এডিটর’স মাইন্ড

দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসগুলোতে যাবে দুদক?


প্রকাশ: 22/06/2024


Thumbnail

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে দুর্নীতি নিয়ে। বিভিন্ন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দুর্নীতির বিভিন্ন কেচ্ছা মানুষকে শিহরিত করেছে। এই সমস্ত দুর্নীতির গল্প সরকারকে অস্বস্তি এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। কোনো কোনো কর্মকর্তার দুর্নীতি এতই বেপরোয়া যে, তা সীমাহীন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। 

গণমাধ্যমে এসব সংবাদ প্রকাশিত হবার পর দুর্নীতি দমন কমিশন নড়েচড়ে বসে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। আর এর ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর কেন দুদক ব্যবস্থা নিচ্ছে? দুদক কেন আগে বিষয়টি দেখে না? এই প্রশ্ন উঠেছে অনেকের মনে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, দুর্নীতি দমন কমিশন নিজেও এই বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিব্রত। আর এ কারণেই নড়েচড়ে বসেছে দুদক। সামনের দিনগুলোতে দুদক বিভিন্ন দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে দুদকের কর্মকর্তারা নিয়মিত যাবেন। কোথাও কোথাও অফিস করবেন বলেও ভাবা হচ্ছে। আর এ বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে খুব শীঘ্রই আলোচিত হবে বলেই জানা গেছে।

সাধারণভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত, সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতেই দুদকের কর্মকর্তাদের নজরদারি বাড়ানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। যেমন- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রকল্প। যে প্রকল্পগুলো সম্পর্কে দুর্নীতির কথাবার্তা শোনা যায়। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন মনে করে ঢালা ভাবে কাউকে দুর্নীতিবাজ বলা ঠিক নয়। সব কিছু যাচাই বাছাই করেই কাউকে অভিযুক্ত করা উচিত। আর এ কারণেই হুটহাট করে যেন কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির গল্প ফাঁদা হয়, কেউ যেন বিনা কারণে ভিক্টিম না হয় সে কারণেও নজরদারি বাড়াচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন। 

দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কমিশনের কাজের পরিধি বেড়েছে‌, কমিশন নজরদারি বাড়িয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত অনুসন্ধানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে যে সমস্ত দুর্নীতিবাজদের নিয়ে এখন কথা উঠছে, সেই সমস্ত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আগেই কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এ রকম প্রশ্নের উত্তরে কমিশন বলছে যে অতীতে কী হয়েছে না হয়েছে সেসব নিয়ে তারা ভাবতে রাজি নয় বরং তারা বর্তমান নিয়ে ভাবতে রাজি। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন ব্যাংকিং খাত, আর্থিক খাত এবং স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোকে নিয়ে কাজ করতে চাইছে। 

উল্লেখ্য, এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছিল। সেখানে দুর্নীতি দমন করার জন্য সহযোগিতা আশ্বাসও দিয়েছিল এবং সুনির্দিষ্ট কিছু রূপ পরিকল্পনাও মন্ত্রণালয়কে দেয়া হয়েছিলো। দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার ড. মোজাম্মেল নিজে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সচিবদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু কোন মন্ত্রনালয়ই। শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজে সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এ কারণেই দুর্নীতি দমন কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন এবং কার্যক্রম নিরীক্ষার উদ্দ্যোগ গ্ৰহণ করেছে বলে জানা গেছে।


প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