ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বঙ্গবন্ধুর শেষ দিন

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২১ শনিবার, ০৮:০০ এএম
বঙ্গবন্ধুর শেষ দিন

১৫ই আগস্ট ভোররাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড এটি। এই হত্যাকাণ্ডের আগের দিনটি ছিলো জাতির পিতার একটি কর্মব্যস্ত দিন। পরদিন তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার কথা ছিলো। এ নিয়ে তার ব্যস্ততা ছিলো। সারাদিন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে গণভবনে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সন্ধ্যায় ছিলো একটি বিদায় অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ফরাসউদ্দিন আহমেদের বিদায় অনুষ্ঠান ছিলো এটি। ফরাসউদ্দিন আহমেদ উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। এজন্যই তিনি রাষ্ট্রপতি একান্ত সচিবের পদ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। এই বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতির পিতা। সেখানে নৈশভোজের ব্যবস্থা ছিলো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সবসময় ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়ে খেতে পছন্দ করতেন। এজন্য তিনি আর ওই নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেননি। গণভবন থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আসেন তোফায়েল আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে। তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে পরদিনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা বলেন। তোফায়েল আহমেদ ৩২ নম্বরের বাড়িতে তাকে বিদায় দেন। বঙ্গবন্ধু তাকে ভোর বেলা চলে আসতে বলেন এবং তার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বলেন।

এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলো সাজ সাজ রব। বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলো একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। গভীর রাত পর্যন্ত শেখ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরদিনের সমাবর্তনে তদারকি করেছিলেন। তদারকি করে তিনি শুধুমাত্র কাপড় বদল করতে বাড়িতে যান এবং সেই যাওয়াটিই তাঁর শেষ যাওয়া ছিলো। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের ভোরবেলা যে নারকীয়তা শুরু হয়েছিল সেই নারকীয়তায় প্রথম নিহত হন শেখ কামাল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ জানুয়ারি বাকশাল গঠন করেন এবং জুনে তিনি গভর্নরকে নিয়োগ দেন। বাকশাল নিয়ে বঙ্গবন্ধুর এক কর্মব্যস্ত সময় যাচ্ছিল পুরো জুন, জুলাই, আগস্ট মাস নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক নব যাত্রার সূচনা করেছিল সেই সময়। আর এ কারণে বঙ্গবন্ধু দিনরাত একাকার করে দিয়েছিলেন। বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয় কাজ করতেন, পরিশ্রম করছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায় যে, বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৪ সালে এবং ১৯৭৫ সালে দুবার ভারতের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল, বাংলাদেশে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের শঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এগুলো আমলে নেননি। তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন এ দেশের মানুষ তাকে কখনো হত্যা করতে পারে না। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টে কিছু মানুষরূপী দানবের বিশ্বাসঘাতকতা বঙ্গবন্ধুর সেই বিশ্বাসকে ভেঙ্গে দেয়।