ইনসাইড গ্রাউন্ড

ফিফা গোল্ডেন বল: সবার ওপরে ইতালি-ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা  

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭:১৫ পিএম, ১৩ মার্চ, ২০১৮


Thumbnail

চার বছর পেরিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের মাসকট ‘জাভিবাকা’। আগামী জুনে রাশিয়াতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের একুশতম আসর। কিন্তু প্রায় শতবর্ষের কাছাকাছি চলে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের শুরুটা হয়েছিল কীভাবে? অনেকেই বিশ্বকাপের সময় পছন্দের দল নিয়ে মাতামাতি করলেও, জানেন না ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসটা। এর আগে আমরা বিশ্বকাপের সবগুলো আসর সম্পর্কে জেনেছিলাম। এবার আমরা জানব বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়দের দেওয়া পুরস্কার ‘অ্যাডিডাস গোল্ডেন বল’ সম্পর্কে। কারা পেয়েছিল এই সম্মানজনক পুরস্কারটি? কিভাবে দেওয়া হয় পুরস্কারটি।

১৯৮২ বিশ্বকাপ থেকে অফিশিয়ালি চালু হয় ফিফা গোল্ডেন বলের পুরস্কার। টুর্নামেন্ট সেরা ফুটবলারই পান পুরস্কারটা। সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে সেই পুস্কারটা পেয়েছেন লিওনেল মেসি। ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেই বিশ্বকাপে খেলা সেরা ১০ জনের একটা শর্টলিষ্ট করে। সেখান থেকে সাংবাদিকদের ভোটে নির্বাচন করা হয় সেরা খেলোয়াড়। 

১৯৮২: পাওলো রসি, ইতালি
ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারিতে নিষিদ্ধ ছিলেন দুই বছর। বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে ফেরেন ইতালি দলে। এত দিন মাঠের বাইরে থাকা একজনকে নেওয়ায় সমালোচনাও কম হয়নি তখনকার কোচের। অথচ সেই রসি-জাদুতেই সেবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ইতালি। সক্রেটিস, জিকো, ফ্যালকাওদের ব্রাজিলের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডে হ্যাটট্রিকের পর সেমিফাইনালে পোল্যান্ডের সঙ্গে করেন ২ গোল। এরপর ফাইনালেও ১ গোল করায় জেতেন প্রথমবার চালু হওয়া দুটি পুরস্কার_গোল্ডেন বল ও অ্যাডিডাস গোল্ডেন বুট।

১৯৮৬: ডিয়েগো ম্যারাডোনা, আর্জেন্টিনা
`৮৬ বিশ্বকাপটা ছিল ম্যারাডোনাময়। এ ফুটবল জাদুকরের কাঁধে ভর করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপার স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জেতেন তিনিই। চোট ও বয়সের কারণে (তখন ৩০) পরের বিশ্বকাপে অবশ্য `৮৬-র সেই ফর্মে দেখা যায়নি ম্যারাডোনাকে। তার পরও আর্জেন্টিনার ফাইনাল পর্যন্ত পৌছানোর পেছনে বড় অবদান ছিল তাঁরই। ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে ম্যারাডোনার পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাইয়ে দেন ক্যানিজিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালের পর সেমিফাইনালেও আর্জেন্টিনা জিতে টাইব্রেকারে। শেষ আটে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেও সেমিফাইনালে ইতালির সঙ্গে ঠিকই লক্ষ্যভেদ করেছিলেন ম্যারাডোনা। ফাইনালে রেফারির বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্তে জার্মানির সঙ্গে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।

১৯৯০: সালভাতোরে সিলাচি, ইতালি
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মাত্র ১৬টি ম্যাচই খেলেছেন সিলাচি, যার ছয়টি আবার ১৯৯০ বিশ্বকাপে। তাতেই পেয়েছেন টুর্নামেন্ট-সেরা খেলোয়াড় আর সেরা স্কোরের সম্মান। অথচ `৯০-এ অভিষেকটা হয়েছিল বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বদলি নেমে ৭৮ মিনিটে করা তাঁর গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয় পায় ইতালি। চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে অবশ্য সেরা একাদশে সুযোগ পেয়ে গোল করেন নবম মিনিটে। এরপর একটি করে গোল করেন দ্বিতীয় রাউন্ডে উরুগুয়ে, কোয়ার্টার ফাইনালে আয়ারল্যান্ড, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

