ঢাকা, রোববার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

টাইগারদের নিরাপত্তায় কেন এতো গাফিলতি?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার, ১২:০১ পিএম
টাইগারদের নিরাপত্তায় কেন এতো গাফিলতি?

মাত্র পাঁচ মিনিট দেরি। এতেই বড় বাঁচা বেঁচে গেলো পুরো বাংলাদেশ। আর তা না হলে দেশের ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটাদের হারাতে পারতো ক্রিকেট পাগল জাতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এজন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করছেন বাংলাদেশের ষোলো কোটি মানুষ। হামলার সময় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কোন নিরাপত্তা কর্মী ছিলো না। এমনকি সে সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি স্থানীয় লিয়াজোঁ অফিসারকেও। এতে প্রশ্ন উঠেছে টাইগারদের নিরাপত্তায় কেন এতো গাফেলতি ছিলো নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের।

টাইগারদের কিউই সফর কাভার করতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আছেন নিউজিল্যান্ডে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের কাছেই নুর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন তাদের কয়েকজন। সেই মসজিদেই ঘটে সন্ত্রাসী হামলা। বন্দুকধারী গুলিতে নিহত হয় অন্তত ২৭ জন।

দলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সফরে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানান যায় স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে মসজিদ থাকার কথা ছিলো বাংলাদেশ দলের। কিন্তু তৃতীয় টেস্টের সংবাদ সম্মেলনে দেরি হওয়ায় বাংলাদেশ দল মসজিদে গিয়ে পৌঁছায় ১টা ৪৫ মিনিটে। ক্রিকেটাররা বাস থেকে নেমে মসজিদে প্রবেশ করবে সময় রক্তাক্ত এক মহিলা ভেতর থেকে বেড়িয়ে এসে পড়ে যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই টিম বাসের পাশ থেকে এক মহিলা চিৎকার করে ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকেন ‘ভেতরে গোলাগুলি হয়েছে। আমার গাড়িতেও গুলি লেগেছে। তোমরা ভেতরে যেওনা’

এরপরই ইএসপিএনইনফোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইসাম সামাজিক যোগাযোগ টুইটারে একটি ডিভিও আপলোড করেন। সেখানে দেখা যায় ভীতসন্ত্রস্ত ক্রিকেটাররা মসজিদ থেকে বের হয়ে বাসে উঠছেন। পরে বাসেই অবরুদ্ধ হয়ে আটকা পড়ে থাকেন বেশ কিছুক্ষণ। কারণ পুলিশ ততক্ষণ গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

বাসে বসে থেকে ভয়ঙ্কর সেই দৃশ্যগুলো দেখতে থাকেন ক্রিকেটাররা। মসজিদের সামনে অনেকে রক্তাক্ত অবস্থা পড়ে আছেন। রক্তমাখা শরীরে অনেকে মসজিদ থেকে বেড়িয়ে আসতে দেখা যায়। এইসব দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ক্রিকেটাররা। কারণ এই সময় বাংলাদেশ দলের কাছে কোন নিরাপত্তাকর্মী দূরের কথা স্থানীয় লিয়াজোঁ অফিসারও ছিলেন না। এসময় ক্রিকেটারদের সঙ্গে ছিলেন ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট ও বাংলাদেশ দলের অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাসন আইয়ার।

বাসে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর ক্রিকেটাররা বাস থেকে নেমে হ্যাগলি পার্কে ভেতর দিয়ে হেঁটে দ্রুত মাঠে ফেরেন। হাঁটতে হাঁটতে ক্রিকেটাররা বলছিলেন সংবাদ সম্মেলনে দেরি না হলে সর্বনাশ হয়ে যেত।

মাত্র পাঁচ মিনিট আগে পৌঁছে গেলে সন্ত্রাসী হামলার সময় ক্রিকেটাররা মসজিদের ভেতরেই থাকতেন। তাহলে কী ঘটতে পারতো আর যা দেখেছেন, এই চিন্তা করে হাঁটতে হাঁটতে কাঁদতে থাকেন মুশফিকুর রহিম। তামিম ইকবাল বলতে থাকেন, ‘যা দেখেছি, এরপর আমি আর এক মুহূর্ত এখানে থাকতে চাই না। এই টেস্ট খেলার প্রশ্নই আসে না। আমি দেশে ফিরে যাব।’

কোচিং স্টাফরা ছিলেন মাঠে। আর দুই ক্রিকেটার লিটন কুমার দাস ও নাঈম হাসান ছিলেন টিম হোটেলে। নামাজ শেষে মাঠে ফেরার পর বাংলাদেশ দলের অনুশীলন করার কথা ছিলো।

হ্যাগলি ওভালের ড্রেসিংরুমে ঘণ্টা দুয়েক অবরুদ্ধ থাকার পর বাংলাদেশ দলকে বিশেষ এসকর্টে করে টিম হোটেলে নিয়ে আসা হয়। তখন পুরো ক্রাইস্টচার্চ শহরই অবরুদ্ধ। বাংলাদেশ দল হ্যাগলি ওভালে ফিরে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই শহরের একাধিক জায়গায় সন্ত্রাসী হামলার খবর পাওয়া যায়। বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যাও। বাতিল করা হয় ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট।

এই ঘটনাটায় একটি প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। বাংলাদেশে কোনো বিদেশী দল সফর করতে আসলে, তাদের কাছে নিরাপত্তা পরিকল্পনা আগে জমা দিতে হয় বিসিবিকে। এছাড়া ভিভিআইপি মর্যাদার নিরাপত্তা দেওয়া হয়। কোনো ক্রিকেটার যদি ব্যক্তিগত কাজে বাইরে যেতে চান তাঁর সঙ্গে একটি বিশেষ নিরাপত্তা দল পাঠানো হয়। বিদেশী কোনো মুসলিম ক্রিকেটার নামাজ পড়ে চাইলে তাঁর জন্যও আলাদা নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে।

তাহলে বাংলাদেশ দল ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময়, তাদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী কেন ছিলো না? এমন কি হামলার ঘটনার পর বাংলাদেশ দলের সঙ্গে খুঁজে পাওয়া যায়নি একজন নিরাপত্তা কর্মীকেও। প্রশ্ন হচ্ছে কেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে এতো গাফিলতি? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই প্রশ্নের জবাব কি চাইবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের কাছে?

বাংলা ইনসাইডার/আরইউ