ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আমাদের নাম্বার ওয়ান ইস্যু রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২১ সোমবার, ০৩:১৬ পিএম
আমাদের নাম্বার ওয়ান ইস্যু রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা অবস্থার আলোকে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে একটি আলোচনা হবে। সেখানে আমরা বাংলাদেশের অবস্থান উপস্থাপন করবো। আমাদের অবস্থান হচ্ছে, যতশীঘ্রই এই ১১ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবর্তন। এটি হচ্ছে আমাদের নাম্বার ওয়ান ইস্যু।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু ও এলডিসি ফিফ্থ কনফারেন্স আলোকে জাতিসংঘে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্যে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। রোববার (১৩ জুন) বিকেলে নিউইয়র্কে জেএফকে এয়ারপোর্টে পৌঁছালে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার কর্মকর্তারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। 
 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন উল্লেখ করেন, ‘বার্মায় সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনেকে দেশটিতে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা নিয়ে বেশী চিন্তিত। তবে আমরা সরব থাকবো, যুক্তির অবতারণা করবো, গণতন্ত্র হউক আর যাই হউক, আমাদের নাম্বার ওয়ান ইস্যু হচ্ছে এই যে, ১১ লাখ রোহিঙ্গা বড় কষ্টে আছে, তাদের ছেলে-মেয়েদের বিশেষ কোন ভবিষ্যত নাই। অন্তত: এদের কারণেই যেন সকলকে ফেরৎ নেয়া হয়-এ ব্যাপারে জোরালো আহবান রাখবো বিশ্ব ফোরামে। জাতিসংঘে এটি একটি বড় ইভেন্ট। আরেকটি ইভেন্ট হচ্ছে এলডিসির সামিট। আমি এর আগের ফোর্থ সামিটে অংশ নিয়েছিলাম। তখন আমরা এলডিসির চেয়ারপার্সন ছিলাম দু’বার। আমরা ইস্তাম্বুল প্রোগ্রাম অব এ্যাকশন করেছিলাম। সে সময় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সামনের বছর ২৩-২৭ জানুয়ারিতে কাতারের দোহায় ফিফ্থ কনফারেন্সের প্রস্তুতি মিটিং হচ্ছে ১৮ জুন। সেখানে আমরা কী কী অর্জন করতে চাই তা নিয়ে বিশদ আলোচনা-পর্যালোচনা হবে। বাংলাদেশের জন্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এজন্যে যে, ২০২৪ সালে আমরা এলডিসি থেকে বের হয়ে যাবো। ইতিমধ্যেই সিপিবি রিকমেন্ট করেছে যে, আমরা এলডিসি থেকে যত বেনিফিট পেতাম তা ২০২৬ সাল নাগাদ অব্যাহত থাকবে। তবে আমরা দাবি উঠাবো যে, করোনার কারণে শুধু ২০২৬ সাল নয়, আরো অধিক সময় যেন সে সব সুবিধা বহাল রাখা হয়। এটি কতটা ফলপ্রসূ হবে জানি না, তবে আমরা জোরালোভাবে যুক্তিসমূহ তোলে ধরবো।’

তিনি বলেন, করোনার টিকা নিয়ে কূটনীতিতে বাংলাদেশ কী সফল হতে পারছে না-এমন প্রশ্নে পরিপ্রেক্ষিতে ড. মোমেন গণমাধ্যমকে অবহিত করেন, ‘করোনার শুরুতে সারাবিশ্বে ভয়ংকর একটি পরিস্থিতি দেখা দিলেও, বাংলাদেশ খুব দক্ষতার সাথে তা হ্যান্ডেল করেছে। ভালোভাবে তা ম্যানেজ করার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেক ছিল। এখন দ্বিতীয় ধাক্কা এসেছে। আমরা টিকার জন্যে যাদের সাথে চুক্তি করেছিলাম, কিন্তু তারা (ভারত) খুবই সমস্যায় পড়েছে। নিজের দেশে সমস্যা প্রকট হওয়ায় চুক্তি অনুযায়ী টিকা দিতে পারছে না। এজন্যে একটু ঝামেলা হয়েছে বাংলাদেশে। তাছাড়া, কোভেক্স থেকে আমরা যে টিকা পাবার কথা, সেটিও দিতে পাচ্ছে না, কারণ, যারা সে টিকা প্রডিউস করে তারা ইন্ডিয়ান একটি কোম্পানী, সিরাম। তবে আরো কটি প্রতিষ্ঠান টিকা তৈরী করছে। আশা করছি শিগগিরই কিছু কিছু পাবো। এমন একটি ঝামেলা দূর করার অভিপ্রায়ে সম্প্রতি আমরা চীন এবং রাশিয়ার সাথে মোটামুটি ফাইনাল পর্যায়ে পৌঁছেছি। এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের সমস্যা আর থাকবে না। আর আমেরিকা প্রায়ই আমাদেরকে বলে যে তারা অনেক অনেক ভ্যাকসিন দেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই দেয়নি। আমরা সেদিকে তাকিয়েও আছি। আশা করছি আমেরিকা ভ্যাকসিন প্রদানের যে অঙ্গিকার করেছে, তা খুব দ্রুত দিলে আমরা খুবই উপকৃত হবো।’

যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশিষ্ট নাগরিক নিজ উদ্যোগে করোনার টিকা নিয়ে যাচ্ছে বলে যে সংবাদ ঢাকার একটি টিভিতে পরিবেশন করা হয়েছে তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত কেউ যদি উদ্যোগ নেন, সেটি আই ডোন্ট নো।’

মন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘যখোন আমরা শুনতে পেলাম যে, হোয়াইট হাউজ মনে করে যে, বাংলাদেশ টিকা পাবার উপযুক্ত না। কারণ আমেরিকার মোট জনসংখ্যার অর্ধেক হলো বাংলাদেশের জনসংখ্যা। আমেরিকায় করোনায় সে সময় পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। কিন্তু বাংলাদেশে তখন মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ হাজার। এজন্যে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) মনে করেছেন যে, বাংলাদেশে ততটা সংকট নেই মহামারির। এজন্যে যেসব দেশে করোনায় বেশী মানুষের মৃত্যু হয়েছে সেগুলোর একটি লিস্ট করেছিল। সেখানে আমরা নাই। সে সময় আমরা কিছু প্রবাসীকে ফোন-টোন করেছিলাম এ নিয়ে দেন-দরবারের জন্য। আপনারা জেনে খুশী হবেন যে, ১৬৫৪ জন প্রবাসী বাঙালি, এরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অন্যান্য প্রফেশনাল, তারা একটি পিটিশন দেন হোয়াইট হাউজে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউজের দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। কারণ, আমরা হোয়াইট হাউজকে অবহিত করেছি যে, বাংলাদেশের প্রায় ১৫ লাখ লোক প্রথম ডোজ নিয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ পাচ্ছেন না। টিকা নেই বলে। অন্তত: কোর্স সম্পন্নের স্বার্থে যেন যুক্তরাষ্ট্র ঐ পরিমাণের টিকা দেয়।’

এদিকে, জেএফকে এয়ারপোর্টে কাতার এয়ারলাইন্সে অবতরণের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা। নেতৃবৃন্দের মধ্যে এয়ারপোর্টে আরো ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ কর্মকর্তারা, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়াসহ কর্মকর্তাগণ।