১৯৯৪: রোমারিও, ব্রাজিল
২৪ বছর পর `৯৪-এ ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জেতার নায়ক ছিলেন রোমারিও। ৫ গোল করে সেবার গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন ক্যারিয়ারে এক হাজারের বেশি গোল করা এ কিংবদন্তি। অথচ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের আগে সেরা একাদশে খেলার নিশ্চয়তা চাওয়ায় তাঁকে বাদ দিয়েছিলেন তখনকার কোচ পেরেইরা। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে প্রথমবারের মতো বলিভিয়ার সঙ্গে হারায় দাবি ওঠে তাঁকে দলে নেওয়ার। বাধ্য হয়ে পেরেইরা  রোমারিওকে ডাকেন উরুগুয়ের বিপক্ষে। ম্যাচটিতে ২ গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন মেজাজি এ স্ট্রাইকার। ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল রোমারিও। `৯৪-এর পর রোনালদোর সঙ্গে তাঁর জুটির নাম দেওয়া হয়েছিল `রো রো`।

১৯৯৪: রোনালদো, ব্রাজিল
১৯৯৬ ও ১৯৯৭-এ টানা দুইবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার রোনালদো গোল্ডেন বল জেতেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও। অবশ্য ৪ গোল করলেও সেবার সমর্থকদের মন ভরাতে পারেননি এ ব্রাজিলিয়ান। সেই অতৃপ্তি মিটে যায় ২০০২ বিশ্বকাপে। ৮ গোল করে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি নিজেও জেতেন গোল্ডেন বুটের পুরস্কার। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে ৩ গোল করে পরিণত হন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৫ গোল করা ফুটবলারে। আর রেকর্ড গড়েন জার্মান কিংবদন্তি ক্লিনসমানের মতো আলাদা তিনটি বিশ্বকাপে অন্তত ৩ গোল করার। তবে ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর নতুন কোচ দুঙ্গা আর দলে নেননি তাঁকে।

২০০২: অলিভার কান, জার্মানি
প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে ২০০২-এ গোল্ডেন বল জিতেছিলেন জার্মান কিংবদন্তি অলিভার কান। সেবার ফাইনালের আগে মাত্র একবারই বল জালে জড়িয়েছিল কানকে ফাঁকি দিয়ে। বিশ্বকাপের পর ২০০৪ ইউরোতে ব্যর্থ ছিলেন কান। জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ায় স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব ছাড়েন তিনি। ২০০৬ বিশ্বকাপে কোচ ক্লিনসমান এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে কানের বদলে খেলান জেন্স লেম্যানকে।

২০০৬: জিনেদিন জিদান, ফ্রান্স
২০০৪ ইউরো শেষে অবসর নিয়ে ফেলেছিলেন জিনেদিন জিদান। তবে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব থেকে ফ্রান্সের বিদায়ের শঙ্কা জাগায় কোচ রেমন্ড ডমেনেখের অনুরোধে আবারও ফেরেন জাতীয় দলে। ফ্রান্স বাছাই পর্বের বাধা টপকানোর পাশাপাশি বিশ্বকাপ ফাইনালেও পেঁৗছায় জিদানের কাঁধে চড়ে। ফাইনালের আগেই অবশ্য অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন এ ফরাসি কিংবদন্তি। বিদায়টা মধুর হতে পারত ফ্রান্স তাঁর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর লিডটা ধরে রাখতে পারলে। কিন্তু বোন নিয়ে কটূক্তি করায় জিদান মাতেরাজ্জিকে `ঢুঁস` দিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে টাইব্রেকারে ইতালির কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। জিদানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয় টুর্নামেন্ট-সেরা গোল্ডেন বুটের পুরস্কার জিতে।

