ইনসাইড থট

নদী, নৌকা, নারী ও বঙ্গবন্ধু


প্রকাশ: 03/12/2021


Thumbnail

‘ও নদীরে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে

বলো কোথায় তোমার দেশ, তোমার নেই কি চলার শেষ...’

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের এই গানটি বাংলা সঙ্গীতের এক ধ্রুপদী সৃষ্টি। নদীর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অতি নিবিড়। এদেশের মানুষের জীবন-যাপন প্রণালী, অর্থনীতি-সংস্কৃতির উন্নয়ন আবার ক্ষেত্র বিশেষে ধ্বংস, সবকিছুর সাথে রয়েছে নদী। আলোচ্য প্রবন্ধে শিরোনাম দেখে অনেকে চমকিত হতে পারেন যে, নদী, নৌকা, নারীর সাথে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক কোথায় বা এদের মধ্যে অ্যালাইনমেন্ট হলো কী করে?

নদী, নৌকা ও বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের একটি সিম্বল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মানেই হলো নদীর দেশ, যাকে এক কথায় বলা হয় নদীমাতৃক দেশ (riverine country) । সমাস বিশ্লেষণে বলা হয় ‘নদী মাতা যাহার’ অর্থাৎ বাংলাদেশে নদীকে মায়ের মত দেখা হয়, মান্য করা হয়, শ্রদ্ধা পোষণ করা হয়। একটা সময়ে বাংলাদেশে বার’শ-র অধিক নদী ছিল, কমে কমে এখন তা ২০০ এর অধিক দাঁড়িয়েছে যার মধ্যে ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদী, যার ৫২টির উপর ভারত বাধ নির্মাণ করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বাইগর নদীর তীরবর্তী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পড়াশোনা ও রাজনীতি উপলক্ষে গোপালগঞ্জ থেকে মাদারীপুর, ফরিদপুর, খুলনা-বরিশাল-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-চাঁদপুর রাজশাহী-সিরাজগঞ্জ-টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ গিয়েছেন। রাজনীতির প্রচারে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সারা পূর্ব বাংলা চষে বেরিয়েছেন। তাঁর ওই ভ্রমণ পথের বড় অংশ ছিল নদী পথ। মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-কীর্তণখোলা-তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা, ইছামতি, কালি গঙ্গা, তিস্তা, ছোট যমুনা, বড়াল, পুরাতন ব্রহ্মপুত্রসহ অসংখ্য নদী পথে তিনি দিনের পর দিন লঞ্চ, স্টিমার, নৌকা, মহাজনী নৌকা, এক মালাইয়া নৌকা, ছোট কোষায় দিনের পর দিন পার করেছেন। ছোট ডিঙিতে সাদা চাদর বিছিয়ে রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করেছেন। কখনো একা একা একমালাইয়া নৌকার সামনের দিকে বসে মুখে এডিনমোরের তামাক দিয়ে বানানো সিগারেটে টান দিয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে তাঁর জীবন কথা ভেবেছেন, আবার কখনো নৌকায় বসে আব্বাস উদ্দিনের গান শুনে মুগ্ধ হয়েছেন, আব্বাস উদ্দিনের সংগীত মূল্যায়ন করেছেন নিম্নরুপে-‘নদীতে বসে আব্বাস উদ্দিন সাহেবের ভাটিয়ালি গান তার নিজের গলায় না শুনলে জীবনের একটা দিক অপূর্ণ থেকে যেত। তিনি যখন আস্তে আস্তে গান গাইতেছিলেন তখন মনে হচ্ছিল, নদীর ঢেউগুলিও যেন তার গান শুনছে।’

নদীবক্ষে ডাকাতের কবলে পড়লে ডাকাতরা তাঁর নাম শুনে সালাম দিয়ে চলে গেছে। আবার এমন হয়েছে তিনি গোপালগঞ্জ থেকে স্টিমার ঢাকা আসছেন পরিবারের সাথে দেখা করতে, চাঁদপুরে পাশ দিয়ে অন্য স্টিমারে করে বেগম মুজিব গোপালগঞ্জ ছুটে গেছেন, দুটি স্টিমার ক্রস করেছেন কিন্তু নিজেরা তা জানেননি। তাই বাংলাদেশের নদী সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু ভালো করে চেনেন ও জানেন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হবার পর তিনি দেখলেন পঞ্চাশ ও ষাট দশকের নদী আর নেই, গত ২০/২৫ বছরে নদীগুলো যেন শীর্ষ হয়ে যাচ্ছে। ১৯৭২ সালে দেশের দায়িত্ব নিয়ে সাতটি ড্রেজার সংগ্রহ করে শুরু করেন নদীর সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ যা আজও বহাল রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর সাথে নদীর নিবিড় সর্ম্পক নির্ণয় করে কবি ও লেখক অন্নদাশংকর রায় (১৯০৪-২০০২) যে কবিতা লিখেছেন তা আাজও অমর হয়ে আছে-

‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা

গৌরী মেঘনা বহমান

ততকাল রবে কীর্তি তোমার

শেখ মুজিবুর রহমান।...’

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে শ্লোগানটি এ দেশের সকল স্তরের মানুষকে এক করে দিয়েছিল তাও নদীকেন্দ্রিক। সে সময় সকল মানুষের মুখে ছিল একই কথা-‘ তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’। অর্থাৎ যেভাবেই বলি না কেন, নদীর সাথে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

আমেরিকা প্রবাসী লেখক আদনান জিল্লুর মোর্শেদ তার  Bangabandhu and the Bengal Delta প্রবন্ধে নদীর সাথে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক বিশেলষণ করে লিখেছেন-, ‘ Once Bangabandhu recalled his experience of a boat odyssey on the Madhumati river: "the people of this riverine country would never find it difficult to fall asleep on a boat." This simple but profound statement encapsulates his perception of an organic, harmonious bonding of Bengal's people with its riverine character, an existential philosophy that would slowly but steadily lay the foundation of his political philosophy of justice, coexistence, and sacrifice’s (Bangabandhu and the Bengal Delta, Adnan Zillur Morshed, The Daily Star, Mar 20, 2020) 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নদী প্রীতি নিয়ে ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন দারুন এক ছড়া লিখেছেন। ছড়াটি নিম্নরুপ-

‘ কান পেতে শোনো এই বাংলার মাটি বায়ু নদী সরোবর

জপিতেছে নাম করিয়া প্রণাম মুজিবর আহা মুজিবর।’

নৌকা, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা। নদীমাতৃক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাহন নৌকাকে তিনি নির্বাচনী প্রতীকরূপে গ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন থেকে এর ব্যবহার শুরু হয়। নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে নৌকাকে বেছে নেয়ার কারণ হলো জনমানুষের পালস্ তিনি বুঝতেন। সে সময় বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ছিল খুব সাদাসিধে এবং অনাড়ম্বর। অর্থনীতি ও যাতায়াতের প্রধান মাধ্য- বাহক ছিল নৌকা। পেশাজীবীরা নৌকাকে তাই ভক্তি শ্রদ্ধা করে; এসব দিক বিবেচনায় নিয়েই তিনি নৌকাকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক করেন। এর ফল পাওয়া যায় ১৯৫৪ এবং ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ১৯৭০ এর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রদান করে। তারা প্রার্থীকে চিনেন নি, অনেকে তাদের নামও জানতেন না। তারা ভোট দিয়েছেন ‘শেখের বেটা’কে কেউ ‘বঙ্গবন্ধুকে’, আর সকলের প্রতীক হল নৌকা। এসময় প্রার্থীর চেয়ে প্রতীক বড় হয়ে যায়। নৌকার কাণ্ডারী বঙ্গবন্ধু ১৯৬৯ সালে উত্তাল আন্দোলন সৃষ্টি করে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানকে পদত্যাগ হতে বাধ্য করেন, যার মাল্লা ছিল এদেশের আপামর জনগণ। তাই নৌকা থেকে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্ন করার কোন সুযোগ নেই। একবিংশ শতাব্দীর শেষে এসেও এ স্রোতধারা বহমান।

প্রবন্ধের তৃতীয় প্রত্যয় নারী অংশটি চট করে দৃষ্টিকটু বা অন্যরকম মনে হতে পারে; কিন্তু আলোচনার গভীরে প্রবেশ করলে শিরোনামের মর্মার্থ বোঝা যাবে আশা করি। প্রতিজন মানুষ গঠনের পেছনে কারো না কারো অবদান থাকে। কোন মহাপুরুষের জীবনী কাউকে উদ্বুদ্ধ করে, তেমনি আছেন কোন মানুষ যেমন পিতা-মাতা, শিক্ষা বা ধর্ম গুরু বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা জীবন গড়ে দেয়। বঙ্গবন্ধুর জীবন গড়ায়, জীবনে চলায় এবং দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হতে তিনজন নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এরা হলেন তাঁর মা মোসাম্মৎ সাহেরা খাতুন, স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা রেনু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী।

বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রাথমিক ভিত গড়ে দিয়েছেন তাঁর উদারনৈতিক পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা মোসাম্মৎ সায়েরা খাতুন। মোছাম্মৎ সাহেরা খাতুন ছিলেন সন্তান অন্তঃপ্রাণ একজন মহীয়সী নারী। তিনি স্বামী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজনকে আগলে রেখেছেন। আমৃত্যু তাঁর নয়নের মনি খোকাকে তিনি প্রাণাধিক ভালোবাসতেন, স্নেহ করতেন। তিনি খোকার বৈশিষ্ট্য ও মনের কথা জানতেন, তাই স্কুল থেকে ফেরার পথে কাউকে গায়ের চাদর কিংবা ছাতা দান করলেও তিনি এজন্য খোকাকে বকা দেন নি, পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করেছেন। খোকা তার বন্ধুদের বাসায় নিয়ে আসতে পারে ভেবে তিনি বাড়তি ভাত-তরকারি রান্না করে রাখতেন, গরুর দুধ জাল দিয়ে রাখতেন, আত্মীয়-স্বজনকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন, অকাতরে দান করতেন গরিব-দুঃখীদের। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছার পিতা-মাতা শিশুকালে মারা গেলে তিনি তাকে মাতৃস্নেহে পরম মমতায় বড় করেছেন, বঙ্গবন্ধুর যোগ্য সাথীরূপে তৈরি করেছিলেন। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া এ সকল মানবিক গুণাবলি বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনে প্রয়োগ করেছেন। আলোচিত নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছার সাথে ১৯৩৮ সালে মুজিবের যখন বিয়ে হয় বঙ্গবন্ধুর বয়স তখন ১৮ আর রেনুর বয়স মাত্র ০৮ বছর। আরো পরে তারা সংসার শুরু করেন এবং ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট একত্রে শাহাদাত বরণ করেন।

বেগম মুজিব ছিলেন মায়াবী ধরনের একজন মহীয়সী নারী। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি বরং উৎসাহ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যখন কলকাতায় পড়াশোনা ও রাজনীতি করতেন তার জমানো টাকা তুলে দিয়েছেন নির্দ্বিধায়। তিনি গোপালগঞ্জে থাকা অবস্থায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সেবা করতেন। ভারত-পাকিস্তান ভাগের পর ঢাকায় তারা সংসার শুরু করলেও তা রাজনৈতিক কারণে নিরবিচ্ছিন্ন হয়নি। স্বল্প দাম্পত্য জীবনের প্রায় ১১ বছর বঙ্গবন্ধু কারাগারে কাটিয়েছেন। এ সময় পাকিস্তানী শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পাঁচটি সন্তান নিয়ে সংসার চালানো, তাদের লেখাপড়া করানো, বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা, কারাগারে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করেছেন। এ সময় তিনি পার্টি ও বঙ্গবন্ধুর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।


বঙ্গবন্ধুর প্রতি বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদান সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা দুরূহ। তবুও প্রধান অবদানসমূহ হল-

১. বঙ্গবন্ধুকে নিঃশর্তভাবে রাজনীতি করতে দেয়া ও অনুপ্রাণিত করা;

২. সব সময় নিজ তহবিলের জমানো অর্থ বঙ্গবন্ধুকে প্রদান করা;

৩. বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সংসারের হাল ধরা, সন্তানদের পড়ালেখা করিয়ে মানুষ করা;

৪. বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে খাদ্য, ঔষধ ও নানা প্রকার বই সরবরাহ করা; 

৫. পার্টির গোপন খবর বঙ্গবন্ধুকে পৌঁছে দেয়া ও বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ পার্টিকে হস্তান্তর করা;

৬. কারাগারের অলস সময় কাজে লাগিয়ে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ লিখতে বঙ্গবন্ধুকে উৎসাহিত করা। ‘বসেই তো আছো, লেখ তোমার জীবনের কাহিনী’ বলে বঙ্গবন্ধুকে এ কাজে খাতা কলম সরবরাহ করা;

