ঢাকা, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ক্রীড়াঙ্গনেও পড়েছে ভালোবাসার ছাপ!

রায়হানউদ্দিন রাসেল
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৪:০২ পিএম
ক্রীড়াঙ্গনেও পড়েছে ভালোবাসার ছাপ!

প্রেম শাশ্বত, প্রেম চিরন্তন! প্রেম চিরকাল বহে অন্তর থেকে অন্তরে, হৃদয় থেকে হৃদয়ে। বিশ্বভূবনের মতো প্রেমের স্পর্শে রঙিন হয়েছে ক্রীড়াঙ্গনও। ভালোবাসা দিবসে জানবো এমন কিছু প্রেমের গল্প।

শাহজাহান আলী রনি ও মাহফুজা আক্তার শীলা: বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) পরিচয়। দুইজনই সাঁতারু। ২০১০ সালে দিল্লির কমনওয়েথ গেমসে দুইজনই ছিলেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। আগ্রায় সম্রাট শাহজাহানের তাজমহলের সামনে সাঁতারু শাহজাহানের প্রেমিক রূপ বেরিয়ে আসে। সেদিন মাহফুজা আক্তার শীলার নিকট প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন কোনোদিন ছেড়ে যাবেন না। কথা রেখেছেন তিনি। ২০১৬ সালে ১৮ মার্চ বিয়ে করেন দুইজন।

সাঁতারে সম্ভাবনা জাগিয়েও ইনজুরির কারণে জ্বলে উঠতে পারেননি শাহজাহান আলী রনি। ২০০৬ সালে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে স্বর্ণ জিতেছিলেন তিনি। এদিকে মাহফুজা আক্তার শীলা ২০১৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে ভারতের আসামের গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে জেতেন দু’টি স্বর্ণপদক।

আন্দ্রে আগাসি ও স্টেফি গ্রাফ: দুইজনের জীবনের চিত্রনাট্যটা এক। অভিনেত্রী বরুক শিল্ডের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন আন্দ্রে আগাসি। কিন্তু দুইজনের একসঙ্গে পথ চলা হয়নি তিন বছরের বেশি। নানান কারণে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটিয়ে ১৯৯৯ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন খেলতে যান আগাসি।

আর ফর্মুলা ওয়ান তারকা মাইকেল বার্টেলের সঙ্গে সাত বছরের সম্পর্ক চুকিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেন খেলতে আসেন স্টেফি গ্রাফ। ভাঙা হৃদয়ের শোককে শক্তিতে পরিণত করে দু’জনই জিতে নেন ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা। চ্যাম্পিয়ন হলে ডিনার পার্টিতে দুইজনে জুটি হয়ে নাচলেন। সেখান থেকে শুরু হয় একসঙ্গে পথচলা। ২০০১ সালের ২২ অক্টোবর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই জুটি। ৩০টি একক গ্র্যান্ড স্লাম ও দুটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতা এই যুগলকে বলা হয় ক্রীড়াঙ্গনের সেরা জুটি।

বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার ও আনা ইভানোভিচ: এই জুটির জীবনচিত্র বড় অদ্ভুত। শোয়েনস্টাইগার জার্মানির, আর আনা ইভানোভিচ সার্বিয়ার। একজন ফুটবলার অন্যজন টেনিস তারকা। দু’জন, দু’জগতের বাসিন্দা, এমন কি দু’জনের ভাষাও আলাদা।

কিন্তু ভালোবাসা মানে না কোনো বাধা। তাই তো জগতের দূরত্ব কিংবা দেশের সীমানা কোনোকিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি দু’জনের মন দেওয়া-নেওয়ায়। সব বাধাকে জয় করে ২০১৬ সালের আগস্টে সাত পাঁকে বাঁধা পড়েন দু’জন।

মিচেল স্টার্ক ও অ্যালিশা হিলি: দুইজনই ক্রিকেটার। প্রতিনিধিত্ব করেন নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়ার। একজন নারী দলের উইকেটরক্ষক ও উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। অন্যজন পুরুষ দলের ফাস্ট বোলার। দুইজনের পরিচয় ক্রিকেট মাঠে। দীর্ঘ নয় বছরের বন্ধুত্ব।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত বন্ধুত্বের জায়গা দখল করে নেয় ভালোবাসা। কখন যে হৃদয়ে আদান-প্রদান হয়ে যায় তা বুঝে ওঠেননি কেউ। যখন বুঝলেন, দেরি না করে বাকি কাজটুকু সেরে ফেলেন। ২০১৬ সালে এপ্রিলে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দু’জন।

শোয়েব মালিক ও সানিয়া মির্জা: ‘পাকিস্তান ও ভারত’ সম্পর্কের বৈরিতার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। এর মাঝে প্রেমে পড়ে যান দুই দেশের দুই ক্রীড়াতারকা। ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। সব বাধা অতিক্রম করে দু’জনে ইতি টানেন দীর্ঘ প্রেমের। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করছেন দুবাইয়ে।

বিয়ের আগে একে অপরের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন, তাঁদের ক্যারিয়ার যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেই প্রতিশ্রুতি রেখে চলেছেন তাঁরা। দুইজনই এখনও খেলছেন নিজ নিজ দেশের হয়ে।

বাংলা ইনসাইডার/আরইউ/এমআর