ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ৯ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ফিরে দেখা: ব্রিটিশ টেনিস কিংবদন্তি অ্যান্ডি মারে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ০৪:২১ পিএম
ফিরে দেখা: ব্রিটিশ টেনিস কিংবদন্তি অ্যান্ডি মারে

বিদায় নিচ্ছেন ব্রিটিশ টেনিস কিংবদন্তি অ্যান্ডি মারে। অস্ট্রেলিয়া ওপেনেই শেষ হবে তার ক্যারিয়ার। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে কী পেলেন আর কী হারালেন এই ব্রিটিশ তারকা?

টেনিস জগতের বিগ ফোরের একজন অ্যান্ডি মারে। বাকি তিনজন- রাফায়েল নাদাল, রজার ফেদেরার ও নোভাক জোকোভিচের তুলনায় কিছুটা ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছিলেন মাঝামাঝি সময়ে। ইনজুরি ও মানসিক অবসাদ দুটোই তার ক্যারিয়ারের সবথেকে মূল্যবান সময়কে নষ্ট করেছে। কিন্তু তাতে দমে যাননি মারে।

যেভাবে শুরু হলো

মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকে টেনিস শুরু। বড় ভাই ও পেশাদার ব্রিটিশ টেনিস খেলোয়াড় জেমি মারের অনুপ্রেরণায় লালিত হতে থাকে তার স্বপ্ন। ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত ম্যানচেস্টার চ্যালেঞ্জার নামক একটি জাতীয় টেনিস প্রতিযোগিতা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় তার ক্যারিয়ার। ঐ প্রতিযোগিতায় তিনি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন।

তবে ঐ বছরই গ্লাসগো ফিউচার ইভেন্টের শিরোপা জেতেন মারে। মাঝে কিছু আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য আসে। তবে বড় সাফল্য আসে ২০০৪ সালে। জুনিয়র ইউএস ওপেন কাপ জয় করেন এবং ঐ বছরেই বিবিসির বছর সেরা তরুণ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব পুরস্কার পান। বছর শেষে জুনিয়রদের তালিকায় ২য় স্থান অধিকার করেন মারে।

২০০৫ সাল থেকে তার পৃথিবীব্যাপী ভ্রমণ শুরু। ২০০৫-০৬ এই এক বছরে মারে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রতিযোগিতার কুনিয়ার ইভেন্টে অংশ নেন। এই সময় তিনি ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে প্রথমবারের মতো ডেভিস কাপে অংশ নেন।

মারে এই বছরে কুইন্স ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ, থাইল্যান্ড ওপেন, উইম্বলডন, ইউএস ওপেন, এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর মাস্টার্স, বাসেল সুইস ইনডোরস প্রভৃতি বড় ছোট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। থাইল্যান্ড কাপে তিনি প্রথমবারের মতো বিশ্বের এক নম্বর তারকা রজার ফেদেরারের মুখোমুখি হন।

২০০৬ মৌসুমের শুরু থেকে শেষে মারে বিভিন্ন সময়ে ১০ ব্রিটিশ টেনিস তারকাদের তালিকায় দুই দফায় শীর্ষ স্থান দখল করেন।

২০০৭ সালে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের সেরা দশে উঠে আসেন এই ব্রিটিশ তারকা। ঐ বছরেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রথম মুখোমুখি হন বিশ্বের ২ নম্বর খেলোয়াড় রাফায়েল নাদালের। ঐ বছর জার্মান ওপেন, ইউএস ওপেন, মিয়ামি মাস্টার্সে অংশ নিলেও ইনজুরি আক্রান্ত মারে উল্লেখযোগ্য কোন সাফল্য পাননি। পরবর্তী তিন বছর সাংহাই ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন, মাদ্রিদ মাস্টার্স, মন্টে কার্লো মাস্টার্স, চায়না ওপেন, সিনসিনাতি মাষ্টার্স প্রভৃতি প্রতিযোগীতায় সেমি-ফাইনাল, কোয়াটার ফাইনাল প্রভৃতি রাউন্ডে পৌঁছান। 

২০১০ সালে মারে প্রথম বড় অর্জন পান। ঐ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সিলিক ও নাদালকে হারিয়ে ফেদেরারের সাথে ফাইনাল নিশ্চিত করেন । যদিও তিনি হেরে যান। তবে ঐটাই ছিল তার তখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত সেরা সাফল্য- অস্ট্রেলিয়া ওপেন রানার আপ।

মারে প্রথম বড় সাফল্য পান লন্ডন ২০২২ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে। ১৯০৮ সালের পর মারেই প্রথম ব্রিটিশ টেনিস খেলোয়াড় যিনি পুরুষ এককে গোল্ড অর্জন করেন। ঐ অলিম্পিকেই তিনি দুইটি গোল্ড অর্জন করে পৃথিবীর ৭ম খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েন।

৩১ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ তারকা দীর্ঘ সময় ভুগেছেন ইনজুরিতে। পনের বছরের ক্যারিয়ারের মোট ৩০টি খেতাব লাভ করেন মারে। এর মধ্যে তিনটি গ্রান্ড স্ল্যাম রয়েছে – ইউএস ওপেন ২০১২, উইম্বলডন ২০১৩ ও ২০১৬। এছাড়াও অলিম্পিক গোল্ড মেডেল পান ২ বার, এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালস জেতেন একবার।

২০১৩ সালে টেনিসে অবদানের জন্য অ্যান্ডি মারে ব্রিটিশ রাজ পরিবার কর্তৃক ‘অফিসার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পেয়ার’ বা সংক্ষেপে ওবিই খেতাব অর্জন করেন এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে ‘নাইট’  উপাধি লাভ করেন।

 

এক নজরে অ্যান্ডি মারের অর্জন দেখে নেয়া যাক:

(১১টি গ্রান্ড স্ল্যাম ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন ৩, রানার আপ ৮)  

ইউএস ওপেন ২০০৮ রানার আপ

অস্ট্রেলিয়া ওপেন ২০১০ রানার আপ

অস্ট্রেলিয়া ওপেন ২০১১ রানার আপ

উইম্বলডন ২০১২ রানার আপ

ইউএস ওপেন ২০১২ চ্যাম্পিয়ন

অস্ট্রেলিয়া ওপেন ২০১৩ রানার আপ

উইম্বলডন ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন

অস্ট্রেলিয়া ওপেন ২০১৫ রানার আপ

অস্ট্রেলিয়া ওপেন ২০১৬ রানার আপ

ফ্রেঞ্চ ওপেন ২০১৬ রানার আপ

উইম্বলডন ২০১৬ চ্যাম্পিয়ন

এছাড়াও,

এটিপি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল ট্যুর ২০১৬ চ্যাম্পিয়ন

গ্রীষ্ম অলিম্পিক ২০১২ গোল্ড ২টি

 দলগত ইভেন্ট,

ডেভিস কাপ ২০১৫ চ্যাম্পিয়ন (গ্রেট ব্রিটেন, অ্যান্ডি মারে) 

 উল্লেখ্য, শুক্রবার মেলবোর্নে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া ওপেনকে তার শেষ গ্রান্ড স্ল্যাম বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন অ্যান্ডি মারে।

 

বাংলা ইনসাইডার/ডিএম