৭. ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলার সময় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেয়ার ব্যাপারে চিরকুট পাঠিয়ে নিষেধ করা। ফলে বঙ্গবন্ধুর নিঃশর্ত মুক্তি পেয়ে ওই বৈঠকে যোগদান করেন।

৮. ১৯৭১ সালে ৭ মার্চের ভাষণের পূর্বে বঙ্গবন্ধুকে সঠিক নির্দেশনা দেয়া- ‘কারো কথা শুনবা না, দেশের বিরুদ্ধে কিছু বলবা না, তোমার মনে যা আসে তাই বলবা।’ বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ এ অলিখিত যে কাব্যিক ভাষণ দেন তা আজ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর মধ্যে অন্যতম ইউনেস্কো যাকে the Memory of the World International Register, a list of world's important documentary heritage ঘোষণা করেছে। 

৯. নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের সময় অসহনীয় মানসিক যাতনা সহ্য করে সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে বেঁচে থাকা, বঙ্গবন্ধুর রক্ত ধারাকে রক্ষা করা;

১০. স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ একজন সাধারণ ও চিরন্তন বাঙালি নারী, স্ত্রী, মা হয়ে সংসার সামলে স্বামীকে সুখী করার চিরন্তন প্রচেষ্টা গ্রহণ করা এবং ‘জীবনে মরণে দোঁহে’ মন্ত্র নিয়ে তাঁর সাথে পরপারে গমন করা ইত্যাদি।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনঘনিষ্ঠ তৃতীয় নারী ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দুজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে ভারত দ্রুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করে। প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পক্ষে কূটনীতিক সমর্থন আদায়- সব কিছুতেই ছিল ইন্দিরা গান্ধীর অসামান্য অবদান। বহির্বিশ্বে মুজিব-ইন্দিরা ভাই-বোন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁরা দুটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হলেও তাদের সম্পর্ক‚কূটনৈতিক সীমারেখা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে পৌঁছে ছিল। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছেন বলেই বাংলাদেশ মাত্র নয় মাসে স্বাধীন হয়েছে এবং স্বাধীনতা লাভের এক মাসের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন বাংলায় পা রেখেছেন। 

বঙ্গবন্ধু একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। তিনি ভালোবাসতেন প্রকৃতি-নদী-বাংলার শস্য শ্যামলরূপ আর সরল জনগণকে। তার বিয়োগান্তক মৃত্যু হলেও তিনি ভাগ্যবান এই অর্থে যে, তিনি অনেক মহান ব্যক্তির স্নেহ-সান্নিধ্য ভালোবাসা পেয়েছেন, তাদের কাছ থেকে অর্জিত মানবিক গুণাবলি তাঁকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বানিয়েছে। কাজেই আবহ বাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ নদী ও নৌকার সাথে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। আর পুরুষের জীবনে নারীর অবদান নিয়ে শ্রেষ্ঠ মন্তব্য করেছেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম যা দিয়ে এ লেখা শেষ করবো। তিনি লিখেছেন-

‘ বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি, চির কল্যাণকর

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’

কাজেই নদী, নৌকা, নারী ও বঙ্গবন্ধু চারটি প্রত্যয়ের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আমাদের সর্বদা অনুপ্রাণিত করে, যা করবে অনন্তকাল। গাজী আজিজুর রহমান তাঁর ‘ বঙ্গবন্ধু’র ভ্রমণ পদচিহ্ন’ প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়ন করে লিখেছেন-, ‘তিনি ছিলেন বাঙালির চলার নদী, নৌকা, ওড়ার আকাশ, ধাবমান মেঘ, বলাকা বসিধ। বাঙালির চলা, চঞ্চলতা, গতিশীলতা, গতিশক্তি ও গতায়তির নাম শেখ মুজিবর রহমান।’


প্রধান সম্পাদকঃ সৈয়দ বোরহান কবীর
ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

বার্তা এবং বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ২/৩ , ব্লক - ডি , লালমাটিয়া , ঢাকা -১২০৭
নিবন্ধিত ঠিকানাঃ বাড়ি# ৪৩ (লেভেল-৫) , রোড#১৬ নতুন (পুরাতন ২৭) , ধানমন্ডি , ঢাকা- ১২০৯
ফোনঃ +৮৮-০২৯১২৩৬৭৭