ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কারা মুজিবের হত্যাকারী?- চতুর্থ পর্ব

এ, এল, খতিব
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৮:০০ এএম
কারা মুজিবের হত্যাকারী?- চতুর্থ পর্ব

পারিবারিক ব্যাপার
ফারুক একজন হেমলেট নয় যে বিশ্বাস করে তার জন্মই হয়েছে ‘সব কিছুই সঠিকভাবে করার জন্যে’ সে ছিল ঠান্ডা এবং হিসেবী। তার কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছে যে, তার আইকিউ (উপস্থিত বুদ্ধি) অসাধারণ উঁচু। হিটলারেরও আইকিউ (উপস্থিত বুদ্ধি) ছিল অসাধারণ উঁচু।

ফারুক বলেছে, সে তার ব্যক্তিগত ইচ্ছায় নয় বরং রশীদের পরামর্শনুসারেই মোশতাককে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছে। নিশ্চিতভাবে বলা যায় মুজিবকে হত্যা করে অন্য যে কাউকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার জন্য সে অনুতপ্ত নয়। তার দৃষ্টি ছিল রাষ্ট্রপতির পদে।

যখন সে শিশু ছিল তখন একজন আত্মীয় উৎসাহ দেয়ার সময় ফারুককে ‘ভ্রমর’ বলে ডেকেছিল। ডাকনামটা তার ভালমত যুতসই হয়েছিল এবং তা তাকে আত্মগরিমায় স্বতন্ত রেখেছিল।

তার চূড়ান্ত পর্যায়েও ‘আমি’ খুব বেশী উচ্চারিত হয়ঃ ‘আমি অভ্যুত্থান পরিচালনা করেছি---আমি মুজিবকে হত্যার আদেশ দিয়েছি, আমি মুজিবের মৃত্যুর আদেশ দিয়েছি....রশীদ তার চূড়ান্ত পর্যায়েও উচ্ছ্বাসহীন থাকে, কিন্তু সেও শুধু নিজের কথাই বলে। ফারুক কিংবা রশীদ কেউই ‘আমরা’ ব্যবহার না করলেও তারা দু’জনই মুজিব হত্যার ছক এঁকেছিল। ডালিম যখন ঘোষণা করে মুজিব সরকারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তখন সে গর্ব ভরে নিজের নাম ঘোষণা করে। রশীদ মুজিবকে গুলী করতে ব্যর্থ হওয়ায় হুদাকে নগণ্য ভাবে। হুদা ফারুকের ট্যাংকের উপর  বসে আদেশ দেয়ার দাবীকে উপহাস করে। অভ্যুত্থানের এক সপ্তাহের মধ্যেই তাদে রমতদ্বৈততা দেখা দেয়, তাদের মধ্যে আগে বা পরে বিরোধ দানা বাঁধা অবশ্যম্ভাবী।

১৯৭৪ সালের গ্রীস্মকাল থেকে ফারুক এবং রশীদ মুজিবকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল। তারা ছিল ভায়রা ভাই এবং ঢাকা সেনানিবাসে পাশাপাশি বাড়ীতে বাস করত। তারা মিলিত হবার অবাধ সুযোগ পায় এবং এক বছর যাবৎ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মুজিব হত্যার ছক আঁকে।

ফারুক ও রশীদ তাদের নারকীয় পরিকল্পনা সম্পাদন করার ব্যাপারে আস্থাশীল ছিল। তারা ছিল উচ্চাভিলাসী তরুণ এবং বলপূর্বক ক্ষমতা দখল করার পক্ষপাতী কিন্তু তারা ছিল চতুর এবং অবিলম্বে তারা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিক হবে এটা তারা ভালভাবেই জানত।

তাদের একজন প্রথম সারির ব্যক্তির প্রয়োজন পড়ল। রশীদ বলেছে তার পছন্দ ছিল মুবি সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী মোশতাক। মোশতাক যেতার মামা এই সত্যটা সে চেপে যায়।

ফারুক তার ভায়রার পরামর্শে মোশতাককে প্রথম সারির ব্যক্তি বানাতে সম্মতি জানায়।

এটা ছিল একটা পারিবারিক সম্পর্ক

তারুণ্যের প্রতীক রশীদ দাবী করেছে যে, সে মোশাতাককে অভ্যুত্থানের বড়জোর দু’সপ্তাহ আগে পরিকল্পনায় এনেছিল। কে কাকে এনেছে?

