ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ , ৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ফিফা গোল্ডেন বল: সবার ওপরে ইতালি-ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা  

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৭:১৫ পিএম
ফিফা গোল্ডেন বল: সবার ওপরে ইতালি-ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা  

চার বছর পেরিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের মাসকট ‘জাভিবাকা’। আগামী জুনে রাশিয়াতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের একুশতম আসর। কিন্তু প্রায় শতবর্ষের কাছাকাছি চলে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের শুরুটা হয়েছিল কীভাবে? অনেকেই বিশ্বকাপের সময় পছন্দের দল নিয়ে মাতামাতি করলেও, জানেন না ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসটা। এর আগে আমরা বিশ্বকাপের সবগুলো আসর সম্পর্কে জেনেছিলাম। এবার আমরা জানব বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়দের দেওয়া পুরস্কার ‘অ্যাডিডাস গোল্ডেন বল’ সম্পর্কে। কারা পেয়েছিল এই সম্মানজনক পুরস্কারটি? কিভাবে দেওয়া হয় পুরস্কারটি।

১৯৮২ বিশ্বকাপ থেকে অফিশিয়ালি চালু হয় ফিফা গোল্ডেন বলের পুরস্কার। টুর্নামেন্ট সেরা ফুটবলারই পান পুরস্কারটা। সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে সেই পুস্কারটা পেয়েছেন লিওনেল মেসি। ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেই বিশ্বকাপে খেলা সেরা ১০ জনের একটা শর্টলিষ্ট করে। সেখান থেকে সাংবাদিকদের ভোটে নির্বাচন করা হয় সেরা খেলোয়াড়। 

১৯৮২: পাওলো রসি, ইতালি
ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারিতে নিষিদ্ধ ছিলেন দুই বছর। বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে ফেরেন ইতালি দলে। এত দিন মাঠের বাইরে থাকা একজনকে নেওয়ায় সমালোচনাও কম হয়নি তখনকার কোচের। অথচ সেই রসি-জাদুতেই সেবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ইতালি। সক্রেটিস, জিকো, ফ্যালকাওদের ব্রাজিলের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডে হ্যাটট্রিকের পর সেমিফাইনালে পোল্যান্ডের সঙ্গে করেন ২ গোল। এরপর ফাইনালেও ১ গোল করায় জেতেন প্রথমবার চালু হওয়া দুটি পুরস্কার_গোল্ডেন বল ও অ্যাডিডাস গোল্ডেন বুট।

১৯৮৬: ডিয়েগো ম্যারাডোনা, আর্জেন্টিনা
`৮৬ বিশ্বকাপটা ছিল ম্যারাডোনাময়। এ ফুটবল জাদুকরের কাঁধে ভর করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপার স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জেতেন তিনিই। চোট ও বয়সের কারণে (তখন ৩০) পরের বিশ্বকাপে অবশ্য `৮৬-র সেই ফর্মে দেখা যায়নি ম্যারাডোনাকে। তার পরও আর্জেন্টিনার ফাইনাল পর্যন্ত পৌছানোর পেছনে বড় অবদান ছিল তাঁরই। ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে ম্যারাডোনার পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাইয়ে দেন ক্যানিজিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালের পর সেমিফাইনালেও আর্জেন্টিনা জিতে টাইব্রেকারে। শেষ আটে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেও সেমিফাইনালে ইতালির সঙ্গে ঠিকই লক্ষ্যভেদ করেছিলেন ম্যারাডোনা। ফাইনালে রেফারির বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্তে জার্মানির সঙ্গে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।

১৯৯০: সালভাতোরে সিলাচি, ইতালি
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মাত্র ১৬টি ম্যাচই খেলেছেন সিলাচি, যার ছয়টি আবার ১৯৯০ বিশ্বকাপে। তাতেই পেয়েছেন টুর্নামেন্ট-সেরা খেলোয়াড় আর সেরা স্কোরের সম্মান। অথচ `৯০-এ অভিষেকটা হয়েছিল বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বদলি নেমে ৭৮ মিনিটে করা তাঁর গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয় পায় ইতালি। চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে অবশ্য সেরা একাদশে সুযোগ পেয়ে গোল করেন নবম মিনিটে। এরপর একটি করে গোল করেন দ্বিতীয় রাউন্ডে উরুগুয়ে, কোয়ার্টার ফাইনালে আয়ারল্যান্ড, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

