ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আর কতো সুযোগ পাবে সাব্বির-তাসকিন?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৮:৫৯ এএম
আর কতো সুযোগ পাবে সাব্বির-তাসকিন?

আমাদের দেশের ক্রিকেটীয় রীতিতে জয় উদযাপন করতে গিয়ে ম্যাচের ভুলত্রুটি বিশেষ করে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা গুলো আমরা বেমালুম ভুলে যাই। ম্যাচ জিতলেও তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে সব ভুল-ত্রুটি ভুলে জাওয়ার সুযোগ নেই। বিজয়ের ডামাডোলে ভুল গুলো আর সংশোধন হয় না, থেকে যায় অন্তরালেই। ফলে খেলার মাঠে জয় ধরা দিলেও সেটা স্থায়ী হয় না।

ধারাবাহিকতা আসেনা জয়ের ধারায়। তাই এখনই সময় জয়ের মিছিল করার পাশাপাশি ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার ময়না তদন্ত করা।

এক্ষেত্রে প্রথমেই কাঠগড়ায় উঠবেন ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান এবং পেসার তাসকিন আহামেদ। গোটা দল যেদিন জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে পারফরম্যন্স করছেন তখনও এই দুইজন একেবারে নির্বিকার। যেন শুধু খেলার জন্যই খেলে যাচ্ছেন। জাতীয় দলে সাব্বিরের মনোযোগ কতোটুকু সেই প্রশ্ন তুলেছেন ক্রিকেটাররাই। একই সাথে তাসকিন কোন বিবেচনায় জাতীয় দলে সেটা নিয়েও চলছে সমালোচনার ঝড়।

দেশের ক্রিকেটের জন্য একটা সময় সাব্বির রহমানের কাছে অনেক কিছুই প্রত্যাশা ছিল দেশের মানুষের। এখন সেই সাব্বির ক্রিকেটের প্রতি কতোটা মনোযোগী সে প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে গত ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার রান আউটের ধরণ দেখে এই প্রশ্ন আরও জোড়াল হয়। গত ১০ ম্যাচে ১৭২ রান পাওয়া সাব্বিরের নেই কোনো অর্ধশতক। সর্বোচ্চ খেলেছেন ৪৮ রানের ইনিংস। গড় মোটে ১৭.২০ আর স্ট্রাইক রেট ১১৭.৮০। চার ছক্কাও মারতে পারেননি খুব বেশি। এক বছরে ১২টি চার আর ৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন একসময়ের দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান। তবে কি ব্যক্তিজীবনের নানান বিতর্কিত বিষয়ে জড়ানোর প্রভাব পড়ছে মাঠের পারফরম্যান্সে?

আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ, ঘরের মাঠে লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন সিরিজ হারের পথে পেসারদের নির্বিষ বোলিংয়ের পর নতুন করে তাকে নিয়ে পরিকল্পনা এঁটেছিল ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচেই এই পেসার বুঝিয়ে দিয়েছেন সেই আশার গুড়ে বালি। গত এক বছরে টি-২০ খেলেছেন ৬টি। উইকেট সংখ্যা মাত্র তিনটি। এই ছয় ম্যাচে মাত্র ১৭.৫ ওভার বল করে ৩ উইকেট নিতে এই পেসার খরচ করেছেন পাক্কা ২০০ রান। তাঁর ইকোনমিক রেট ১১.২১ আর উইকেট প্রতি রান দেওয়ার গড় ৬৬.৬৬! নিদাহাস ট্রফির গত দুই ম্যাচে ৬৮ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। এমন পারফরম্যান্সের পরও নির্বাচকরা তাঁর ওপর ভরসা রাখবেন কিনা সেটা দেখার বিষয়।

দলের সার্থে এখন সময় এসেছে দল নির্বাচনে আরও বিচক্ষণতা দেখানোর। তাছাড়া আমাদের আরিফুল-রাহির মতো যোগ্য বিকল্প রয়েছে দলে। সময় থাকতে তাদের সুযোগ দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। নাকি ‘উইনিং টিম কম্বিনেশন’ এর দোহাই দিয়ে ব্যর্থতার খতিয়ানটা আরও লম্বা করার সুযোগ দিবে ম্যানেজমেন্ট?


বাংলা ইনসাইডার/আরকে/ডিআর