মোশতাক মুজিবকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছিল, কিন্তু সে অতি কাপুরুষোচিতভাবে তার কাজ করল। তার সাহসের অভাবের জন্য সে ছলনার আশ্রয় নিল। ফারুক ও রশীদ বিচক্ষণ হলেও তারা মোশতাকের মতো ফন্দিবাজের সমক্ষক ছিল না।

ষড়যন্ত্রকারীদের বেশী পছন্দনীয় ছিল কয়েকজন উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের দিয়ই অভ্যুত্থান সংঘটিত করার ব্যাপারে। কিন্তু উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যন্ত্রের মতো আচরণ করবে মোশতাক বিশ্বাস করেনি। যদি অভ্যুত্থান সফল হয় তবে কর্মকর্তারা তাকেও হটিয়ে দিত। কিন্তু রশীদ ও ফারুকের সাথে লেনদেন অত্যন্ত সহজ। সে রশীদকে এমনভাবে মাথায় বুদ্ধি দিল যাতে করে রশীদ ভাবে যে তারা মোশতাকের খুব আপন।

হয়তোবা একারণে ডালিম মুজিব সরকারকে উৎখাতের ঘোষণা দেয়ার সময় গর্বের সাথে নিজের পরিচয় দিয়েছিল। এতে বাংলাদেশের বাইরের অনেকেই প্রথমে বিশ্বাস করেছিল যে, সম্ভবত ডালিমই অভ্যুত্থান সংঘটিত করেছে।

কলকাতার সাংবাদিকরা যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংবাদ প্রেরণ করেছে এবং পরবর্তীতে ঢাকা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে-তাদের এই ভুলটা করা উচিত হয়নি। তবুও ১৫ আগষ্টের রক্তাক্ত অধ্যায়ের একমাস পরেও কলকাতার কিছুকিছু সাংবাদিকদের কল্পনাপ্রসূত গল্প এক পর্যায়ে যা এই অভ্যুত্থানটিকে প্রায় সম্মানের পথে নিয়ে গিয়েীছল-তারা ( যেসব সাংবাদিকরা) প্রত্যেকেই হয় নিন্দনীয়ভাবে নতুবা অসৎ বিপদগামী। কিন্তু তাদেরকে জ্ঞানী মনে করার ফলশ্রুতিতে হয়তোবা তাদের এই খবরগুলো অনেক ক্ষেত্রে গৃহীত হয়।

অলীক কাহিনী সত্য হিসেবে গৃহীত হলে এটি খুব ক্ষতিকর হতে পারে। সাংবাদিকদের কিছু কিছু মনগড়া গল।প ১৯৭৫ সালে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীকালে বিচারের পথে অনেক মেঘের সৃষ্টি কলে। হয়তোবা এসব গল্পগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই তৈরী করা হয়েছিল।

কলকাতার ‘সানডে’ পত্রিকা ১৯৭৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম পাতায় তার বাড়ীর লনে তোলা ডালিম এবং তার ‘সুশ্রী স্ত্রী’ তাসনিমের ছবিসহ প্রচ্ছদ কাহিনী প্রকাশ করে। তাসনিম তেমন সুন্দরী ছিল না বলে প্রতিবেদক বলেন, কিন্তু তার চেহারাই মনে হয় ১৫ আগষ্টের ভোরের সংঘটিত অভ্যুত্থানের ট্যাংকগুলিকে অগ্রসর হতে উদ্দীপনা যুগিয়েছিল। তাসনিম মুজিবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গাজী গোলাম মোস্তাফার ছেলেদের হাতে তার বিয়ের অনুষ্ঠানে অপমানিত হয়। গল্পটি এগিয়ে চলল। বিচার চেয়ে ডালিম এবং তার স্ত্রী তাসনিম বন্ধুবান্ধব পরিবেষ্টিত হয়ে শেখের বাড়ীতে যায় সেখানে যেতে গাজী এবং তার ছেলেরা অস্বীকার করে, এর পূর্বে তারা গাজীর বাড়ী তছনছ করেনি। মুজিব গাজীদের কীর্তির জন্য রাগ করলেন, কিন্তু এব্যাপারে কিছুই করেন না। মেজর ডালিম বেরিয়ে এসে ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিজ্ঞা করে। সেই প্রতিজ্ঞা পরে বাস্তবে রূপ নিল।

এই লেখনীতে ডালিমের জন্য লেখকের সহানুভুতি এবং প্রশংসা স্পষ্ট ফুটে ওঠে। নিশ্চিতবাবে বর ও কনে তাদের বিয়ের রাতে মুজিবের বাড়ীতে যেতে পারে না।