১৯৯৪: রোমারিও, ব্রাজিল
২৪ বছর পর `৯৪-এ ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জেতার নায়ক ছিলেন রোমারিও। ৫ গোল করে সেবার গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন ক্যারিয়ারে এক হাজারের বেশি গোল করা এ কিংবদন্তি। অথচ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের আগে সেরা একাদশে খেলার নিশ্চয়তা চাওয়ায় তাঁকে বাদ দিয়েছিলেন তখনকার কোচ পেরেইরা। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে প্রথমবারের মতো বলিভিয়ার সঙ্গে হারায় দাবি ওঠে তাঁকে দলে নেওয়ার। বাধ্য হয়ে পেরেইরা  রোমারিওকে ডাকেন উরুগুয়ের বিপক্ষে। ম্যাচটিতে ২ গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন মেজাজি এ স্ট্রাইকার। ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল রোমারিও। `৯৪-এর পর রোনালদোর সঙ্গে তাঁর জুটির নাম দেওয়া হয়েছিল `রো রো`।

১৯৯৪: রোনালদো, ব্রাজিল
১৯৯৬ ও ১৯৯৭-এ টানা দুইবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার রোনালদো গোল্ডেন বল জেতেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও। অবশ্য ৪ গোল করলেও সেবার সমর্থকদের মন ভরাতে পারেননি এ ব্রাজিলিয়ান। সেই অতৃপ্তি মিটে যায় ২০০২ বিশ্বকাপে। ৮ গোল করে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি নিজেও জেতেন গোল্ডেন বুটের পুরস্কার। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে ৩ গোল করে পরিণত হন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৫ গোল করা ফুটবলারে। আর রেকর্ড গড়েন জার্মান কিংবদন্তি ক্লিনসমানের মতো আলাদা তিনটি বিশ্বকাপে অন্তত ৩ গোল করার। তবে ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর নতুন কোচ দুঙ্গা আর দলে নেননি তাঁকে।

২০০২: অলিভার কান, জার্মানি
প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে ২০০২-এ গোল্ডেন বল জিতেছিলেন জার্মান কিংবদন্তি অলিভার কান। সেবার ফাইনালের আগে মাত্র একবারই বল জালে জড়িয়েছিল কানকে ফাঁকি দিয়ে। বিশ্বকাপের পর ২০০৪ ইউরোতে ব্যর্থ ছিলেন কান। জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ায় স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব ছাড়েন তিনি। ২০০৬ বিশ্বকাপে কোচ ক্লিনসমান এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে কানের বদলে খেলান জেন্স লেম্যানকে।

২০০৬: জিনেদিন জিদান, ফ্রান্স
২০০৪ ইউরো শেষে অবসর নিয়ে ফেলেছিলেন জিনেদিন জিদান। তবে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব থেকে ফ্রান্সের বিদায়ের শঙ্কা জাগায় কোচ রেমন্ড ডমেনেখের অনুরোধে আবারও ফেরেন জাতীয় দলে। ফ্রান্স বাছাই পর্বের বাধা টপকানোর পাশাপাশি বিশ্বকাপ ফাইনালেও পেঁৗছায় জিদানের কাঁধে চড়ে। ফাইনালের আগেই অবশ্য অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন এ ফরাসি কিংবদন্তি। বিদায়টা মধুর হতে পারত ফ্রান্স তাঁর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর লিডটা ধরে রাখতে পারলে। কিন্তু বোন নিয়ে কটূক্তি করায় জিদান মাতেরাজ্জিকে `ঢুঁস` দিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে টাইব্রেকারে ইতালির কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। জিদানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয় টুর্নামেন্ট-সেরা গোল্ডেন বুটের পুরস্কার জিতে।

২০১০: দিয়াগো ফোরলান, উরুগুয়ে
এই আসরে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই জিতেছেন উরুগুয়ের দিয়েগো ফোরলান। ফিফার দেওয়া দশজনের শর্ট লিস্ট থেকে তাঁকে বেছে নিয়েছেন ভোটদাতা সাংবাদিকদের মধ্যে ২৩.৪ শতাংশ। ২১.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন নেদারল্যান্ডসের ওয়েসলি স্নাইডার। উরুগুয়েকে একাই টেনেছেন বটে ফোরলান, কিন্তু তাঁর দল যে টুর্নামেন্টের ফাইনালেই ছিল না! গত তিনবারের মতোই গোল্ডেন বলটা তাই প্রশ্নবিদ্ধই হয়ে রইল।

২০১৪: লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা
ফাইনালে নায়ক হওয়ার মঞ্চ ছিল সাজানোই। গোল্ডেন বুট না হোক বিশ্বকাপ জিতে তো ইতিহাসে জায়গা পেতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত হলো না। অথচ কী দুর্দান্ত শুরুই না করেছিলেন এই বিশ্বকাপে! একক নৈপুণ্যে গোল করে বিশ্বকাপের মূল আলোটা রাখেন নিজের ওপর। কিন্তু শেষটা এমন হবে নিশ্চয়ই ভাবেননি মেসি। মারাকানা থেকে ফাইনাল শেষে বেরোতে বেরোতে হয়তো নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন এই বলে, ‘চেষ্টা তো করেছি। না হলে কী করব!’

বাংলা ইনসাইডার/ডিআর/জেডএ