ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রবীন্দ্র-নজরুল গবেষক রিজভীকে নিয়ে রসিকতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৯:০২ পিএম
রবীন্দ্র-নজরুল গবেষক রিজভীকে নিয়ে রসিকতা!

লোক হাসানো বক্তব্যের জন্য নিজ দল ও দলের বাইরে পরিচিত  বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ রুহুল কবির রিজভী। তিনি যেমন দিনের পর দিন কার্যালয়ে বাস করাটা তাঁর বাৎসরিক রুটিনে পরিণত করেছেন ঠিক তেমনই লোক হাসানো বক্তব্য দেওয়াও একটা রুটিন কাজ। নির্বাচনের আগে অন্য নেতাকর্মীরা যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছে রিজভী তাঁর স্বভাবসুলভ নিজেকে বিএনপি কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রাখছেন আর সেখান থেকে লোক হাসানো ‘ভাড়ামো’ বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

আর দিবেনই বা না কেনো? তারও তো বিনোদনের দরকার আছে, কিন্তু কে তাকে বিনোদন দিবে? দিনের পর দিন কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকেন। মাঝখানে গুঞ্জন ছিল কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন বিএনপি কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন। সেখানে তারসঙ্গে হাস্যরসে অনেকটা সময় কাটে রিজভীর। এখন বাস্তবতা ভিন্ন। অনেক সময়ই নিজ দলের লোকজন মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে যাচ্ছে। আর দলের ভেতরের কোন্দল তো আছেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মতন, ‘বড়ই চ্যালেঞ্জিং টাইম’ পার করছেন! এরকম চ্যালেঞ্জ অবশ্য তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। গত কয়েকবছরে ডাল-ভাতের মত দিয়ে হুংকার দিয়ে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। ভোরের আলো ফোটার আগেই জনা পাচেক লোক নিয়ে ‘বিশাল মিছিল’ করে কার্যালয়ে ঢুকে গেছেন।

এত এত চ্যালেঞ্জের মাঝে রিজভী এখন নজরুল এবং রবীন্দ্র গবেষণায় মনোনিবেশ করেছেন। নজরুল-রবীন্দ্র গবেষক না হলে তিনি কীভাবে বলেন, ‘অনেকে রসিকতা করে বলেন যে, নজরুল এবং রবীন্দ্রনাথ বিএনপি করতেন। কারণ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তিনি একটি উপন্যাস লিখেছিলেন ‘নৌকা ডুবি’ আর কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি, তিনি কবিতা লিখেছিলেন,‘ আমরা শক্তি, আমরা বল, আমরা ছাত্রদল।` তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কথাটা উঠে এসেছে জাতীয় কবির হাত দিয়ে। আর ‘নৌকা ডুবি’ উপন্যাসটা লিখেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অতএব বাঙালির এই কীর্তিমান দুই শ্রেষ্ঠ পুরুষ তাদের হাত দিয়ে আগেই আওয়ামী বিরোধী চিন্তা ফুটে উঠেছিল। যদিও এটা রসিকতা করে বলা হয়, তবুও কিন্তু এখানে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়।’

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর এরকম বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসির হিড়িক পরে গেছে। কেউ কেউ তাকে পাগল এবং মানসিক ভারসাম্যহীন বলছে। আবার কেউ বলছেন, ‘এই মহান আবিষ্কারের জন্য রিজভী সাহেবকে নোবেল প্রাইজ দেয়া হোক !!! একটা দলের নীতি নির্ধারনী লেবেলে এমন ফাউল লোকগুলো যখন থাকে তখন সেই দলের অবস্থটা কী হতে পারে তা সহজেই বোধগম্য।‘

রাশিদুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তি লিখেছেন, ‘আমার বাড়ী পাবনা,এখানে পাগলা গারদে ছিট পাওয়া খুব মুশকিল। তবে এই নয়া পাগল যদি আসতে চায়। সেক্ষেত্রে আমরা পাবনা বাসি চেস্টা করে একটা সিটের ব্যাবস্থা করে দেব। দেশরত্ন শেখ হাসিনার দেশে শুধু আমজনতা না, পাগলের ও সমান অধিকার সেটা প্রমান করব।‘

মোহন পাটওয়ারী নামে একজন লিখেছেন, ‘পুরাতন পাগলে ভাত পায় নতুন পাগলের আমদানী।। একজন ছাএকে গরুর রচনা লিখতে বললে সে প্রথমে লিখে...গরু একটি গৃহপালিত পশু।। আর সে ছাত্রকে রিজভীকে নিয়ে রচনা লিখতে দিলে সেও লিখবে... রিজভী একজন গৃহপালিত নেতা সেজন্য অকারণে বকবক করে।‘

বক্তৃতাকালে তাঁর মুখে হাসি ছিল। সেই হাসিরও ভর্তসনা করেছেন অনেকে।

নাহিদ আলম নামে একজন লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণায় বড় বড় তারকাদের ব্যবহার করছে। বিএনপি কেনো পিছিয়ে থাকবে? তাইতো কার্যালয়ে অবরুদ্ধ বিএনপির গৃহপালিত নেতা রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল গবেষণায় মনোযোগ দিয়েছেন। পারলে তাদেরকেও বিএনপির প্রচারণায় নামিয়ে দেন! এরও একটা সমাধান আছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রিজভীর মতই মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য ১০০ বছর আগে লিখেছেন, ‘বায়ু পরিবর্তন আবশ্যক’। রিজভীর আসলেই বায়ু পরিবর্তন আবশ্যক।‘

উল্লেখ্য, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নৌকাডুবি লিখেছিলেন ১৯০৬ সালে। আর  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাটি সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে।

রিজভীর বক্তব্যের ভিডিওটি নিচে দেওয়া হলো-

 



বাংলা ইনসাইডার/এসআর