২০১০: দিয়াগো ফোরলান, উরুগুয়ে
এই আসরে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই জিতেছেন উরুগুয়ের দিয়েগো ফোরলান। ফিফার দেওয়া দশজনের শর্ট লিস্ট থেকে তাঁকে বেছে নিয়েছেন ভোটদাতা সাংবাদিকদের মধ্যে ২৩.৪ শতাংশ। ২১.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন নেদারল্যান্ডসের ওয়েসলি স্নাইডার। উরুগুয়েকে একাই টেনেছেন বটে ফোরলান, কিন্তু তাঁর দল যে টুর্নামেন্টের ফাইনালেই ছিল না! গত তিনবারের মতোই গোল্ডেন বলটা তাই প্রশ্নবিদ্ধই হয়ে রইল।

২০১৪: লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা
ফাইনালে নায়ক হওয়ার মঞ্চ ছিল সাজানোই। গোল্ডেন বুট না হোক বিশ্বকাপ জিতে তো ইতিহাসে জায়গা পেতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত হলো না। অথচ কী দুর্দান্ত শুরুই না করেছিলেন এই বিশ্বকাপে! একক নৈপুণ্যে গোল করে বিশ্বকাপের মূল আলোটা রাখেন নিজের ওপর। কিন্তু শেষটা এমন হবে নিশ্চয়ই ভাবেননি মেসি। মারাকানা থেকে ফাইনাল শেষে বেরোতে বেরোতে হয়তো নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন এই বলে, ‘চেষ্টা তো করেছি। না হলে কী করব!’

বাংলা ইনসাইডার/ডিআর/জেডএ



মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

আইসিসি থেকে সুসংবাদ পেলেন শাহীন, বাবরের দুঃসংবাদ

প্রকাশ: ০৮:২৫ পিএম, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার বাবর আজম ও শাহীন আফ্রিদি। গেল ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকেই আলোচনায় রয়েছেন তারা। জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে বারবার সমালোচিত হয়েছেন এই দুই তারকা। তবে এবার এই দুইজনের একজন আইসিসি থেকে পেয়েছেন সুসংবাদ এবং অন্যজন পেয়েছেন দুঃসংবাদ।

আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলছে পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান এই সিরিজে নেই হারিস রউফ। এখন পর্যন্ত সিরিজের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ৩ ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি।

আর এতেই রেটিং পয়েন্টের যোগ বিয়োগের খেলায় রউফকে টপকে আইসিসির টি-২০ র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও পাকিস্তানের শীর্ষ বোলার হয়েছেন আফ্রিদি। অবশ্য রউফকে টপকে গেলেও র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫-তেও নেই পাকিস্তানের সদ্য সাবেক অধিনায়ক। দুই ধাপ এগিয়ে ১৭ নম্বরে উঠেছেন ২৪ বছর বয়সী এই পেসার।

এদিকে চার ধাপ পিছিয়ে ২২ নম্বরে নেমে গেছেন রউফ। বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে আফ্রিদির ঠিক পরেই ১৮ নম্বরে আছেন নিউজিল্যান্ডের লেগ স্পিনার ইশ সোধি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ উইকেট নেয়া সোধি পাঁচ ধাপ এগিয়েছেন।

কিউইদের সেরা বোলার মিচেল স্যান্টনার। সিরিজের নিউজিল্যান্ড দলে না থাকা স্যান্টনার অবশ্য পয়েন্ট হারিয়ে পাঁচ ধাপ পিছিয়ে ১৫ নম্বরে নেমে গেছেন। টি-২০ বোলারদের এক নম্বর জায়গাটা ধরে রেখেছেন ইংল্যান্ডের লেগ স্পিনার আদিল রশিদ।

