ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ক্রাইস্টচার্চের দুঃস্মৃতি ভুলতে সঙ্গী হোক ক্রিকেট

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০১৯ সোমবার, ০৪:০০ পিএম
ক্রাইস্টচার্চের দুঃস্মৃতি ভুলতে সঙ্গী হোক ক্রিকেট

ক্রিকেটারদের মনে এখনো লেগে আছে সেই দাগটি। আর মাত্র কয়েক মিনিট আগে মসজিদে গেলে তাঁরাও শিকার হতে পারতেন সন্ত্রাসী হামলার। রক্তাক্ত মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখেছেন। শুনেছেন গুলি খাওয়ার আর্তনাদ। চাইলেও সহজে ভোলা যাবে না সেই সব। অনেকে পরামর্শ দিচ্ছেন মনোবিদের সাহায্য নেওয়ার। ধ্যান-জ্ঞান হয়ে থাকা ক্রিকেটকেই বেছে নিয়েছেন কেউ কেউ।

গত ১৫ মার্চ শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি পার্কে মসজিদ আল নূরে জুমার নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে নিহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক। সেই মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কয়েক মিনিট আগে তারা সেখানে পৌঁছালে বড় কিছু ঘটতে পারতো। পরে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট বাতিল করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় ক্রিকেটারদের।

বিসিবির সভাপতির নির্দেশ ক্রিকেট নয় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাও। কিন্তু সেখানেও শান্তি পাচ্ছে না তামিম-মাহমুদউল্লাহরা। বারবার ফিরে আসছে সেই ভয়াল মুহূর্ত। ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়েও বেঁচে আসা জাতীয় দলের অনেকে ফিরতে শুরু করেছেন ক্রিকেটে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিয়েছেন সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, সাদমান ইসলামসহ বেশ কয়েকজন। লক্ষ্য একটাই, ভয়াল দুঃস্মৃতিকে ভুলে থাকার চেষ্টা করা।

শুরুটা করেছেন সৌম্য সরকার। কোন ঘোষণা ছাড়াই যোগ দেন নিজ দল আবাহনীর অনুশীলনে। তাকে দেখে চমকে ওঠেন দলের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনসহ অনেকে। যদিও এর জন্য মাশরাফিকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন বাঁহাতি এই ওপেনার, ‘যখনই বাসায় একা থাকি, তখনই ওই ঘটনাগুলো মনে পড়ে। যেন চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি’।

দল এবং ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে উজ্জ্বীবিত করার অদ্ভুত এক ক্ষমতা রয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার। তাই তিনিই পরামর্শ দিয়েছেন ক্রিকেটে ফেরার, ‘আমি মনে করেছি, তাদের (ক্রাইস্টচার্চ হামলার মুখে পড়া ক্রিকেটার) এই ট্রমা থেকে বের আনার একমাত্র উপায় হতে পারে ক্রিকেট। এই ধরণের সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে অন্য কোনো উপায় আসলেও নেই। আর সে কারণেই আমি সৌম্যকে ডিপিএলের ক্যাম্পে যোগ দিতে বলেছিলাম।’ এরই মধ্যে দুটি ম্যাচ খেলেছেন সৌম্য। এখন অনেকটা স্বাভাবিক আছেন বলেও জানান তিনি। 

টেস্ট দলের নতুন সদস্য সাদমান ইসলামও ছিলেন সেই দলে। তাঁর বাবা শহীদুল ইসলাম চাকুরি করেন বিসিবিতে। তিনিও ছেলেকে ফেরান ক্রিকেটে, ‘বাড়িতে থাকলে ওর মানসিক চাপ আরো বাড়ে। কারণ যেই (আত্মীয়) বাড়িতে আসছে, সেই ঘটনার বর্ণনা জানতে চাইছে। এই কারণে আমার মনে হয়েছে ক্রিকেটে ফিরলে হয়তো ঘটনাগুলো দ্রুত ভুলতে পারবে সে।’

ভুলে থাকার চেষ্টায় শাইনপুকুরের হয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন সাদমানও। খেলেছেন একটি ম্যাচে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে ক্রিকেটই আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।’

সৌম্য সরকার এবং সাদমান ইসলামের দু’টি ঘটনা থেকে স্পষ্ট, একমাত্র ক্রিকেটই হতে পারে সন্ত্রাসী হামলার ট্রমা থেকে বের হয়ে আসার অন্যতম হাতিয়ার।      

বাংলা ইনসাইডার/আরইউ/এমআর