ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লঙ্কান ক্রিকেটের সোনালী দিন এখন ধূসর!

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার, ০৪:০০ পিএম
লঙ্কান ক্রিকেটের সোনালী দিন এখন ধূসর!

দিন দুয়েক আগে, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেন সাবেক তারকা ক্রিকেটার মুথিয়া মুরালিধরণ। তিনি বলেন, লঙ্কান ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা বেশ পীড়া দেয় তাকে। ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ীদের নিম্নগামী গ্রাফ দেখে শঙ্কিত লঙ্কান ক্রিকেটের সোনালী সময়ের এই তারকা।

একটু পিছনে যেতেই হয়। ১৯৯৬ বিশ্বকাপ ক্রিকেট। আবির্ভাব ঘটে নতুন শক্তির। অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অরবিন্দ ডি সিলভা, সনাৎ জয়সুরিয়ার মতো তারকা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে জিতে নেয় বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি।

তৈরি করা সেই পথে হেঁটেছেন মাহেলা জয়ার্বধনে, কুমার সাঙ্গাকারাসহ আরো অনেকে। ২০০৭ এবং ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে তারা। আর ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপাও ঘরে তলে দ্বীপদেশটি।

কিন্তু সেই শ্রীলঙ্কার অবস্থা বেশ করুণ। তাদের ক্রিকেটের মধ্যগগণের সূর্য দিন দিন নামছে অস্তাচলে। চলতি বছরের কথাই ধরা যাক। ভারতের কাছে নাকানিচুবানি খাওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। কিন্তু পরের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবারো হাবুডুবু খায় ব্যর্থতার চোরাবালিতে। অজিদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৩৬৬ রানের ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৪০ রানের ব্যবধানে হার।

গত এক বছরে ১৩টি টেস্ট খেলেছে শ্রীলঙ্কা। যার মধ্যে ছয়টিতেই হেরেছে বড় ব্যবধানে, জয় চারটিতে আর বাকি তিনটি ম্যাচ ড্র করেছে। টেস্টের চেয়ে ওয়ানডে’র অবস্থা আরো খারাপ। ১৪ ওয়ানডেতে জয় পেয়েছে মাত্র তিন ম্যাচে। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো মধ্যে শ্রীলঙ্কার চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে কেবল অস্ট্রেলিয়া। পরিসংখ্যান বলছে গত এক বছরে আফগানিস্তানের চেয়ে বাজে পারফরম্যান্স ছিল লঙ্কানদের।

এই অবস্থার জন্য বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম অধিনায়ক বদল। গত এক বছর নয়বার অধিনায়ক বদল করেছে শ্রীলংকা। টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন দুইজন। ওয়ানডেতে তিন জন আর টি-টোয়েন্টি সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার-এ। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বারবার অধিনায়ক বদল করায় দলের মধ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। একটি দল হিসেবে খেলতে পারছে না শ্রীলঙ্কা। তাই এমন বিপর্যয়।

কোচের একচ্ছত্র ক্ষমতাও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দশার কারণ। অনেকটা নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে নিজ দেশের কোচের দায়িত্ব নেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। বাংলাদেশ থাকালীন নিজের ক্ষমতা বেশ ভালো ভাবে ব্যবহার করতেন তিনি। লংকান ক্রিকেট বোর্ডও তাকে একই ক্ষমতা দেয়। সেটাই কাল হয়ে দাড়ায় দেশটির ক্রিকেটের জন্য।

তাঁর ক্ষমতার প্রথম বলি হন অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত নতুন ক্রিকেটারদের নিয়ে স্কোয়াড গঠন করে সে। যার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ নেওয়ার ক্ষমতা না থাকয় পারফর্ম করতে পারছে না তরুণ ক্রিকেটাররা। ফলে ম্যাচে ঘটছে বড় ধরনের বিপর্যয়।

দিন দিন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। অভিযোগের তীর রয়েছে দেশটির কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে বোর্ড কর্তার দিকেও। গত বছর অক্টোবরে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ উঠে। আকসু তদন্ত শুরু করলে তাতে সহযোগিতা না করার অভিযোগ উঠে সানাথ জয়সুরিয়ার দিকে।

সম্প্রতি দুবাইয়ে আইসিসির বৈঠকে শ্রীলংকার ক্রিকেট কমিটিকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। সবকিছু মিলিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় দুর্নামই কুড়াচ্ছে বিশ্বকাপ জয়ীরা। এ সবের কারণে ক্রিকেটারদের জন্য খেলাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই, দলটির সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার আরনল্ড রাসেল বলেন, ‘শ্রীলংকার ক্রিকেট খুব কঠিন সময় পার করছে। দলের সমর্থক, নীতিনির্ধারক ও ক্রিকেটার-সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই ফিরে আসবে শ্রীলংকার ক্রিকেটের সেই সোনালী অতীত।’

বাংলা ইনসাইডার/আরইউ/এমআর