ইনসাইড বাংলাদেশ

কোটাবিরোধী আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য কী?


প্রকাশ: 10/07/2024


Thumbnail

কোটা সংস্কার নিয়ে আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত একটি আদেশ দিয়েছেন। হাইকোর্ট মুক্তিযুদ্ধ কোটা বাতিল করার বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছিল সেই রায়ে স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। ফলে এখন ২০১৮ সালে সরকার সমস্ত কোটা বাতিল করে যে পরিপত্রটি জারি করেছিল তা বহাল থাকবে। কিন্তু কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আজ সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের পরও আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এই আন্দোলন এখন কার স্বার্থে কিসের স্বার্থে, সেই প্রশ্ন বড় করে সামনে এসেছে।

কারণ আদালতে বিষয়টি ইতোমধ্যে মীমাংসার পথে এগোচ্ছে। আদালত জানিয়ে দিয়েছেন যে, চার সপ্তাহ পর অর্থাৎ আগামী ৭ আগস্ট এটির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে এবং তখন এই বিষয়গুলো সুরহা হতে পারে। আদালতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যগুলো আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পারেন। সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি শিক্ষার্থীদেরকে আন্দোলন ছেড়ে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তারপরও আজকে এই কোটা সংস্কারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি কেবল একটি অশুভ ইঙ্গিতই বহন করে না বরং এটি আদালত অবমাননার সামিল।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের একটি পরামর্শ এবং নির্দেশনা সকলের জন্য মানা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নেপথ্যে একটি দুরভিসন্ধি সুস্পষ্টভাবে এর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। কোটা সংস্কারের আন্দোলন যারা করছে তাদের আসল উদ্দেশ্য কোটা নিয়ে একটি সুষ্ঠু সমাধান নয়। তাদের আসল উদ্দেশ্য ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা, দেশে একটি অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। আজকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মসূচির মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়ে গেল।

কারণ এখন দেশে কোনো কোটা নেই। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১৮ সালে কোটা বাতিলের যে পরিপত্রটি তা স্থগিত করা হয়েছে। এখানে সরকার কোনো পক্ষ নয়। কোটা আন্দোলনকারীরা যেমনটি দাবি করছেন যে, তারা এ নিয়ে একটি কমিশন চান, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চান- তাদের ন্যূনতম জ্ঞান থাকা উচিত যে, এই সমস্ত বিষয় তখনই করা যাবে যখন সর্বোচ্চ আদালত একটি ফয়সালা দিবে। কারণ এটি এখন একটি আদালতের বিচারাধীন ব্যাপার। এখানে সংসদ বা শাসন বিভাগের কোনও কর্তৃত্ব নেই।

সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের তিনটি অঙ্গের পৃথক পৃথক মর্যাদা এবং আলাদা আলাদা দায়িত্ব রয়েছে। একটি বিভাগের দায়িত্বে আরেকটি বিভাগ যেন হস্তক্ষেপ না করে সেজন্য সাংবিধানিকভাবে কতগুলো সীমারেখা টেনে দেওয়া হয়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক চেতনা হলো, শাসন বিভাগ তার মতো করে কাজ করবে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সংসদ তার মতো করে কাজ করবে। একটি বিভাগ যদি আরেকটি বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করে তাহলে সেটি অনভিপ্রেত এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও সুশাসনের পথে অন্তরায়।

গায়ের জোরে করে আন্দোলন করে কোন দাবি আদায় করা যায় না, যখন বিষয়টি আদালতে মীমাংসার জন্য অপেক্ষা করছে। যারা কোটা আন্দোলন করছে তারা আদালতে গিয়ে তাদের দাবির পক্ষে যুক্তি এবং কমিশনের কথা বলতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী আপিল বিভাগ সরকারকে নির্দেশনাও দিতে পারে। কিন্তু সেটি না করে জনগণকে জিম্মি করে এই আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য কি সেটা খুঁজে বের করা দরকার সবার আগে।



প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