ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিশ্বকাপে স্পটলাইট: ভয়ঙ্কর রূপে থাকবে বাটলার-রুট জুটি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৯:০০ এএম
বিশ্বকাপে স্পটলাইট: ভয়ঙ্কর রূপে থাকবে বাটলার-রুট জুটি

আগামী ৩০ মে থেকে ইংল্যান্ডের শুরু হবে ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাকর আসর বিশ্বকাপ। রণকৌশল ঠিক করার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের শক্তিমত্তা পরখ করে নিচ্ছে অংশগ্রহণকারী দশটি দল। একই সঙ্গে চলছে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল বাংলা ইনসাইডার-এর বিশেষ আয়োজন বিশ্বকাপে, বিশ্ব কাঁপে…। কাউন্ট ডাউন স্টোরিতে এবার থাকছে বিশ্বকাপের বিশাল মঞ্চে দেশগুলোর কোন কোন তারকা থাকবেন স্পটলাইটে। এবার থাকছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। আজ থাকছেন ইংলিশদের ব্যাটিংয়ের দুই তারকা জস বাটলার ও জো রুট।

নান্দনিক ব্যাটিংয়ের বরপূত্র বাটলার: ক্রিকেট বিশ্বে জস বাটলার নামে পরিচিত হলেও তাঁর পুরো নাম জোসেপ চার্লস বাটলার। ডানহাতি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নিজেকে ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে। ইংল্যান্ডের জাতীয় দল ছাড়াও তিনি নিয়মিত আইপিএল, বিপিএল ও বিগব্যাশ খেলছেন।

টেস্টে দুর্দান্ত অভিষেক হয় বাটলারের। ২০১৪ সালের জুলাইতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখেন ওয়ানডে অভিষেকে। ২০১২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে অভিষিক্ত হন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। শূন্য রানে আউট হন তিনি। এর তিন বছর পর একই মাঠে একই প্রতিপক্ষকে ভিন্ন রূপ দেখান তিনি। মাত্র ৪৬ বলে ১০ চার এবং ৮ ছক্কায় ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন বাটলার।

ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের হয়ে দ্রুততম তিনটি সেঞ্চুরি আছে বাটলারের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন ৬৬ বলে। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬১ বলে এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে করেন মাত্র ৪৬ বলে।

২০১০ সালে ২০ বছর বয়সে জস বাটলার ইয়াং উইজডেন স্কুল ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পান। এই পুরষ্কার পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সি ক্রিকেটার তিনি। এবারের বিশ্বকাপে তিনি হবেন ইংল্যান্ডের সেরা হাতিয়ার।

ইংল্যান্ডের নবযুগের রাজপূত্র জো রুট: একবিংশ শতকে ইংল্যান্ডের একজন জেনুইন ম্যাচ উইনার, গেইম চেঞ্জার ব্যাটসম্যান হলেন জো রুট। ইংলিশদের প্রথাগত, একঘেয়ে ধুসরবরন ক্রিকেট খেলার ধারা অনেকাংশ পাল্টে দেন তিনি! এ জন্য ইয়র্কশায়ারের এই তরুণকে বলা হয়,  ইংল্যান্ডের নবযুগের সূচনার বরপুত্র।

দুই দশকে এক কেভিন পিটারসেনের পর তিন ফরম্যাটেই এতোটা প্রভাব বিস্তারকারী ব্যাটসম্যান ইংল্যান্ড দলে আর দেখা যায়নি। টেকনিক্যালি সলিড, চমৎকার ফুটওয়ার্ক এবং টেম্পারমেন্ট, ধারাবাহিকভাবে রান করা সবগুনই আছে তাঁর মধ্যে। উপমহাদেশ তো বটেই বিশ্বের সব জায়গাতে ভালো খেলেন তিনি। আর একজন ইংলিশ ব্যাটসম্যানের জন্য এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।  

অ্যালিস্টার কুকের অবসরের পর ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের অধিনায়ক করা হয় জো রুটকে। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টেই দূর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেন তিনি। রুটের আগের তিন পূর্বসূরি অ্যালিস্টার কুক, কেভিন পিটারসেন ও অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসও অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন।

নতুন এই ইতিহাসও গড়েন জো রুট। অ্যালিস্টার কুককে পেছনে ফেলে ইংল্যান্ডের  দ্রুততম ছয় হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা ব্যাটসম্যান তিনি। এজন্য ইংল্যান্ডের হাজারতম টেস্টের বিশাল মঞ্চটাকেই বেছে নেন রুট। সেজন্য রুটকে খেলতে হয়েছে পাঁচ বছর ২৩১ দিন। অ্যালিস্টার কুকের চেয়ে ১০৮ দিন আগেই এই কীর্তি গড়েন রুট।

ওয়ানডেতে সমান কার্যকর তিনি। সুতরাং এবার বিশ্বাকাপের আগে ডরভয়হীন ক্রিকেট খেলছে ইংল্যান্ড। এজন্য বর্তমানে আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের সবার উপরে আছে তারা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি জিততে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন জস বাটলার ও জো রুট।

বাংলা ইনসাইডার/আরইউ