ঢাকা, রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

বিশ্বকাপে আম্পায়ারদের যত বাজে সিদ্ধান্ত

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০১৯ শনিবার, ০৮:০৪ এএম
বিশ্বকাপে আম্পায়ারদের যত বাজে সিদ্ধান্ত

বলা যায়, এবারের বিশ্বকাপটা বৃষ্টি আর আম্পায়ারদের। প্রতিপক্ষের চেয়ে এই দুটি বিষয় বেশি মোকাবিলা করতে হয়েছে। বৃষ্টিতে চারটি ম্যাচ পণ্ড হয়েছে। আর ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে কয়েকটি ম্যাচের ফলাফল বদলে দিয়েছেন আম্পায়াররা। সেমিফাইনালেও আম্পায়ারিংয়ের ভুল সিদ্ধান্ত। বাজে আম্পারিংয়ের শিকার হলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান জেসন রয়।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২২৪ রানের লক্ষ্যে খেলছে ইংল্যান্ড। ইনিংসের ২০তম ওভারে প্যাট কামিন্সের বলটা হুক করতে চেয়েছিলেন রয়। বলটা তাকে ফাঁকি দিয়ে জমা হয় অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে। অজি ফিল্ডাররা আবেদন করলে আঙুল তুলে দেন শ্রীলংকান আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। ভুলে রিভিউ চেয়ে বসেন রয়, তার হয়তো মনে ছিল না দুই ওভারে আগেই জনি বেয়ারস্টো রিভিউটা নষ্ট করেছেন।  ৬৫ বলে ৮৫ রান করা রয় ফিরে গেলেন আম্পায়ারের ভুলের কারণে।

রাগে ক্ষোভে অনেকক্ষণ উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকেন জেসন রয়। শেষ পর্যন্ত মরিস ইরাসমাসের অনুরোধে মাঠ ছাড়েন ইংলিশ ওপেনার। তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে তিনি যে মোটেও খুশি নন সেটা প্রকাশ্যেই জানান দেন রয়।

এবারের বিশ্বকাপে বাজে আম্পায়ারিংয়ের উদাহরণ ভুরিভুরি। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর ম্যাচে আম্পায়ার রুচিরা পালিয়াগুরুগে ও ক্রিস গেফানি মিলে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেন। নিজেদের বাঁচাতে এক ম্যাচেই চার রিভিউ নেয় ক্যারিবীয়রা। বিতর্কিত সিদ্ধান্তের দুটিই ছিল গেইলের বিপক্ষে। দুবার গেইলকে ভুল আউট দেন গিফানি। তৃতীয়বার লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত সঠিক থাকলেও গিফানি নো বল এড়িয়ে যান।

আম্পায়ারের ভুল হয় পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচেও। কুমার ধর্মসেনা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোয়েল উইলসনের ভুলে এক ওভারে ৭ বল করতে হয় পাকিস্তানকে। সপ্তম বলে কোনো রান বা উইকেট পড়লে কিন্তু বিতর্ক আরও বাড়ত।

বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার হয় বাংলাদেশও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং করার সময় দুটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়াররা। সেদিন মুজিব উর রহমানের করা বলটি সৌম্য সরকারের প্যাডে লাগে। তাতেই জোর আবেদন জানায় আফগানিস্তান। আম্পায়ার আঙ্গুল তুলে দেন। রিভিউ নেন সৌম্য সরকার। রিভিউ দেখে সবারই মনে হয়েছে ব্যাট স্পর্শ করার পর বলটি প্যাডে লাগে! তবে থার্ড আম্পায়ার আলিম দারের মনে হলো অন্য কিছু। আফগানিস্তানের পক্ষে রায় দিলেন তিনি! সেদিনই লিটন কুমার দাসের আউটটিও ছিল বিতর্কিত। ১০ বলে তিন রানে আউট হন সৌম্য সরকার। বলটি মাটিতে পড়ার পর ক্যাচ ধরেন আফগান ফিল্ডার হাশমতুল্লাহ শাহেদি। তবুও আউট ঘোষণা করেন আলিম দার। 

বাজে আম্পারিংয়ের শিকার হয়েছে ভারতও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কেমার রোচের শিকার হয়ে ফিরে যান রোহিত। মাঠের আম্পায়ারের নট আউটের সিদ্ধান্ত থার্ড আম্পায়ারের কাছে গিয়ে বদলে যায়। স্নিকো মিটার দেখে আউট দেন থার্ড আম্পায়ার। পরে দেখা যায় বলটি ব্যাটে নয় বরং প্যাডেই লেগেছিল।

আম্পায়ারের ভুলে কারণেই নিশ্চিত জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হয় আফগানিস্তানের। সেবার হারিস সোহেল জীবন পেয়েছেন আম্পায়ারের নাইজেল লংয়ের ভুলে। হারিসের ব্যাটে লেগে বল জমা পড়ে উইকেটকিপারের গ্লাভসে কিন্তু লং আউট দেননি লং। পাকিস্তানকে ম্যাচ জেতানো ইমাদ ওয়াসিম জীবন পান মাত্র ১ রানে থাকতে। রশিদ খানের বল ইমাদের প্যাডে লেগেছিল। আফগানরা জোরালো আবেদন করলেও আম্পায়ার পল উইলসন সাড়া দেননি।

সেমি ফাইনালে ভারত বিদায় নেয়। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ধোনির আউটটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও এবং ছবি প্রকাশের পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ধোনির রান আউট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ধোনি লকি ফার্গুসনের যে ডেলিভারিতে রান আউট হলেন সেটি বৈধ ছিল কি না এবং বৈধ না হলে ফলটাও পাল্টে যেতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে।

ম্যাচের সে মুহূর্তে (৪৯তম ওভার) তৃতীয় পাওয়ার প্লে চলছিল, যখন নিয়ম অনুযায়ী ৩০ গজের বাইরে পাঁচজন ফিল্ডার রাখতে হয়। কিন্তু ফার্গুসনের ওই ডেলিভারির (৪৮.৩) আগে টিভিতে একটি গ্রাফিক দেখানো হয়, যেখানে দেখা যায় নিউজিল্যান্ডের ছয়জন ফিল্ডার ৩০ গজের বাইরে। বাউন্ডারি সীমানায় ছয়জন ফিল্ডার রাখার সুবিধা থেকেই ধোনিকে ওই বলে ২রান নিতে দেয়নি নিউজিল্যান্ড। উল্টো রান আউট হতে হয় ধোনিকে। আর নিয়ম অনুযায়ী ফার্গুসনের ডেলিভারিটি ‘নো বল’ হওয়ার কথা। তবে এটাও মনে রাখতে হবে ‘নো বল’ হলেও ধোনি কিন্তু রান আউটই হতেন (নো বলে ব্যাটসম্যান রান আউট হতে পারে)।

কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রশ্ন অন্যখানে। আম্পায়ারের চোখে ডেলিভারিটি ‘নো বল’ হলে অমন ঝুঁকি নিয়ে ধোনি নিশ্চয়ই ২ রান নেওয়ার চেষ্টা করতে না? কারণ পরের ডেলিভারিটি হতো ‘ফ্রি হিট’। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের আরেকটি পক্ষের দাবি, গ্রাফিকে ভুল দেখানো হয়েছে। সে যাই হোক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিয়েছেন ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা। তুমুল সমালোচনা হচ্ছে আম্পায়ারদের। এবার বিশ্বকাপে আম্পায়ারদের ভুল করা কিন্তু বিরল কোনো ব্যাপার না। দৃষ্টিকটু অনেক ভুলই করেছেন আম্পায়াররা।