ঢাকা, রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

বিশ্ব কাঁপিয়েও বিশ্বকাপ জোটেনি যাদের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০১৯ শুক্রবার, ০৯:০০ এএম
বিশ্ব কাঁপিয়েও বিশ্বকাপ জোটেনি যাদের

যুগে যুগে ক্রিকেট বিশ্ব শাসন করেছে অনেকে। কেউ ব্যাট হাতে, কেউ বল হাতে। কেউ ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছে সব পেয়ে, কেউ বা বিদায় নিয়েছে খালি হাতে। বিশ্ব কাঁপিয়েও বিশ্বকাপের সান্নিধ্য পায়নি এমনও রয়েছেন অনেক। যাদের ছোঁয়া না পেয়ে অতৃপ্ত খোদ ট্রফি নিজেই।

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সম্মানের এই ট্রফি না পেয়েই ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন অনেক কিংবদন্তি। ক্রিকেটবিশ্ব দাপিয়ে বিশ্বকাপ জোটেনি এমন কিছু ক্রিকেট কিংবদন্তিকে নিয়ে আজকের প্রতিবেদন। 

গ্রাহাম গুচ (ইংল্যান্ড)

১৯৭৬ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ১২৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইংল্যান্ডের ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ইংল্যান্ডের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন তিনি। ১৯৯২ সালে দলের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রতিবারই পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে তাঁকে।

ইয়ান বোথাম (ইংল্যান্ড)

ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন অলরাউন্ডার ইয়ান বোথাম। কিন্তু একবারও বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখা হয়নি তাঁর। বল হাতে প্রতিপক্ষের ত্রস ছিলেন তিনি। ১৯৯২ বিশ্বকাপে ১০ ম্যাচে ১৬ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন এই পেসার। লোয়ার মিডেল অর্ডারে ব্যাটিং করে দলকে বড় রান সংগ্রহে অবদান রাখতেন তিনি।

ওয়াকার ইউনিস (পাকিস্তান)
পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বোলার ওয়াকার ইউনিস। বল হাতে ছিলেন দুর্দান্ত, ওয়ানডে ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট পাওয়া একমাত্র বোলার তিনি। ১৯৯২ সালে পাকিস্তান দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। পাকিস্তান শিরোপা ঘরে তুললেও ফাইনালে ম্যাচের আগে ইনজুরিতে পড়ে দল থেকে ছিটকে পড়েন ওয়াকার। বিশ্বকাপ জেতা হয়নি তাঁর। ১৯৯৯ সালে আবারও ফাইনালে পাকিস্তান জায়গা করে নিলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরাজিত হতে হয় তাদের।

সৌরভ গাঙ্গুলি (ভারত)

১৯৯৯-২০০৭ পর্যন্ত ভারতের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছিলেন ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক। ২০০৩ সালে দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের সেই আসরে একাই তিনটি শতক হাঁকিয়েছিলেন এই বাঁহাতি। সেইবার তাঁর অধীনে ভারত ফাইনালে উঠলেও শিরোপা ঘরে তুলতে পারেনি।

ব্রায়ান লারা (উইন্ডিজ)

টেস্ট ক্রিকেটে উইন্ডিজ সাবেক অধিনায়ক ব্রায়ান লারার রেকর্ড সকলেই জানা। তবে উইন্ডিজ এই কিংবদন্তী ওয়ানডে ফরম্যাটেও ছিলেন দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান। একদিনের ক্রিকেটে দশ হাজারেরও বেশি রান রয়েছে তাঁর। উইন্ডিজের হয়ে ২৯৯ ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে পাঁচবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একবারও ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি তাঁর।

ল্যান্স ক্লুজনার (দক্ষিণ আফ্রিকা)

আফ্রিকান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ছিলেন ল্যান্স ক্লুজনার। ব্যাটে বলে দুর্দান্ত এই ক্রিকেটার বিশ্বকাপ জিততে পারেননি একবারও। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে তাঁর সামর্থ্য দেখেছিল ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু সেমিফাইনালে গিয়ে বাদ পড়তে হয়েছে তাঁদের। ১৭১ ওয়ানডে খেলা এই অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে রান নিয়েছেন ৪১ গড়ে সাড়ে তিন হাজারের ওপর রান। বল হাতে ২৯ গড়ে তাঁর উইকেট সংখ্যা ১৯২টি।

জ্যাক ক্যালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা)

ল্যান্স ক্লুজনারের পরে আসে আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিসের নাম। ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৭৩ উইকেট এবং ১১ হাজার রান রয়েছে তাঁর। ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে সানাথ জয়সুরিয়ার পর একমাত্র অলরাউন্ডার ক্যালিস যিনি কিনা দশ হাজার রান এবং ২৫০ উইকেটের মালিক। কিন্তু বিশ্বকাপ শিরোপা একবারও জিততে পারেননি তিনিও।

কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)

২০১৫ সালের বিশ্বকাপেই নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যর প্রমাণ দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা। গত বিশ্বকাপে আসরে চারটি শতক হাঁকিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটে শচিন টেন্ডুলকারের পর সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনি। কিন্তু এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান একবারও বিশ্বকাপের শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে পারেননি।

এবি ডি ভিলিয়ার্স (দক্ষিণ আফ্রিকা)

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সও জিততে পারেননি কোন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৫৩.৫০ গড়ে রান সংগ্রহ করেছেন এই ব্যাটসম্যান। ৩১ বলে উইন্ডিজদের বিপক্ষে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম শতকটি হাঁকিয়েছেন তিনি।

শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)

পাকিস্তানের কিংবদন্তী শহীদ আফ্রিদি দলের হয়ে ৩৯৮ ওয়ানডে খেলেছেন। ১৯৯৯ সালে দ্রুততম শতকের রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। তাঁর গড়া ৩৭ বলের সেই শতকটি ভেঙ্গেছেন ভিলিয়ার্স। ব্যাট হাতে আট হাজারের বেশি রান সংগ্রহ করেছিলেন আফ্রিদি। লেগ স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাবু করতে বেশ পটু ছিলেন তিনি। তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৩৯৫টি উইকেট। বিশ্বকাপের শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি তাঁরও।

বাংলা ইনসাইডার/এসএম