ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সিডনিতে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর ২০২০ রবিবার, ০৪:১৩ পিএম
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সিডনিতে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

কেবলমাত্র একটি ভূখণ্ড এবং পতাকার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করি নি। ভৌগলিক স্বাধীনতার পাশাপাশি বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। অনেক মূল্য দিয়ে এই স্বাধীনতাকে পেয়েছি।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত আটটায় সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন,  যুগ যুগ ধরে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে একটি গোষ্ঠী বাঙালির অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে চেয়েছে। তাদের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা করে তিনি এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দেবার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক-অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচকে দেশ এখনঅনেক এগিয়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।

উক্ত আলোচনা সভার শুরুতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পচাত্তরের ১৫ আগস্টে নিহত তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদ এবং নির্যাতিতা- আত্মদানকারী ৪ লক্ষ মা-বোনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়। এছাড়াও দেশে-বিদেশে বসবাসকারী সকল বাঙালিকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বানিজ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশি বলেন, এবারে মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরপূর্তির প্রাক্কালে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে বিজয় দিবস এসেছে। এই সময়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য্যে আঘাত হেনে ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীস্বাধীনতার চেতনার উপরেই আঘাত হেনেছে। তারা কুষ্টিয়ায় বাঘা যতীনের ভাস্কর্য্য ভাঙচুর করেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনারনেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকেই এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই বিজয়ের মাসেই তার বড় ভাইকে পাক হানাদার বাহিনীরা ধরেনিয়ে গিয়ে হত্যা করে। ভাইয়ের লাশটিও পরে তারা আর খুঁজে পান নি। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশপ্রত্যাবর্তনের দিনে প্রদত্ত বক্তৃতার উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়েযেতে পারেন নি। জাতির পিতার সেই অসমাপ্ত কাজটিই দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা।

উক্ত আলোচনা সভায় ফেসবুকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে কর্মরত জামাত-শিবিরের এজেন্টদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশ সরকারকেপ্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান সবাই।

আলোচনা সভার শেষে জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়, এবং সবাই দাঁড়িয়ে সন্মান প্রদর্শন করেন। 

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. খায়রুল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবংসাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বানিজ্য মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশি এমপি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ওবাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নাসিম সামাদ, এমদাদ হক, শফিকুল আলম, দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. লুৎফর রহমান রূপন, সুইডেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফরহাদ আলী খান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান খান, ফয়সাল মতিন, অনুপ কুমার মণ্ডল, শেখ মশিউর রহমান হৃদয়, ডেভিড বালা, মোহাম্মদ মুনির হোসেন, আইভি রহমান, ওসমান গনি, অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান শামীম, আলী আশরাফ হিমেল, সহ আরো অনেকেই।