ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লোমহর্ষক হামলার বর্ননা দিলেন পাইলট

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার, ০২:১১ পিএম
লোমহর্ষক হামলার বর্ননা দিলেন পাইলট

খুব কাছ থেকে নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদের হামলা দেখেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা। এদের মধ্যে ছিলেন নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট। ভয়াবহ সেই হামলার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে কাঁপতে থাকেন তিনি। জানান মাত্র কয়েক মিনিট আগে মসজিদে পৌঁছালে ঘটে যেতো বড় অঘটন।

ক্রাইস্টচাচের্ট মসজিদের ভেতরে যখন গোলাগুলি চলছে, তখন বাংলাদেশ দলের বাস মসজিদ থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে দাড়ানো ছিলো। গুলিবিদ্ধ, রক্তাক্ত মানুষদের ছুটে বেরিয়ে আসতে দেখেছে দলটি। দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ‘আমরা খুবই সৌভাগ্যবান, আমরা বাসে ১৭ জনের মতো ছিলাম। দুইজন ক্রিকেটার শুধু হোটেলে ছিল, বাকি সবাই নামাজ পড়তে যাচ্ছিলাম। আমরা খুবই কাছে ছিলাম। মসজিদ দেখতে পাচ্ছিলাম কাছ থেকে, খুব বেশি হলে ৫০ গজের মতো দূরে ছিলাম। খুবই ভাগ্য ভালো যে, ৩-৪ মিনিট আগে চলে এলেও হয়তো মসজিদের ভেতরে থাকতাম। বিশাল কিছু, ভয়ানক ঘটনা ঘটে যেতে পারত।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুকরিয়া আদায় করব যে আমরা ওই জায়গায় ছিলাম না। আমরা ভিডিওর মতো দেখছিলাম, সিনেমার যেমন দেখা যায়, বাসের ভেতর থেকে দেখছিলাম বেশকিছু মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসছে। প্রায় ৮-১০ মিনিট আমরা বাসের ভেতরই ছিলাম। মাথা নিচু করে ছিল সবাই, যাতে কোনো কারণে গুলি আসে।’

এ ঘটনার পর মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েছেন ক্রিকেটাররা। দলীয় ম্যানেজার জানান, ‘এটা খুবই স্বাভাবিক, সামনে যখন এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে, সরাসরি দেখছেন রক্তাক্ত মানুষ বেরিয়ে আছে, এসব দেখে যে কারও ভেঙে পড়ার কথা। নিজের গায়েও লাগবে কিনা, কেউ নিশ্চিত ছিল না ওই মুহূর্তে। ক্রিকেটাররা বাসের ভেতর অনেকেই কান্নাকাটি করেছে, কি করলে বেরিয়ে আসতে পারি, এসব কথা হয়েছে। খুবই কঠিন ছিল। এসব তো মানসিকতার ওপর প্রভাব ফেলে। ম্যানেজার হিসেবে চেষ্টা করেছি সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরিয়ে আনতে।’

এরই মধ্যে বাতিল হয়েছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের শেষ টেস্ট। যত দ্রুত সম্ভব ফ্লাইট এবং টিকিট মিলিয়ে  দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান খালেদ মাসুদ পাইলট। তিনি জানান,‘এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি (ফেরার সময়ের), ফ্লাইট সূচির ব্যাপার আছে, টিকিটের ব্যাপার আছে। এতগুলি টিকিট একসঙ্গে পাওয়া কঠিন, ১৯ জনের মতো যাব ঢাকায়। সাপোর্ট স্টাফদের কেউ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, কেউ দক্ষিণ আফ্রিকায় যাবে। ওরা হয়তো টিকিট পেয়ে যাবে দ্রুত। আমাদের এই ১৯ জনের হয়তো এক ফ্লাইটে সম্ভব না হলেও ভাগ ভাগ করে চাইছি, যত দ্রুত সম্ভব চলে যেতে।’

বাংলা ইনসাইডার/আরইউ