ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দ. কোরিয়ায় বাংলাদেশী ইপিএস সদস্য সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে সভা

ডেভিড একরাম, সিউল থেকে
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০১৯ সোমবার, ১০:৫৭ এএম
দ. কোরিয়ায় বাংলাদেশী ইপিএস সদস্য সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে সভা

কোরিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় গোপালগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ কোরিয়া (জিএএস কে)-এর আয়োজনে আঠাশে জুলাই আনসান সিটিতে বাংলাদেশী ইপিএস সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির সন্ধানে এক বিশেষ প্যানেল (সেমিনার) অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশী ইপিএস কর্মী, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, সমাজসেবীসহ বিভিন্ন পেশার শত শত লোক উপস্থিত হয়ে বাংলাদশী কর্মী যাতে আরো বেশী আসতে পারে সে বিষয়ে মত বিনিময় করেন। এমন একটা উদ্যোগ সত্যিই প্রয়োজন ছিল বলে সবাই মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে শুরুতে আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জনাব ডেভিড একরাম ওপেনিং স্পীচে বলেন, "বিভিন্ন দেশ থেকে ইপিএস কর্মীরা কোরিয়ায় এসে অধিকাংশ কোম্পানী ইতিমধ্যে দখল করে ফেলেছেন। এমতাবস্থায় আর বসে থাকা যায় না। সকলকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানিয়ে বাংলাদেশী ইপিএস কর্মীদের সংখ্যা গরিষ্ঠতায় এগিয়ে যেতে আহ্বান করেন।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন পাওয়া পয়েন্ট প্রদর্শনের মাধ্যমে প্যানেল ডিসকাশনের সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্যানেল ডিসকাশনের প্রথম পর্বে ছিল সমস্যা অনুসন্ধান করা, কি কি কারনে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের চেয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠতায় পিছিয়ে আছে তা অনুসন্ধান করা। ২য় পর্বে ছিল সমস্যা সমূহ সমাধানের উপায় বা পদক্ষেপ কি হওয়া উচিত তা খূঁজে বের করা এবং ৩য় পর্বে ছিল, পদক্ষেপ গুলো কি ভাবে ফলপ্রসূ ভাবে কার্যকর করা যাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে যাওয়া।
কারণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বিভিন্ন সমস্যার কথা, যেমনঃ কিছু বাংলাদেশী ইপিএস কর্মী আছে যাদের সাথে কোরিয়ান মালিকেরা কাজ করতে কমফোর্ট ফিল করেন না, বাংলাদেশী ইপিএস কর্মীদের
আত্মসন্তুষ্টির অভাব, যতপায় আরো ততো চায়, কোরিয়ান খাবারে অভ্যস্থ না থাকা, বাংলাদেশী ইপিএস কর্মীরা ছোট খাটো ত্যাগ দিতে জানেনা, নিজের স্বার্থ ছাড়া বোঝে না, ব্যক্তিত্বের উন্নয়ন দরকার, মানসিকতা পরিবর্তন প্রয়োজন, একের বিরুদ্ধে অন্যে কোরিয়ান মালিকদের কাছে অভিযোগ পেশ করা, কোরিয়ান মালিকদের বিশ্বাস অর্জনে ব্যর্থ হওয়া, অনেক সময় কোরিয়ান মালিকেরা বাংলাদেশী ইপিএস কর্মী নিয়োগ দেওয়ায় কাজের সময় ঝামেলা পোহাতে হয়, কোম্পানী পরিবর্তন করা, কোম্পানী পরিবর্তন করার জন্য মিথ্যা অসুস্থতার ভান করা, পরিচ্ছন্নতার অভাব, কাজের দক্ষতা ও সহকর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্কের অভাব, নিজেদের মধ্যে গোন্ডগোল করা প্রভৃতি অভিমত ব্যক্ত করেন সিনিয়র ইপিএস সদস্য রবিউল ইসলাম, এমডি ডালিম, এমডি রাকিবুল আলম, মনোজ সুভাকর, রাকিবুল, সুমি, আমিনুল মোগল, মাসুদ, শেখ রিপন, শেখ ওমর, মিজান, খন্দকার রুবেল, জালাল আহমেদ,নাজমুল হাসান, শাহিন, মাইনুর সুলতানসহ আরো অনেকে।
বাংলাদেশী ইপিএস মহিলা সদস্য ইশরাত জাহান এমা বলেন, কোরিয়ান কালচারের সাথে বাংগালী মেয়েদের খাপ খাওয়াতে কষ্ট হয়। বাংলাদেশী মহিলা কর্মীরা যদি নিজের কালচার নিজেরা রেখে কোরিয়ান কালচারের সাথে মিনিমাইস করতে পারে তবে কোরিয়াতে বাংলাদেশী মহিলা কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ দুতাবাসের লেবার উয়িংসের সদস্য শেখ নিজামূল হক বলেন, মামলা মকদ্দমার কারণে কোরিয়ান মালিকেরা অনেক সময় খুব ঝামেলায় পড়ে যান, কোরিয়ান মালিকেরা সব সময় খুব ব্যস্ত থাকেন। থানা পুলিশ করার সময় তাঁদের থাকেনা। অনেকে নিজেদের কালচাল প্রতিষ্ঠা করতে বা ডরমিটরিতে রান্না করার ব্যবস্থা না থাকলেও রান্না করতে চায় যেটা কোরিয়ান মালিকদের জন্য একটা বাড়তি বার্ডেন হয়ে দাড়ায়।

