ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আইপিএল: ডিলার, সাব-ডিলারের সারাদেশে জুয়ার মহোৎসব

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার, ০৪:০০ পিএম
আইপিএল: ডিলার, সাব-ডিলারের সারাদেশে জুয়ার মহোৎসব

ভারতে চলছে ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১২তম আসর। আর সারাদেশে চলছে জুয়ার উৎসব। কোথাও কোথাও সেই উৎসব রূপ নিয়েছে মহোৎসবে। শহর ছাপিয়ে ‘আইপিএল জুয়া’ পৌঁচ্ছে গেছে গ্রামগঞ্জে। আর বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক ধরনের অসাধু চক্র। তারা প্রতিনিয়তই হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহে জুয়াচলাকালীন গ্রেপ্তার হন ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক কোচ। আবার কলকাতা-দিল্লি ম্যাচে ঋষভ পান্তের একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এছাড়া আগে থেকে অভিযোগ আছে এই টুর্নামেন্টের ফিক্সিংয়ে মদদ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এর সবই ভারতের ঘটনা। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এ দেশে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে জুয়া।

রাজধানীর কয়েকটি স্পট পরিদর্শন করে জানা গেছে, বিভিন্ন নামে ডাকা হয় একে। কেউ কেউ বলে ‘টাকা লাগানো।’ আবার ‘বাজি ধরা’ বলেন কেউ। নানা ধরনের হয়ে থাকে এই বাজি। যেমন, ম্যাচের ফল নিয়ে, ওভার নিয়ে, ওভারে কত রান আসবে, ওভারে কতগুলো চার ও ছয় হবে। বিভিন্ন ধরনের জুয়াবাজির ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে।

বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সময় বাজিরঘোড়া লাফিয়ে ওঠে দেশের আনাচে-কানাচে। ব্যবসা হয় রমরমা। পুরনো পরিসংখ্যানের মতে পার্শবর্তী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের স্পট ফিক্সিংসহ বাজির প্রভাব অনেক বেশি।

দেশের সর্বত্র চলছে ‘জুয়া’: স্পট গুলোতে আলাপ আলোচনায় জানা গেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় এই বাজি। রাস্তার মোড়ের চা দোকানগুলোতে লক্ষ্য করলে দেখা যায় সেখানে চলছে বাজির দর কষাকষি। বাজি ধরাদের মধ্যে বেশিরভাগই বয়সে তরুণ। আবার যাদের বয়স বেশি, তারা বাজিকরদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। রাজধানীর মিরপুর, পুরান ঢাকা, টঙ্গী ও কামরাঙ্গীরচরে বাজিকরদের বিচরণ বেশি। তবে জুয়াড়িদের নতুন এই পন্থা থেকে বাদ যায়নি রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলো।

সরেজমিনে বাজির চিত্র: সরেজমিনে রাজধানী সেপাহীবাগ এলাকার একটি ছোট্ট চায়ের দোকানের ভিড় দেখে আগ্রহ হয় প্রতিবেদকের। টিভিতে চলছে আইপিএলের ম্যাচ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের ম্যাচ। ম্যাচের ১৪তম শুরু হবে। বল হাতে পাঞ্জাবের রবিচন্দ্র অশ্বিন। আর ব্যাট করছে মুম্বাইয়ের হার্দিক পান্ডিয়া ও কাইলন পোলার্ড। তখন একজন বলে উঠলো, ‘এ ওভারে ১৫ রান হবে।’ অন্য আরেক জন বললো, ‘না ১৫ রান হবে না।’

শুরু হলো হাঁকডাক। পরে ৩০০ করে ৬০০ টাকা জমা রাখলো উভয় পক্ষ। অশ্বিনের সেই ওভারে পান্ডিয়া আর পোলার্ড মিলে তুলে নের ১৯ রান। মূলত এভাবেই বেটিংয়ের মাধ্যমে চলে বাজি। পাশাপাশি ম্যাচের পাওয়ার প্লেতে (প্রথম ৬ ওভার) কত রান হবে, ৫ থেকে ১০ ওভারে কত রান হবে, মোট রান কত হবে, কোন প্লেয়ার বেশি রান করবে সবকিছু নিয়েই চলে বাজি।

আছে ডিলার, সাব-ডিলার: দু’দিন পুরো সময় বাজিকরদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে খাতির জমানোর চেষ্টা করে প্রতিবেদক। আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের পর আলাপচারিতায় বেড়িয়ে আসে হাঁড়ির অনেক খবর। নগরে গড়ে উঠেছে জুয়ার বাজির ডিলার। এ ডিলাররাই মূলত বাজিকে নিয়ন্ত্রণ করে। একটি ম্যাচের জন্য একটি রেট ঠিক করে দেন জুয়ার ডিলাররা। একজন ডিলার যত বেশি ম্যাচের ডিল করে দিতে পারবেন তার লাভ তত বেশি। যারা আবার বেশি অঙ্কের ডিল করেন তাদের আছে সাব-ডিলার।

এক ডিলারে সঙ্গে কথা বলে জানান যায়, বর্তমানে জুয়ায় লাভ যেমন আছে, তেমন লোকসানও আছে। দুই পক্ষের টাকার দায়িত্ব ডিলারকে নিতে হয়। বাজিতে টাকা হাতবদল হওয়ার একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। ওই সময়ের মধ্যে হেরে যাওয়াদের মধ্যে কেউ টাকা পরিশোধ না করলে, সেই দায়িত্ব ডিলারকে নিতে হয়। এভাবেই খেলাধুলায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে জুয়ার উৎসব।

নগদ টাকার বাজির সঙ্গে বাকিতে বাজি চলে। এর মেয়াদ থাকে ম্যাসব্যাপী। অনেক বাজিকর এটাকে মাসিক আয় হিসেবে দেখেন। মাসিক বাজির দরটা বেশি হলে তা মোবাইলে রেকর্ডিং করা থাকে। পরিচিত এক বাজিকর জানান, মাসিক বাজি ধরা করা হয় দীর্ঘদিনের পুরনো কারো সঙ্গে। তবে এক্ষেত্রে বিশ্বাসটা প্রধান্য দেওয়া হয়। তার সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, স্পেন, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের ফুটবল লিগের ম্যাচগুলোও বাদ যায় না মাসিক বাজি থেকে।

বাংলা ইনসাইডার/আরইউ