ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

বিদায়বেলায় পঞ্চপাণ্ডব, অন্ধকারে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ 

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৯:০৪ এএম
বিদায়বেলায় পঞ্চপাণ্ডব, অন্ধকারে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ 

বাংলাদেশ ক্রিকেটের যা কিছু অর্জন তার সিংহভাগই এসেছে পঞ্চপাণ্ডবের হাত ধরে। মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ—বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাঁচ স্তম্ভ। দীর্ঘদিন ধরে একসাথে খেলে আসা বাংলাদেশের এই পঞ্চপাণ্ডবের বিদায়ের পর কি হবে বাংলাদেশের? সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে অনভিজ্ঞ আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে হেরে চলা বাংলাদেশকে দেখে এই প্রশ্নটিই ঘুরছে সবার মাথায়।

ঘরের মাঠে আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ `এ` দল। চেনা মাঠ এবং কন্ডিশন হওয়া সত্ত্বেও সফরকারীদের বিপক্ষে নাস্তানাবুদ হয়েই যাচ্ছে স্বাগতিকরা। অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে দুটি চারদিনের ম্যাচে প্রথমটি হেরে দ্বিতীয়টি ড্র করে বাংলাদেশ `এ` দল। ১-০ ব্যবধানে চারদিনের ম্যাচের সিরিজটি হারার পর ওয়ানডে সিরিজেও পিছিয়ে আছে স্বাগতিকরা।

অথচ এই দলের সিংহভাগ ক্রিকেটারই জাতীয় দলের পরীক্ষিত ক্রিকেটার। কিন্তু তাঁদের পারফর্মেন্স দেখে বোঝা মুশকিল, তাঁরা একসময় জাতীয় দলে খেলে এসেছেন। তাই নির্বাচকসহ বোর্ড কর্তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। 

এ নিয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছেন, ‘আমি তো বললামই আমি চিন্তিত। কিন্তু এদেরকে না খেলালে তো আমি বুঝতে পারব না। ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই চিন্তা করছে। এরা (মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ) না থাকলে যাদেরকে নিয়ে আগাবো, তাদের না খেলালে তো আমরা বুঝতে পারব না। এই সিরিজে আমরা একটা পরিষ্কার চিত্র দেখতে পেলাম।’

এই ব্যর্থতায় ফুটে ওঠে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ঘরোয়া ক্রিকেটের বাস্তব চিত্র। যেখানে ঘরোয়া ক্রিকেট হওয়ার কথা আদর্শ মানদণ্ড, সেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত খেলে আসা ক্রিকেটাররা ব্যর্থ জাতীয় দলে নিজেকে প্রমাণ করতে।   

হতাশাগ্রস্ত বাশার জানান, ‘এটা অবশ্যই বিব্রতকর। তবে দুশ্চিতা বেশি। আমাদের দলে যারা আছে তারাও ভালো ক্রিকেট খেলে আসছে। এটার বিবরণ দেয়া মুশকিল। একইভাবে আমি কালও বলেছিলাম, `এ` দল একটি সেকেন্ড স্টেজের দল। ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক সময় আমরা বিচার করতে পারি না। ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেকেই ভালো খেলে। `এ` টিমে এলে তাঁদের পরীক্ষাটা ভালো হয়। এই পরীক্ষাটা কেউ ভালো দিতে পারেনি।’

ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধার বিস্তর উন্নয়ন হয়েছে সময় যাওয়ার সাথে সাথে। পৃথিবীর পঞ্চম ধনী ক্রিকেটবোর্ড বিসিবি। অনেক দেশের তুলনায় সুযোগ-সুবিধায় এগিয়ে থেকেও কেন বারবার এমন ব্যর্থতা। সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার আরো বলেন, ‘আমাদের বসে ভাবতে হবে আসলে সমস্যাটা কোথায় হচ্ছে। এমন তো না যে আমরা কোনো কাজ করছি না। সারা বছর ট্রেনিং পাচ্ছে। কোচরা সাহায্য করছে। সুযোগ সুবিধা খুবই ভালো। আমরা যখন ছিলাম জাতীয় দলে তখন তেমন অনুশীলন করতে পারতাম না।

ক্রিকেটের এই ব্যর্থতা এখনই খুঁজে বের করতে হবে বলে জানান বাশার। ‘এখন তো সারাদিনই অনুশীলন করতে পারে। কোচরা কষ্ট করছে। এটা এখনকার ক্রিকেটারদের জন্য অনেক। কিন্তু তারা কেন ভালো করছে না এটা আসলে আমাদের ভাবতে হবে। খুঁজে বের করতে হবে কেন এমন হচ্ছে।’

বাংলা ইনসাইডার/এসএম