ইনসাইড টক

‘এক সফরেই সবকিছুর মীমাংসা হবে না’


প্রকাশ: 22/06/2024


Thumbnail

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের দিল্লি সফর গুরুত্বপূর্ণ হলেও দুদেশের সব অমীমাংসিত বিষয় মীমাংসিত হবে তেমনটি প্রত্যাশা করা সমীচীন নয়।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সফর সূচি বেশ কিছুদিন আগেই নির্ধারিত হয়েছিল। দুই সরকারের তরফ থেকে একটা চাওয়া ছিল যে, দুই দেশেই নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর আবার নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করা যেতে পারে এবং সেই চাওয়া থেকেই এই সফর বলে আমি মনে করি।

দুদিনের ভারত সফরে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এই ভারত সফর নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী এসব কথা বলেন।

আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ঐতিহাসিক ভাবে ভারত আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে একটি অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে এবং বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা তাদের এই অবদানের জন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু তারপরও দুই দেশের মধ্যে যেমন সম্ভাবনা আছে আবার সমস্যাও আছে। তবে এই সমস্যাগুলো এমন নয় যে, আমরা সফল ভাবে সমাধান করতে পারবো না। 

সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক উল্লেখ্য করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামীন্তে যে হত্যাকাণ্ড হচ্ছে সেগুলো একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। বারবার একটা নিয়ে কথা উঠেছে। আমি নিশ্চিত যে, এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার তার ভারত সফরে নতুন সরকার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাছাড়া আমাদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা হল তিস্তা চুক্তি নিয়ে। এছাড়া দু দেশের মধ্যে বাণিজ্যের একটা বিরাট ঘাটতি রয়েছে। আমরা প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম রপ্তানি করি। কিন্তু ভারত থেকে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের অনেক কাজ করার আছে, অনেক সম্ভাবনার ক্ষেত্র আছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের দিল্লি সফর গুরুত্বপূর্ণ হলেও দুদেশের সব অমীমাংসিত বিষয় নিশ্চিয় এবারেই মীমাংসিত হবে না। তবে সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা খোলা মনে আলোচনা করতে পারলে নিশ্চিত এগুলোর খুব ভালো সমাধান আমরা করতে পারবো। 

ভারতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কে কোন প্রভাব রাখবে কিনা জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, চীনের সাথেও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। চীন তারা নানা বহুদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আমাদের সহযোগিতা দিয়ে আসছে। চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের উদ্‌ঘাটন বা সূত্রপাত যাই বলি না কেন সেটা বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাই সূচনা করেছিলেন। যদিও তার আগে চীনের সাথে কিছুটা বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। এখন সেই সম্পর্ক আরও বেড়েছে, আরও মজবুত হয়েছে। চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন একটা খুব শক্তিশালী পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সুতরাং আমি মনে করি না প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর চীনের জন্য কোন প্রভাব ফেলবে। চীন একটি ম্যাচিউর কান্ট্রি। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হল বঙ্গবন্ধুর নীতি, বঙ্গবন্ধু আদর্শ ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’ এটাকে আমরা খুব জোরালো ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। এবং এজন্য একটা বড় কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। 



প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