ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘চোকার্স’ অপবাদ ঘোচাতে বদ্ধপরিকর দক্ষিণ আফ্রিকা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০১৯ সোমবার, ০৯:০০ এএম
‘চোকার্স’ অপবাদ ঘোচাতে বদ্ধপরিকর দক্ষিণ আফ্রিকা

ক্রিকেটে হতভাগ্য এক নাম দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডে ক্রিকেটে সব সময় বেশ শক্তিশালী দল প্রোটিয়ারা। আইসিসি’র র‌্যাঙ্কিংয়েও উপরের দিকেই থাকে তারা। কিন্তু আইসিসির টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ হয় হতাশা নিয়েই। বিশেষ করে হট ফেভারিট হিসেবে বিশ্বকাপের খেলতে আসে তারা। শুরুও করে দুর্দান্ত। কিন্তু নকআউট পর্বে এসে যেন খেই হারিয়ে ফেলে দলটি। বড় মঞ্চে বড় ম্যাচ গুলো হেরে যাওয়ার কারণে তাদের নামের পাশে রয়েছে ‘চোকার্স’ অপবাদ। তাই এবার এই অপবাদ ঘুঁচাতে চায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা: বর্ণবাদে কারণে দীর্ঘ দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ১৯৯২’র বিশ্বকাপ খেলতে আসে তারা। এরপর থেকে তাদের ডাকা হয়, ‘ডার্ক হর্স’ নামে। কিন্তু প্রতিবারই ফিরেছে খালি হাতে। বিশ্বকাপে বেশ কয়েকবার সেমিফাইনাল খেললেও ফাইনাল খেলা হয়নি একবারও। তবে এবার ভিন্ন কিছু করে দেখাতে মরিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা।

এবি ডি ভিলিয়ার্সের অবসর: কোন কারণ ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। অনেকের ধারণা ছিলো মারকুটে এই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে অনেকটা দূর্বল হয়ে পড়বে প্রোটিয়ারা। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং সম্প্রতি ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে শ্রীলংকাকে হোয়াইটওয়াশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এর ফলে সেই ধারণা থেকে সরে এসেছে অনেকে। তারা বলছে আসন্ন ২০১৯ বিশ্বকাপে ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে প্রোটিয়াদের।

মূল ভরসা ব্যাটিং: ক্রিকেটের তিন বিভাগই দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তি জায়গা। কিন্তু তিন বিভাগে মধ্যে এগিয়ে রয়েছে ব্যাটিং। ওপেনার কুইন্টন ডি কক, বর্তমানে বিশ্বের সেরা উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, যে কোন বোলিং অ্যাটাকের মাথা ব্যথার কারণ। অপর প্রান্তে হাশিম আমলা হচ্ছেন ঠাণ্ডা মেজাজের খুনি। ওপেনার হিসেবে দলকে ভালো শুরু এনে দেওয়ার জুড়ি নেই তাঁর। মিডল অর্ডারে ফাফ ডু প্লেসিস, জেপি ডুমিনিরা যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে পারদর্শী। আর লোয়ার অর্ডারে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ পরিচিত নাম ডেভিড মিলার। প্রতিপক্ষের হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ বের করে আনতে জুড়ি নেই বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের।

শক্তিশালী পেস অ্যাটাক: শক্তিশালী পেস অ্যাটাক কাদের? ডেল স্টেইন, কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি, নাম গুলো দেখার পর এ নিয়ে তর্ক করার কিছু নেই। যে কেউ এক বাক্যে স্বীকার করবে দক্ষিণ আফ্রিকাই এগিয়ে। কাজেই ইংল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনে প্রোটিয়া পেসরা হবে বেশ ভয়ঙ্কর।

ইমরান তাহির: দক্ষিণ আফ্রিকার তুরুপের তাস হবেন ইমরান তাহির। ২০১১ বিশ্বকাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম লেখান ডানহাতি এই লেগ স্পিনার। ব্যাটসম্যানদের নানান ভাবে প্রলুব্ধ করে উইকেট শিকার করতে বেশ পারদর্শী তিনি। এছাড়া তাঁর গুগলি, ব্যাটসম্যানের কাছে বেশ আতঙ্কের। তাই দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে তাহিরের অবদান থাকবে অনেক।

দলগত পারফরম্যান্স বড় শক্তি দক্ষিণ আফ্রিকার। তাই এবার বিশ্বকাপ জিতে ‘চোকার্স’ অবপাদটা ঘোচাতে চায় তারা। এজন্য মূল শক্তি সেই দলগত পারফরম্যান্সকেই গুরুত্ব দিচ্ছে প্রোটিয়ারা।

বাংলা ইনসাইডার/আরইউ