। তিনি আজ আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূল ধারা থেকেই ছিটকে পড়েছেন। এডভোকেট কামরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন বটে তবে তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ নেতা নন। এডভোকেট সাহারা খাতুন চিরদিনের জন্য বিদায় নিয়েছেন। এক ধরনের দুঃখ বেদনা নিয়েই তাঁর প্রস্থান। আবার এক এগারোতে দুদকের ক্ষমতাবান আইনজীবী, যিনি রাজনীতিবিদদের অপদস্ত করার নেপথ্যের কারিগর, তিনি এখন প্রচন্ড ক্ষমতাবান মন্ত্রী।

সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতির চিকিৎসক দলের প্রধান। তাঁর নেতৃত্বেই শেখ হাসিনার অসুস্থতার কথা চিকিৎসকরা প্রথম বলেছিল। এবং এই অসুস্থতার ইস্যুটি নিয়েই একটি জাগরণ তৈরি হয়েছিল। জনমত চলে গিয়েছিল এক এগারোর সরকারের বিপক্ষে। মোদাচ্ছের আলী এখন আওয়ামী লীগের কেউ নন। ক্ষমতাকেন্দ্রেও তার জায়গা নেই। প্রথম মেয়াদে তাকে উপদেষ্টা করা হয়েছিল বটে তারপর তিনি আর কোথাও নেই। এই চিকিৎসক দলের অন্য সদস্যদেরও খুব একটা মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে মনে হয় না। ঐ সময় শেখ হাসিনাকে চিকিৎসা দিতে অসম্মতি জানানো চিকিৎসকরা এখন কেউ উপাচার্য, কেউ বার বার চুক্তিতে থাকছেন নানা লোভনীয় পদে। এক এগারোর সময় যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, যাদের গ্রেপ্তার করা হয় তাদের মধ্যে দুই একজন ছাড়া খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ কেউ আছেন বলে মনে হয় না। 

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো যারা শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন, যারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন তারাই যেনো ক্রমশঃ ক্ষমতাবান হয়ে উঠছেন। এক এগারোর সময় যারা শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন, যারা বাংলাদেশে ‘সোনিয়া গান্ধী ফর্মুলা’ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন তারা এখন মন্ত্রিসভার সদস্য। এক এগারোর সময় যারা শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার ফর্মুলা দিয়েছিলেন তারাও মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন সময় জায়গা পেয়েছিলেন। এক এগারোর এই ষড়যন্ত্রে যারা হাত মিলিয়েছিলেন তারা কেউ কেউ এখন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যও বটে। 

গত ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই সময়ে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, আওয়ামী লীগ নিজেই যেনো বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করছে। আওয়ামী লীগে এখন মাঠ থেকে আসা রাজনীতিবিদরা উপেক্ষিত এবং অগুরুত্বপূর্ণ। বরং হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসা নব্য রাজনীতিবিদদের ‘আগ্রাসন’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে দলটিতে। এরাই এখন দল এবং সরকারের নীতি নির্ধারক হয়ে উঠেছে। যাদের অতীত রাজনীতিতে কোন অভিজ্ঞতা নেই, যারা রাজপথে কোন আন্দোলন করেনি, যাদের ত্যাগ শিকারের কোন ইতিহাস নেই তারাই এখন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক। আওয়ামী লীগকেই কি তাহলে এখন বিরাজনীতিকরণ করা হচ্ছে? আওয়ামী লীগ এখন অনেকটাই আমলাদের উপর নির্ভর, পুলিশ প্রশাসনের উপর নির্ভর। কতিপয় আমলা, পুলিশ এখন আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চেপে আমলা এবং অন্যরা কি করছে তার এক টুকরো নজীর পাওয়া যায় বেনজীর কান্ডে। বেনজীর আহমেদ যেভাবে লুণ্ঠন করেছেন তাতে বোঝা যায় আওয়ামী লীগকে এই সুবিধাবাদী চক্র কিভাবে ব্যবহার করছে। সামনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। আওয়ামী লীগ ৭৫ বছরে পা দিবে। ৭৫ বছর একটি রাজনৈতিক দলের টিকে থাকা অনবদ্য গৌরবের বিষয়। আর এই কারণেই আওয়ামী লীগকে আজকে তার ইতিহাস অন্মেষণ করতে হবে, শিকড়ের সন্ধান করতে হবে। দুঃসময়ে যারা আওয়ামী লীগের যোদ্ধা তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। সুসময়ের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে দলকে মুক্ত করতে হবে। আওয়ামী লীগ কি তা পারবে? যদি না পারে আগামীর সংকটে, ভবিষ্যতের দুঃসময়ে কেউ ঝুঁকি নিয়ে রুখে দাড়াবে না আদর্শের জন্য। 

সৈয়দ বোরহান কবীর, নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত
ই-মেইল: poriprekkhit@yahoo.com



প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