ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঘরে ও মসজিদে ঈদের নামায আদায়ের নিয়ম 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৭:৫৯ পিএম
ঘরে ও মসজিদে ঈদের নামায আদায়ের নিয়ম 

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ। বছরে দু`টি ঈদ উদযাপন করে মুমিন মুসলমান। ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের নামাজ বছরে দুবার পড়ার কারণে অনেকেই নামাজ পড়ার নিয়ম ভুলে যান। সে কারণেই মুমিন মুসলমানের জন্য ঈদের নামাজের নিয়ম জেনে নেয়া জরুরি।

ঈদের নামাজ উন্মুক্ত স্থানে আদায় করা সুন্নাত। যদি উন্মুক্ত স্থানের ব্যবস্থা না থাকে তবে মসজিদেও ঈদের নামাজ পড়া যাবে। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে মশজিদে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রো রয়েছে বেশ কিছু বিধি নিষেধ। তাছাড়া করোনা সংক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে, ভিড়ের মধ্যে নামায আদায় করতে না যেতে পারলে ঘরেও ঈদের নামায আদায় করা যাবে। তবে ঘরে নামায আদায়ের শর্ত রয়েছে। শর্ত হচ্ছে ইমাম ছাড়া কমপক্ষে তিন জন বয়স্ক পুরুষ থাকতে হবে। বড় ঘরের বৈঠক খানায় অথবা বাড়ির ছাদে বা উঠানে অথবা যে কোনো খোলা জায়গায় ইদের নামাজ আদায় করা যাবে। 

হযরত আনাস রা. একবার ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি, তো তিনি বাড়ির সবাইকে একত্র করে তার গোলামকে ঈদের নামাজের ইমামতি করতে বললেন।  (বুখারী শরীফ ১/১৩৪)

*ঈদের নামাজের নিয়ত

ঈদের দুই রাকাআত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি... আল্লাহু আকবার।

*ঈদের নামাজ আদায়ের নিয়ম

ঈদের নামাজ দু রাকাত, যাতে আযান ইকামত নেই। ঈদের নামাজের কিরাত প্রকাশ্যে পড়তে হয়। ঈদের নামাজ আদায় পদ্ধতি হলো নিম্নরূপ:

১. প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরিমা, ছানা পাঠ, আউযুবিল্লাহ পাঠ ও কিরাত পড়ার পর তিন তাকবীর দেবে।

২. আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ার পর সূরা ফাতিহা পড়ে এর সাথে অন্য একটি সূরা মিলাবে। সুন্নত হলো সূরা ফাতিহার পর সূরা আল আ-লা পড়া। আর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল গাশিয়া পড়া। অথবা প্রথম রাকাতে সূরা ক্বাফ পড়া ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল কামার পড়া।

৩. দ্বিতীয় রাকাতে কিরাত পড়া শেষে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে অতিরিক্ত তিন তাকবীর দেবে। প্রতি তাকবীরের সাথে হাত উঠাবে।

৪. সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করার পর ইমাম মিম্বারে উঠবে। দুটি খুতবা দেবে। এ দুটির মাঝে সামান্য সময়ের জন্য বসবে। প্রথম খুতবা নয় তাকবীরের সাথে শুরু করবে। আর দ্বিতীয় খুতবা সাত তাকবীরের সাথে শুরু করবে।

৬. ঈদুল ফিতরে মুস্তাহাব হলো মানুষদেরকে সদকায়ে ফিতর সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয়া। আর ঈদুল আযহায় কুরবানীর হুকুম আহকাম বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়া।

উল্লেখ্য, অতিরিক্ত তাকবিরের ক্ষেত্রে অন্যান্য মাজহাবসহ অনেকেই প্রথম রাকাআতে তাকবিরে তাহরিমাসহ ৭ তাকবির আর দ্বিতীয় রাকাআতে ৫ তাকবিরে দিয়ে থাকেন। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

খুতবা
ঈদের নামাজ পড়ার পর ইমাম খুতবা দেবে আর মুসল্লিরা খুতবা মনোযোগের সঙ্গে শুনবে। অবশ্য অনেকেই খুতবা না দেয়ার ব্যাপারে শিথিলতার কথা বলেছেন। খুতবা না দিলেও ঈদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে বলে মত দিয়েছেন।

*নারীদের ঈদের নামাজ

নারীদের বেলায় ঈদের নামাজে করণীয় কী? তারা কি ঈদগাহে যেতে পারবে বা ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবে? নারীদের ঈদের নামাজ আদায়ের হুকুমই বা কী?
হ্যাঁ, মুসলিম নারীরা ঈদগাহে যেতে পারবে, ঈদের নামাজ পড়া এবং দোয়াতে অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম এমনটিই নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে-

হযরত উম্মে আতিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে এ মর্মে আদেশ করেছেন, আমরা যেন মহিলাদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাতে নামাজের জন্য বের হয় এবং নামাজে অংশগ্রহণ করেন। পরিণত বয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহবাসিনীসহ সবাই। তবে ঋতুবতী মেয়েরা নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকবে তবে কল্যাণ ও মুসলিমদের দোয়ায় অংশ নিবে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমাদের মাঝে কারো কারো ওড়না নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে তার অন্য বোন থেকে ওড়না নিয়ে পরিধান করবে।` (মুসলিম)

তবে নারীদের ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়, বরং তা সুন্নাত। কেউ কেউ বলেছেন নারীদের ঈদের নামাজ পড়া নফল ইবাদত।

নারীরা নিজেরা বাড়িতে নামাজ পড়তে পারেন। তবে অবশ্যই জামাতের সহিত পড়তে হবে। নারীদের যেহেতু পুরুষের সঙ্গে ঈদগাহে গিয়ে নামাজ আদায়ের নিয়ম রয়েছে সুতরাং এটা পরিষ্কার যে নারীদের ঈদের নামাজ পুরুষের নামাজের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। হোক সেটা বাড়িতে কিংবা ঈদগাহে, নিয়ম একই।