এদিকে ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে নিউজিল্যান্ডের টিম সাইফার্ট তিন ধাপ এগিয়ে উঠেছেন ২৪ নম্বরে। তার সতীর্থ মার্ক চ্যাপম্যান লম্বা লাফই দিয়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ৪২ বলে অপরাজিত ৮৭ রানের ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডকে জেতানো ব্যাটসম্যান ১২ ধাপ এগিয়ে উঠেছেন ৩৩ নম্বরে।

পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম এক ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছেন পাঁচে। মোহাম্মদ রিজওয়ান আছেন আগের মতোই তিনে। বুধবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত সর্বশেষ র‍্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ারসেরা অবস্থানে উঠেছেন নেপালের দীপেন্দ্র সিং ঐরী।

যুবরাজ সিং ও কাইরন পোলার্ডের পর তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-২০তে এক ওভারে ছয় ছক্কা মারা ব্যাটসম্যান ১০ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ৫০ নম্বরে। পরশ খাড়কা, কৌশল ভুরতেল ও রোহিত পৌডেলের পর চতুর্থ নেপালি হিসেবে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ৫০-এ উঠলেন ঐরী।

ব্যাটিংয়ে ভারতের সূর্যকুমার যাদব ও অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন।


পাকিস্তান   টি-২০ বিশ্বকাপ   আন্তর্জাতিক ক্রিকেট   বাবর আজম   শাহীন আফ্রিদি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

ফিরতি লেগে হেরেও ফাইনাল নিশ্চিত জুভেন্টাসের

প্রকাশ: ০৬:৪৮ পিএম, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

প্রথম লেগে ২-০ গোলে জিতে ইতোমধ্যেই এগিয়ে ছিল তারা। যার জন্য ফিরতি লেগে ড্র করলে অথবা এক গোলে হারলেও ফাইনাল নিশ্চিত ছিল। এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে ইতালিয়ান কাপের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মঙ্গলবার ল্যাজিওর মুখোমুখি হয়েছিল জুভেন্টাস। ম্যাচটিতে  ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছে তারা। কিন্তু তারপরেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তুরিনের জায়ান্টরা।

এদিন ল্যাজিওর মাঠে ৪৮ মিনিটেই ২-০ গেলে পিছিয়ে পড়ে অস্বস্তিতে পড়ে তুরিনের জায়ান্টরা। ল্যাজিওর হয়ে দুটি গোলই করেছেন ভ্যালেন্টিন ক্যাস্তেলানোস। ৮৩ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মিলিকের প্রথম সুযোগের গোলে জুভেন্টাস দুই লেগ মিলিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে।

ম্যাচ শেষে পোলিশ স্ট্রাইকার মিলিক বলেছেন, ‘আমরা একটি ভাল দলের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাইনাল নিশ্চিত করতে পারায় আমরা দারুণ খুশি। ফাইনালে আমাদের ভাল খেলতে হবে। সেটা করার ব্যপারে আমরা মুখিয়ে আছি।’

নিয়মিত গোলরক্ষক ওজিচে সিজনি বদলি বেঞ্চে থাকায় মাত্তিয়া পেরিনের উপর জুভেন্টাসের গোলবার সামলানোর দায়িত্ব ছিল। ১২ মিনিটে কর্নার থেকে কাস্তেলানোসের হেডে ল্যাজিও এগিয়ে যায়।

বিরতির পরপরই লো শটে এই আর্জেন্টাইন কোনাকুনি শটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন। জুভেন্টাস কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি ম্যাচে ফিরে আসার লক্ষ্যে টিমোথি উইয়াহ ও মিলিককে মাঠে নামান। জুভেন্টাসের ভাগ্য নির্ধারণী গোলে এই দুজনেরই অবদান ছিল।

এর মাধ্যমে ১৫ বারের মত কোপা ইতালিয়ার শিরোপা জয়ের দৌড়ে টিকে থাকলো জুভেন্টাস। অন্যদিকে সিরি আয় শেষ ১২ ম্যাচে মাত্র দুই জয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা জুভেন্টাস চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পজিশনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।


জুভেন্টাস   ল্যাজিও   ইতালিয়ান কাপ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে কাতারে লেবাননের মুখোমুখি বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৬:০৬ পিএম, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