ডালিম ও তাসনিমের বিয়ে হয়েছিল ১৯৭৪ সালে নয় ১৯৭১ সালে। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় সে আহত হয়েছিল। এ কারণে এটি তাকে যুদ্ধ হতে দূরে রাখে, কিন্তু কলকাতায় কর্মরত একজন বাঙালী কূটনীতিকের মেয়ে তাসনিমকে জয় করার সময় দেয়।

সানডে পত্রিকায় এঘটনার বিবরণ এভাবে দেয়া হয় যে, ডালিমের বোনের বিয়েতে গাজী গোলাম মোস্তফার এক ছেলে উচ্ছৃংখল আচরণ  করে। সে ডালিমের বোনকে উত্যক্ত করে। যার জন্য ডালিম তাকে চড় মারে।

গাজী ডালিমকে মুজিবের বাড়ীতে নিয়ে যায়, তখন তাসনিমও তার স্বামীর সাথে ছিল।

সবসময় বিরোধ নিস্পত্তিকারী মুজিব-গাজী এবং ডালিমের হাত মিলিয়ে দিলেন ও বিরোধ দুর করে খুশী হলেন এবং উপস্থিত সবাইকে মিষ্টি খেতে দিলেন।

তখন মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে।

কিন্তু ব্যাপারটা এখানেই শেস হলো না।

কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা গাজীর নয়া পল্টনের বাড়ী আক্রমণ করে তছনছ করে এবং হুমকি দেয় যে ডালিমের কিছু হলে শহরে রক্ত বয়ে যাবে। অনেকে বলেন, ডালিম নিজেই ট্রাকে করে গাজীর বাড়ীতে সৈন্য এনেছিল, কিন্তু তার বন্ধুরা কি করেছেতার জন্য  সে দায়ী নয় বলে দাবী করে। সে বলে, গাজী আমাকে জোর করে নিয়ে যায়। তাই আমি কিভাবে এটি করতে পারি?

 সেনাবাহিনীর জেনারেল হেড কোয়ার্টার (জিএইচ কিউ) গাজীর বাড়েিত তছনছের ঘটনা তদন্ত করে এবং এর সাথে যেসব কর্মকর্তা জড়িত ছিল তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশ দেয়। কারণ শৃংখলাই সেনাবাহিনীর আইন। যেসব কর্মকর্তা নিজে হাতে আইন তুরে নিয়েছে তাদের বিনা শাস্তিতে যেতে দেয়া যায় না।

মুজিবের কয়েকজন বন্ধু এই চাকরিচ্যুতি থামানোর জন্য মুজিবের কাছে অনুরোধ করেন, কিন্তু এব্যাপারে মুজিব ছিলেন অটল। তিনি বলেন, “এটা সেনাবাহিনীর সদর দফতরের সিদ্ধান্ত”।

ডালিম, তার স্ত্রী তাসনিম, শাশুড়ী হেনা মুজিবের বাড়ীতে ঘনগন যাতায়াত করত এমকি ডালিম চাকরি থেকে অপসারিত হবার পরেও।

তাসনিমের মা স্বাধীনতার পর পুনরায় পড়াশুনা আরম্ভ করে। সে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের একজন ছাত্রী ছিল। শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা সকলেই তাকে তার বয়সের কারণে তাকে হেনা ভাবী বলে ডাকতে পছন্দ করতেন। সে ছিল বেগম মুজিব এবং হাসিনা দু’জনেরই বান্ধবী। মুজিবের বাড়ীতে সে ঘন্টার পর ঘন্টাকাটাতো।

ডালিম তার মায়ের সাথে থাকতো। সে যখন বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন তার মা মারা যায়। তার মৃত্যু তার জন্যে ছিল শোকাবহ, এবং একটি যুবতী মেয়েকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে নিয়ে আসায় সে তার পিতার সাথে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রেখেছিল।

ডালিম বেগম মুজিবকে বলত, “আমি যখন বালক ছিলাম তখন আমি মাকে হারিয়েছিল। এখন আপনিই আমার মা।” সে বাঙালীর প্রথানুযায়ী বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে বেগম মুজিবের পা ছুঁয়ে শ্রদ্ধা দেখতো।

সে তার অনেক নিজস্ব সমস্যা নিয়ে বেগম মুজিবের কাছে আসত। তার কোন সন্তান ছিল না এটিই ছিল তার চিন্তার বিষয়। বেগম মুজিব তাকে সান্তনা দিয়ে বলতেন, “দুই বা তিনবছর হয়েছে তুমি বিয়ে করেছ। তোমার সন্তান হবে।” আশ্বাস নিশ্চিত না হওয়ায় একসময় তিনি ( বেগম মুজিব) একজন চিকিৎসকের নাম করে তার সাথে তাকে এবং তার স্ত্রীকে আলোচনা করতে পরামর্শ দিলেন।