বিশেষ অতিথি মকিমা বেগম প্রথম সচিব (শ্রম) বাংলাদেশী ইপিএস কর্মীদের কর্ম দক্ষতাসহ বিভিন্ন গুনাগুনের কথা উল্লেখ করে বলেন তাঁরা যদি আরো একটু পরিচ্ছন্নতা, রাখেন, চুক্তির মেয়াদপূ্র্ণ করে, তুচ্ছ বিষয়ে একে অপরের অভিযোগ তথা মালিকদের বিরুদ্ধে শ্রম মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ না করে তবে কোরিয়ান মালিকদের সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব।
জনাব আব্দুল মতিন, জনাব রফিকুল ইসলাম ভূট্টো ও মুন্সী রফিকুল ইসলাম ব্যবসা প্রতিনিধি হিসাবে পানেল ডিসকাশন যোগদান করে কোরিয়ান মালিকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, বিশেষ পরিস্থিতিতে ধৈর্য্য ধারন করা, সর্বদা ভালো সার্ভিস দেওয়া, আচরণে সত্যিকার দেশ প্রেম প্রকাশ করা, কাজে কোরিয়ানদের চেয়ে বেশী দক্ষতা অর্জন করার পরামর্শ দেন।

প্রধান অতিথি ও প্যানেল প্রধান মান্যবর রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম গোপালগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ কোরিয়া(জিএএসকে)কে সময় উপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল ডিসকাশনের আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকের আলোচনায় যে সমস্যাগুলো উঠে এসেছে, তা যদি আমরা পরিহার করতে না পারি, শুধরাতে না পারি তবে ইপিএস পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত অন্য পনেরোটা দেশের সাথে আমরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বো, কোরিয়ান কোম্পানী কিন্তু খালি থাকবে না, অন্য দেশের কর্মী এসে সেখানে ভরে যাবে। অতিরিক্ত প্রত্যাশা না করে, যে কোম্পানীতে প্রথম এসেছেন সেটাতে যদি পুরো সময় থাকেন তাতেই বেশী লাভবান হবেন এবং বাংলাদেশে রেমিটেন্স বেশী যাবে। বাংলাদেশী সকল ইপিএস কর্মীকে তাদের মালিকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পরামর্শ দেন।

প্যানেল ডিসকাশনটি পরিচালনা করেন অর্গানাইজ সংগঠনের সভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন, সঞ্চালনায় ছিলেন এমডি নাজমুল হুদা, পিএইচডি।
অনুষ্ঠান শেষে সুস্বাধু দেশী খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনায় ছিলেন ইয়াসিন, সামাদ, সজল, নাসিম, শামীম রুবেল চৌধুরী, রকিব, রুবেল খন্দকার, রিপন, রাসেল ও আরেফিন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতা করেন কোরিয়ার বিখ্যাত রেমিটেন্স কম্পানি জি মানি ট্রান্স।