২০২৬ বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ে নিজেদের শেষ ম্যাচে লেবাননের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। আগামী ১১ জুন নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে কাতারের দোহায় আল সাদ স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় এ ম্যাচের আয়োজন করছে লেবানন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) ভেন্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন। লেবানন ও ফিলিস্তিন দুই দেশই অভ্যন্তরীণ সমস্যার জন্য হোম ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে হয়। বাংলাদেশ মার্চ উইন্ডোতে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে খেলেছে কুয়েতে।

এখন জুন উইন্ডোতে লেবাননের ম্যাচ খেলবে কাতারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে বাংলাদেশের একাধিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মার্চ উইন্ডোতে কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা বাংলাদেশ দলকে সৌদি আরবে দুই সপ্তাহের বেশি অনুশীলন করিয়েছিলেন। জুন উইন্ডোর আগে বড় সময় অনুশীলন করানোর সুযোগ পাবেন না। কারণ প্রিমিয়ার লিগ চলবে ২৯ মে পর্যন্ত। এর পরই মূলত জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু করতে পারবেন কোচ।

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ যৌথ বাছাইয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চার ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে কেবল হোম ম্যাচে লেবাননের বিপক্ষে মাত্র এক পয়েন্ট পেয়েছে। বাকি দুই ম্যাচের একটি হোমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, আরেকটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে লেবাননের বিপক্ষে।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাই যাত্রা শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ ৬ জুন কিংস অ্যারেনায় অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে আসবে। অস্ট্রেলিয়া ২০১৫ সালে বাংলাদেশে আরেকবার এসেছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলতে।


বাংলাদেশ   লেবানন   ফুটবল   বিশ্বকাপ ২০২৬   এশিয়ান কাপ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আর্জেন্টিনার কার্লোস তেভেজ

প্রকাশ: ০৫:২৮ পিএম, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা ফুটবলার কার্লোস তেভেজ। একসময় দারুণ ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হৃদয় জিতে নিয়েছিলেন তিনি। এল অ্যাপাচি ডাকনাম পাওয়া এই ফুটবলার ফুটবল খেলা ছাড়লেও ফুটবলকে ছাড়তে পারেননি।

বর্তমানে আর্জেন্টিনায় কোচিং করানো সাবেক এই ফুটবলার দীর্ঘদিন পর এসেছেন আলোচনায়। বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তেভেজ। দেশটির গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বুয়েন্স আইরেসের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাকে।

২০২২ সালে সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া তেভেজ বর্তমানে আর্জেন্টিনার ক্লাব ইন্ডিপেনডিয়েন্তের হেড কোচের দায়িত্বে আছেন। ক্লাবটির বরাতে জানা গেছে, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।

সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে এক বার্তায় ইন্ডিপেনডিয়েন্তে জানিয়েছে, আমাদের কোচ কার্লোস তেভেজ বুকে ব্যথা নিয়ে সান ইসিড্রোর লা ত্রিনিদাদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তার পরীক্ষার রিপোর্ট সন্তোষজনক এসেছে বলেও জানিয়েছে তারা। যদিও সতর্কতা হিসেবে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে। সে পর্যন্ত হাসপাতালেই থাকবেন তিনি।

এর আগে গত বছর একটি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তেভেজ। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ৭৬ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ১৩টি। ২০০৬ আর ২০১০ বিশ্বকাপে খেলেছেন। কোপা আমেরিকাতেও তিনটি ফাইনালে হেরেছেন তিনি, ফিরে এসেছেন শিরোপাজয়ের হাতছোঁয়া দূরত্ব থেকে।

২০০৪ সালে এথেন্স অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ক্লাব পর্যায়ে বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা তেভেজ ২০০৩ সালে জিতেছেন কোপা লিবারেটেডর্স। ইংল্যান্ড ও ইতালির ক্লাব ক্যারিয়ারে দারুণ সফল এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে কখনো কোনো ধরনের সমালোচনা শোনা যায়নি।

