ইনসাইড পলিটিক্স

সঙ্কটেই জ্বলে ওঠে আওয়ামী লীগ


প্রকাশ: 20/06/2024


Thumbnail

৭৫ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এই উপমহাদেশে একটি রাজনৈতিক দলের ৭৫ বছর পূর্ণ করা একটি বিরল ঘটনা। এই ৭৫ বছরে আওয়ামী লীগ ক্ষয়িষ্ণু হয়নি, অস্তিত্বের সঙ্কটে ভোগেননি, বরং ক্রমশ যেন আরও উজ্জ্বল এবং দৃপ্ত হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এখন অপরিহার্য একটি নাম। আওয়ামী লীগ গত ৭৫ বছরে বারবার বিভিন্ন সঙ্কট এবং চড়াই উতরাই এর মধ্য দিয়ে গেছে এবং এই প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই আজকের অবস্থানে অটুট রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়া এই রাজনৈতিক দলটি।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল সঙ্কটে এই দলটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বটে, তবে সঙ্কটেই আওয়ামী লীগ বারবার জ্বলে উঠেছে। আওয়ামী লীগকে মনে করা হয় অনেকটা ফিনিক্স পাখির মতো। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে যেন আওয়ামী লীগ নতুন করে গড়ে ওঠে। ১৯৬৬ সালে দফা আন্দোলন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তখন আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিল। আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তখন বাতি জ্বালানোর লোক ছিল না। আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না নিয়েও নানা রকম সন্দেহ সংশয় ছিল। কিন্তু বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর বিচক্ষণতা এবং তরুণদের উদ্দীপ্ত সংগ্রাম এবং মনোবলের কারণে ১৯৬৯ ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিল আওয়ামী লীগ। জাতির পিতাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল আইয়ুব সরকার। আর আওয়ামী লীগ আবার জনগণের বিপুল ভালবাসা এবং সমর্থন নিয়ে সত্তরের নির্বাচনে দেশের একক বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। 

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর অনেকেই মনে করেছিল আওয়ামী লীগ হয়তো কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এবং অস্তিত্ব থাকবে না। আওয়ামী লীগ কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, নেতাকর্মীরা ছিল অসহায়, ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। ঠিক এরকম সময় ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে সভাপতি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে সমস্ত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন এবং সেখান থেকে শুরু হয় আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবনের নতুন গল্প। আওয়ামী লীগ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকেই আবার বিকশিত হয়, উজ্জীবিত হয়, গণমানুষের দলে পরিণত হয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় ক্ষতবিক্ষত হয়ে জাগরিত হওয়া এই রাজনৈতিক দলটি। 

১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় ছিল অবধারিত। সকলে মনে করেছিল, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। তখন অনেকেই আওয়ামী লীগের শেষ দেখেছিল। অনেকে বলেছিল যে, এই দলটি আর টিকবে না। আবার একটি মুসলিম লীগ কবে হবে তা নিয়েও নানারকম জল্পনা কল্পনা ছিল। কিন্তু সেই জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতায় আওয়ামী লীগকে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আনেন। 

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপর্যস্ত হয়। ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েও আওয়ামী লীগ আসন অত্যন্ত কম। তখনও আওয়ামী লীগের শেষ দিকে ছিল অনেকে। অনেকে বলেছিল, এই দলটি আর টিকবে না। আওয়ামী লীগ আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাবে। কিন্তু ২০০১ এর সেই নাটকীয় নির্যাতন নিপীড়নের পরও আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিঃশেষিত করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে অস্তিত্ববিহীন এবং আওয়ামী লীগের শেকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর অলৌকিক ভাবে শেখ হাসিনা বেঁচে যান। ভেস্তে যায় সেই পরিকল্পনাও।

২০০৭ সালেও এক এগারোর সময় মাইনাস ফর্মুলা দেওয়া হয়েছিল। সেই মাইনাস ফর্মুলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্রকেও প্রতিহত করেন শেখ হাসিনা এবং তার বিশ্বস্ত সহচররা। এভাবে প্রতিটি দুর্যোগে, প্রতিটি সঙ্কটে আওয়ামী লীগ বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আর এই ঘুরে দাঁড়ানোটাই যেন আওয়ামী লীগের সৌন্দর্য। সঙ্কট কখনও আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে পারে না। বরং সঙ্কটকে জয় করেই আওয়ামী লীগ আজকের এই অবস্থায় এসেছে।



প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