আপাত: দৃষ্টিতে মনে হয় ডালিম বেগম মুজিবের প্রতি অনুগত ছিল।

সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অপসারণের পর ডালিম যখন ব্যবসা শুরু করে মুজিব তখন তাকে সাহায্য করেন। মুজিব এবং ডালিম দু’জনই মাঝে মাঝে এক সাথে মুড়ি খেতেন। যা ছিল দু’জনেরই প্রিয় খাদ্য। ডালিম অনুভব পোষণ করতো যে তার সাথে চরম ভুল করা হয়েছে।

খুব স্পষ্টভাষী রেহানা একদিন ডালিমকে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন, কখন আপনি আমার বাবার নানা ধরনের বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করবেন, আপনি কেন আমাদের বাসায় আসেন? হেনা তার জামাতাকে র্ভৎসনা করে বলে “ তোমার দায়িত্বহীন কিচু বলা উচিত নয়।”

ডালিম রেহানাকে বলে “যখন সময় আসবে তখন তুমি জানতে পারবে কারা তোমাদের বন্ধু।”

ডালিম কয়েকদিন মুজিবের বাড়ী থেকে দূরে রইল।

যদি ডালিম বিয়ে অনুষ্ঠানের রাতেই ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে প্রতিশোধ নিয়ে চেয়েছিল তবে কেন সে গাজী গোলাম মোস্তফাকে ক্ষমা করল? ডালিম তার কয়েকজন বন্ধুকে বলেছে,“তাকে হত্যা করে আমি আমার হাত নোংরা করতে চাইনি।”

গাজী গোলাম মোস্তফা ছিলেন অজনপ্রিয় এবং সবসময় যে কোন বিপদ ঘটিয়ে নিজের চামড়া বাঁচানোর জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতেন। ডালিমের হাতে ছিল এর চেয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডালিমকে যারা খুব ঘনিষ্ঠবাবে জানত তাদের মধ্যে একজন পরামর্শ দিয়েছিল যে, সে মুজিবের ভেতর তার পিতার বিকল্প দেখতে, যাকে সে একসময় হত্যা করতে চেয়েছিল। ডালিমের ভেতর প্রচন্ড প্রতিহিংসা ছিল এবং অনেক সময় সে বিবেকহীন মানুষের মতো আচরণ করতো। তার এক বন্ধুর সাথে যখন একটি মেয়ে প্রতারণা করে তখন সে মেয়েটির হোষ্টেলে যায় এবং শুধু সে মেয়েকেই নয়, তার বন্ধুদেরও হত্যার হুমকি দেয়।

তা সত্ত্বেও মুজিব হত্যা ছিল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সতর্ক পরিকল্পনার অংশ এবং সম্মানের কোন বিষয় নয় কিংবা একটি মনস্তাত্ত্বিক নাটকও ছিল না।

মুজিব ও তার পরিবারের হত্যাকান্ডের পর তাসনিম কিছু দিনের জন্য বিকৃত মস্তিস্কের মতো আচরণ করে। সবাই হত্যার মানসিকতায় থাকা মেজরদের না রাগানোর জন্য সতর্ক ছিলেন। কিন্তু তাসনিম কোন আমলেই দিল না; বরং মেজরদের দেখলেই সে থুথু ফেলত।

 বেশ বড়মাপের চোরাচালান হচ্ছিল এবং কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিও এর সাথে জড়িত ছিল। চোরাচালান দমনে সরকারী কঠোর প্রচেষ্টা ছিল অকার্যকর। ১৯৭৪ সালে সশস্ত্র বাহিনীকে চোরাচালান দমন করার জন্য সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এটি ছিল সাংঘাতিক রাজনৈতিক ভুল। 
সরকার এর মাধ্যমে এই অনুভূতি সৃষ্টি করে যে, বেসামরিক প্রশাসন যেখানে ব্যর্থ হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী সেখানে সফল হবে।’ স্বাধীনতার এক বচর পর ১৯৭২ সালের শেষ দিকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা তাদের প্রভাব রাখতে শুরু করে।

১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রদত্ত ভোটের ৭২ শতাংশ ভোট পায়। কিন্তু ঢাকা সেনানিবাসে প্রদত্ত ভোট হয় এর ঠিক বিপরীত।

সূত্র : কারা মুজিবের হত্যাকারী? লেখক- এ,এল, খতিব, পৃষ্ঠা ৪৮-৫১