কার্লোস তেভেজকেও ফুটবল দুনিয়া মনে রাখবে তার আগ্রাসী খেলার জন্য। বর্তমানে কোচিং পেশায় আসা এই স্ট্রাইকার নিজের সময়ে ছিলেন অন্যতম সেরা। ওয়েইন রুনি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদের সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দারুণ সময় পার করেছেন এই আর্জেন্টাইন। ২০০৮ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। খেলেছেন ম্যানসিটির জার্সিতেও। সিটির বড় ক্লাব হয়ে ওঠার চেষ্টায় তিনি ছিলেন প্রথম দিকের সাইনিং।


এল অ্যাপাচি   কার্লোস তেভেজ   আর্জেন্টিনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

‘মুস্তাফিজের জন্য ধোনি এবং ফ্লেমিংয়ের সঙ্গটা অন্য রকম ব্যাপার’

প্রকাশ: ০৪:২৪ পিএম, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিকল্প হিসেবে দল পেলেও এবারের আইপিএল স্বপ্নের মতোই শুরু করেছিল বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তবে শেষ ৩টি ম্যাচে বল হাতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি এই কাটার মাস্টার। একটি করে উইকেট পেলেও ছিলেন বেশ খরুচে। গতকাল লখনৌয়ের বিপক্ষে শেষ ওভারে চেন্নাই সমর্থকদের জন্য রীতিমতো ভিলেইন হিসেবে পরিণত হয়েছেন তিনি।

এবার আইপিএলের জন্য মুস্তাফিজুর রহমানকে শুরুতে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরপর ১ দিন বাড়িয়ে ১ মে পর্যন্ত করেছে বিসিবি। ১ মে চেন্নাই বনাম পাঞ্জাবের ম্যাচ রয়েছে। সব ঠিক থাকলে সেই ম্যাচ খেলে পরদিন ২ মে বাংলাদেশে ফিরবেন মুস্তাফিজ।

মূলত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে মুস্তাফিজকে খেলানোর পরিকল্পনা বিসিবির। তাই আইপিএলের পুরো আসরের জন্য মুস্তাফিজকে এনওসি দেয়নি বোর্ড। কয়েক দিন আগেই মুস্তাফিজকে আইপিএলে না খেলিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজে খেলানোর ব্যাখা দিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আইপিএলে থেকে এই পেসারের শেখার কিছু নেই।

বিসিবির এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ভারতীয় ধারাভষ্যকার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক হার্শা ভোগলে। তিনি বলেন, 'মুস্তাফিজ ১ মে আইপিএল ছেড়ে চলে যাবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর বলেছে যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশে খেলাটা মুস্তাফিজের জন্য বেশি ভালো। ডোয়াইন ব্রাভো যখন পাথিরানাকে শেখাবে তখন ফিজ খুব বেশিদিন থাকবে না। ধোনি এবং ফ্লেমিংয়ের সঙ্গটা অন্য রকম ব্যাপার।'

‘বাংলাদেশের ক্রিকেট ডিরেক্টর যা বলেছে আশা করি তা মিথ্যা হবে। কারণ সে বলেছে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজের শেখার কিছু নেই। তখনই প্রশ্নটা উঠছে কোথায় তাহলে তার জন্য ভালো। আমি বুঝতে পারছি ব্যাপারটা। আসলে বাংলাদেশের রীতিটা ঠিক করতে হবে। এখানে খেলাটা মুস্তাফিজের জন্য খুবই ভালো। কারণ এখানে সে দারুণ বোলিং করছে।’

আগামী ৩ মে থেকে ঘরের মাঠে রোডেশিয়ানদের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ৪ ও ৭ মে চট্টগ্রামেই পরের দুটি টি-২০, এরপর মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ১০ ও ১২ মে হবে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ।


মুস্তাফিজ   চেন্নাই সুপার কিংস   আইপিএল   মহেন্দ্র সিং ধোনি   ফ্লেমিং   হার্শা ভোগলে  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন