ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ব্যাট প্রস্তুতকারক থেকে অ্যাশেজ অধিনায়ক

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০২ এএম
ব্যাট প্রস্তুতকারক থেকে অ্যাশেজ অধিনায়ক

টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ২০১০ সালে। পাকিস্তানের বিপক্ষে। দলের নিয়মিত মুখ তো দূরের কথা, কালেভদ্রে একাদশে সুযোগ হতো এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের।  সামনে অ্যাশেজে দ্বিতীয়বারের মতন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্বের ভার সামলাবেন টিম পাইন। এর আগে যখন প্রথম দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তখন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট পার করছিল কেপটাউন টেস্টের মতন কলঙ্কজনক অধ্যায়।

অস্ট্রেলিয়ার বেসামাল তরি দক্ষ হাতে টেনে ধরার প্রস্তাব তখনই পান পাইন। উপলক্ষটা উদযাপনের উপায় ছিল না। অ্যাশেজ শুরুর আগে সেই মুহূর্তটার কথা ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানালেন পাইন, ‘তখনকার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড জানালেন অস্ট্রেলিয়ার ৪৬তম টেস্ট অধিনায়ক আমি। নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিলাম না। কিন্তু তখন মনে হচ্ছিল, কাজটা করতেই হবে।’

অথচ টিম পাইনের ক্যারিয়ার শেষ হতে পারত অধিনায়ক হওয়ার বছরখানেক আগে। ২০১০ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বে অভিষেক তাঁর। সে বছর খেলা চার টেস্টের ইনিংসগুলো ৭, ৪৭, ১৭, ৩৩, ৯২, ৯, ৫৯ ও ২৩। রিকি পন্টিং, মাইকেল হাসি, মাইকেল ক্লার্কদের মতো তারকাদের দলে এমন পারফরম্যান্সে টিকে থাকা কঠিন। চার টেস্ট পর বাদ পড়েন পাইনও। এরপর টেস্ট দলের বাইরে টানা সাত বছর। নিজের ক্যারিয়ারের শেষও দেখে ফেলেছিলেন পাইন। রাজ্য দল তাসমানিয়া প্রস্তাব দেয় এক বছরের চুক্তির। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাট প্রস্তুতকারক কোম্পানি কোকাবুরা চাকরির প্রস্তাব দেয় পাইনকে।

এর আগে ফোন দেন রিকি পন্টিংকে। খরুচে শহর মেলবোর্নের বদলে ব্রাইটনে খুঁজে দিতে বলেন বাড়ি। পাইনকে কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন অস্ট্রেলিয়ান এই কিংবদন্তি। তাঁর সুপারিশে তাসমানিয়া চুক্তির প্রস্তাব দেয় দুই বছরের। লুফে নেন পাইন। বাকিটা ইতিহাস। সাত বছর পর ২০১৭ সালে ফেরেন টেস্ট দলে। এক বছর পরই দলের অধিনায়ক। এ জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন এই উইকেটরক্ষক, ‘রিকি পন্টিংকে ফোন না দিলে অন্য রকম হতে পারত জীবনটা। সত্যি, ভাগ্যবান আমি।’

অস্ট্রেলিয়ান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের বিপক্ষে একটা সময় শেফিল্ড শিল্ডে খেলেছেন পাইন। সেই ল্যাঙ্গারও কোচ হওয়ার সময় দ্বিধায় ছিলেন পাইনকে নিয়ে, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় পাইন টেস্ট অধিনায়ক। মনে হচ্ছিল ও ভালো ক্রিকেটার, তাই বলে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক! ওটা আমার সত্যিকারের ভাবনা। তবে ওর সঙ্গে কাজ করে মুগ্ধ আমি।’

বাংলা ইনসাইডার/এসএম