ঢাকা, রোববার, ২০ মে ২০১৮ , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

টাইগার কোচ: পাইবাস নাকি সিমন্স?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৪:০৬ পিএম
টাইগার কোচ: পাইবাস নাকি সিমন্স?

ক্রিকেটের ২২ গজের লড়াইয়ে উড়তে থাকা বাংলাদেশ দলের হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটে। আর এই পতন এতটাই প্রবল ছিল যে দাঁড়াতেই পারছে না টাইগাররা। দলের ব্যর্থতার জন্য বাজে পারফরম্যান্সের সঙ্গে প্রধান কোচের অভাবকেই মূল নিয়ামক ভাবছেন সবাই। ত্রিদেশীয় ও টেস্ট সিরিজে শোচনীয় হারের পর এবার টনক নড়েছে বোর্ডের।

টানা দুটি সিরিজে ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে দলের জন্য একজন হেড কোচের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে ক্রিকেট বোর্ড। দলের নাজুক অবস্থায় তাই আনঅফিসিয়াল সভায় বসেন ক্রিকেট অপারেশনস চেয়ারম্যান আকরাম খান সহ বেশ কয়েকজন বোর্ড কর্তা। ক্রিকেটারদের জন্য দ্রুতই একজন হেড কোচ এবং ব্যাটিং কোচ নিয়োগ দিতে চায় বোর্ড।

কিন্তু ঘুরে ফিরে সেই একই প্রশ্ন চলে আসে। টাইগার কোচের পদটি অলংকৃত করবেন কে? বিদায়ী কোচের উত্তরসূরি খুঁজতে পরিচালনা পর্ষদের সভায় বেশ কজন হাইপ্রোফাইল কোচের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। রিচার্ড পাইবাস, ফিল সিমন্স, জিওফ মার্শ, গ্যারি কার্স্টেন এবং নিল ম্যাকেঞ্জির মতো নামীদামী অনেকেই ছিলেন সেই তালিকায়। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে এখনও উপযুক্ত কাউকে বেছে নিতে পারেনি বোর্ড।

রিচার্ড পাইবাস ও ফিল সিমন্স গত ডিসেম্বরে বিসিবিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে গেছেন। পাওয়ার পয়েন্টে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে নিজেদের উপস্থাপনা দেখিয়েছিলেন বোর্ড কর্তাদের। বিসিবি তখন জানায় টাইগারদের কোচ নিয়গে তাড়াহুড়ো করবেনা বিসিবি। কিন্তু সেই তাড়াহুড়ো না করতে গিয়ে কখন যে বেলা গড়িয়ে গেছে খেয়াল করেনি কেউ।

যখন হুঁশ ফিরল ততক্ষণে দুই দুইটি ট্রফি চলে গিয়েছে লঙ্কানদের দখলে। অন্যদিকে, পাইবাস আর সিমন্স নিজেদের রুটি রুজির প্রশ্নে নেমে পড়েছে অন্য ধান্ধায়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে আফগানিস্তানের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন সিমন্স। তাঁর অধীনে আফগানদের অবস্থা বর্তমান বাংলাদেশের থেকে ভালো! 

সিমন্সের দেখা দেখি পাইবাসও যোগ দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের হাইপারফরম্যান্স পরিচালক হিসেব। সেখানে আরও বড় দায়িত্ব তাঁর। নির্বাচক-কোচদের সঙ্গে ক্যারিবীয়দের সব পর্যায়ের ক্রিকেট নিয়ে কাজ করবেন পাইবাস। চন্ডিকার পর বাংলাদেশের কোচ হবার দৌড়ে পাইবাসই ছিলেন সবচেয়ে এগিয়ে। যদিও তখন সিনিয়র খেলোয়াড়দের আপত্তির মুখে পাইবাসের বিকল্প চিন্তা শুরু করে বিসিবি। 

পাইবাস ও সিমন্স হাতছাড়া হওয়ার পর সম্ভাব্য কোচ হিসেবে গ্যারি কারস্টেনের নামও উচ্চারিত হচ্ছে জোরেশোরে। আর ব্যাটিং কোচ হিসেবে ম্যাকেঞ্জি-বেভানের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সময় গড়ালেও কাজের কাজ করতে পারেনি বিসিবি।

বিসিবি সূত্র থেকে জানা গেছে, মার্চে শ্রীলঙ্কার মাটিতে তিন জাতির টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে হেড কোচ বা ব্যাটিং কোচ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই এতদিন বর্তমান কোচিং স্টাফদের উপরই ভরসা করতে হবে সাকিব-তামিমদের। এমন অবস্থায় কে এবং কবে এই দুটি প্রশ্নেই ঘুরপাক খাচ্ছে জাতি। তবে অপেক্ষার প্রহর যে আরও দীর্ঘ হবেনা সেটাও নিশ্চিত করতে পারছেনা বিসিবি।  


বাংলা ইনসাইডার/আরকে/ডিআর